বন্ধু

বন্ধু
অবিশ্বাস্যভাবে পাত্রকে মিতুর পছন্দ হয়ে গেলো। কী সুন্দর তেল চকচকে টাক!! দেখলেই হাত বুলিয়ে দিতে ইচ্ছে করে। কী চমৎকার থলথলে ভুঁড়ি!! দেখলেই মনে হয়, একটু বক্সিং বক্সিং খেলি। সবচেয়ে বড় কথা, ছেলে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির বাংলার প্রফেসর। এই ছেলেকে বিয়ে করলেই ট্রাম্পের দেশের ভিসা নিশ্চিত। এতবড় সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না!! ওদিকে মিতুর বয়ফ্রেন্ড সজীব চার-চারবার বিসিএস দিয়েও সুবিধা করতে পারলো না। কাজেই সজীব চ্যাপ্টার এখন বাদ দেয়াই যায়। হেটার্সরা বলবে এটা খেয়ে ছেড়া দেওয়া।কিন্তু মিতু ঠিকই জানে, ওর সাদা মনে কাদা নাই।
মিতু আয়নার সামনে দাঁড়ায়। হলিক্রসে পড়ার সময় মিতু নাট্যদলের সদস্য ছিলো। অভিনয় এখনও ভুলে যায়নি ও। হালকা নাক টেনে আগামীকালের রিহার্সাল শুরু করে মিতু, “দ্যাখো সজীব, আমি তোমার যোগ্য না, তুমি আমার চেয়েও বেটার কাউকে ডিজার্ভ করো। পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও।” সজীব বিরাট বিপদে পড়েছে। সাবেক গার্লফ্রেন্ড মিতুর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, এইটার চেয়েও বড় বিপদ হলো, সেই বিয়ের কার্ড সেও একটা পেয়েছে।কার্ডের সাথে মিতুর ছোট্ট একটা চিঠি। “শেষবারের মতো হলেও বিয়ের দিন এসো। তোমার হাতের গিফট না পেলে আমি কবুল বলবো না।”
এদিকে পকেটের অবস্থা বেহাল। মিতু বই পড়তে ভালোবাসতো খুব। আজকাল বইয়ের দাম আকাশছোঁয়া । তবুও শেষবারের মতো একটা বই কেনার উদ্দেশ্যে সজীব বইমেলার দিকে রওনা হলো। বই সমন্ধে ওর গ্যান কম। অন্যসময় হলে মিতুর হেল্প নেওয়া যেতো। আজকে নেওয়া যাবে না। সারপ্রাইজ বলে একটা কথা আছে।
হার্ভার্ডের বাংলার প্রফেসর আবদুল মতিন মিয়া হাসি হাসি মুখে পাত্রপক্ষের প্যান্ডেলে বসে আছেন আর মাঝে মাঝেই চুলহীন মাথায় হাত বুলাচ্ছেন। মিতুকে তিনি দেখেছিলেন এক আবৃত্তির অনুষ্ঠানে। এই যুগে সাহিত্যপ্রেমী এমন মেয়ে দেখেই তিনি প্রেমে পড়ে গেলেন।
এই জীবনে সাহিত্যপ্রেম ছাড়া অন্য কাউকে প্রেমের ভাগ দিবেন না বলে ঠিক করেছিলেন। কিন্তু যে মেয়ের মধ্যে এমন সাহিত্য আছে, তাঁকে ভালো না বেসে পারা যায়? বইপড়ুয়া বউ এই যুগে কয়জনের ভাগ্যে জুটে? আবেগে তার মধ্যে একটা রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথ ভাব এসে পড়েছে। মতিন মিয়ার এই মুহূর্তে কারো সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে। প্রফেসরদের এই এক সমস্যা । বেশিক্ষণ কথা না বলে থাকতে পারেন না। কিন্তু এই ব্যস্ত সময়ে কথা বলার সঙ্গী কোথায় পাবেন? এমন সময় তার চোখ গেলো হাসিখুশি মোটামুটি হ্যান্ডসাম একটা ছেলের দিকে। তিনি হাত ইশারায় ডাকলেন ছেলেটিকে। মতিন মিয়ার কাছে সজীব নিজেকে মিতুর বন্ধু বলে পরিচয় দিলো। মিতুর জন্য আনা বইটি মতিন মিয়ার হাতেই তুলে দিয়ে বললো, এই বইটি আমাদের মিতুর সবচেয়ে পছন্দের বই। আপনারও ভালো লাগবে আশা করি। মতিন মিয়া বইটা হাতে নিয়েই ভ্রু কুঁচকে ফেললেন। বইয়ের নামটা অদ্ভুত।
বইয়ের নাম বনdhu লিখেছেন বাবা খান। অসীম কৌতূহলে বাংলার প্রফেসর, সাহিত্যপ্রেমী মতিন মিয়া বইয়ের পৃষ্ঠা খুললেন। প্রথম পৃষ্ঠা পড়ার পর তার বুকে চিনচিনে ব্যথা শুরু হলো, দ্বিতীয় পৃষ্ঠা পড়ার পরই তার পর পর তিনটা হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেলো। ধরাধরি করে তাঁকে দ্রুত আইসিইউতে ভর্তি করা হলো। তখনও তার হাতে ধরা ইতিহাসের প্রথম বাংলিশ বই- বনdhu, লেখক-বাবা খান।
পরিশিষ্ট: আবদুল মতিনের এখনও জ্ঞান ফেরেনি। বাংলিশ ভাষায় লেখা ইতিহাসের প্রথম বইয়ের চাপ তিনি নিতে পারেননি। জ্ঞান কখন ফিরবে, কেউ জানে না। মিতু হতভম্ব হয়ে বসে আছে। তাঁর চোখে জল। তাঁর বানdhobi শারমিন তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে, সাহস দিচ্ছে।এখন মিতুর সজীব ছেলেটার কথা খুব মনে পড়ছে। ওকে এত তাড়াতাড়ি রিজেক্ট করা উচিত হয় নাই।হাবাগোবা হলেও ছেলেটা ভালোই ছিলো।
সজীবের মনে এক অদ্ভুত আনন্দ হচ্ছে । গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে ভেঙে গেলে বোধহয় সবার মনেই এরকম আনন্দ হয়? বাবা খান লোকটাকে সজীব কখনও দেখেনি, তার লেখাও কখনও পড়েনি। তবুও মনে মনে দোয়া করলো এরকম লেখক যেন বাংলার ঘরে ঘরে জন্মে। মনের আনন্দে সে ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখলো, কেমন aso বন্দুরা? Aমি খুb vaলো আ6. এইমাtro বাবা খানের “বনdhu” শেsh koরlaম। aমাr geবনে ar চেye vaলো বoi aর পrini. লাv ইu বাবা খান।
অকর্মা ফেসবুকাররা সজীব আর বাবা খানকে নিয়ে হাসিঠাট্টা শুরু করলো। সজীবকে পেইড দালাল, আরো কত গালি যে দিলো!! কিন্তু সজীব কিছু মনে করলো না। প্রেমিকদের ওসব মনে করতে হয় না। সজীবের স্ট্যাটাসে বাবা খান লাভ রিঅ্যাক্ট দিলেন। আবেগে তার চোখে পানি আসলো। তার লেখক জীবন ধন্য হলো। তিনি তার পরবর্তী বইয়ের নাম ঠিক করলেন, বানdhobi. এভাবেই বেঁচে রইলো সজীব, মিতু, আবদুল মতিন আর বাবা খান। উন্মোচিত হলো বাংলা সাহিত্যের এক নতুন দিগন্ত।
গল্পের বিষয়:
গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত