মাটির হাতে

মাটির হাতে

এ কোন্ যন্ত্রণা দিবসে, আর এ কোন্ যন্ত্রণা রাতে; আকাশী স্বপ্ন সে ছুঁয়েছে তার মাটিতে গড়া দুই হাতে। বোঝেনি, রাত্রির ঝোড়ো হাওয়ায় যখন চলে মাতামাতি, জ্বলতে নেই কোনো আকাঙ্ক্ষায় জ্বালাতে নেই মোমবাতি। ভেবেছে, সবখানে খোলা…
বৃদ্ধের স্বভাবে

বৃদ্ধের স্বভাবে

“এককালে আমিও খুব মাংস খেতে পারতুম, জানো হে; দাঁত ছিল, মাংসে তাই আনন্দ পেতুম। তোমার ঠানদিদি রোজ কব্জি-ডোবা বাটিতে, জানো হে, না না, শুধু মাংস নয়, মাংস মাছ ইত্যাদি আমায় (রান্নাঘর নিরামিষ, তাই রান্নাঘরের দাওয়ায়)…
বারান্দা

বারান্দা

এ-কন্যা উচ্ছিষ্ট, কোনো লোলচর্ম বৃদ্ধ লালসার দ্বাবিংশ সন্ধ্যার প্রণয়িনী। ধিক্‌, এরে ধিক্‌!’ বলে সেই সত্যসন্ধ নিষ্পাপ প্রেমিক বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালেন। সেখানে টগর জুঁই হাস্নুহানা রজনীগন্ধার সহৃদয় সান্নিধ্যে এবং সন্ধ্যার হাওয়ায় তাঁর ক্লিষ্ট স্নায়ুমন শান্ত হয়ে…
প্রিয়তমাসু

প্রিয়তমাসু

তুমি বলেছিলে ক্ষমা নেই, ক্ষমা নেই। অথচ ক্ষমাই আছে। প্রসন্ন হাতে কে ঢালে জীবন শীতের শীর্ণ গাছে। অন্তরে তার কোনো ক্ষোভ জমা নেই। তুমি বলেছিলে, তমিস্রা জয়ী হবে। তমিস্রা জয়ী হলো না। দিনের দেবতা ছিন্ন…
নিতান্ত কাঙাল

নিতান্ত কাঙাল

নিতান্তই ক্লান্ত লোকটা শুধু ছোট্ট একটা ঘরের কাঙাল। দক্ষিণের জানলা দিয়ে ধুধু অফুরন্ত মাঠ দেখবে। আর পশ্চিমের জানলা দিয়ে লাল সূর্য-ডোবা সন্ধ্যার বাহার। নিতান্তই ক্লান্ত লোকটা। শুধু ছোট্ট একটা ঘরের কাঙাল! নিতান্তই ক্লান্ত লোকটা। তাই…
নিজের বাড়ি

নিজের বাড়ি

ভাবতে ভাল লেগেছিল, এই ঘর, ওই শান্ত উঠোন, এই খেত, ওই মস্ত খামার– সবই আমার। এবং আমি ইচ্ছে হলেই পারি ইচ্ছেমতন জানলা-দরজা খুলতে। ইচ্ছেমতন সাজিয়ে তুলতে শান্ত সুখী একান্ত এই বাড়ি। ভাবতে ভাল লেগেছিল, চেয়ার…
দেয়াল

দেয়াল

চেনা আলোর বিন্দুগুলি হারিয়ে গেল হঠাৎ– এখন আমি অন্ধকারে, একা। যতই রাত্রি দীর্ণ করি দারুণ আর্তরবে, এই নীরন্ধ্র নিকষ কালোর কঠিন অবয়বে যতই করি আঘাত, মিলবে না আর, মিলবে না আর, মিলবে না তার দেখা।…
দৃশ্যের বাহিরে

দৃশ্যের বাহিরে

সিতাংশু, আমাকে তুই যতো কিছু বলতে চাস, বল। যতো কথা বলতে চাস, বল। অথবা একটাও কথা বলিসনে, তুই বলতে দে আমাকে তোর কথা। সিতাংশু, আমি যে তোর সমস্ত কথাই জেনে গেছি। আমি জেনে গেছি। কী…
জলের কল্লোলে

জলের কল্লোলে

জলের কল্লোলে যেন কারও কান্না শোনা গেল, অরণ্যের মর্মরে কারও দীর্ঘনিশ্বাস। চকিত হয়ে ফিরে তাকাতেই দেখা গেল নির্বান্ধব সেই বাবলা গাছটাকে। আর আর তাকে গাছ বলে মনে হল না; মনে হল, সংসারের সমস্ত রহস্য জেনে…
চলন্ত ট্রেনের থেকে

চলন্ত ট্রেনের থেকে

চলন্ত ট্রেনের থেকে ধুধু মাঠ, ঘরবাড়ি এবং গাছপালা, পুকুর, পাখি, করবীর ফুলন্ত শাখায় প্রাণের উচ্ছ্বাস দেখে যতটুকু তৃপ্তি পাওয়া যায়, সেইটুকুই পাওয়া। তার অতিরিক্ত কে দেবে তোমাকে। দুই চক্ষু ভরে তবে দ্যাখো ওই সূর্যাস্তের রঙ…
আরও গল্প