অসমাপ্ত গল্প

অসমাপ্ত গল্প
“ও সাথী রে যেওনা কখনো দূরে তোমার এই প্রাণে, আমার এই প্রাণ তুমি ছাড়া বাঁচি কি করে? ” প্রিয় নায়ক সালমান শাহ এই গান টা শুনছি আর সিগারেট এর ধোঁয়া উড়াচ্ছি। আহা! কি সুন্দর অতীত গুলো মনে পড়ছে,আর দু চোখ চেয়ে এমনি তেই পানি পড়ছে! অতীত- সবে মাএ ক্লাস টেনে পা রেখেছি। দুরন্ত কৈশোর, চারদিক সবকিছুই রঙিন। বন্ধু-বান্ধব সবাই নিজেদের প্রেম ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত। আমি বাদ যাবো কেন? ব্যাস আমিও স্বিদ্ধান্ত নিলাম প্রেম করবো। একটা মেয়েকে পছন্দ ও হলো। কিছুদিন হলো পিছন পিছন ঘুরাঘুরি করছি।
আমাদের বাড়ি আর আমার ছোট খালার বাড়ি খুব কাছাকাছি, ১ কিমি. রাস্তা। সেই সুবাদে আমার অবাধ যাতায়াত। খালাম্মার তিন মেয়ে এক ছেলে।খালু প্রবাসী অনেক বছর ধরে। সবার বড় মেয়ে ক্লাস এইটে, মেঝো মেয়ে ফাইভে আর বাকি দুটো ছোট ছোট। আমার পরিবারে আমি আর মা। দুই বোন কে বিয়ে দেয়া হয়ে গেছে, আর বাবা বিদেশে থাকেন। যেহেতু দু বাড়ির মধ্যে আমিই পুরুষ মানুষ তাই আমারই সব করতে হতো। খালাম্মার ছেলে মেয়েগুলো আমার সাথে খুব মিশুক ছিলো। বড় মেয়ে ফারিয়া যে দিনই যেতাম একটা করে ফুল দিতো। আমি সাত-পাঁচ না ভেবে নিয়ে আসতাম। একদিন সবাই বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। ফারিয়ার চাচাতো বোন আমার সমবয়সী আমাকে জিজ্ঞেস করলো – হৃদয় কি অবস্থা? প্রেম করো নাকি?
আমিও হাসিমুখেই বললাম – প্রেম করি বলতে হ্যা একজনকে পছন্দ করি। নিতু (ফারিয়ার কাজিন) – কে সে? আমরা জানতে পারি? আমিও যেহেতু ফ্রি ছিলাম সবকিছুই বললাম। ফারিয়া বলার সাথে সাথে ওঠে চলে গেলো!। এর পর যে কয়দিন ওদের বাড়িতে গিয়েছি আমাকে দেখলেই চলে যায় কথা বলা তো দূরের কথা। আমি নিতু কে জিজ্ঞেস করার পর ও যা বললো আমি শুনে তো থ! হয়ে গেলাম। নিতুর ভাষ্য মতে – ফারিয়া আমাকে পছন্দ করে! ওই আমি যখন বললাম আমি অন্য কাউকে পছন্দ করি, এ কারণেই ও এমন করছে।
আমি বাড়িতে চলে আসলাম। সারা দিন রাত শুধু এই কথা মাথায় ঘুড়ছে, বার বার ওর মুখ, আর নিতুর কথা মনে পড়ছে। এদিকে যার সাথে লাইন মারার চেষ্টা করছিলাম সেও রাজি হয় হয় অবসথা। খুব অস্বস্তি তে পড়ে গেলাম। মনে মনে স্বিদ্ধান্ত নিলাম কিছুদিন ভেবে তারপর যা করার করবো। হ্যা, অবশেষে আমার মন বলছে – আমার ফারিয়া কেই লাগবে। একদিন বিকেল বেলা ওদের বাড়িতে গেলাম, সাথে ওর প্রিয় সাদা গোলাম নিয়ে। ঘরে ঢুকতেই ও ওঠোনে চলে গেলো। ছোট বোন মারিয়া কে ডাক দিলাম- জিজ্ঞেস করলাম খালাম্মা কই দেখছি না?
মারিয়া – আম্মা নানুর বাড়ি বেড়াতে গেছে আসতে আসতে নাকি সন্ধ্যার পর হবে। আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম এই সুযোগ ওকে প্রপ্রোজ করার। মারিয়াকে বললাম ফারিয়াকে ডাক দিতে। মারিয়া গিয়ে ডাক দেবার পর ও আসলো। মারিয়াকে বললাম তুই পাশের রুমে যা তোর আপুর সাথে কিছু কথা আছে। মারিয়া চলে যাবার পর বুকে সাহস নিয়ে আমি বলা শুরু করলাম – তুমি যে আমাকে পছন্দ করো বলো নি কেন? সে চুপ করে রইলো।
আমিঃ কি হলো কথা বলো।
ফারিয়া ঃ কি বলবো আমি পছন্দ করলেই কি? আপনি তো অন্য জনকে পছন্দ করেন।
আমিঃ পছন্দ করতাম,এখন করি নাহ। নিতুর কাছ থেকে সব কিছু শুনার পর আমি তেমার কথা ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছি নাহ।আমি তোমাকেই ভালোবাসি ফারিয়া! প্লিজ ফিরিয়ে দিও না। ফারিয়া অনেকক্ষণ চুপ থেকে – পরে ছেড়ে যাবে না তো?
আমি ঃ কোনোদিনও না। সারাজীবন তোমার হয়ে থাকবো।
ফারিয়া একটা মুচকি হাসি দিয়ে আমাকে জরিয়ে ধরলো। আমিও পরম ভালোবাসায় ওকে জরিয়ে নিলাম। এদিকে পিচ্চি মারিয়া দরজার পাশে দাড়িয়ে কাশি দিতেই দুজন আলাদা হয়ে গেলাম। ওকে সবকিছু বুঝিয়ে বললাম। মেয়ে টা পিচ্চি হলেও সবই বুঝতো সে আশ্বাস দিলো কাউকে বলবে নাহ।অল্প কিছু সময় ওখানে কাটিয়ে সন্ধ্যার দিকে চলে আসলাম। শুরু হলো আমার ভালোবাসার অধ্যায়। সারাদিনে অল্প সময় কথা বা মেসেজ আর নয়তো যেদিন ওদের বাড়িতে যেতাম ওইদিন চিঠি নিয়ে যেতাম। ফারিয়া ওর মাকে প্রচন্ড ভয় পেতো তাই সবকিছু খুব সাবধানে করতাম,কেউ যেন টের না পায়।
একদিন নানুর বাড়িতে একটা অনুষ্ঠান ছিলো – মা আর আমি গেলাম,ফারিয়ার মা ও আসলো ছোট দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে। অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যায়। মা বললো আজ থাকবে। কিন্তুু খালাম্মা বললো ওনাকে বাড়িতে যেতে হবে কারণ -ফারিয়ার ফুফাতো বোনের বিয়ে হবে আজ রাতে ওদের বাড়ি থেকে। খালাম্মা বললো – বুবু আমি হৃদয় কে নিয়ে চলে যাই। মা বললো -ও গেলো নিয়ে যাহ। আমি মনে বলতে লাগলাম – যাবো নাহ মানে বলে কি আম্মু। আমি আর খালাম্মা চলে আসলাম। ফারিয়া আমাকে দেখে এত খুশি হয় বলার বাইরে। খালাম্মা এসেই কাজে লেগে পড়লো। এই সুযোগে ফারিয়া এসেই আমাকে জরিয়ে ধরে বললো – আমি অনেক খুশি হয়েছি তুমি আসাতে।
আমি ওর কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে ছাড়িয়ে বললাম -হুম আমি তো এসেছি শুধু তোমার জন্য। এখন ছাড়ো কেউ দেখে ফেলবে। রাত প্রায় ৯ বাজে হটাৎ খেয়াল হলো গায়ে হলুদের জন্য কি জানি নেই আনতে হবে। ও হ্যা আমি টেন এ ওঠেই বাইক কিনি।
খালা আমাকে বললো বাবা একটু কষ্ট করে এই জিনিস গুলো নিয়ে আসতো। গ্রাম এলাকা দুটো বাজার ঘুরার পর এক বাজারে গিয়ে দোকান খোলা পেলাম। প্রচন্ড গরম থাকায় আমি ড্রেস চেন্জ করে খালুর লুঙ্গি পড়ে আর একটা শার্ট গায়ে দিয়ে পুকুর পাড়ে চেয়ারে বসে গান শুনছিলাম। হটাৎ বাড়ির সব ছেলে-মেয়ে আমাার সারা শরীরে হলুদ মাখিয়ে দেয়। আমি খুজতে লাগলাম ফারিয়াও আছে নাকি। কিন্তু নেই আশাহত হতো হলাম সে নেই। বাড়ির ভেতরের দিকে রওনা হলাম কাপড় চোপড় নিয়ে আসি গোসল করতে হবে।দুই ঘরের মাঝখানে যেতে দুটো হাত এতে আমার গালে লাগলো, আমিও অন্ধকারে হাত দুটো ধরেই বুঝতে পারলাম -আর কেউ না! আমার কলিজাটাই। আমিও তাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে ওর হাত থেকে হলুদ নিয়ে গালে লাগিয়ে দিতেই দৌড় দিলো। বিয়ের কাজ শেষ হতে হতে প্রায় ৩ টা বেজে গেলো।
বর যাএী রাত এখানেই থেকে সকালে টাঙ্গাইল রওনা দিবে। সারাবাড়ি ভর্তি মেহমান বাড়ির সব মেয়েছেলেদের এক রুমে জায়গা হলো। মেয়েরা দুই খাট মিলিয়ে আর ছেলেরা ফ্লোরে। আমি প্রায় ঘুমিয়ে গেছি এমন সময় বুকের উপর চাপ অনুভব করতেই দেখি ওর ৬ বছর বয়সী চাচতো ভাইকে সরিয়ে আমার পাশে শুয়ে আছে। প্রায় ফজর দুজনকে কত কথা বললাম। তারপর আগের অবস্থানে চলে গেলো। আমিও পরদিন দুপুর বেলা ঘুম থেকে ওঠে খাওয়া-দাওয়া করে চলে আসলাম। আমার টেস্ট পরীক্ষা চলে আসলো। ছাএ হিসেবে খারাপ ছিলাম নাহ তাই পড়ালেখায় মনযোগ দিলাম। পরীক্ষার পর ওদের বাড়ি তে গেলাম ও দেখি আমাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করলো। যেহেতু ওর ছোট বোন সব জানতো ওকে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে তোর আপুর এমন করছে কেন?
মারিয়া ঃ ভাইয়া বিয়ের দিন রাতে তোমাদের দুজনকে মা একসাথে দেখে ফেলেছে তাই আপুকে অনেক শাসিয়েছে৷ আপু বলেছে আপাদত এভাবে কিছুদিন চুপচাপ থাকতে।
আমি না পারতেও নিজেকে স্বান্তনা দিয়ে দিন কাটাতে লাগলাম। হটাৎ ওর বাবা বিদেশে এক্সিডেন্ট করে দেশে চলে আসে। এদিকে আমার এসএসসি পরীক্ষা চলে আসে আমিও পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরে। ওকে মিস করলেও কিছুই করার ছিলো নাহ। ১৩ ফেব্রুয়ারী মেসেজ জানাবে ১৪ তারিখ প্রথম সময়েই তাদের বাড়ির পশ্চিমে পুকুর পাড়ে দেখা করতে। আমি কোনো মতো সারাদিন কাটালাম, সন্ধ্যার পর থেকে শুধু সময় দেখতে লাগলাম। দুজন বন্ধুকে নিয়ে ১১. ৫৫ এই পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। ও ১২.১০ এর দিকে আসলো। সোজা এসে আমাকে জরিয়ে ধরে কাদতে শুরু করলো৷ ওকে একটা ঘড়ি গিফট করলাম আর ও একটা বকুল ফুলের মালা দিয়েছিলো। ( মালার পাপড়ি এখনো আছে)। ১ টার দিকে ও ঘরে চলে গেলো আমারও চলে আসলাম। এর কিছুদিন পরই আমি পরীক্ষা শেষ করে ৪০ দিনের তাবলীগে চলে যাই। তাবলীগে মোবাইল নিষেধ থাকায় কোনো যোগোযোগ হয় নি। তাবলীগের একদম শেষ ৩৮ তম দিনে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফোন দিলে মেঝো আপু ফোন ধরে –
আমি ঃ সালাম দিয়ে, হ্যালো আপু কেমন আছো সবাই? আম্মু কই?
আপুঃ ভালোই। আমরা সবাই ফারিয়ার বিয়েতেে এসেছি! এটা শুনার পর আমার পুরো পৃথিবী ঘুড়তে শুরু করে।
আমিঃ কি? ফারিয়ার বিয়ে মানে?
আপুঃ হুম, আজ ফারিয়ার বিয়ে হলো। জামাই সরকারি চাকরি করে। ব্যাস এটুকুই শুনার পর আমি সেন্সলেস হয়ে যাই। দুই জন মিলে আমাকে অযুখানা থেকে মসজিদে আনে। সবাই সেন্স ফেরার পর জিজ্ঞেস করতে থাকে কি হয়েছে? আমি অন্য কথা বলে কাটিয়ে নিই। শুধু কাছের তিন টা বন্ধুকে সবকিছু বলি। বাকি দুদিন কাটিয়ে বাড়িতে আসি।
যেইদিন বাড়িতে আসি সন্ধ্যাবেলা মা দাদুর সাথে বলাবলি করছিলো – আমার বোনের মেয়েটা বিয়ের পর দিনই চলে আসছে। কি বুঝলো আল্লাহ জানে জামাই কত ভালো চাকরি করে, পরিবারও ভালো। আমি চুপচুাপ শুয়ে শুয়ে শুনছিলাম। ফারিয়া ওর ছোট বোনের মাধ্যমে একটা চিঠি আমার কাছে পাঠায় – প্রিয় হৃদয় – তুমি যখন চিঠি টা পড়বে হয়তো আমি অন্যের ঘরে ( বুকটা ফেটে যাচ্ছিলো পড়তে গিয়ে)। তুমি জামাতে যাওয়ার পর তোমার ফোন বন্ধ। আমি কত মেসেজ কল দিয়েছি। বাবা হটাত করে আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলে। আমি অনেক চেষ্টা করেও ভাঙতে পারি নি, বাবা বলছিলো আমি রাজি না হলে গলায় দড়ি দিবে, এদিকে তুমার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। ভালো থেকো,আর আমি তোমার ছিলাম তোমার আছি তোমার থাকবো!
ইতি
তোমার ফারিয়া
আমি চিঠি টা পড়ে কি করবো বুঝতে পারছি না। ওর ছোট বোন বলে -ভাইয়া আপু এ বিয়েতে রাজি ছিলো নাহ। বাবা এসব করেছে। আপু তোমার সাথে কথা বলার অনেক চেষ্টা করেছে। আপু এখনো তোমাকে ভালোবাসে। তার জামাই কে সব কিছু বলে বিয়ের পরদিন চলে আসছে তোমার জন্য। তুমি আপুকে ফিরিয়ে দিও নাহ। ফারিয়া পরেদিন বিকেল বেলা ফোন দেয়। অনেক কান্না কাটি করে তারপর সবকিছু বলে আমি সবকিছু মেনে নিই। ওর সাথে সম্পর্ক রাখি এবং শপথ করি ওকেই বিয়ে করবো যেভাবেই হোক।
শুধু ওর ওই বিয়ের ডিভোর্স টা করিয়ে ফেললেই। এভাবেই চলতে থাকে আমাদের প্রেম আবারো নতুন করে। আমি রেজাল্টের পর ঢাকায় ভর্তি হই। এর মাঝে দুই পরিবার এমনকি সবাই জেনে যায় আমাদের সম্পর্কের কথা। আমার জন্য সে চলে এসেছে এসবও। যোগোযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আমি পুরো পাগল হয়ে নেশায় মাতাল হয়ে যাই। তিন-চার মাস পর আবার যোগাযোগ হয়। জানাজানির পর ওর পরিবার আমাকে হুমকি দেয় অনেক কিছু বলে। আমিও বলে দেই আপনাদের মেয়েকেই আমি বিয়ে করবো পারলে আটকিয়েন।
বাড়িতে বলি আমি ওকেই বিয়ে করবো। কোনো পরিবার মেনে নেয় নি। এভাবে অনেক দিন যায়। ওই বিয়ের ব্যাপার টাও ক্লোজ হয়ে যায়। ওর ও এসএসসি চলে আসে। আবার ও বাবা পাএ ঠিক করে বিয়ের জন্য। আমি বাড়িতে বলি কাজ হয়নি। কোনো এদিক ওদিক ভাবি নি। কোনো এক বর্ষ পুন্জির ডিসেম্বর মাসের ৯ তারিখ পালিয়ে দুজনে ঢাকায় কোর্টে বিয়ে করে ফেলি। বিয়ের দুদিন পর ফোনে পুরনো সিম অপেন করতেই। ছোট মামা ফোন দেই মায়ের অবস্থা খারাপ আমার পরিবার সবকিছু মেনে নিয়েছে বাড়িতে চলে আসতে। মা ও ফোনে অনেক কেদে বলে। আমিও ফারিয়া কে নিয়ে বাড়িতে যাই। আমার পরিবার সবকিছু মেনে নেয়। আমি ওকে রেখে ঢাকায় চলে আসি সেমিস্টার ফাইনাল দিতে। দিন যেন কাটে না। দিনগুনি কবে পরীক্ষা শেষ হবে বাড়িতে যাবো। পরীক্ষা শেষ হবার দিনই বাড়িতে চলে যাই। পুরো পরিবারকে অল্প দিনে আপন করে নেয়। আমার ও খুব ভালো লাগে।
দুজন মিলে স্বিদ্ধান্ত নেই দুই পরিবার কে এক করতে হলে আমাদের বেবি নিতে হবে। আমি ঢাকায় একটা পার্টটাইম জব শুরু করি নিজের খরচ + অল্প কিছু জমাতে থাকি বেবির জন্য। আস্তে আস্তে সময় হয়ে আসে। ওকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া হয়। দুই পরিবারের সবাই খবর শুনে হাসপাতালে যায়। সারারাত যাবার পর সকাল বেলা ডাক্তার সুখবর দেয় – আমি কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছি। সে কী যে খুশি হয়েছিলাম একমাএ আল্লাহ জানে। দুই পরিবার ও সবকিছু ভুলে এক হয়ে যায়। কিন্তুু এই এক হওয়া ছিলো আমার জীবনে অভিশাপ। আমার পৃথিবী আলাদা করার পথ। আস্তে আস্তে ফারিয়ার পরিবর্তন শুরু হয়। বাবার বাড়ি গেলে আসতে চায় না। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কোনো দিন কথা বলে নি, সে এখন আমাকে তুই ছাড়া কথা বলে না, সারাদিনে ২৪ ঘন্টাই খারাপ ব্যবহার। সামান্য বিষয়েও এমন রাগারাগি করবে যা ধৈর্যের বাঁধ ভাইঙ্গা পড়ে। আস্তে আস্তে সম্পর্কে ফাটল ধরে। আমি প্রথম প্রথম সহ্য করলেও একসময় আর পারছিলাম নাহ। তবুও যখন শান্ত থাকতাম ওকে বুঝাতাম কোনো কাজ হয় নি। এদিকে আমার পরিবার ও এমন দেখে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে অন্য দিকে ফারিয়া। আমি মাঝখানে পড়ে শুধু সহ্য করেই যাচ্ছি।
ফারিয়ার মা আমার বড় আপুর সাথে তর্ক লেগে যায় ওদের বাড়িতে গেলে। আপু বাড়িতে এসে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করায় আমি রেগে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করি, যখন তারা বলে হ্যা এমন হয়েছে আমি রাগে অনেক কিছুই বলি এমনি কি তাকে ডিভোর্স এর কথাও তুলি। ফারিয়াও অনেক কিছু বলে ফোন কেটে দিয়ে নাম্বার ব্লক লিস্টে ফেলে দেয়। রাগের মাথায় তেমন পাওা দেই নি। কিছুদিন যাবার পর মাথা ঠান্ডা হলে ওকে আনতে যাই। ওর বাধা বলে ওনাদের মেয়েকে আর দিবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন দিবেন নাহ? ফারিয়ার বাবা- উনার মেয়ে আমাকে পরিবারে সুখি হয় তাই দিবে না। আমি কিছু না বলে ফারিয়াকে জিজ্ঞেস করি তোমার মত কি?
ফারিয়া – আপনার পরিবার যা বলবে আমি তাই করবো। কথা টা শুনার পর আমি দ্বিতীয় বারের মতো ওর জন্য সেন্সলেস হই। সেন্স ফিরার পর শুনি ও আমাকে একনজর দেখেও নি। ওর ছোট বোন আর ওর চাচি আমার মাথায় পানি দিয়েছে। আমি সুস্থ হয়ে বাড়িতে চলে আসি। এর পর লাস্ট কয়েকমাস শত চেষ্টা করেও- ওকে ফেরাতে পারি নি, বুঝাতে পারি নি ওকে ছাড়া আমি নিঃস্ব। কেমনে দিন কাটছে আমার। প্রতি টা দিন কেদে বালিশ ভিজিয়েছি। পুুরুষ মানুষ নাকি অল্প কষ্টে কাদে না।
আমি এমন কষ্ট পেয়েছি প্রতিদিন কাদি। ফাইনালি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হই সবকিছু শেষ করার। যে আমাকে চায় না আমি কি করে তাকে ফেরাবো। মেয়েকে ৩বছর পর্যন্ত ওর ওখানেই রাখবে। তারপর আমি নিয়ে আসবো। দেনমোহর পরিশোধ করে ওকে সম্মানের সঙ্গেই বিদায় দিই। ডিভোর্সের দিন আমার বুকটা চিরে গেলে ওকে বেশ স্বাভাবিক ই মনে হয়। শেষ হয়ে যায় আমার সবকিছু। তবে হ্যা – আমি এখনো তোমাকে ভালোবাসি প্রিয়, এখনও তোমার অপেক্ষায় থাকি আমি এখনও তোমাকে মিস করি,এখনও তোমার প্রিয় ফুল নিয়ে কাদি ভালো থেকো, সুখে থেকো এই কামনা করি।।।
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত