গল্প হলেও সত্যি জিওয়েট সিটি ভ্যাম্পায়ার

গল্প হলেও সত্যি জিওয়েট সিটি ভ্যাম্পায়ার

গল্প হলেও সত্যি…নামটা কেমন যেন শোনালো না! হ্যাঁ…গল্পের আধার কিন্তু বাস্তব ঘটনায় হয়ে থাকে। বাস্তবতা থেকে খোরাক নিয়ে কল্পনার সুতোতে বুনিয়ে গল্পের পরিসর তৈরি হয়। পৃথিবীতে এমন কিছু ঘটনা ছিল, আছে, ঘটেছে, ঘটছে…যা রহস্যমন্ডিত এবং কিছুটা ব্যাখ্যাতীতও। আর এরকমই কিছু রহস্যমন্ডিত ঘটনা নিয়ে এই নতুন সিরিজ তৈরি করার চিন্তা করেছি।

কাউন্ট ড্রাকুলাকে মনে আছে?? ব্রাম স্টোকারের অমর সৃষ্টি এই ড্রাকুলা তিনি প্রিন্সের ভ্লাদের অনুকরণে লিখেছিলেন। এখান থেকেই আরও এক শব্দ তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ‘ভ্যাম্পায়ার’। যদি বলি আজকে এরকম একটা ভ্যাম্পায়ারের জায়গার গল্প শোনাব?? যদি বলি ড্রাকুলা এবং ভ্যান হেলসিং এর লোককাহিনী বাস্তবে রয়েছে তো? আজকের ব্লগ এমনই এক কথিত ভ্যাম্পায়ারের জায়গার গল্প নিয়ে…যা কিছুটা রহস্যমন্ডিত এবং উদ্ভটও। প্রত্যেক জায়গারই নিজস্ব কিছু রহস্য আছে, কিন্তু কিছু জায়গার গুপ্ত রহস্য অন্যান্য জায়গার উদ্ভট ভাবকে হার মানায়। কানেকটিকাটের জিওয়েট সিটি ঠিক এমন…এখানে ৩৫০০ লোক এবং কিছু ভ্যাম্পায়ারের বাস! জিওয়েট সিটির ভ্যাম্পায়ারদের গল্পের সূচনা হয় সেই ১৮০০ সালের দিকে, যখন স্থানীয় একটি পরিবারের সব সদস্য টিউবারকুলোসিসে আক্রান্ত হয়।

টিউবারকুলোসিসকে তৎকালীন আমলে ক্ষয়রোগ বলে চিহ্নিত করা হত! হেনরি রে এবং তার তিন ছেলে আস্তে আস্তে এই ক্ষয়রোগেই নিঃশেষ হয়ে যেতে থাকে, প্রত্যেকদিন আগের দিনের তুলনায় আরও বেশি দুর্বল, যেন কেউ একজন রাতে তাদের বাড়িতে এসে একটু একটু করে তাদের প্রাণ শুষে নিয়ে যাচ্ছিলো। ১৮৪৫ সালে লেমুয়েল রে যখন ২৪ বছর বয়সে মারা যায় ভয়ের সূচনাটা ঠিক তখন থেকেই হয়। তার কিছু পরেই, লেমুয়েলের বাবা হেনরি বি রে ১৮৫১ সালে মারা যায়। দুই বছর পরে লেমুয়েলের ২৬ বছর বয়সী ভাই এলিশা রে ১৮৫৩ সালে এবং এরপর এক বছরের মাথায় হেনরি রে মারা যায়। ১৮৫৩ সালের মে মাসে, পরিবারটিতে একটি মিটিং ডাকা হয়। রে পরিবার বিশ্বাস করে তাদের অঞ্চলে অশুভ কোন শক্তি এসে ভর করেছে যারা তাদের পরিবার পরিজনকে অপবিত্র কিছু প্রাণিতে পরিণত করছে এবং যারাও মৃত্যুর পর তাদের কবর থেকে উঠে এসে ঐ একই কাজ করছে।

তাদের ভাই যাতে এভাবে ফিরে না আসে এই ভয়ে রে পরিবারের বাকি সদস্য কবরস্থানে গিয়ে তাদের দুই সদস্য লেমুয়েল এবং এলিশার মৃতদেহ তুলে এনে পুড়িয়ে ফেলেছিলো। বিশ্বাস করা হয় যে হেনরি এই কাজ থেকে বেঁচে গিয়েছিলো কারণ তার মৃত্যুর তারিখ সঠিকভাবে নিরূপণ করা যায়নি। এ বাদেও আরও একটি তত্ত্বে তারা তাদের মৃত পরিবার সদস্যদের ‘সত্যিকারের মৃত্যু’ নিশ্চিত করত— মৃত সদস্যের হৃদপিন্ড কেটে এনে পুড়িয়ে ফেলত তারা। তারা বিশ্বাস করত এভাবে তাদের পরিবারের বাকি সদস্য এবং অন্যান্যরা অশুভ শক্তির হাত থেকে মুক্তি পাবে! কয়েক বছর পরে, এলাকা থেকে সেই রহস্যজনক অসুখ বিদায় নিয়েছিলো এবং অঞ্চলটি তথাকথিত অশুভ শক্তির ভয় থেকে মুক্ত হয়েছিলো। কবর থেকে তুলে আনার এই ঘটনার দর্শক ছিলো অসংখ্য মানুষ। সেই সাথে এই খবর তাদের স্থানীয় সংবাদপত্রেও প্রকাশিত হয়েছিলো।

জিওয়েট সিটি ভ্যাম্পায়ারের এই ঘটনা লোকমুখে প্রচলিত গল্প বৈ আর কিছু ছিল না। কিন্তু ১৯৯০ সালের শুরুর দিকে এই ঘটনা আবারও নতুনভাবে লোকচক্ষুতে আসে যখন স্থানীয় কিছু বাচ্চা লোমহর্ষক কিছুর দেখা পায়। হোপভিলের দুটো ছেলে খেলা করার সময় খেয়াল করে তারা গোল ধরনের অদ্ভুত এক জিনিসকে পা দিয়ে বাড়ি দিয়েছে। অদ্ভুত সেই জিনিসগুলো পরবর্তীতে মাথার খুলি হিসেবে আবিষ্কৃত হয়। তারা তাদের বাবা- মাকে বিষয়টি অবগত করলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। কয়েকদিনের মধ্যেই সেখানে কিছু নৃতত্ত্ববিদ এসে জায়গাটিতে এক কবরস্থান আবিষ্কার করে যেখানে সর্বমোট ২৯ টি কবর পাওয়া গিয়েছিল। অদ্ভুতভাবে রে পরিবার ছাড়াও আরও একটি পরিবারের ‘ভ্যাম্পায়ার সন্দেহের’ নিদর্শন পাওয়া গিয়েছিল সেখানে।

ওয়াল্টন পরিবারের কবরস্থান ছিল এটা যারা রে পরিবারের সময়কাল থেকে পঞ্চাশ বছর পূর্বে তাদের বাড়ি থেকে মাত্র দুই মাইল দূরেই থাকত। এর মধ্যে একটি কবর ভীষণ চমকপ্রদ ছিল। জেবি-৫৫ চিহ্নিত একটি কফিনে একটি লোকের হাড় পাওয়া গিয়েছিল যার দেহকে বিভক্ত করা হয়েছিলো বলে ধারণা করে তারা। তার খুলিকে কশেরুকার অংশ থেকে সরিয়ে বুকের গহ্বরের উপর স্থাপন করে ফিমার হাড়গুলোকে তার নিচেই ‘X’ আকৃতিতে ক্রস করে রাখা হয়েছিল। এই লোকটিও ক্ষয়রোগে মারা গিয়েছিল বলে নির্ণয় করে তারা। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ওয়াল্টন পরিবারের আরও একজনের দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল যারও ক্ষয়রোগ হয়েছিল বলে বের করা হয়। এটাতে স্থানীয় সকল লেজেন্ডের মার্ক ছিল, দেহটি একজন ভ্যাম্পায়ারের সে প্রমাণ ছিল।

স্থানীয় গবেষকরা বিশ্বাস করেছিল যে ১৭০০ সালের শেষ দিকে লোকটিকে দাফন করার পাঁচ বছর পরে আবারও তোলা হয়েছিল এবং তার হাড়গুলোকে ওভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে সে আর নিজের কবরে অশুভ শক্তির আধার হিসেবে ফিরতে না পারে। কানেকটিকাট ভ্যাম্পায়ারের স্বপক্ষে এটাই প্রথম প্রমাণ ছিল বলে মনে করা হয়। রে পরিবারের ভাগ্যে যা ঘটেছিল, দেখা যায় ওয়াল্টন পরিবারের সাথেও একই ঘটনা কয়েক দশক আগে ঘটেছিল। ওয়াল্টনরা নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য যে ‘মৃতদের মেরে ফেলার’ প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছিল, রে পরিবার সেটার উত্তরসূরি ছিল শুধু। এই দুই পরিবারের আসল ঘটনা কী ছিল তা জানা না গেলেও, জিওয়েট সিটি ভ্যাম্পায়ারের গল্পের নামডাক কিন্তু আছে!!!

গল্পের বিষয়:
রহস্য

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত