অদ্ভুত মানুষটি

অদ্ভুত মানুষটি

আজ থেকে কয়েক দিন আগের কথা, সময়টা তখন মধ্য রাত,১২ টা বাজে, এমনি তে বেশি রাত না হলেও প্রবাস জীবনের জন্য রাতটা গভীর, কয়েক দিন থেকেই নিজের পুরানো নেশাটা আবার জেগেছে, গভীর রাতে একা রাস্তায় হাঁটা, তবে হিমুর মতো নয়, সে হাটতো খালী পায়ে, আমি অবশ্য জুতো-মুজো সবকিছু পরেই বের হই।

বরাবরের মতোই রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম, কিছুক্ষণ যাবার পর দেখলাম এক ভদ্রলোক চেয়ারে বসে আছেন, এবং অনর্গল কথা বলে যাচ্ছেন, ভাবলাম হয়তো টেলিফোনে কথা বলছেন, এই ভাবনাটাই স্বাভাবিক,আমি আমার মতো চলতে লাগলাম।

আসার সময় দেখি ভদ্রলোক একই স্থানে বসে আছেন এবং কথা বলছেন, ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে অনেকটা অবাক হয়ে গেলাম নাতো উনার হাতে কোন ফোন ছিলো না কানে এয়ারফোন,
তাহলে উনি এতক্ষণ যাবদ কার সাথে কথা বলছিলেন, স্বাভাবিক ভাবেই আমার কৌতুহল জাগলো জানেনই তো মানুষেমানুষের কৌতুহলের শেষ নেই, উনার পাশে গিয়ে বল্লাম Hi How are you ( ইংরেজিতে বলার কারন আমি বুজতে পারছিলাম উনি কোন দেশি) ভদ্রলোক আমার কথার কোনো উত্তর না দিয়ে বল্লেন বসো,

আমি বসলাম তারপর জিজ্ঞেস করলাম আচ্ছা আপনি এতো রাতে কার সাথে কথা বলছেন কাউকে তো দেখছি না, আর আপনি নিশ্চয়ই ফোনে কথা বলছেন না, তাহলে কার সাথে কথা বলছেন? উনি আবারো আমার কথার উত্তর না দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে হাসলেন।
সেই হাসি সেই মায়াবী হাসি দেখে শুধু শরীর নয় আত্মার ভেতর দিয়ে একটা শীতল প্রবাহ বয়ে গেলো, উনি দেখতে অতিবো সুন্দর চেহারার মানুষ মৌলবি মানুষ যেমন তাদের দাড়ি বড়ো রাখে গোঁফ ছোট উনারও তেমনই, অন্ধকারে বিড়ালের চোখ যেমন জ্বলজ্বল করে উনার ও তেমন, উনার চোখের দিকে তাকালে যেকোনো মানুষ ই ভয় পেয়ে যাবে আমিও পেয়েছি,

তারপর উনি খুব স্বাভাবিক ভাবেই বল্লেন সিগারেট আছে? আমি উনার দিকে সিগারেট আর লাইটার এগিয়ে দিলাম, উনি বল্লেন আমি ধুমপান করি না তুমি খাও, আমার বাবার বয়সী কারো সামনে সিগারেট খাবা টা আমি তেমন ভালো ভাবলাম না বসে রইলাম, খানিকক্ষণ পরে উনি কিছুটা ধমকের সুরে বল্লেন সিগারেট জ্বালান, কিছুটা ভয় পেয়েই সিগারেট জ্বালাইলাম,
উনি আবার হেসে বল্লেন এতো রাতে কারা হাটে তুমি কি জানো প্রশান্ত? আমি বিস্ময় নিয়ে উনার দিকে তাকালাম, একজন অপরিচিত ব্যাক্তি যার সাথে এই প্রথম দেখা, উনি আমার নাম জানলেন কীভাবে? ভীতু গলায় উত্তর দিলাম না।
উনি আবারো খানিকটা হেসে বল্লেন তিন ধরনের প্রানী এতো রাতে চলাফেরা করে
১. কোন আলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ
২.জ্বীন বা এ জাতীয় কিছু
৩ নিশাচর প্রাণী
উনার বলার মাঝেই আমি বল্লাম, আপনি কোন ধরনের প্রাণী? উনি আবারো আমার কথা এড়িয়ে গেলেন।
কিছুক্ষন নিশ্চুপ থেকে আবার বল্লেন, তুমি সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা, তুমি এই জগতের হয়েও তুমি ভিন্ন জগতের।
উনাকে বল্লাম আপনার কথা জিছুই বুজিতেছি না।

উনি হেসে বল্লেন তুমি আরেকটা সিগারেট ধরাউ,
মনে হলো এজ অদ্ভুত শক্তি আমাকে সিগারেট জ্বালাতে বাধ্য করলো, ভদ্ভদ্রলোক বলতে থাকলেন
তুমার কিছু কথা বলি যেগুলা সবসময় মনে রেখো,
তুমার ভিতরে কিছু সুপ্ত ক্ষমতা আছে সেগুলোকে জাগিয়ে তোলো,জড়জাগতিক বিষয় বস্তু নিয়ে চিন্তা বাদ দিয়ে অন্য জগৎ নিয়ে ভাবো,
তুমি সবার থেকে আলাদা এটা মাথায় রেখো কিন্তু অহংকার করো না (আরো কিছুকথা ছিলো যেগুলো মনে হচ্ছে না)।
উনার কথা গুলো শুনে ভয়ে হাত পা কাপছিলো,
উনায় প্রশ্ন করলাম আপনি কে? আমার বিষয়ে এগুলা যানেন কেমন করে?
বরাবরের মতো উনি উত্তর না দিয়ে বল্লেন,কাল সময় ৪ টায় তুমায় কাজে যেতে হবে, যাউ গিয়ে ঘুমিয়ে পরো।
উনার কথায় অবাক হবো নাকি ভয় পাবো বুজতে ছিলাম না।

তারপর উনি বল্লেন আমার যাবসর সময় হয়েছে উঠি, বলেই কাল বিলম্ব না করেই সামনে এগুতে থাকলেন, আমার চেতনা আসতেই উনাকে ডাক দিলাম উনি কে আমাকে জানতেই হবে, উনি থামলেন না আমি উনার পিছু নিলাম কিন্তু ২ মিনিট পর উনি যেন হাওয়ার সাথে মিলিয়ে গেলেন অনেক খুজেও উনাকে পাই নি, তার পরের ঘঠনা মনে নেই
সকালে ঘুম থেকে উঠেই কালকে রাতের কথা মনে করতে লাগলাম ওই টা কি স্বপ্ন না সত্যি ছিলো,
কাউকে কিছু না বলেই চলে গেলাম সেই জায়গায়
জায়গা ঠিক কাল রাতের মতোই সবকিছু একই রকম, মাথার ভিতর তিব্র যন্ত্রণা হচ্ছিলো, বাসায় আসলাম, আঙ্কেল কে জ্বিগেস করার পর উনি বলেন খেয়াল করেন নাই কাল রাত বাহিরে গিয়েছি কি না!

ওই দিন থেকেই কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে থাকে আমার সাথে, ২ দিন রাত ওই জায়গায় গিয়ে বসেছিলাম হয়তো লোকটার দেখা পাবো এই আশায়, কিন্তু পাই নি।কাল থেকে আর যাবার সাহস হচ্ছে না। প্রতিদিন মনে হচ্ছে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি, আবার মনে হয় পাগলরা তো বুজতে পারে না তারা পাগল তবে আমি কি সুস্থ, বর্তমানে নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছি না!!
এখন মাথায় কেবল ৩ টি প্রশ্ন
১.ওই ঘটনা কি সত্যি না স্বপ্ন?
২.আমি আসলেই কে?
৩.আমি পাগল না সুস্থ?
সত্যি নিতে পারছি না এই যন্ত্রণা মুক্তি চাই এর থেকে।

গল্পের বিষয়:
রহস্য

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত