হরবোলার হৃদয়বৃত্তান্ত

হরবোলার হৃদয়বৃত্তান্ত

শুরুটা ছিল তার পাতার বাঁশি দিয়ে। আমি তো খুব কাছে থেকে দেখেছি তাকে, বলতে গেলে তার সব পরিবর্তনই ঘটেছে আমার চোখের সামনে, ফলে তাকে অবিশ্বাস করার মতো কিছুই খুঁজে পাইনি আমি। সেই ছোটবেলা থেকে বাঁশি…
তোমার চরিত্র খারাপ

তোমার চরিত্র খারাপ

আমার মেয়ে নাতাশা ঠিক এই কথাটাই বলেছে। কাঁদতে-কাঁদতে বলেছে, বাবা তোমার চরিত্র খারাপ। স্বামীর চরিত্র নিয়ে স্ত্রী হাজার কথা বলতেই পারে; স্ত্রীরা বলেও থাকে। যা বলে তার পুরোটা না হোক আংশিক তো সত্য। কিন্তু তাই…
আলীবাবার বাসায় দুই চোর

আলীবাবার বাসায় দুই চোর

বাসের জন্য অপেক্ষা করতে-করতে আজিজুর রহমান একসময় বাসের কথা ভুলে গেল। অফিস ছুটির পর তার যথারীতি ক্লান্ত লাগছিল, প্রতিদিন যেমন ভাবে – অফিস থেকে বেরোবে আর বস বা এলাকার কোনো মাস্তান কষে একটা লাথি কষাবে…
চাবি এবং ভালোবাসা

চাবি এবং ভালোবাসা

দাদুর চার ছেলে, দুই মেয়ে। এটা জীবিতদের হিসেব। মৃতের সংখ্যা কম নয়। তিন। যে ছেলের নামে দাদু পরিচিত, সে ছেলে মারা গেছেন। লোকে দাদুকে হরকিশোরের বাপ বলে ডাকত। গাঁ-গেরামে এরকমই রেওয়াজ। সন্তান হওয়ার আগ পর্যন্ত…
এখানে নয় অন্য কোনোখানে

এখানে নয় অন্য কোনোখানে

আজো অন্যদিনের মতো সকাল সাতটায় বেরিয়ে গিয়ে রোজকার মতোই সন্ধ্যা বাঁকরে যাওয়ার অনেক পরে বাসে ঝুলতে-ঝুলতে মহলস্নার স্টপেজে নেমে কাঁচাবাজারে পেঁয়াজ, টমেটো, শসা, কাঁচামরিচ, মানকচু কিনে নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। তারপর থেকেই অন্যরকম ব্যস্ততা তার।…
বুড়ো গাছ নিখিল অন্ধকারে

বুড়ো গাছ নিখিল অন্ধকারে

পালিশ ওঠা ক্ষয়াটে কাঠের সিঁড়ি; আর মরচেধরা সরু রডের খরখরে রেলিং উঠেছে নিচ থেকে দোতলায়। দোতলা মানে সেকেলে আমলের চুন-সুরকির বাড়ি। সিলিং থেকে হঠাৎ-হঠাৎ পলেস্তারার চাক খসে জমিয়ে রেখেছে রুমের অসুস্থতা। খ–খ- প্রলেপ না-থাকায় শক্তিক্ষুণ্ণ…
অনন্তকে যে পেয়েছিল আর যে পায়নি

অনন্তকে যে পেয়েছিল আর যে পায়নি

মুখটি তার আর দোলনচাঁপার মতো গৌর চিকন নেই – একদা রবিঠাকুর থেকে যে-উপমাটি ধার করে আমি তাকে চিঠিতে লিখি, তা তখন তার জন্য যথার্থই ছিল; কিন্তু পঁচিশ বছর পর ও এখন এক গোলাপে প্রস্ফুটিত –…
ছেলেটা আসলে মরতোই

ছেলেটা আসলে মরতোই

মরস না ক্যান তুই! তুই মরলে আমার হাড়টা জুড়াইতো। তুই মরলে তোর দাদার কবরের পাশে তোরে খাদায়া আইসা আমি দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তাম। আকাশে-বাতাসে ছোট-বড় ঢেউ তুলে যেতে-যেতে আমেনার এই কথার টুকরো-টাকরা এ-বাড়ি ও-বাড়ি…
অন্তর্লীন

অন্তর্লীন

দশার মন্ত্রের পরে ছেলে এই ঘরে এলো। মু–ত মস্তক, এভাবে শরৎচন্দ্রের কোনো একটা চরিত্রের বর্ণনা দিয়েছিলেন স্কুলের প–ত মশাই। এখন তার ছেলের তাই, মাথা কামানো, ন্যাড়া। মায়ের স্মৃতির উদ্দেশে কেশ বিসর্জন। অশৌচ পালনের এই শেষ…
স্মৃতি

স্মৃতি

মা নেই, মায়ের স্পর্শ যেন লেগে আছে এখনো, এই ঘরে। মুনীর ঘুরে-ঘুরে দ্যাখে – যে-চেয়ারে মা বসতেন, যে-বিছানায় ঘুমাতেন, সেগুলোতে আলতো করে হাত বুলায়, যেন মাকেই ছুঁয়ে-ছুঁয়ে দেখছে সে, এভাবে। মায়ের তসবি, জায়নামাজ, পানের বাটা,…
আরও গল্প