না-পাঠানো চিঠি

না-পাঠানো চিঠি

মা, তুমি কেমন আছ? আমার পোষা বেড়াল খুনচু, সে কেমন আছে সে রাত্তিরে কার পাশে শোয় দুপুরে যেন আলি সাহেবদের বাগানে না যায় মা, ঝিঙে মাচায় ফুল এসেছে? তুলিকে আমার ড়ুরে শাড়িটা পরতে বলো আঁচলের…
দেখা না দেখা

দেখা না দেখা

দেখা হবে কি হবে না ভেবে ভেবে কেটে গেল কতটা জীবন শিউলি ফোটার দিন, কাশফুল ঝরে যাবে দেখা হয়, সেও দেখা নয় দেখা না হলেও দেখি, বন্ধ জানালার কাচে যে-রকম স্থির প্রজাপতি খুব গাঢ় ঘুমে…
নদীর কিনারে কালের রাখাল

নদীর কিনারে কালের রাখাল

চারদিকে এত মেঘ গর্জন-ছাপানো বিস্ফোরণের দাপট তা বলে কি আমি শুনতে পাব না সিঁড়িতে তোমার পায়ের শব্দ? বারুদ ধোঁয়ায় চোখ জ্বলে যায়, দাঁড়িয়ে রয়েছি খোলা জানলায় এ সময়ে চোখ আরও প্রদীপ্ত, আরও স্বাধীন না হলে…
দুর্বোধ্য

দুর্বোধ্য

—পৃথিবীতে অলৌকিক বা দুর্বোধ্য কি আর কিছুই নেই? —আছে আছে, ঢের আছে, তবে খাঁটি লৌকিক কিছু যদি খুঁজতে চাও তার নাম খিদে যেমন আকাশ ভরা এত দুর্বোধ্যতা, কিন্তু একমাত্র ক্ষুধার্ত মানুষই একটুও দুর্বোধ্য নয়! —এ…
দুটি মাত্র অক্ষর

দুটি মাত্র অক্ষর

স্বপ্নে নয়, বুকের মধ্যে একটা কুঁড়েঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে নীরা হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললে, এসো তারপর আমি মাঠে মাঠে ঘুরছি, রোদ্দুরে ঝলসে যাচ্ছে কপাল, কিংবা বৃষ্টি ভিজে সপসপে, ভয় দেখাচ্ছে জ্যাঠামশাইয়ের বকুনির মতন মেঘের হুংকার চটি…
দিগন্ত কি কিছু কাছে

দিগন্ত কি কিছু কাছে

আজ বহু দূর এসে কংক্রিট ছাদের নীচে সামনে খোলা কবিতার খাতা আমি সেই কিশোরকে ফের দেখি, বসে আছে নদীর ঢালুতে আমি দেখি নদীটির পাশ ফেরা, দুপুরের বর্ণদ্যুতি, বাতাস দ্বিখণ্ড করে ভেসে ওঠে চিল, একটু একটু…
তিনটি অশ্ব

তিনটি অশ্ব

গলাকাটা বটগাছের তলায় তিনটি অশ্ব নিশি পোহাচ্ছে অন্ধকার না তেমন অন্ধ, কিছুটা কিছুটা দুধ মিশে আছে লক্ষ্মী প্যাঁচাটি আরও সাদা হয়ে উড়ে এল নিচু গাছের তলায় দলবল বেঁধে আসে নীরবতা, আঁজলা পুকুরে মৃদু দোল খায়।…
তবু এই গৃহহারা

তবু এই গৃহহারা

এই অন্ধকার পথ চলে গেছে সমুদ্র কিনারে সেখানে তৃষ্ণার কোনও শান্তি নেই তবু এই তৃষিতটি কেন ওই পথে যেতে চায়? সকলেরই গৃহ আছে, সকলের নিজস্ব সীমানা যেখানে অর্ধেক মৃত্যু অর্ধেক জীবন তবু এই গৃহহারা কেন…
ডানা মেলা গল্প

ডানা মেলা গল্প

যে কোনও পড়ো বাড়ি দেখলেই মনে হয় তার অনেক গল্প আছে অজয় নদীর পারে সেই ভাঙা প্রাসাদ ও বিগ্রহহীন দেব দেউল যেন একটা গল্পের জাহাজ নদীতে এখন জল নেই, ক্ষীণ ধারাটি একপাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে…
জয় একদিন…

জয় একদিন…

জয় একদিন কথায় কথায় জিজ্ঞেস বা স্বগতোক্তি করেছিল ‘দিন শেষে দেখি ছাই হল সব হুতাশে’, একথা কেন লিখলেন রবীন্দ্রনাথ? এত পেয়েছেন তিনি, এত সার্থকতা, যখন যা ইচ্ছে করেছে লিখেছেন– আমি আলটপকা বলতে গেলাম, তবু অতৃপ্তি…
আরও গল্প