সুখ পাখি

সুখ পাখি
সকালে ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে ;আমার একমাএ ছেলের বউ মার্জিয়ার একটা চাপা কান্না শুনে তার রুমের দরজার সামনে দাঁড়ালাম।দরজার একটু ফাঁক থেকে দেখলাম মার্জিয়া মুখ ঢেকে কান্নার শব্দ টা ঢাকার ব্যার্থ চেষ্টা করছে।ছেলেকে কোথাও দেখতে পেলাম না, আস্তে করে দরজা ঠেলে আমি রুমে ঢুকলাম।মার্জিয়া আমার পায়ের শব্দ শুনে চমকে উঠে একটা কিছু লুকিয়ে ফেলল।আমি কিন্তু জিনিসটা দেখে ফেলেছি প্রেগন্যান্সি কিট যাতে স্পষ্ট একটা লাল দাগ দেখা যাচ্ছে।
মার্জিয়া তাড়াহুড়ো করে চোখের জল মুছে উঠে দাঁড়াল আর বলল,”মা আপনি এখানে কি করছেন !কিছু লাগলে আমাকে ডাকতে পারতেন? “আমি মার্জিয়ার শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম আবির কি অফিসে চলে গিয়েছে?মার্জিয়া বলল” হ্যাঁ মা এই একটু আগে গিয়েছে আপনি ঘুমিয়ে ছিলেন তাই আপনাকে জাগায়নি”। আজ ঘুম থেকে একটু দেরি করে উঠতে হলো শরীরটাও ভাল যাচ্ছে না তাই বলো আমাকে না বলে ও অফিস কোনোদিন যায়নি”। ওকে একটা কথা বলার ছিল তাই তোমাদের রুমে আসতে হলো আমি ভাবলাম এখনো হয়তো ও বের হয়নি। মার্জিয়া বলল, “মা আপনি ডাইনিং এ বসুন আমি নাস্তা নিয়ে আসছি”।আমি কিছু না বলে ওদের রুম থেকে চলে এলাম।মার্জিয়া নাস্তা দিয়ে গেল আমি কিছু না বলে নাস্তা খেয়ে উঠে বললাম,”সন্ধ্যায় আবির ফিরলে তুমি আর ও আমার কাছে এসো দরকার আছে”।মার্জিয়া শুকনো মুখ নিয়ে শুধু মাথা নাড়ল।রাতে আবির আর মার্জিয়া আমার কাছে এলো আমি গল্পের বই পড়ছিলাম।
আবির বলল, “মা তুমি আমাদের ডেকেছো?” বইটা পাশে রেখে আমি বললাম তোর আমার জন্য একটু সময় হবে? কিছু কথা বলার ছিল।আবির বলল,”এভাবে বলছো কেনো অবশ্যই হবে কি বলার আছে বলো”?আসলে আমার তোর দুজনের সঙ্গে কিছু কথা ছিল বোস ওখানে। দুজনে সামনে থাকা সোফায় বসল।আমি এবার বললাম ,”তা তোদের বিয়ে তো হলো বছর পাঁচেক সন্তানের কি খবর”? আমাকে আবার পুরানো যুগের মায়ের মতো ভাবিস না যে একমাত্র ছেলের ঘরে ছেলে দেখার জন্য আকুলি বিকুলি করছি। তোদের জীবন তোরা কি করবি তোদের ব্যাপার সকালে তোকে খুঁজতে গিয়ে মার্জিয়ার নিঃশ্চুপ কান্না দেখলাম সাথে প্রেগন্যান্সি কিট ।মার্জিয়া মুখ নীচু করল আবিরের মুখের ভাবটাও দুঃখজনক।
আমি বললাম ” মার্জিয়াকে তুই কি কিছু বলেছিস বাচ্চা হচ্ছে না বলে বা দ্বিতীয় বিয়ে করার কোনো পরিকল্পনা আছে নাকি? আবির বলল” মা এমন করে কেনো বলছো;দ্বিতীয় বিয়ে করার আমার কোনো ইচ্ছে নেই।আর ওকে আমি কিছুই বলিনি তেমন ;তবে একটা সন্তানের ইচ্ছে তো সব স্বামী স্ত্রীর থাকে।আমি বললাম ,”তাহলে পরীক্ষা করিয়েছিস?আবির বলল, “মার্জিয়ার সব রিপোর্ট ভাল”। আমি তখন আবির কে বললাম, আর তোর রিপোর্ট ? আমার কথা শুনে আবির চমকে গিয়ে বলল,আ…..আম….আমার! রিপোর্ট ভালই হবে”আমি একদম সুস্থ।এর মানে তুই নিজের এখনো চেকাপ করাসনি ?আন্দাজে বলছিস তুই একদম ফিট। দেখ বাবু সন্তান হওয়া আর না হওয়া যেমন একজন নারীর দোষে আর গুণে হয় তেমন একজন পুরুষের দোষ গুণটাও সমান থাকে।
আমাদের সমাজে সবসময় দোষ দেওয়া হয় একজন নারীকে সন্তান না হওয়ার জন্য।কিন্তু একজন পুরুষ তো দোষী হতে পারে কিন্তু এটা কোনো পুরুষ মেনে নেয়না।কারন তাদের পৌরষত্বে আঘাত লাগে।মার্জিয়ার সকালে কান্না দেখার পর আমার অনেক কষ্ট হয়েছে।বিয়ে হয়ে আসার পর ওকে এতোদিন পর্যন্ত কাঁদতে দেখিনি।আমি মার্জিয়া কে বললাম,”তুমি গর্ভবতী হতে পারছো না চেষ্টা করলে সব হবে এর জন্য মন দুঃখী করার কোনো দরকার নেই”।মার্জিয়া চোখ তুলে আমাকে দেখল আমি ওকে উপেক্ষা করে আবির কে বললাম,দেখ বাবু তুই যদি মার্জিয়া কে বাচ্চা না হওয়ার জন্য কিছু বলে থাকিস তাহলে খুব বড় ভুল করছিস।
আবির বলল,”মা আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আমার কোনো ডাক্তার দেখানোর প্রয়োজন নেই” আর মার্জিয়া কেনো কাঁদছে সেটা তুমি এতোক্ষনে জেনে গেলে। এর পরে আর কি বলবো বলো।একটা বিরক্তি ভাব নিয়ে আবির মার্জিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,কেনো এতো নিজেকে কষ্ট দিচ্ছো? মার্জিয়া চোখের জল মুছে বলল,”কতদিন তোমাকে বাবার ডাক শোনাতে পারব সেটা ভেবে কান্না পায়”। আমি হাসলাম আর বললাম,ঠিক আছে কোনো সমস্যা নেই তোদের কি খুব তাড়া আছে ? আবির বলল ,”না তোমার কি আর কিছু বলার আছে যদি এই বিষয়ে হয় তো ক্ষমা করো আমি আর কিছু শুনতে চাই না”। আমি বললাম না তেমন আর কিছু বলার নেই তোর পরীক্ষা না করে রেজাল্ট দিলি;এই কথায় একটা পুরানো গল্প মনে পড়ে গেলো।আজ ভাবছি তোদের কে সেই গল্পটা বলি শুনতে চাইলে বলতে পারি।মার্জিয়া মুখ তুলে বলল,”কার গল্প মা?।
একটা ভাগ্যের পরিহাসে পরিণত হওয়া মেয়ের গল্প।আর নামটা আমি না হয় গল্পের শেষে বলি কি বলো?আবির বলল,”সারাদিন অফিসে খাটি এখন বাচ্চাদের মতো গল্প শুনব”? কিন্তু মার্জিয়ার চোখে দেখলাম বেশ উৎসাহ গল্প শোনার ।আমি বললাম ,”শুনে দেখ কিছু জানতে পারবি বলে গল্প বলা শুরু করলাম । এটা আজ থেকে ৩০ বছর আগের কাহিনী।যে সময়ের কথা বলছি তখন কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে হতো।তা যে মেয়েটার গল্প বলছি ,তার বিয়ের সময় বয়স ছিল এই ধর ১৫ কি ১৬। একটা বেশ বনেদী পরিবারের একমাত্র ছেলের সাথে তার বিয়ে হয়।মেয়েটি সবে নাইনে পড়ছিল,মধ্যবিত্ত বাড়িতে তখন পড়ার থেকে বিয়ে দেওয়ার চল বেশি ছিল। তিন ভাইয়ের পর এক বোনের জন্ম হয়।কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ তার জন্মের বছর ছয়েক পরে তার বাবার অকাল মৃত্যু হয়।
বড় ভাইদের সংসারে মা ও মেয়ের যেমন তেমন সময় কাটছিল সেখানে পড়াশোনা বিলাসীতা মাএ।যাই হোক বিয়ের পর সেই মেয়েটার জীবন ভালই কাটছিল; কিন্তু বিয়ের বছর খানেক পরও যখন তার কোনো সন্তান হচ্ছিল না, তখন তার জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল।তখন তো আর এখনকার মতো দেরী করে বাচ্চা নেওয়ার চল ছিল না। তার উপর ছেলেটি মা বাবার একমাত্র ছেলে ।তাই তার বংশের প্রদীপ তাড়াতাড়ি আসাটা জরুরী ।মেয়েটির বাচ্চা হচ্ছে না একবছর বিয়ে হয়ে গেল। এবার শ্বশুড়বাড়িতে মেয়েটিকে বলা শুরু হলো বন্ধ্যা বা বাঁজা আরকি গ্রাম্য ভাষায়।তার বাপের বাড়িতেও খবর যায় যে তাদের মেয়ে বাঁজা ।একদিন মেয়েটির মা আসে মেয়েকে দেখতে কিন্তু অপমানিত হয়ে চোখে জল নিয়ে ফিরে যায়। একটা বাঁজা মেয়েকে তাদের একমাত্র ছেলেকে ঠকিয়ে বিয়ে দেওয়ার জন্য, মেয়েটির শ্বাশুড়ী মেয়েটির চোখের সামনে; যেখানে ঘর ভর্তি চাকরাও ছিল তাদেরও সামনে তার মাকে অপমান করে।ততদিনে পাড়া থেকে গ্রাম সব জায়গায় কথা ছেয়ে গিয়েছিল অমুক বাড়ির একমাত্র বউমা বাচ্চা জন্ম দিতে অপরাগ।
মেয়েটির স্বামীও যেনো অধৈর্য্য হয়ে উঠল বাচ্চা না হওয়ার জন্য।এদিকে শ্বাশুড়ী তো ছিল সাথে শ্বশুর ও শুরু করল ছেলের আরো একটি বিয়ে দেওয়ার জন্য।কিরকম ভয়ঙ্কর এক একটা দিন কাটছিল মেয়েটার।যে মেয়েটি সবার চোখে ভাল ছিল,হঠাৎ যেনো সবার চোখে বিনা দোষে খারাপ হয়ে গেল।সে শুধু একটাই প্রার্থনা করছিল সৃষ্টিকর্তাকে যে কোনো ভাবে একটা সন্তানের জননী হোক ,না হলে তার জীবন ঐ বাড়িতে কাটানো মুশকিল হয়ে পড়বে।কিন্তু সৃষ্টিকর্তাও হয়তো এটাই চাইছিল যে মেয়েটি ঐ বাড়িতে অপমান সহ্য করে না থাকুক।বনেদী বাড়ির ছেলের আবার বিয়ে দেওয়া হলো আর জানিস সেই নতুন বৌয়ের বাচ্চা দেওয়ার সময় দুইমাসের মধ্যে।মার্জিয়া জিজ্ঞেস করল,”আগের বৌটার কি হলো?।আমি বললাম “কি আর হবে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিল তালাক দিয়ে”।কারন একটা বাঁজা মেয়ে থাকলে তাদের নতুন বৌয়ের কপালেও দোষ পড়বে।মেয়েটির কুনজরে নতুন বৌয়ের বাচ্চা হবে না।তাই এক কাপড়ে মেয়েটিকে ঘর ছাড়তে হয়। মেয়েটি বাপের বাড়ির আশেপাশের গ্রামেও দুর্নাম ছড়িয়ে যায় মেয়েটি বন্ধ্যা ।কি যে অসহনীয় হয়ে উঠেছিল
;মেয়েটির জীবন। একটা বছর ১৭ র মেয়ের ডির্ভোস তখন সবাই তাকেই দোষ দিল।কেউ কি নিজে থেকে বন্ধ্যা হয় নিশ্চয় নয়, কিন্তু সমাজ এমনকি সাথে তারই বাড়ির সবাই তাকেই উঠতে বসতে খোঁটা দিত।মাঝে মাঝে মেয়েটার ইচ্ছে হতো মরে যেতে কিন্তু পারেনি নিজেকে শেষ করে দিতে ।
কেনো পারেনি সেটাও সে পরে বুঝতে পারে ।বিধাতা হয়তো মুখ তুলে তাকিয়ে ছিল মেয়েটির দিকে তার চোখের জল ,দুঃখ ,কষ্ট হয়তো বিধাতার মন গলিয়ে দিয়েছিল।মেয়েটির ডির্ভোসের দুবছর পর একটা বিয়ের সম্বন্ধ আসে ব্যাবসায়ী পাত্রের।পাত্র মেয়েটির থেকে বিশ বছরের বড়।পাত্রের বেশি বয়সে বিয়ে হওয়ার কারন তার বাবা নেই ছোটো ভাই বোনেদের দেখতে গিয়ে সঠিক সময়ে আর বিয়ে করা হয়নি। মেয়েটির বাড়ির কেউ এটির বিরোধ করল না বা একবারো ভাবল না মেয়েটি থাকবে কিভাবে তার সাথে!মেয়েটির বাড়ির সবার যেনো ধড়ে প্রাণ এলো।জেনে শুনে কেউ নিজে থেকে তাদের ভার মুক্ত করতে চাইছে আর কি চাই।মেয়েটির অদ্ভূত ভয় লাগা শুরু করল এক তো তার থেকে অনেকটাই বয়সে বড় আবার যদি বাচ্চা না হয় তো সেই এসে বাপের বাড়িতে পড়তে হবে।এবার হয়তো তার সত্যি বেঁচে থাকা মুশকিল হবে।তাই একরকম বাধ্য হয়েই তাকে বিয়েতে রাজী হতে হয়।
বিয়ে হওয়ার পর ছেলের বাড়ির সকলেই ফিসফাস শুরু করল, এ মেয়ে তো বাঁজা একে কেনো বিয়ে করল।ছেলেটির মা সবার সামনে হা হুতাশ করে বলছিল,” কত করে বললাম এই মেয়েকে বিয়ে করিস না বংশের বাতি জন্ম দিতে পারবে না কিন্তু কে শোনে কার কথা” ,”আমি নাতির মুখ না দেখেই মরব”। মেয়েটি সবার কথা শুনে কাঁদতে লাগল আবার শুরু হলো তার মেয়ে হয়ে জন্মানোর জন্য দোষ দেওয়া। বাসর রাতে সেই মানুষটিকে জিজ্ঞেস করল তাকে কেনো বিয়ে করেছে জেনে শুনে কেনো নিজের পায়ে কুঠারাঘাত করেছে?তাকে সবার সামনে অপমানে ফেলার জন্য?কিন্তু মানুষটি তো একদম আলাদা হালকা হাসি নিয়ে মুখে বলল ,” ভাগ্যে যা থাকে তাই হয় ,তোমার যা আছে তুমি তা পাবে কেউ কাড়িয়ে নিতে পারবে না”।তুমি আমার ভাগ্যে ছিলে তাই আমার কাছে এলে। মেয়েটি শ্বাশুড়ীর যেনো চোখের শূল ছিল।উঠতে বসতে তাকে কথা শোনাত যেনো সেই তার ছেলেকে পটিয়ে বিয়ে করেছে।বিয়ের মাস দুয়েক পর একদিন মেয়েটি মাথা ঘুরে পড়ে যায়।মানুষটি একটা দাই ডাকল ,দাই মেয়েটিকে পরীক্ষা করে বলে সে গর্ভবতী।মেয়েটির সাথে তার স্বামী আর শ্বাশুড়ী খুবই অবাক হয়।
একটা বাঁজা মেয়ে কি করে মা হতে পারে,কিন্তু ঘটনাটি সত্যিই ঘটে। মেয়েটি তার স্বামীর পায়ে পড়ে তাকে বলে আপনি আমার বদনাম ঘোঁচালেন। আমি এবার বুঝতে পারলাম কেনো আপনার সাথে আমার মিল রেখেছে সৃষ্টিকর্তা।যারা যারা মেয়েটিকে বন্ধ্যা বলে বদনাম করে বেড়িয়েছিল সবার মুখে যেনো একটা অদ্ভুত নিঃস্তব্ধতা লেগে যায়।মেয়েটির এক ধাক্কায় সম্মান কয়েক গুণ বেড়ে যায়।যারা তাকে বদনাম করেছিল তারাই আবার তার সুনাম করতে থাকে। ঠিক দশমাস পরে মেয়েটি একটি সুন্দর ছেলের জন্ম দেয়,মেয়েটি তার স্বামীর হাতে ছেলেকে তুলে বলেছিল ,”আপনি আমার মাথার কলঙ্ক মুছিয়ে দিলেন। আমি আপনার চীর কৃতজ্ঞ থাকব”।তার স্বামী তখন তার মাথায় আদর করে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেছিল,”আমি এখানে মাধ্যম মাএ তোমাকে বলেছিলাম ;তোমার যা আছে তুমি তা পাবেই।মেয়েটি ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল।তার স্বামী চোখ মুছিয়ে বলল,”আজ থেকে তুমি হাসবে মন খুলে বাঁচবে তোমার দুঃখের দিন শেষ হলো।
একদিন মেয়েটি জানতে পারে;তার আগের স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতেও সন্তান হয়নি।তাই সে আরো একটি বিয়ে করেছে।একটি সন্তানের আশায় তিনটি বিয়ে করলেও কারোর কাছ থেকেই সন্তান পেলো না।মেয়েটির ছেলে হওয়ার খবর তাদের কানে যেতেই সে বাড়ি থেকে একজন স্ব চোখে দেখে যায়।এবার একটা কথা রটতে থাকে আসলে ছেলেটির দোষ আছে। তিনটি মেয়ে বিয়ে করেছে তিনটি বন্ধ্যা হয় কি করে!সবথেকে বড় কথা প্রথম মেয়েটির বাচ্চা হলো কি করে যদি সে বাঁজা হয়।তার তিন নম্বর স্ত্রী সব জায়গায় তার স্বামীর বাবা না হওয়ার বদনাম ছড়িয়ে দেয়।
আমি চুপ করে যেতেই মার্জিয়া জিজ্ঞেস করল, “মা যার গল্প শুনলাম তার নাম টা তো বললেন না”? আসমারা বানু !! আবির ও মার্জিয়া দুজনে চমকে উঠে বলল !,মা তুমি ? আমি চোখের জল মুছে বললাম ,হ্যাঁ আমি সেই হতভাগ্য মহিলা যাকে তুই আর তোর বাবা মুক্তি দেয় বদনাম থেকে। তোর বাবা আমাকে পড়া শেষ করার তাগাদাও দেয়,তার অনুপ্ররণায় আমি বি.এ পাশ করি।কিন্তু মানুষটির আমি সেবা বেশিদিন করতে পারলাম আর কই।তোর যখন বয়স চার একটা ছোট্ট স্ট্রোকে চলে গেলো।আজ পর্যন্ত আমি তার সেই চার বছরের দেওয়া সম্মান আর ভালবাসা নিয়ে কাটিয়ে দিয়েছি।তুই আর মার্জিয়া ছাড়া আমার আর কেউ নেই রে ; তোরা সুখে থাকলেই আমি ভাল থাকব।আবির রুম থেকে যাওয়ার আগে আমার কপালে চুমু খেয়ে বলল,”মা আমি কালই ডাক্তার দেখাব আর নিজেকে এইভাবে গুটিয়ে রাখব না”।আমি শুধুই হাসলাম।
দুইদিন পরের কথা আমি আমার রুমে খাটে বসে বই পড়ছিলাম।মার্জিয়া রুমের দরজা ঠেলে ঢুকল,তার মুখে একটা সুন্দর হাসি।আমি জিজ্ঞেস করলাম,কি হয়েছে কিছু বলবে? মার্জিয়া বলল,” মা আপনার ছেলের রির্পোটে একটু সমস্যা আছে কিন্তু ডাক্তার বলেছে বড় কিছু সমস্যা নয়।ওষুধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে।হঠাৎ করেই! মার্জিয়া আমাকে জড়িয়ে বলল,আপনি দোয়া করেন যেনো আপনি তাড়াতাড়ি দাদী হতে পারেন ।দেখলাম তার চোখে জল আমি তার মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম,” তোমার শ্বশুর সবসময় বলতো যে জিনিস তোমার থাকবে সে অবশ্যই তোমার কাছে চলে আসবে।আমার দোয়া আমার দুই সন্তানের জন্য আজীবন থাকবে।
গল্পের বিষয়:
গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত