হুরি

হুরি

জরিনা যেন ঝড়ে উপড়ানো গাছ! কালবৈশাখির পর উঠান থেকে ভেঙেপড়া গাছ যেমন টেনে সরাতে হয়, তেমনি তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে আক্কাস আলী। যদিও তার এক বাহুতে আটকে আছে শিশুটি, আর তা যেন জন্মান্তর ধরে আটকেই…
উজানি মাছেদের বউজীবন

উজানি মাছেদের বউজীবন

বাদলার মরশুম এলেই ঘোড়াউত্রার জলে যেন কী এক রহস্য খেলে যায়! এমনিতেই বছর-কাবারি তার ভাব-সাবের তেমন অদল-বদল নাই। আর দশটা নদ-নদী যেভাবে চলে-ফিরে, ঘাড় ঘুরিয়ে, কোমর বাঁকিয়ে অন্যপথে ধায় – ঘোড়াউত্রাও তেমনি চলে। সারা বৎসর…
এই চরাচর

এই চরাচর

এইখানে চরাচর আসিয়া মিশিয়া গিয়াছে! সত্যি! একেবারে সত্যি কথা! যে-লোকটি অথবা যে-ছেলেটি কবির ঢঙে এই কথা বলে পরের বাক্যটির জন্যে একটু থামল, সে সত্যি কথাই বলেছে। শহরের ভেতরে এইটুকু জায়গা, কিছুদিন আগে দেওয়া নাম স্বাধীনতা…
অবেলার কামিনী

অবেলার কামিনী

‘পিঠ চুলকানোর জন্যও একজন মানুষ লাগে’, টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে একটু ম্লান হেসে বললো মুনা। তার কণ্ঠস্বর কেমন বিষাদগ্রস্ত মনে হলো জহিরের কাছে। এখন প্রায় সকাল হয়ে গেছে। দেয়ালঘড়িতে সাড়ে চারটা। সাধারণত তারা এতো সময়…
শহরের পাতাঝরা বিকেলে

শহরের পাতাঝরা বিকেলে

একবার এক বিকেলবেলায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে এই শহরে, তারপর তা থেমে গিয়ে হালকা প্রসন্ন রোদ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সে-রোদের ওপর এমন এক ঝোড়ো হাওয়া পাক খেয়ে চলে যে, পাতাঝরা ফাল্গুনের বিষণ্ণ আকুলতা পথে পথে বলকে…
এক জীবন বহু গল্প

এক জীবন বহু গল্প

ওরা দুজনে হাঁটেন পার্কে। এখানেই পরিচয়। পরিচয়-পর্বটা খুব মজার। একদিন ভোরে, বেশ ভোরই বলতে হবে, তখনো কেউ আসেনি পার্কে। দু-একজন সবে আসতে শুরু করেছেন কি করেননি। রেবেকা ভাবছিলেন, এতো ভোরে আসাটা বোধহয় ঠিক হয়নি। যদিও…
রক্তের আল্পনা

রক্তের আল্পনা

অফিসে বেরোনোর সময় হাতের কাছে সবকিছু ঠিকঠাক না পেলে কার মেজাজ খারাপ না হয়! আলনায় জামা-পাজামা ঠিকই সাজানো আছে, কিন্তু গেঞ্জিটা কোথায়? দেয়ালঘড়িতে দশটার ঘণ্টা বাজে ঢং-ঢং। শফিউর রহমানের কপালের দুপাশের শিরা দাপায় দপ্দপ্ করে।…
কুঞ্জ ও কালনাগ

কুঞ্জ ও কালনাগ

কুঞ্জর গল্প বলবো বলে স্থির করেছি; যদি আপনারা শোনেন…। শুনতে চান? শুনুন তবে…। কুঞ্জ নিতান্তই সাধারণ এক মহিলা, যাকে নাকি সাপে খেয়েছে; যখন সে জীবিত ছিল; তখনো সে এমন কোনো মহিলা ছিল না – যাকে…
ভালো থেকো বাবা

ভালো থেকো বাবা

আমার বাবার গায়ের রঙ ধবধবে ফর্সা। এই নিয়ে তার প্রকাশ্য গর্ব আছে। আমার ছোট চাচা ম্যাট্রিকে (!) খুব ভালো ফল করলেন। বাবা নাকি মুখ বাঁকিয়ে বলেছিলেন – ঘরে বসে তো সারাদিন পড়তেই দেখলাম গায়ের রঙের…
হৈমন্তী অতঃপর অপু

হৈমন্তী অতঃপর অপু

বিবাহ করিবার মনোবৃত্তি আমার ছিলো না। মায়ের পিড়াপিড়িতে আবার বিবাহের পিঁড়িতে বসিতে হইলো। বাবা মায়ের বাধ্য সন্তান বলিয়াই তাহাদের মনে দুঃখ দিতে পারছিলাম না। বিবাহ সম্পর্কে বাবা একটি কথাও বলিলেন না। কেমন যেন নিশ্চুপ হইয়া…
আরও গল্প