ঘোলাটে চাঁদের আলোয়

ঘোলাটে চাঁদের আলোয়

মধ্যরাতকে সঙ্গী করে হেঁটে চলেছে নূরা পাগলা। চোখে বুনো উন্মজ্জন জাগিয়ে চরাচরের গভীর ঘুমকে তাচ্ছিল্য করে, তার পথচলা অজানা গন্তব্যে। মাথার উপর ঘোলা চাঁদ, পথের পাশের অচেনা বনফুলের চাহনীকে অবজ্ঞা সে নিরন্তর হেঁটে চলেছে, যেন এক নদী।

ঘোলাটে চাঁদের আলোয় তাকে অনুসরণ করছে তিন যুবক। এরা সবাই নূরা পাগলার পরিচিত। শিমূলতলী বাজারের বটতলার মফিজের চায়ের দোকানে ওরা সকাল-বিকাল আড্ডা দেয়। গত কয়েক ঘন্টা ধরে নূরা পাগলার বিষয়ে ওরা একটু বেশিই কৌতুহলী।

চারদিকের সুনসান নীরবতার মধ্যে কিছু কুকুর মধ্যযামিনীর অনাকাঙ্ক্ষিতদের উপস্থিতি অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে সরব হয়। আবার পরক্ষণেই অজ্ঞাত কারণে তারা নিশ্চুপতাকে আলিঙ্গন করে অলস ঢেঁকুর তুলে।

তিন যুবকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে নূরা পাগলার হাতের চটের ব্যাগটি।

নূরা পাগলা প্রতিদিন শিমূলতলীর বাজারে ছেঁড়া-নোংরা পোষাকে ঘুরে বেড়ায়। চিৎকার চেঁচামেচি করে বাজারের মানুষজনদের বিনোদন দেয়। তার বিনিময়ে শিমূলতলী বাজারের ব্যবসায়ীরা তাকে খাইয়ে পড়িয়ে বাঁচিয়ে রাখে। করুণার মমতায় তারা তাকে ভালোবাসে।

নূরা পাগলা নামটি ছাড়া তার সম্পর্কে কেউ কিছুই জানে না। কখন থেকে নূরা পাগলা শিমূলতলী বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে তা হয়তো শুধু কয়েকজন বয়স্ক ব্যবসায়ী অনুমানে বলতে পারেন মাত্র।

মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে তার হাতের চটের ব্যাগে গুপ্তধনের ফর্মুলা রয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছিল নূরা পাগলা। কেউ হয়তো নিছক বিনোদনের আশায় তার ব্যাগের ভেতরের রহস্য জানতে চেয়েছিল। তাতে বিপুল উৎসাহ নিয়ে নূরা পাগলা উত্তর দিয়েছিল, ‘গুপ্তধন। ব্যাগের মধ্যে গুপ্তধনের ফর্মুলা।’

তার এমন উত্তরে প্রশ্নকর্তা ও আশেপাশে অনেকেই হাসাহাসি করে বিষয়টি ভুলেছে। তবে জামিল, রতন আর কাশেম কিন্ত তা অন্যদের মতো একেবারে উড়িয়ে দেয়নি। ওদের মতো আরো অনেকেই বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলায় দুলেছে। এর অবশ্য কারণও আছে।

আনুমানিক তিন বছর আগে, একদিন দুপুরে নূরা পাগলা বাজারের এমাথা ওমাথা দৌড়াতে শুরু করে। সঙ্গে চিৎকার করে বলতে থাকে, ‘সাবধান! সাবধান! সব শেষ হয়ে যাবে, সব শেষ হয়ে যাবে। সাবধান, সাবধান!’

সেদিন শিমূলতলী বাজারের কেউই তার কথার মানে বুঝতে পারেনি। এ নিয়ে অবশ্য কেউ খুব বেশি চিন্তাও করেনি। পাগল মানুষ কখন কি বলে, তার কি কোনো ঠিক আছে।

ওইদিন রাতেই শিমূলতলী বাজারে আসে ডাকাতের দল। আটটি দোকান লুট করে। লুট করা মালামাল নিয়ে সটকে পড়ার মুখে দোকনদাররা তাদের পথরোধ করে। ডাকাতরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বাজারের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। পালানোর সব পথ বন্ধ দেখে, তারা গোবিন্দ ঘোষের মিষ্টির দোকান ও ফিরোজ মিয়ার চটের দোকানসহ বেশ কিছু দোকানে আগুন দেয়। মুহুর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা বাজার গ্রাস করতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এমন আকস্মিক ঘটনায় সবাই ডাকাতের কথা ভুলে আগুন নেভাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে ডাকাতরা পগারপার।

আগুন নিভলে নূরা পাগলার ভবিষ্যৎবাণী কথা সবার মনে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর মনে বাজতে থাকে নূরা পাগলার ভরাট কণ্ঠের চিৎকার, সাবধান! সাবধান!

পরদিন সকালে শোক ভুলে সবাই নূরা পাগলাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। কিভাবে সে আগে থেকে জানলো এই বিভৎস রাতের কথা! অনেক জিজ্ঞাসা করেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তাকে ঘিরে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি অনুরাগের সৃষ্টি হয়। তারা তাকে ভিন্নদৃষ্টিতে দেখতে শুরু করেন।

তবে অনেকে অবশ্য ভিন্ন সুরেও বলেন, ‘ঝড়ে বক মরেছে, ফকিরের কেরামতি বেড়েছে। কোনো খেয়ালে পাগল কি বলছে, তা কি সত্যি সত্যি ঘটেছে নাকি। এটি নেহাতই একটি দুর্ঘটনা।’

তবে নিন্দুকেরা যাই বলুক, এই ঘটনার পর শিমূলতলী বাজার ও আশেপাশের এলাকায় নূরা পাগলার অগণিত ভক্তকূলের জন্ম হয়। তার খাওয়া পড়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে এরা সদা সচেতন। তবে নূরা পাগলাও বেশ ঘাড়ত্যাড়া মানুষ। ইচ্ছে হলে তাদের দেয়া জিনিস নেয়, ইচ্ছে না হলে নেয় না। শত অনুরোধেও তাকে কেউ টলাতে পারে না। নূরা পাগলার এমন আচরণে বাজারে তার প্রভাব প্রতিপত্তি আরো বেড়ে যায়। ক্রমাগত এর সংখ্যা বেড়ে চলে।

এর পরের তিন বছর নূরা পাগলা তার তেমন কোনো আলৌকিক ক্ষমতার পরিচয় শিমূলতলী বাজারে প্রদর্শন করেনি।

শুধু সময় এগিয়ে আসে আজকের রাতের দিকে।

গত পরশু, শনিবার দুপুরের পর হিন্দু দোকানদাররা বাজারের বটতলায় শনিপূজার আয়োজন করেছিল। পূজার প্রস্তুতি চলছে, সেখানে নূরা পাগলা হাজির হয়ে বলে, ‘আমার খিদা লাগছে। খাইতে দে।’

মুহুর্তেই তার সামনে নানান পদের খাবার হাজির করে ভক্ত অনুরাগীরা। কিন্তু নূরা পাগলা সেসব ছুঁয়েও দেখে না। সে তর্জনী তুলে ইশারা করে শনি পূজার ঘটের উপর বসানো নারকেলের দিকে।

এতে উপস্থিত সবাই ভয়ার্ত দৃষ্টিতে একে অন্যের মুখের দিকে তাকায়। কেউ কোনো কথা বলে না।

শনিদেব তেজস্বী দেবতা। তাঁর কু-দৃষ্টি যার উপর একবার পড়ে সে ছাড়খার হয়ে যায়।

নূরা পাগলা ক্রমাগত বলতেই থাকে, ‘আমারে ওইটা দে। খিদা লাগছে।’

উপস্থিতির নীরবতা অথবা ক্ষুধাকে সহ্য করতে না পারার কারণে নূরা পাগলা ক্ষিপ্র হয়ে উঠে। নারকেলটি নিতে এগিয়ে যায় ঘটের দিকে।

তাকে কেউ বাধা দিতে সাহস পায় না, আবার শনিপূজার ঘটের নারকেলটি দিতেও তাদের মন সায় দেয় না। এমন পরিস্থিতিতে সকলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে নীলু ঠাকুর এগিয়ে আসেন। তিনি হুঙ্কার ছাড়েন, ‘ওই নূরা এই কাম করিস না। সর্বনাশ হইয়া যাইবো।’

কে শোনে কার কথা, নূরা পাগলা এগিয়ে যায় ঘটের দিকে। পায়ের কাছে থাকা দা’টি কুড়িয়ে ওর মুখোমুখি দাঁড়ায় নীলু ঠাকুর। উত্তেজিত স্বরে আবারও বলে, ‘ওই নূরা তুই আমার থিকা নাইকল নিস, আয় আমার লগে আয়।’

নূরা পাগলার শুধু বলে, ‘না আমি এইটাই নিমু।’

ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নীলু ঠাকুর। হাতের দা উঁচিয়ে বলে, ‘আর যদি এক পা আগাস, তাইলে কিন্তু খবর আছে।’

হা হা করে গগণ বিদারী হাসি দিয়ে নূরা পাগলা ঘট থেকে নারকেলটি তুলে নিয়ে চলে যায়।

নীলু ঠাকুরসহ বাকীরা হতভম্ব হয়ে তার চলে যাওয়া দেখে।

ঘটনার পরে বাজারে বেশ হইচই পড়ে যায়। সবাই বলাবলি করে, শনি দেবতার কুদৃষ্টি থেকে তাতে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। বেঘোরে তার জীবনটা যাবে।

তবে নূরা পাগলার অনুরাগীরা এতে খুশিই হয়। তারা প্রচার করে, কিছুই হবে না। অর ভেতর একটা কিছু আছে। নইলে কেউ পূজার আগে শনিদেবের বরাদ্দ জিনিস খেতে চায়!

এরপর তিনদিন নূরা পাগলার কোনো খোঁজ নেই। শনিপূজার ঘটের নারকেল নিয়ে তার এমন অন্তর্ধানে নানান মুখরোচক গল্প লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে। বেশির ভাগ মানুষের ভাষ্য, নির্ঘাত শনির কুদৃষ্টি পড়েছে। কোথায় কোনো বিপদে পড়ছে কে জানে।

নূরা পাগলার অনুরাগীরা এসব কথায় বিশ্বাস করে না। তবে তাদের মনেও একটা অজানা শংকার জন্ম হয়।

সকলের শংকা আর দুঃচিন্তাকে উড়িয়ে দিয়ে আজকে রাত আটটার দিকে বাজারে নূরা পাগলার উদয় হয়। একহাতে চটের ব্যাগ, অন্যহাতে লাঠি। যাকে সামনে পাচ্ছে তাকেই গালাগাল করছে। ভয়ে যে যেভাবে পারছে তাকে এড়িয়ে অন্য পথে চলে যাচ্ছে।

সারাবাজার ঘুরে নূরা পাগলা গিয়ে দাঁড়ায় আক্কাসের মুদি দোকানের সামনে। চিৎকার করে আক্কাসকে বলে, ‘এক লাখ টেকা দে। আমি তরে গুপ্তধন দিমু।’

আক্কাস হাসে। আবারো নূরা পাগলা টাকার জন্য তাগাদা দেয়। আক্কাস আবারও হাসে। বলে, ‘ওই অহন যা। কাম করতে দে।’

নূরা পাগলা আবার বলে, ‘খিদা লাগছে, ভাত খামু টেকা দে।’

তাকে শান্ত করতে না পেরে, আক্কাস তার দোকানের কর্মচারীকে বাজারের হোটেল থেকে ভাত এনে দিকে বলে।

বাধা দেয় নূরা পাগলা। বলে, ‘বাজারের ভাত খামু না। শ্মশান ঘাটের সামনের দোকান থিক্যা ভাত খামু।’

আক্কাস ভয় পেয়ে যায়। একটি দশ টাকার নোট এগিয়ে দেয়।

দশ টাকা দেখে নূরা পাগলা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে, ‘আমারে এক লাখ টেকা দে। তরে গুপ্তধন দিমু।’

আক্কাস অনুনয়ের সুরে বলে, ‘আমার গুপ্তধন লাগবো না, তুই অহন এই টেকা নিয়া যা।’

তাতে কাজ হয় না, নূরা পাগলার সেই এক গো, ‘আমারে একলাখ টেকা দেয়ন লাগবো।’

চিৎকার চেঁচামেচিতে আক্কাসের দোকান ঘিরে একটা জটলার সৃষ্টি হয়েছে। সবাই মজা দেখছে। হঠাৎ নূরা পাগলা একটা অদ্ভুত কাণ্ড করে বসে। খামচি দিয়ে কিছু মাটি নিয়ে চিৎকার করে বলে উঠে, ‘আমারে টেকা না দিলে তগো সব টেকা মাটি হইয়া যাইবো।’

এবার সবাই ঘাবড়ে যায়। তাদের মনে আশংকার মেঘ জমতে শুরু করে।

হোসেন আলী এগিয়ে আসে, ‘নূরা তোর বাড় কিন্তু দিনদিন বাড়তেছে। তরে কেউ কিছু কয় না বইলা তুই যা খুশি তাই করবি। আক্কাস ভাই দেও তো একটা লাঠি দাও, ওরে আজকা মাইরাই ফালামু।’

হোসেন আলীর কথায় নূরা পাগলা একদম চুপসে যায়।

সবাই ভাবে নূরা ভয় পেয়েছে। কিন্তু কয়েক মুহুর্ত তারপরই চিৎকার করে উঠে বলে, ‘তরা সব বেঈমান। আমারে টেকা দিলি না।’

আক্কাস আবারো বলে, ‘তোরে ভাত আইনা দিতাছি, তুই এইহানে বয়।’

নূরা পাগলা চিৎকার করে বলে, ‘আমি এহানে খামু না, আমি শ্মশানের দোকান থিক্যা ভাত খামু।’

নীলু ঠাকুর বলে, ‘ওই শ্মশানের তোর জন্য কে ভাতের দোকান খুলছে রে! যতসব পাগলামি। ওই বাদ দাও তো, শালায় এই হানে চিল্লাইতে থাকুক। যে যার কাজে যাও।’

নূরা পাগলা অনবরত বলতেই থাকে, ‘আমারে ভাত খাইতে দিলি না। আমারে ভাত খাইতে দিলি না…’

উপস্থিত জনতার দিকে তাকিয়ে আক্কাস বলে, ‘কেউ কিছু কন না কেন। অরে আমার ডর করে। অর অবাধ্য হইলে কি কাম করবো হের কোনো ঠিকানা আছে!’

নূরা পাগলাকে বোঝানোর চেষ্টা করে সবাই ব্যর্থ। কারো কথাই সে শোন না, তার ওই এক কথা, ‘এক লাখ টেকা দে, আমি গুপ্তধন দিমু। এই চটের ব্যাগে গুপ্তধনের ফরমূলা আছে। আইজকা রাইতেই এইগুলি পাবি।’

কিন্তু কে দিবে তাকে এক লাখ টাকা। তার জিদ আরো বেড়ে যায়।

ভিড়ের মধ্যেই ছিল জামিল, রতন আর কাশেম। ওরা একে অন্যের মুখের দিকে তাকায়। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নূরা পাগলাকে দেখতে থাকে।

এবার নূরা পাগলা একটু বেশিই উত্তেজিত স্বরে জিজ্ঞাসা করে, ‘দিবি না, টেকা দিবি না?’

কেউ কোনো কথা বলে না।

টাকা পাবে না নিশ্চিত হয়ে নূরা পাগলা হাতের লাঠিটি দিয়ে আক্কাসের দোকানের সামনে মাটিতে একটি গর্ত করে। তারপর কিছুক্ষণ আগে হাতে নেয়া মাটিগুলো দিয়ে গর্ত চাপা দেয়।

সবাই তার কর্মকান্ড খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকে।

তারপর হঠাৎ করে না বলে চিৎকার করে হাতের চটের ব্যাগ নিয়ে সদর রাস্তার দিকে হাঁটা দেয়।

নূরা পাগলার এমন আচরণে ভেতরে ভেতরে সবাই বেশ দমে গেছে। ভয় দূর করতে অনেকেই একটু ঠাট্টা মশকরায় মেতে ওঠার চেষ্টা করে। তাতে অবশ্য কারো মনের শংকা কাটে না।

সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছে আক্কাস মিয়া। তার কাছেই টাকা চেয়েছিল নূরা পাগলা। তার মনে অস্বস্তি, কি জানি কি ক্ষতি হয়।

রাত বাড়তে থাকে। শিমূলতলী বাজারের সবাই সে রাতে মনে অজানা শংকার ভয় নিয়ে ঘরে ফেরে। এক সময় হয়তো ঘুমিয়েও পড়ে।

শুধু নূরা পাগলা অজানা উদ্দেশ্যে হেঁটে চলছে। জামিল, রতন, কাশেম তাকে অনুসরণ করছে।

কোথায় যাচ্ছে নূরা পাগলা? গুপ্তধনের ফরমূলা কি সত্যি সত্যি ওই ব্যাগের মধ্যে রয়েছে? ফিসফিসিয়ে অনেকবার এইসব আলোচনা হয়েছে ওদের তিনজনের।

এক সময় কাশেমের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে পড়ে। বলে, ‘আর ভাল লাগছে না, চল পাগলাকে ধরে চটের ব্যাগটি ছিনিয়ে নেই।’

বাধা দেয় রতন। এতে ক্ষতি হতে পারে বলে সবাইকে বুঝায়। ধৈর্য্য রাখতে অনুরোধ করে। জামিল রতনের কথায় সমর্থন দেয়।

হাঁটতে হাঁটতে নূরা পাগলা বাজারের তিন মাইল দক্ষিণে, বড় বিলের কাছাকাছি চলে এসেছে। জায়গাটা নিয়ে অনেক ভৌতিক গল্প প্রচলিত রয়েছে। গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করে রাতের আঁধারে এখানে নানান পৈচাশিক কর্মকাণ্ড ঘটে।

এখন ওরা তিনজন একটু ভয় পাওয়া শুরু করে। তবে রতন বাকীদের সাহস দিয়ে বলে, ‘আরে সমস্যা হবে না। সমস্যা হলে নূরা পাগলা এখানে আসতো নাকি।’

কথাটি হয়তো শুনে ফেলে নূরা পাগলা। হঠাৎ করেই পিছনে ফিরে তাকায়। ওদের দেখেই ঝেড়ে দৌড় দেয়। পরক্ষণেই ওরা তার পেছনে দৌড়াতে শুরু করে।

অনেকক্ষণ দৌড়ানোর পর হঠাৎ করেই তিন যুবকের সামনে থেকে নূরা পাগলা উধাও হয়ে যায়।

ঘোলাটে চাঁদের আলোয় চারদিকে তাকিয়ে ওরা কোথাও কোনো জনমানবের চিহ্ন তো দূরে থাক, একটি গাছও দেখতে পায় না। শুধু ধূ ধূ প্রান্তর। কোথায় কোনদিকে ওরা যাবে, বুঝে উঠতে পারে না।

তিনজনেই ব্যাপক ভয় পেয়ে যায়। মনে তাদের একটাই প্রশ্ন, নূরা পাগলা কোথায় গেল? আর এখানেই বা ওরা কেমন করে এলো? ওরাতো ছিল বড় বিলের কাছাকাছি। এমন জায়গাতো তাদের গ্রামের আশেপাশে কোথাও নেই।

আশেপাশে পরিচিত কিছু নজরে পড়ে কিনা তা দেখার চেষ্টা করে, কিন্তু তাতে ভয় আর আতঙ্ক আরো বেড়ে গেছে।

এমন সময় কয়েকটি কুকুর সমন্বিত স্বরে ডেকে ওঠে। তিন যুবকের বুকে একটু সাহসের সঞ্চার হয়। বোঝার চেষ্টা করে কুকুরের ডাক কোথা থেকে আসছে।

চারপাশে খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ করে জামিল রতন ও কাশেমের হাত শক্ত করে চেপে ধরে। দুজনই তাকিয়ে দেখে জামিল ভয়ার্ত দৃষ্টিতে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। ওর চোখে-মুখে স্পষ্ট আতঙ্ক। ওরাও সেদিকে তাকায়। ধীরে ধীরে একটি ছায়া তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।

চাপা আতঙ্ক নিয়ে তিন যুবক অপেক্ষা করতে থাকে ছায়া মূর্তিটির জন্য…।

গল্পের বিষয়:
রহস্য

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত