হাত

হাত

ধরা যাক, আজ থেকে আমি আমার বাবার নাম দিলুম নিরাপদ হালদার মাঝারি উচ্চতা, সারা দেহে ঘামাচি রঙের ঘাম মাখা সেই মানুষটি রানাঘাটের এক ভাতের হোটেলের ম্যানেজার তা হলে আমি কি মফঃস্বলের ক্লাস এইটে পড়া রাধারমণ?…
রাশিয়ান রুলেৎ

রাশিয়ান রুলেৎ

রাশিয়ান রুলেৎ সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে হঠাৎ ফিরতেই দেখি সে নেই তার শরীরের ঘ্রাণ, নিশ্বাস তরঙ্গ—এখনো যেন মিলিয়ে যায়নি তার পায়ের আওয়াজের রেশ, শেষ কথাটি অসমাপ্ত ব্যঞ্জনা কাঁপছে বাতাসে। এরকম আচমকা চলে যাওয়ার কোন মানে…
সমুদ্রের এপারে ওপারে

সমুদ্রের এপারে ওপারে

আকাশে এত নান্দনিক আলো, আজ কি চাঁদের জন্মদিন? দরজা খোলো জানলা খোলো দুহাত তুলে দিবধূদের ডাকো গুমোট ভেঙে বান এসেছে, চন্দনের গন্ধবহ বাতাস সব কলরব থামিয়ে দিল কোন্ মন্ত্র, কোন্ মায়াবী স্বর ধ্বনির সঙ্গে প্রতিধ্বনি,…
সারাজীবন

সারাজীবন

দগ্ধ মাটির গর্ভ থেকে ফুটে উঠলো গান জল চাই না, বীজ চাই না, আরও আগুন আন রোগা আগুন, কালো আগুন, আগুনরঙা খিদে একটু একটু পাবার আগে, সর্বনাশ দে! পেরিয়ে মাঠ, আল জাঙাল, ঝামড়ে উঠলো বাতাস…
সে আসবে, সে আসবে

সে আসবে, সে আসবে

পশ্চিমের অবনত সন্ধ্যায় এক নদীর কিনারে দাঁড়ালো সে একজন শতাব্দীর ভ্রাম্যমাণ, ইতিহাসের পথ ভোলা পথিক তার দুচোখে প্রতীক্ষা, তার নিশ্বাসে ব্যাকুলতা ঠিক এইখানে, এই শ্মশানপ্রান্তে শিশুগাছটির নীচে কেউ একজন আসবে তার জন্য, কথা আছে, সে…
মাদারির খেলা, এই আছে, এই নেই

মাদারির খেলা, এই আছে, এই নেই

মাঝে মাঝে পূর্বপুরুষদেরও চুরমার করে ভাঙলে মন্দ হয় না শুধু কি দুচারটে দেবালয়ের দারু ও পাথর, রঙিন কাচ আমি নিজেকেও ভাঙছি, গলা দিয়ে পাকিয়ে পাকিয়ে নামছে বিষের ধোঁয়া আজ কখন দিনের পেটে রাত্রি আর রাত্রির…
যার জন্য সারা জীবন

যার জন্য সারা জীবন

আরও একটু সামনে যেতে হবে মাত্র আর একখানাই খাড়া পাহাড়, দুটো পাগলা ঝোরা এখানে বসিস নি, খুকি, ওঠ, আমি হাত ধরে তুলছি, বেলা যে বেশি নেই কিংশুকের রেণুর মতো ঝরে পড়ছে আসন্ন সায়াহ্ন অকস্মাৎ অতি…
রাজসভায় মাধবী

রাজসভায় মাধবী

রাজসভায় মাধবী (একটি সংলাপ কাব্য) (গৌড়বঙ্গের অধীশ্বর লক্ষ্মণসেন দেবের রাজসভা। রাজার দুপাশে বসে আছে কয়েকজন মন্ত্রী ও কবি। এদের মধ্যে আছে রাজার বাল্যসুহৃদ ও প্রতিপত্তিশালী মন্ত্রী হলায়ুধ মিশ্র, প্রবীণ মন্ত্রী উমাপতিধর, রাজগুরু গোবর্ধন আচার্য এবং…
বিকেলের বর্ণফেরা

বিকেলের বর্ণফেরা

বিকেলের বর্ণফেরা ঘাটের পৈঠায় বসে আছে এক জলকনন্য, এখনো হয়নি ঠিক সন্ধে নিথর দিঘির পিঠে মেঘের তরল ছায়া, যেন সব কথার নিষেধ ঈষৎ বাতাসে ওড়ে চুল, ভুরু, ডম্বরু কোমর খাঁজে দুটি পদ্মপাতা মুখের ভঙ্গিমা তার…
মন্ত্র

মন্ত্র

মন্ত্র তোমার এতই ভালো লাগছে গড়বন্দীপুর, এই থিকথিকে কাদা, পচা কাঁঠালের গন্ধ? নীল রঙের শাড়িতে কত চোরকাঁটা, যেন অসংখ্য তীরবিদ্ধ তুমি পা ধোবে এই শুকনো নদীর ঘাটে? এখানে অনেক দীর্ঘশ্বাস ছিল, সব উড়ে গেল তোমার…
আরও গল্প