একমাত্র মেয়েরাই পারে

একমাত্র মেয়েরাই পারে

ক্লাসের নম্র ভদ্র আর ব্রিলিয়ান্ট ছেলে আবিরযেমন দেখতে ভালো ঠিক তেমনি আবিরের আচার আচরণে সবাই মুগ্ধ ,,,, সবার সাথেই ভালো ব্যবহার করেচুপচাপ ক্লাসে আসে আবার ক্লাস শেষ করে চুপচাপ চলে যায়,,,,, খুব লাজুক ছেলে আবিরতেমনি ঐ ক্লাসেরই অহংকারি আর চঞ্চল মেয়ে আশা দেখতে খুব সুন্দরি আর বাবা বড়লোক বলে যা ইচ্ছা তাই করে,,,,,, এখন এই ছেলে তো বিকেলে অন্য ছেলে এভাবেই প্লে গার্ল হিসেবে পরিচিত সে আর আবির গরিব ঘরের ছেলে বলে কোন মেয়ের সাথেই মিশে না,,,,, আবিরের একটাই লক্ষ্য নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা কারণ ওর মুখের দিকেই পরিবারের চেয়ে তাকতে হয় কলেজের সব ছেলেদেরই ক্রাশ আশা  শুধু আবিরই ওর দিকে ফিরেও তাকায় না।

তাই আশার বান্ধবিরা আশাকে নিয়ে খুব মজা করে এমনি একদিন  কি রে আশা খুব তো ছেলে পটাতে পারিস পারলে আবিরের সাথে প্রেম করে দেখা (আশার এক ফ্রেন্ড)  আরে রাখ তো প্রেম  আবির তো ওর দিকে ফিরেও তাকায় না আর ও করবে প্রেম হিহিহি (বলেই সবাই একসাথে হেঁসে দেয়) এমন অপমান সহ্য হয়না আশার  মনে মনে বলে আবিরকে যেভাবেই হোক আমার প্রেমে ফেলেই ছাড়বো পরদিন ক্লাস শেষে বের হতে যাচ্ছে আবির ঠিক তখনি আবির তোমার সাথে কিছু কথা আছে (আশা) এই প্রথম কোন মেয়ে আবিরকে ডাকল তাই মনের ভেতর কেমন যেন করে ওঠে  ভয়ে ভয়ে বলে  বলেন কি বলবেন আবির আমরা তো ক্লাসমেট সো তুমি করে বলি? (আশা) ঠিক আছে (আবির) দেখ আবির তুমি সব সময় একা একা থাক নিজেকে আড়াল করে রাখো এটা আমার কাছে খারাপ লাগে আমি তোমার বন্ধু হতে চাই ।(হাতটা বাড়িয়ে আশা)

আবির কে বলবে ভেবে পায়না ওর ও ইচ্ছা করে সবার সাথে থাকতে তবে গরিব বলে এড়িয়ে চলে আর এই প্রথম কোন মেয়ে এভাবে বলছে  কি আমিকি তোমার বন্ধুর যোগ্য নই? (আশা) আরে না না তা কেন হবে আসলে কেউ এভাবে কখনো বলেনি তো তাই আবির আমিতো বলেছি আজ থেকে তোমার পাশেই থাকবো (আশা)এখন তো রাজি হও  আচ্ছা ঠিক আছে ফ্রেন্ড এভাবেই শুরু হয় আবির আর আশার বন্ধুত্ব আবির প্রথমে কেমন কেমন যেন বোধ করলেও এখন নিজেকে আশার কাছে রাখতেই ভালোলাগে একসাথে ক্লাস করা তারপর বসে আড্ডা দেয়া মাঝে মাঝে ঘুড়তে যাওয়া সব কেমন যেন স্বপ্নের মতো লাগে আবিরের কাছে আর আশার কেয়ারিংয়ে আবির ধীরে ধীরে আশাকে ভালোবেসে ফেলে ভালোবাসবে নাইবা কেন আশা দেখতেও অনেক মায়াবি আর আবিরের এমন কেয়ার করে তাই আবির আশাকে অনেকটাই ভালোবেসে ফেলে।

রাগ অভিমান আর খুনসুটির মাঝে চলে যায় কয়েকটা মাস আর এর মাঝেই আবির আশাকে এমন ভালোবেসে ফেলছে যে শুধু ওই ভালো জানে পড়তে পারেনা, ঠিক মতো ঘুমাতে পারে না শুধু আশার কথাই মনে পড়ে  তবে ভয়ের কারণে মুখ ফুটে বলতেও পারছে না যদি বন্ধুত্বটা ভেঙে যায়  এই কারণে আবির শুয়ে আছে ঠিক তখনই আশার ফোন  হ্যা আশা বলো (আবির) আবির কালকে কি তুমি আমার সাথে দেখা করতে পারবে? (আশা) হ্যা পারবো কোথায়? লেকের পাশে চলে এসো কেমন আচ্ছা ঠিক আছে বাই বাই পরদিন আবির খুশি মনে লেকের পাড়ে চলে যায় তবে মনে মনে ভয় করে না জানি আশা কি বলবে  একটু পরই দেখে আশা আসছে কালো শাড়িতে আশাকে দেখে আবির আর চোখ ফেরাতে পারছে না কি দেখো ওমন করে ( লজ্জা মাখা সুরে আশা) ইয়ে মানে তোমাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে (আবির মাথাটা নিচু করে) বোকা! একটা এতোদিনে বুঝলে (আশা) মানে (আবির) তুমি বুঝোনা আমি কেন তোমার বন্ধু হলাম? কেন তোমার এতো কেয়ার করি? তুমি কি বুঝোনা? (আশা অভিমান করে)

কেন করো (আবির) পাগল একটা আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি বলেই আশা আবিরকে জড়িয়ে ধরে আশার মুখে ভালোবাসি শুনে আবির যেন বোবা হয়ে গেছে তবে চোখের কোণে আনন্দ অশ্রু চিকচিক করছে আবিরও আলতো করে আশাকে জড়িয়ে ধরে বলে আমিও তোমাকে ভালোবেসে ফেলছি আশা তবে ভয়ে বলতে পারিনি বোকা একটা এখন তো বলেছ এটাই হবে এরপর থেকে আবিরের দিন গুলি আগের থেকে আরো রঙিন হয়ে যায়  কলেজ বাদ দিয়ে ঘুড়তে যাওয়া রাত জেগে জেগে কথা বলা আবির একেবারে আশার নেশায় নেশাগ্রস্থ পড়াশোনা ঠিক মত করে না শুধু মনের মধ্যে আশার চিন্তা যে ছেলেটা বই ছাড়া কিছুই বুঝতোনা সে এখন আশাকে ছাড়া কিছু বুঝেনা হঠাৎ করেই আবির লক্ষ্য করে আশা ওকে এড়িয়ে যাচ্ছে  আগের মত আর কেয়ার করেনা  বেশি কথাও বলেনা আবার দেখাও করতে চায়না দিন দিন অবহেলার পরিমানটা বাড়তেই থাকে  এটা আবিরের কিছুতেই সহ্য হয়না।

অবহেলাটা যখন চরমে সেদিন আবির আশাকে ডেকে বলে  এই আশা তুমি আমাকে অবহেলা কেন করছো? তুমি না আমাকে ভালোবাসো (আবির কেঁদে দিয়ে) হাহাহা ভালোবাসি! তোকে? কই নাতো (আশা) আশার কথা শুনে আবির স্তব্ধ হয়ে যায় কি বলে ও এই আশা এভাবে বলোনা আমার খুব কষ্ট হয় প্লিইইইজ  আশা আমাকে আবার আগের মতো ভালোবাসো (আবির) দেখ আমি তোকে ভালোবাসিনা এতোদিন শুধু তোর সাথে অভিনয় করেছি (আশা) আশার কথা শুনে আবির অবাক হয়ে যায় অভিনয়! তারমানে তোমার কেয়ার, ভালোবাসা, রাত জেগে স্বপ্ন সাজানো সব কি অভিনয়,,,? হ্যা হ্যা অভিনয়  আমি তোর সাথে অভিনয় করেছি  তুই আমার দিকে তাকাতি না তাই আমার ফ্রেন্ডরা আমাকে অপমান করতো  তাই তোর সাথে প্রেমের অভিনয় করেছি আশার কথাগুলো শুনে বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে ওঠে তবুও হাসি মুখে বলে  আচ্ছা ভালো থেকো আসলেই তুমি অনেক বড় অভিনেতা  অনেক বড় এরপর থেকে আবির কেমন যেন হয়ে যায় না করে পড়াশোনা না অন্য কিছু সারাটা দিন ঘরে শুয়ে থাকে  এভাবেই একটা মেয়ের অহংকারের জন্য শেষ হয়ে যায় একটা ছেলের জীবন  শেষ হয়ে যায় একটা ছেলের ভালোবাসা  শেষ হয়ে যায় একটা পরিবারের দেখা স্বপ্ন,,।

এলাকার বখাটে ছেলে অভ্র  সারাদিন চেলাপেলা নিয়ে কলেজের সামনে বসে আড্ডা দেয়াই তার কাজ এমনি একদিন বসে আছে হঠাৎ অভ্রর চোখদুটো অন্য দুটি চোখের সাথে আটকে যায়  বিধাতা এ কি অপরুপ করে এই চোখ দুটো বানিয়েছে,,,,! চোখদুটো অভ্রকে টানছে খুব টানছে ভাই ওভাবে কি দেখেন? (অভ্রর চেলা) ছোট,,,,, ঐ বোরকা পড়া মেয়েটা কে সব জেনে আমাকে তারাতারি জানা (অভ্র) জি ভাই পরদিন অভ্র জানতে পারে মেয়েটার নাম মিম্মা  কলেজে পড়ে প্রতিদিন অভ্র কলেজের মোড়ে বসে থাকে শুধু মাত্র মিম্মার ঐ মায়াবি চোখদুটো দেখার জন্য এদিকে মিম্মাও বিষয়টা লক্ষ্য করে অভ্র মিম্মাকে সব খানেই ফলো করে অভ্র কেমন যেন চেন্জ হয়ে যায়।

কিছু করতে পারেনা ঘুমাতে পারেনা শুধু চোখে বুজলেই ঐ মায়াবি চোখ দুটো ভেসে ওঠে তাই আজকে সাহস করে মিম্মার সামনে যায় তবে এই বখাটে ছেলেটার সব সাহস কেমন করে যেন চলে যায় কি বলবে কিছুই বুঝে না কিছু বলবেন? (মিম্মা) হ্যা মানে আ আমার তোমার চোখ দুটো খুব ভালো লাগে  আমি তোমার ঐ চোখ দুটোকে ভালোবাসি (অভ্র)  আচ্ছা আপনি তো সারাদিন এখানে সেখানে ঘুড়েই দিন কাটান তাইনা? আর নামায ও পড়েন না মনে হয়  আপনার মধ্যে ইসলামের কিছুই তো নেই আর কিভাবে আমি আপনাকে ভালোবাসবো? দয়া করে আর আমার সামনে আসবেনা না বলেই মিম্মা চলে যায় এদিকে অভ্রর কাছে কথাগুলে কেমন যেন লাগে আসলেই তো আমি একটা বখাটে আমাকে কে ভালোবাসবে  রাগ করেই চলে যায় বাড়িতে তবে কিছুই ভালোলাগে না অভ্রর শুধু ঐ চোখ দুটোই ভাসতে থাকে পরদিন অভ্র আবার এসে মিম্মার সামনে দাড়ায় আপনি আবার এসেছেন চলে যান (মিম্মা) দেখো আমি কিছুতেই তোমাকে ভুলতে পারছি না আমাকে ভালোবাসো প্লিইইইজ (অভ্র) ভালোবাসতে পারি এক শর্তে মানতে পারবেন? (মিম্মা)

তোমার জন্য সব শর্ত মানতে পারি বলো (অভ্র) আজ এখানে আমাকে ওয়াদা করতে হবে যে আর কোনদিন মারামারি করবেন না আর এখানে সেখানে বাজে আড্ডা দিবেন না  প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামায পড়বেন  আর নিজের পায়ে দাড়াবেন যদি পারেন তো সেদিনই আমাকে পাবেন বলেই মিম্মা চলে গেল আর অভ্র মিম্মাকে এতোটাই ভালোবেসে ফেলছে যে ওর কথা শুনতে চেষ্টা করছে পরদিন থেকেই অভ্র ৫ওয়াক্ত নামায পড়া শুরু করে আর কলেজের সামনে যায়না, বাজে আড্ডা দেয়না বাবা বড়লোক তাই বাবার অফিসেই যেতে শুরু করে অভ্র  প্রথমে অনেক কষ্ট হলেও এখন ঠিক হয়ে গেছে একমাস পর অভ্র এখন নিয়মিত নামায পড়ে অফিসে যায়।

অভ্রর মা বাবা ওর এমন বদলে যাওয়ার কারণটা জানতে চাইলে অভ্র সব খুলে বলে তারপর অভ্রর মা বাবা মিম্মাদের বাড়িতে বিয়ের কথা বলে আসে  আর মিম্মাও অভ্রর এমন বদলে যাওয়াতে খুব খুশি এভাবেই একটা মেয়ে একটা খারাপ ছেলেকে খারাপ একটা পথ থেকে ভালো পথে ফিরিয়ে আনতে পারে দিতে পারে ভালো একটি জীবন একটা মেয়েই পারে একটা ভালো ছেলেকে খারাপ করতে,,,,,,,,,, আবার   একটা মেয়েই পারে একটা খারাপ ছেলেকে ভালো করতে।

গল্পের বিষয়:
অনুবাদ

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত