কিছু-বা কল্পনাপ্রকাশিত হয়েছে : অক্টোবর 24, 2018গল্প লিখেছেন : নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী প্রত্যেকটা প্রসাদ কিছু শূন্যতা রচনা করে যায়, আলোকিত মঞ্চের পিছনে থাকে অন্ধকার, ট্রেন চলে যাবার পরে প্ল্যাটফর্মটা আবার খাঁখাঁ করতে থাকে, নিঃশব্দে বিছানা থেকে উঠে গিয়ে খোলা জানালায় চক্ষু রাখে মালবাবুর বউ, এই ছোট্ট শহর…
খুকুর জন্যপ্রকাশিত হয়েছে : অক্টোবর 24, 2018গল্প লিখেছেন : নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী যার যেখানে জায়গা, যেন সেইখানে সে থাকে। যা মনে রাখবার, যেন রাখে নিতান্ত সেইটুকু। খুকু, ঘরে একটা জানলা চাই, বাইরে একটা মাঠ। উঠোনে একটিইমাত্র কাঠ- গোলাপের চারা আস্তেসুস্থে বড় হোক, কিচ্ছু নেই তাড়া। একদিন সকালে…
তা নইলেপ্রকাশিত হয়েছে : অক্টোবর 24, 2018গল্প লিখেছেন : নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী কিছু পেলে কিছু দিয়ে দিবি, তা নইলে পৃথিবী চলতে-চলতে একদিন চলবে না। আকাশে ঘনিয়ে আসবে ঘোর অন্ধকার, তোর ঘরে-বাইরে কেউ কথা বলবে না। দরজায় লাগানো ছিল তালা, বেলকুঁড়ির মালা পড়ে ছিল রজ্জুর সমান। লুণ্ঠন করেছ…
হেমলতাপ্রকাশিত হয়েছে : অক্টোবর 24, 2018গল্প লিখেছেন : নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী কিছু কথা অন্ধকারে বিদেশে ঘুরছে, কিছু কথা বাতাসে উড়ছে, কিছু কথা আটকে আছে পাথরের তলে, কিছু কথা ভেসে যাচ্ছে কাঁসাইয়ের জলে, পুড়তে-পড়তে শুদ্ধ হয়ে উঠছে কিছু কথা। হেমলতা, তুমি কথা দিয়েছিলে, আমি দিতে এখনও পারিনি,…
নিশানপ্রকাশিত হয়েছে : অক্টোবর 24, 2018গল্প লিখেছেন : নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী মাঝে-মাঝে একটু জিরিয়ে নিতে হয়। ঘুরে-দাঁড়িয়ে মাঝে-মাঝে একবার দেখতে হয় পিছনের মানুষজন, ঘরবাড়ি আর খেতখামার। মাঝে-মাঝে ভাবতে হয় এই যে আমি পাথরের ধাপে পা রেখে-রেখে পাহাড়-চূড়ার ওই দেবালয়ের দিকে উঠে যাচ্ছি, এর কি কোনও দরকার…
ভরদুপুরেপ্রকাশিত হয়েছে : অক্টোবর 24, 2018গল্প লিখেছেন : নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী হরেক রাস্তা ঘুরতে-ঘুরতে ভরদুপুরে পুড়তে-পুড়তে কোথার থেকে কোথায় যাওয়া। আকাশ থেকে জলের ঝাড়ি হয়নি উপুড়, গুমোট ভারী, কোত্থাও নেই কিচ্ছু হাওয়া। এই, তোরা সব চুপ কেন রে? আয় না হাসিঠাট্টা করে পথের কষ্ট খানিক ভুলি।…
মানচিত্রপ্রকাশিত হয়েছে : অক্টোবর 24, 2018গল্প লিখেছেন : নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী একদিন যাতে তছনছ করে দেওয়া হয়েছিল, ছেঁড়া ফাটা সেই মানচিত্রগুলিকে এখন আবার একটু-একটু করে জোড়া লাগানো হচ্ছে। উঠে যাচ্ছে কাঁটাতারের বেড়া, ধরে পড়ছে দেওয়াল তার ইটের টুকরো এখন কিউরিও-শপে সওদা করা যায়। চেকপোস্টের খুপরি-ঘরে ঝাঁপ…
মেলার মাঠেপ্রকাশিত হয়েছে : অক্টোবর 24, 2018গল্প লিখেছেন : নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী হাতখানা যার শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রেখেছিলাম, হঠাৎ কখন ছিটকে গিয়ে এই মাঠে সে হারিয়ে গেছে! এখন তাকে খুঁজব কোথায়! কোত্থেকে যে কোন্খানে যায় নিরুদ্দিষ্ট লোকজনেরা ভিড়ের মধ্যে ভাসতে-ভাসতে। হাসতে-হাসতে যাচ্ছে সবাই, কেউ কিনেছে বেলুন-চাকি,…
যাবেন নাপ্রকাশিত হয়েছে : অক্টোবর 24, 2018গল্প লিখেছেন : নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী কখন যে একদল মানুষ আমাকে ঘিরে ফেলেছে, তা আমি বুঝতে পারিনি। হাত ধরে যিনি আমাকে আজ এই হাটের মধ্যে এনে ছেড়ে দিয়েছিলেন, চোখের পলক ফেলতে-না-ফেলতেই তিনি ভ্যানিশ। বুঝতে পারছিলুম যে, আমারও এখন সরে পড়া দরকার।…
আগুনের দিকেপ্রকাশিত হয়েছে : অক্টোবর 24, 2018গল্প লিখেছেন : নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী রাস্তাগুলি ক্রমে আরও তপ্ত হয়। স্বজন, সঙ্গীর সংখ্যা ক্রমে আরও কমে আসে। হাতের মুদ্রায় তবু জাইয়ে রেখেছ বরাভয় হাওয়ার ভিতরে তবু ভাসে তোমার সৌরভ। আর তাই চতুর্দিকে ছত্রাকার ধড়মুণ্ড-আলাদা-করা শব দেখেও আমাকে এগিয়ে যেতেই হয়,…