নাক ড্যাঙ্গা ড্যাং ড্যাং – ভাঙল রাজার ঠ্যাং

নাক ড্যাঙ্গা ড্যাং ড্যাং – ভাঙল রাজার ঠ্যাং

এক দেশে এক রাজা ছিল
ওজনটা তার চার’শ কিলো।

সেই রাজা খেতে খুব ভালবাসতেন আর সারাদিন তিনি কিছু না কিছু খেতেই থাকতেন।

একদিন সেই রাজা তার রাজ সিংহাসন বসে একটা রোস্ট করা মুরগির রান খেতে খেতে মন্ত্রীদের কথা শুনছিলেন।

এক মন্ত্রী একটা প্রতিবেদন পড়ে শুনাচ্ছিল, “… রাজা মশাই, দেশের উত্তর রাজ্যে এ বছর ফসল খুব কম হয়েছে। তাই উত্তর রাজ্যের লোকেরা খুব কষ্টে আছে…”।

রাজা মশাই বলে উঠলেন, “অতি উত্তম!”

রাজার কথায় প্রতিধ্বনি তুলে উপস্থিত সব মন্ত্রী, উজির, নাজির, কতোয়াল এমন কি রাজসভার প্রহরীরাও বলে উঠল, “অতি উত্তম!”

বৃদ্ধ প্রধান উজির একটু মাথা চলকে ফিসফিস করে রাজা মশাইকে বললেন, “রাজা মশাই, উত্তর রাজ্যে খাদ্যের অভাব। এখানে উত্তমটা কি?”

প্রধান উজিরের কথায় রাজা বিরক্ত হলেন, “এই বুদ্ধি নিয়ে তুমি প্রধান উজির হলে কি ভাবে? নাকি বয়সের সাথে সাথে তোমার বুদ্ধি লোপাট পাচ্ছে? আরে বোকা আমার হাতের এই মুরগির রোস্টটা খেতে খুবই ভাল।“

এই বলে রাজা মশাই খেয়ে ফেলা রোস্টের অবশিষ্ট হিসাবে থেকে যাওয়া হাড্ডিটা অবহেলা করে একদিকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললেন, “দেখি, আমাকে আরেকটা রোস্ট দাও”।

বৃদ্ধ উজির রাজার হাতে আরেকটা মুরগির রোস্ট ধরিয়ে দিতেই রাজা মশাই বললেন, “আজকে আমার আর তোমাদের কচকচানি শুনতে ভাল লাগছে না, আমি চললাম।“

এই বলে রাজা মশাই রজসভার মাঝ দিয়ে দুই পা যেতে না যেতেই তার নিজের ফেলা হাড্ডিতে পা পিছলে গেল। আর তারপরে রাজা মশাই পা পিছলে আলুর দম হয়ে গেল। অর্থাৎ, সে পা পিছলে চিৎপটাং হয়ে পড়ে গেল। সে এমনই পড়া যে এক পড়াতেই তার পা ভেঙ্গে গেল।

মশাইতো পা ভেঙ্গে ব্যাথায় হাউমাউ করে চিৎকার করে উঠলেন, “ওরে বাবারে, ওরে মারে, মরে গেলাম রে, এই কে কোথায় আছিস, আমাকে ধর…”

রাজা মশাই এর চিৎকার শুনে রাজসভার সকল সভাসদ দৌড়ে এসে রাজাকে ধরে তার ঘরে নিয়ে গেলেন। একজন দৌড়ে গেল রাজবৈদ্যকে ডাকতে। তারপর রাজবৈদ্য এসে রাজার পা ভালমত পরীক্ষা করে, ঔষধ মাখিয়ে প্লাস্টার করে দিলেন আর ব্যাথা কমানোর জন্যও ঔষধ দিলেন।

ঔষধ খেয়ে রাজার পায়ের ব্যাথা যখন একটু কমল, তখন রাজা মশাই তার প্রধান উজিরকে ডেকে বললেন, “উজির মশাই, জলদী, আমার পা ভাঙ্গার জন্য যে ব্যাটা দায়ী তাকে খুঁজে বাহির করে কঠিন শাস্তি দেওয়ার ব্যাবস্থা করা হোক”।

রাজা মশাইয়ের আদেশ পেয়ে উজির মশাই রাজার মন্ত্রীসভার সকল সদস্যকে একটা সভায় ডাকলেন। রাজা মশাইকে তো বলা যায় না যে তার নিজের ফেলা রোস্টের হাড়ে পা পিছলেছে! তাই সকল সভাসদ মিলে মন্ত্রণায় বসে সিদ্ধান্ত নিলেন যে একটা বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে তদন্ত করে রাজার পা ভাঙ্গার কারন নির্নয় করা হোক।

যে কথা সেই কাজ।

সাত রাজ্যের সাত পণ্ডিতকে সদস্য করে একটা বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে দেওয়া হল। সেই কমিটি সাত দিন সাত রাত গবেষনা আর আলোচনা করে সাত’শ সাতাত্তর পাতার একটা প্রতিবেদন প্রধান উজিরের কাছে জমা দিলেন।

সেই প্রতিবেদনের প্রথম সাত’শ পাতায় আছে রাজা মশাই এর গুণকীর্তন। তারপরের সত্তর পাতায় আছে এই সাত সদস্যের পরিচয় আর শেষের সাত পাতায় রাজসভার বর্ণনা দিয়ে শেষ সাত লাইনে সেদিনের ঘটনা বলে মাত্র সাত শব্দে রাজা মশাই এর পড়ে যাওয়ার কারন হিসাবে বলা হয়েছে,

“রাজসভার ঈশান কোন এক চুল নিচু আছে।”

বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন রাজা মশাইকে পড়ে শোনানো হলে রাজা মশাই হুঙ্কার দিলেন, “কি? স্থপতি ব্যাটার এত বড় সাহস! সে রাজ দরবারের ঈশান কোন এক চুল নিচু করে নক্সা করেছে! এক্ষণই সেই স্থপতি ব্যাটাকে ধরে এনে শুলে চড়াও।“

রাজার আদেশ শুনে কতোয়াল ছুটল স্থপতিকে খুঁজতে। তারপর, সেই স্থপতিকে খুঁজে পেয়ে কতোয়াল তাকে ধরে নিয়ে আসল রাজা মশাই এর কাছে।

রাজা মশাই স্থপতিকে দেখেই হুঙ্কার ছাড়লেন, “ব্যাটা তুই এমন নক্সা করেছিস যে আমার রাজ দরবারের ঈশান কোন এক চুল নিচু হয়ে গেছে। তুই রাজার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিস। তুই রাজদ্রোহী। তোকে আমি শুলে চড়িয়ে মারব।“

স্থপতি সাথেসাথে তার নক্সা বাহির করে দেখিয়ে দিল, “দেখুন মহারাজ, আমার নক্সা একদম ঠিক আছে। একচুলও উনিশ-বিশ নাই। নিশ্চয়ই যে ইঞ্জিনিয়ার ওয়ার্কিং ড্রয়িং করেছে, সে নক্সা মোতাবেক করতে পারেনি। সব দোষ ওই ইঞ্জিনিয়ারের।“

রাজা মশাই বললেন, “ঠিক কথা! এই স্থপতির কোনও দোষ নাই, ধরে আন ওই ইঞ্জিনিয়ারকে।“

রাজার আদেশ শুনে কতোয়াল ছুটল ইঞ্জিনিয়ারকে খুঁজতে। তারপর, সেই ইঞ্জিনিয়ারকে খুঁজে পেয়ে কতোয়াল তাকে ধরে নিয়ে আসল রাজা মশাই এর কাছে।

রাজা মশাই ইঞ্জিনিয়ারকে দেখেই হুঙ্কার ছাড়লেন, “ব্যাটা তুই স্থপতির নক্সা অনুযায়ী কাজ করতে পারিসনি আর তাই আমার রাজ দরবারের ঈশান কোন এক চুল নিচু হয়ে গেছে। তুই রাজার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিস। তুই রাজদ্রোহী। তোকে আমি শুলে চড়িয়ে মারব।“

ইঞ্জিনিয়ার সাথেসাথে তার ওয়ার্কিং ড্রয়িং বাহির করে দেখিয়ে দিল, “দেখুন মহারাজ, আমার ওয়ার্কিং ড্রয়িং একদম নক্সা অনুযায়ী করা হয়েছে। একচুলও উনিশ-বিশ নাই। নিশ্চয়ই যে ফোরম্যান কাজের তদারকি করেছে, সে ওয়ার্কিং ড্রয়িং মোতাবেক কাজ করতে পারেনি। সব দোষ ওই ফোরম্যানের।“

রাজা মশাই বললেন, “ঠিক কথা! এই ইঞ্জিনিয়ারের কোনও দোষ নাই, ধরে আন ওই ফোরম্যানকে।“

রাজার আদেশ শুনে কতোয়াল ছুটল ফোরম্যানকে খুঁজতে। তারপর, সেই ফোরম্যানকে খুঁজে পেয়ে কতোয়াল তাকে ধরে নিয়ে আসল রাজা মশাই এর কাছে।

রাজা মশাই ফোরম্যানকে দেখেই হুঙ্কার ছাড়লেন, “ব্যাটা তুই ইঞ্জিনিয়ারের ওয়ার্কিং ড্রয়িং অনুযায়ী কাজ তদারকী করতে পারিসনি আর তাই আমার রাজ দরবারের ঈশান কোন এক চুল নিচু হয়ে গেছে। তুই রাজার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিস। তুই রাজদ্রোহী। তোকে আমি শুলে চড়িয়ে মারব।“

ফোরম্যান বলল, “মহারাজ, আমি ওয়ার্কিং ড্রয়িং অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। নিশ্চয়ই যে রাজমিস্ত্রি কাজটা করেছে, সে কাজে মনোযোগী ছিল না। সব দোষ ওই রাজমিস্ত্রির।“

রাজা মশাই বললেন, “ঠিক কথা! এই ফোরম্যানের কোনও দোষ নাই, ধরে আন ওই রাজমিস্ত্রিকে।“

রাজার আদেশ শুনে কতোয়াল ছুটল রাজমিস্ত্রিকে খুঁজতে। তারপর, সেই রাজমিস্ত্রিকে খুঁজে পেয়ে কতোয়াল তাকে ধরে নিয়ে আসল রাজা মশাই এর কাছে।

রাজা মশাই রাজমিস্ত্রিকে দেখেই হুঙ্কার ছাড়লেন, “ব্যাটা তুই ফোরম্যানের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে পারিসনি আর তাই আমার রাজ দরবারের ঈশান কোন এক চুল নিচু হয়ে গেছে। তুই রাজার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিস। তুই রাজদ্রোহী। তোকে আমি শুলে চড়িয়ে মারব।“

রাজমিস্ত্রি বলল, “মহারাজ, আমি ফোরম্যানের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেছি। নিশ্চয়ই যে মিস্ত্রি আমার পাট্টাটা করে দিয়েছে, সে কাজে মনোযোগী ছিল না। আর তাই আমার পাট্টাটা একচুল বাঁকা ছিল। সব দোষ ওই মিস্ত্রির।“

রাজা মশাই বললেন, “ঠিক কথা! এই রাজমিস্ত্রির কোনও দোষ নাই, ধরে আন ওই পাট্টামিস্ত্রিকে।“

রাজার আদেশ শুনে কতোয়াল ছুটল পাট্টামিস্ত্রিকে খুঁজতে। তারপর, সেই পাট্টামিস্ত্রিকে খুঁজে পেয়ে কতোয়াল তাকে ধরে নিয়ে আসল রাজা মশাই এর কাছে।

রাজা মশাই পাট্টামিস্ত্রিকে দেখেই হুঙ্কার ছাড়লেন, “ব্যাটা তুই যে পাট্টা তৈরী করেছিস তা একচুল বাঁকা ছিল। আর তাই আমার রাজ দরবারের ঈশান কোন এক চুল নিচু হয়ে গেছে। তুই রাজার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিস। তুই রাজদ্রোহী। তোকে আমি শুলে চড়িয়ে মারব।“

পাট্টামিস্ত্রি বলল, “মহারাজ, আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি যখন রাজপ্রাসাদের বাগানে বসে পাট্টা তৈরী করছিলাম তখন রাজকন্যা বারান্দা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। সেদিকে চোখ যেতেই আমার মনোযোগ মুহূর্তের জন্য সরে গিয়েছিল আর তাই আমার পাট্টাটা একচুল বাঁকা হয়ে গেছে। এতে যদি দোষ হয়ে থাকে তবে তা রাজকন্যার।“

রাজা মশাই বললেন, “ঠিক কথা! এই পাট্টামিস্ত্রির কোনও দোষ নাই। ন্যায় বিচারের সার্থে ধরে আন রাজকন্যাকে।“

রাজার আদেশ শুনে কতোয়াল গেলেন অন্দরমহলে। তারপর, রাজকন্যাকে খবর পাঠালেন যে রাজা মশাই দেখা করতে বলেছেন।

রাজকন্যা যখন রাজা মশাই এর সামনে এসে দাঁড়াল তখন রাজা মশাই বললেন, “মা, তুমি যখন বারান্দা দিয়ে হাঁটছিলে তখন পাট্টামিস্ত্রি বাগানে বসে পাট্টা তৈরী করছিল। তোমাকে দেখে পাট্টামিস্ত্রির মনোযোগ সরে যায়। তাতে তার পাট্টাটা একচুল বাঁকা হয়ে যায়। সেই পাট্টা ব্যাবহার করে যখন রাজমিস্ত্রি রাজদরবারের ঢালাই করেছিল, তখন রাজদরবারের ঈশান কোন একচুল নিচু হয়ে গেছে। আজ সেই দরবারে আমি হোঁচট খেয়ে পড়ে যেয়ে আমার পা ভেঙে গেছে। আমার পা ভেঙে যাওয়ার জন্য মূল কারন হচ্ছ তুমি। আর তাই তোমাকে তার জন্য শাস্তি পেতে হবে।“

রাজা মশাইয়ের কথা শুনে রাজকন্যার চোখ ছলছল করে উঠল।

সে বলল, “আমার কি দোষ! রাণীমা যে তখন আমাকে আপনার সাথে দেখা করতে বললেন। সেইজন্যই তো আমি তখন বারান্দা দিয়ে যাচ্ছিলাম। দোষ যদি কারো হয়ে থাকে তবে তা রাণীমার।“

রাজকন্যার কথা শুনে রাজা মশাই বললেন, “ঠিক কথা মা। এতে তোমার কোনও দোষ নাই। তুমি এখন যাও।“

রাজকন্যা চলে যাওয়ার পর প্রধান উজির রাজা মশাইকে বললেন, “এখন রাণীমাকে কি ডাকব?”

রাজা মশাই একটু ভেবে বললেন, “ঠিক আছে, মহারাণীকে একবার আমার সাথে দেখা করতে বল।“

প্রধান উজির নিজেই রাণীমার কাছে যেয়ে বললেন যে, “রাণীমা, রাজা মশাই আপনাকে তার খাস কামরায় একবার দেখা করতে বলেছেন।“

রাণীমা তখন তাঁর সখিদের সাথে গল্প করছিলেন। তিনি বললেন, “দেখছেন তো এখন আমি ব্যস্ত আছি। আমার সখিরা চলে যাওয়ার পরে আমি রাজার সাথে দেখা করব।“

প্রধান উজির কামরার বাহিরে অল্পক্ষণ না অনেকক্ষণ অপেক্ষা করল তা আমি জানিনা। তবে সখিরা চলে যাওয়ার পরে রাণীমা প্রধান উজিরের সাথে রাজার খাস কামরায় আসলেন।

রাণীমা রাজার কাছে আসার পর রাজা মশাই বললেন, “রাজদরবার যখন নতুন করে তৈরী হচ্ছিল তখন তুমি রাজকন্যাকে আমার সাথে দেখা করতে রাজদরবারে পাঠিয়েছিলে।

রাজকন্যা যখন বারান্দা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল তখন পাট্টামিস্ত্রি প্রাসাদের বাগানে বসে পাট্টা তৈরী করছিল। রাজকন্যাকে দেখে তার মনোযোগ সরে যায় আর তার ফলে পাট্টাটা একচুল বাঁকা হয়ে যায়।

সেই পাট্টা দিয়ে রাজমিস্ত্রি যখন রাজদরবারের ঢালাই সমান করছিল, তখন রাজদরবারের ঈশান কোন একচুল নিচু হয়ে যায়।

সেই রাজদরবারে হাঁটতে যেয়ে আমি হোঁচট খেয়ে পড়ে যাই আর আমার পা ভেঙে যায়।

তাহলে বুঝলে তো যে আমার পা ভেঙে যাওয়ার পিছনে মূল কারনটা হচ্ছ তুমি?”

রাজা মশাই এর কথা শুনে রাণীমা মুখ-ঝামটা দিয়ে উঠলেন, “এই বুদ্ধি নিয়ে তুমি রাজ্য চালাও কি করে?’

‘যখন রাজদরবারের কাজ চলছিল, তখন তুমিই তো রাজকণ্যাকে ডেকে পাঠালে! তুমি নাকি রাজদরবারে কি কি নতুন প্ল্যান করেছ তা রাজকণ্যাকে দেখাতে চাও।

তুমি ডেকে পাঠালে বলেই তো আমি রাজকণ্যাকে রাজদরবারে পাঠালাম। তবে তো দেখছি, তোমার পা ভাঙার জন্য মূল কারন আসলে তুমিই।

তা, এখন তবে তুমি নিজেই নিজেকে শাস্তি দাও!”

রাণীমার কথা শুনে রাজা আমতা আমতা করতে লাগলেন, “রাণী, এমন করে বোলোনা! পা ভেঙে আমি এমনই অনেক শাস্তি পেয়েছি!”

রাজার পাশ থেকে প্রধান উজির চিঁ চিঁ করে বললেন, “জ্বি রাণীমা, পা ভেঙে রাজা মশাই অনেক কষ্ট পেয়েছেন। ওনাকে আর শাস্তি দিবেন না।“

উজিরের কথা শুনে রাণীমা চটে লাল হয়ে গেলেন, “যত্তসব অপদার্থের দল! আমি রাজদরবারের সব খবর রাখি। রোস্ট করা মুরগির পা খেয়ে সেই হাড্ডি রাজা মশাই রাজদরবারে ফেলেছিল আর তাতেই পা পিছলে পড়ে রাজা মশাই এর পা ভেঙেছে।

রাজদরবার কি খাওয়ার যায়গা? আর দেখেশুনে পথ চললেই তো আর হোঁচট খেতে হয়না!”

রাণীমার কথা শুনে রাজা বললেন, “আরে তাই তো! এত সহজ ব্যাপারটা আমি বুঝিনি? পথে যদি হোঁচট খেতে না চাই, তাহলে দেখেশুনে পথ চলতে হবে।”

তারপর থেকে রাজা মশাই শুধু রাজদরবারে খাওয়া বন্ধ করলেন না, বরং খাওয়া-দাওয়া পরিমিত করলেন আর এখন থেকে তিনি দেখেশুনেই পথ চলেন।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত