সুখ

সুখ
কিছু স্বার্থপর মানুষ সুখের জন্য তার আপন মানুষগুলোকেও ছেড়ে যেতে দ্বিধা করে না। তবে আদৌ কি ছেড়ে যাওয়া মানুষগুলো আর সুখের দেখা পায়? হয়তো বা পায়, হয়তো বা পায় না। এর দ্বিতীয়টাই হয়েছে আমার প্রাক্তন স্ত্রী নায়লার সাথে। বাবা মায়ের পচ্ছন্দের রূপবতী রাজকন্যা নায়লার সাথে আমার ধুমধাম করে বিয়ে সম্পন্ন হয়। আমি বরাবরই বাবা মায়ের পচ্ছন্দের উপর বিশ্বাসী ছিলাম। তাই বিয়ের ক্ষেত্রেও তাদের মতামতকেই প্রাধান্য দিয়েছিলাম। অবশ্য মা আমায় বলেছিলো মেয়েকে দেখে আসতে কিন্তু আমি একেবারে বিয়ের দিন’ই দেখেছিলাম।
বিয়ের রাত নিয়ে অনেকের মুখেই অনেক কথা শুনেছিলাম। এমনকি আমি নিজেও পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে আমার স্ত্রীর জন্য একটা কোরআন শরীফ, জায়নামাজ, আর তসবিহ কিনে রেখেছিলাম। কিন্তু সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছিলাম যখন আমার স্ত্রী নায়লার কপালে হাত রেখে আমি দোয়া পড়তে চাইলাম নায়লা বিরক্ত হয়ে এক ছিটকে দূরে গিয়ে শুয়ে পড়লো। বুঝেছিলাম তার মতামত না নিয়ে বিয়ে করাটা একদম ঠিক হয়নি। তবুও সবকিছু মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু নায়লা সেটা কোনোমতেই হতে দেয়নি৷ বিয়ের পরদিন থেকেই শুরু হয় তার অপ্রকাশিত অপমান, অসম্মানজনক ব্যবহারগুলো। আমার মা রোজ সকালে উঠে বার বার ডেকে যেতেন নায়লা কে খাবার খেতে। কিন্তু নায়লা কপাল কুচকিয়ে বিরক্তির সুরে জবাব দিতো, আপনারা খেয়ে নিন আমার খিদে নেই। মা আমায় ডেকে বলেছিলো, বাবার বাড়ি ছেড়ে এসেছেতো মেয়েটা তাই হয়তো মন খারাপ করে থাকে সবসময়। আমি যেন একটু বুঝিয়ে সুঝিয়ে কথা বলি।
আমি নিজেও বুঝতাম নায়লার আমাকে অপচ্ছন্দ সাথে আমার পরিবারকেও। আমি যে নায়লার থেকে দেখতে খারাপ ছিলাম তা কিন্তু নয়। আমিও সুন্দর ছিলাম নয় কি, তাই মায়ের ইচ্ছা ছিলো রাজপুত্রের সাথে রাজকন্যার বিয়ে দেওয়ার। ঠিক তাই করলো তারা, বাহ্যিক সৌন্দর্যে সুন্দরী রাজকন্যাই শুধু আনলো মন থেকে সুন্দর একজন স্ত্রীকে নয়। আমিও আর বাবা মা কে দোষ দেওয়ার কথা ভাবিনি৷ নিজের ভাগ্য’কে ভেবে সবটা মেনে নিয়েছিলাম।
এভাবেই মাস খানেকের মতো চলে গেলো আমাদের বিবাহিত জীবন। নায়লা এর মাঝে আমার সাথে দু একটা করে কথা বলে তবে তা শুধু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্যই। আমি মাঝে মাঝেই বেশ অবাক হতাম এটা ভেবে যে নায়লার চাহিদাগুলো ছিলো সবসময় বড় বড়। যেটা আমার পক্ষে পূরণ করা সম্ভবপর হলেও সে চাইতো, আর অসম্ভব হলেও সে চাইতো। ছুটির দিনে যদি বলতাম কোথাও ঘুড়তে যাওয়ার কথা নায়লা উত্তরে বলতো,
-আপনার ওই শখের স্কুটিতে চড়ে ঘুড়ে বেড়ানোর মতো বউ আমি না। মুহূর্তেই মনটা খারাপ হয়ে যেতো। স্কুটিটা আমার অনেক পচ্ছন্দের। বাবা অনেকবার বলেছিলো বাইক কিনে দেওয়ার কথা৷ কিন্তু আমি স্কুটি টাকে ছাড়তে পারিনি৷ এটাই ছিলো আমার অফিসে চলাফেরার একমাত্র সঙ্গী। সপ্তাহের অবসর দিনগুলোতে আমার মাকে নিয়ে এই স্কুটিতে করেই নানুর বাড়ি, আপুর শ্বশুর বাড়ি দিয়ে ঘুড়ে আসতাম। নায়লাকে বিয়ের পর মা নিজেই বলতো ওকে নিয়ে ঘুড়তে ফিরতে। কিন্তু আমার মা তো জানতো না তার ছেলের বউ আমার অপচ্ছন্দের তালিকায় থাকা অহংকারী মানুষগুলোর মধ্যে একজন। আমার আত্মীয় স্বজনের মুখে প্রায় শুনতাম,
-ফায়েকের মতো ফায়েকের বউটা হয় নাইরে। একেবারে অহংকারী একটা মেয়ে। ভালো মন্দ কোনো প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে যেন তার কত শত বিরক্তি, লজ্জাই আর আমরাই কথা বলবো কি স্থান ত্যাগ করতে পারলে বাঁচি।
এই কথাগুলো শুনলে আমার লজ্জা করতো খুব। কোনো স্বামীই হয়তো চাই না তার স্ত্রীর প্রশংসার বাইরে কেউ বদনাম করুক। কিন্তু নায়লা কোনোদিনো প্রশংসা পাওয়ার মেয়ে ছিলো না। আমার মা নায়লাকে কোনো কাজ করতে দিতো না আর নায়লাও যে বাকি মেয়েদের মতো জোর করে সংসারের কাজ করবে তেমন স্বভাবেরও মেয়ে ছিলো না।
কাজকর্মের কথা বাদই দিলাম। আমার আর কোনো ভাই নেই, আমি একটাই ছেলে আমার বাবা মায়ের। আর বড় বোন আছে ওর বিয়ে হয়ে গেছে। সেই ক্ষেত্রে আমার স্ত্রী’ই এই বাড়ির একটা বউ আর আমার বাবা মায়েরতো অনেক আদরের। কিন্তু নায়লাকে কখনো দেখিনি আমার বাবা মাকে ডাকতে। নায়লা আধুনিক মেয়েদের মতো ছিলো। যেসব কোনোদিনো আমার পচ্ছন্দের তালিকায় স্থান পায়নি। আমি, আমার মা হাজার বলেও বোঝাতে পারিনি। আর নামাজ কালামের কথা বললে হাজারটা অযুহাত কারণ লেগেই থাকতো। বিয়ের পাঁচমাস পর নায়লা তার বাবার বাড়ি চলে যায়। সেই যাওয়ায় শেষ আর ফেরেনি সে। আমার কি দোষ আজও জানতে পারিনি। ডিভোর্স পেপার পাঠানোর পর নায়লা আমার ফোনে একটা মেসেজ করে। মেসেজটা ছিলো এমন, ‘মুক্তি চাই আমার আপনার থেকে, এই পাঁচটা মাস নরক যন্ত্রণা ভোগ করেছি। আপনার সাথে কোনোদিনো সুখী হতে পারবো না আমি। দয়া করে সাইনটা করে দেবেন’।
আমার বাবা নায়লাদের বাড়ি গিয়ে ওর কাছে অনেক অনুরোধ করে যাতে ডিভোর্সটা না হয়। কিন্তু নায়লার বাবাও নায়লার মতামতকেই প্রাধান্য দিয়ে তার মেয়েকে আর পাঠাতে চায়নি৷ জানিনা কি দোষ ত্রুটি নায়লা তার বাবাকে বলেছিলো আমার, আমার পরিবার সম্পর্কে। আমাদের ডিভোর্সটা হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ভেঙ্গে পড়ে আমার বাবা মা। কারণ তারা সবসময় নিজেদের আমার এমন দূর্ভাগ্যের জন্য দোষারোপ করতো। সেদিনের পর থেকে মা বাবাকে আমার সামনে দাঁড়িয়ে একটা কথা বলতেও দেখিনি। সপ্তাহ না ঘুড়তেই শুনেছিলাম নায়লার বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে নাকি ওর সম্পর্ক ছিলো সেই ছেলের সাথেই পালিয়ে বিয়ে করেছে। কথাটা শোনার পর খুশি হয়েছিলাম কি না জানি না, তবে দোয়া করেছিলাম মন থেকে। যারা মানুষকে ঠকিয়ে চলে যায় তারা যেন খুব সুখে থাকে।
আজ দুই বছর পর জানতে পারলাম আমার প্রাক্তন স্ত্রী নায়লার আবার ডিভোর্সড হয়েছে। তার প্রেমিক স্বামী অফিস সহকারী কোনো মেয়ের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়। ফলাফল স্বরুপ নায়লার সাথে বিচ্ছেদ হয়। লোকমুখে শুনেছি সে এখন বাবার বাড়িতেই থাকে। পুরুষ মানুষের ভেঙ্গে পড়তে নেই। তবে কপালের লিখন যদি খুব খারাপ হয় সেটাকে হাসি মুখে মেনে নিতে পারা পুরুষগুলো অনেক ভাগ্যবান হয়। আমিও হয়তো সেই ভাগ্যবানদের মাঝে একজন ছিলাম। নায়লার সাথে ডিভোর্সের মাসখানেক পর থেকেই আমার আপু দুলাভাই পাত্রী দেখতে থাকে। কিন্তু কোনো পাত্রীর সন্ধানই মেলে না। যদিওবা পাত্রীর খোঁজ মেলে তবে তাদেরকে বাবা মা কেউই দেখতে যেতে চাই না। তাদের এক কথা এবার যা হবে আমার পচ্ছন্দেই হবে। আমিও কাজের চাপে কোনো পাত্রী দেখতে যেতে পারিনি।
এভাবে আরো দুইমাস কেটে যায়। ঠিক তিনমাস পর অফিস ছুটি থাকে দুইদিন। তখন বাবা অন্তত একটা পাত্রীকে দেখে আসার কথা বলে। আমি আর না করি না। বাবাকে বলি পাত্রীর বিয়ে হয়েছিল কি না? বাবা উত্তরে হ্যা জানায়।
আমিও সেসব শুনে সেই পাত্রীর সাথে দেখা করতে যাই। অনেকেই অবিবাহিত মেয়ের সাথে আমার বিয়ের সম্মন্ধ আনলেও আমি এক বাক্যে বলেছিলাম, বিয়ে করলে ডিভোর্সি কাউকে। কারণ আমি জানি যার আমার মতো ক্ষত আছে সেই বুঝবে আমার ক্ষত’র যন্ত্রণা। আজকাল পরিবারসহ মেয়ে দেখার চেয়ে ছেলে মেয়ে দুজন দুজনকে দেখাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমাদেরও তেমনটাই করতে বলা হয়েছে। পাত্রীর বাবার দেওয়া নির্দিষ্ট ঠিকানামতো আমি পৌঁছে যাই। প্রায় দশমিনিট হলো বসে আছি। সময় কাটানোর জন্য ফোন ঘাটাঘাটি করছিলাম। কয়েক সেকেন্ড পর কোনো মেয়েলি কন্ঠে সালাম ভেসে আসলো আমার কানে,
-আস-সালামু আলাইকুম মুখ তুলে তাকাতেই দেখি বোরকার আড়ালে নিকাবে ঢাকা একজোড়া চশমা পড়া চোখ সালামের উত্তরের আশায় আমার দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে। আমি ফোনটা রেখে উত্তর দিলাম,
–ওয়া আলাইকুমুস-সালাম বসুন আপনি। মেয়েটাকে শুধু একটা প্রশ্নই করেছিলাম তার এই বিয়েতে সম্মতি আছে কি না। সে হ্যা সূচক উত্তর দিয়েছিলো। তারপর আমরা স্থান ত্যাগ করি। মেয়েটা চলে যাওয়ার আগে বারবার তার হাতের আঙ্গুলগুলো টানছিলো। আমি বুঝতে পেরেছিলাম হয়তো তার মুখ দেখতে চাইলাম না কেন সেই প্রশ্ন করতেই চেয়েছিলো। কিন্তু আমি বুঝেও না বোঝার ইঙ্গিতে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ নিকাবের আড়ালে রাখা তাকে দেখেই আমার পচ্ছন্দ হয়েছে। বাড়িতে এসে জানিয়ে দেই পাত্রী পচ্ছন্দ। বাবা মা খুশি হয়ে বিয়ের সম্মন্ধ অবদি এগোতে থাকে। পরিশেষে দ্বিতীয় বিয়েটা হয় আমার। আবার নতুন করে নতুন জীবনে পদার্পণ করি।
দ্বিতীয়বারের মতো সেই বাসর ঘরে পা রাখি। তবে সেদিনের ভয়টার মতো দ্বিতীয়বারে কোনো ভয় ছিলো না৷ কারণ তাকিয়া কে মানে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীকে আমি কবুল বলার পরই দেখেছিলাম। খুব সাদামাটা একটা চেহারার মেয়ে। তারচেয়েও সাদামাটা ছিলো তার ব্যবহার। প্রথমবারের মতো এবারও বাসর ঘরে স্ত্রীকে দেওয়ার জন্য উপহার-স্বরুপ একটা প্যাকেট এনেছিলাম। কিন্তু তাকিয়া আমায় অবাক করে দিয়ে ওই প্রথম একটা প্যাকেট আমার হাতে দেয়। প্যাকেটটা খুলে দেখলাম একখানা পকেট কোরআন শরীফ, জায়নামাজ, সাদা ধবধবে একটা পাঞ্জাবি, সাদা টুপি আর একটা তসবিহ। আমি মনে মনে ভীষণ খুশি হই। খুশিমনেই তাকিয়াকে আমার তরফ থেকে উপহারগুলো দিয়ে ওর কপালে হাত রেখে দোয়াটা পড়ে নিলাম। আমি আর তাকিয়া উঠে জায়নামাজ বিছিয়ে দু’রাকআত নফল সালাত আদায় করে নেই।
একটু পরে বিছানায় তাকিয়ার পাশে বসতেই ও একটু ঘাবড়ে যায়। আমি বললাম ভয় পাবেন না৷ আমি আজকে আপনার জীবনে ঘটে যাওয়া অতীতকে জানতে চাই। এই প্রথম মেয়েটা আমার দিকে একটু মুখ তুলে তাকালো। চোখদুটো ছলছল করছিলো যেন যেকোনো মূহুর্তে অশ্রুপাত হবে। তাকিয়া বলতে শুরু করলো, তাকিয়ার সাথে যার বিয়ে হয়েছিলো ও তাকে খুব ভালোবাসতো কিন্তু সে এমন ভালোবাসার মানুষ পাওয়া সত্ত্বেও ধরে রাখতে জানেনি। অন্য নারীর প্রতি আসক্ত হয়ে শারীরিক-মানসিক অত্যাচার করতো তাকিয়াকে। শেষমেশ তাকিয়ার বাবার বাড়িতে ডিভোর্স পেপার পাঠায়। তাকিয়া ডিভোর্স দিতে চায়নি আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলো সম্পর্কটা বাঁচিয়ে রাখার কিন্তু পারেনি মেয়েটা। শেষ অবদি এসেও হেরে যায় ভাগ্যের কাছে। তাকিয়ার বাবা মা বোঝায় যে খারাপ সে কখনোই ভালো হয় না, তার চরিত্র তেমনিই থাকে। হয়তো আল্লাহ তায়ালা চায়নি তাদের সম্পর্কটা থাক৷ এরপরই তাকিয়ার ডিভোর্স হয়। ডিভোর্সের পর মেয়েটা কয়েকবছর বাবার বাড়িতেই থাকে। তারপর আমার বাবা দূর আত্মীয়ের সাহায্যে তাকিয়ার সন্ধান পায়।
কথাগুলো থেমে থেমে বলছিলো মেয়েটা। গলাটা ভীষণ ভারি হয়ে এলো তার। আমি পানির গ্লাসটা এগিয়ে দিয়ে বললাম খেয়ে নিতে। চোখ মুখ মুছে তাকিয়া কয়েক ঢোক পানি খেয়ে নিলো। আমি তারপর আমার সাথে ঘটা সব কথা খুলে বললাম তাকিয়াকে। আমি চেয়েছিলাম আমাদের দুজনের অতীত, জীবনের শুরুতেই চাপা পড়ে যাক। কখনো সেই অতীত নিয়ে আর কারো মাঝে কোনো কথা হবে না। কথা বলতে বলতে কখন যে রাত গড়িয়ে গেছে খেয়াল করিনি কেউ। দূর থেকে মুয়াজ্জিনের মধুর কন্ঠে ফজরের আজানের ধ্বনি ভেসে আসছে কানে। দুজনে উঠে ওজু করে নিলাম। আমি তাকিয়ার দেওয়া পাঞ্জাবি, টুপি পড়ে জায়নামাজটা হাতে বেড়িয়ে গেলাম মসজিদের উদ্দেশ্যে।
পরদিন দেখলাম প্রতিটা ঘর অন্যভাবে সাজানো গোছানো। শুনেছি তাকিয়া বেশ গোছালো প্রকৃতির। আমার বাবা মা ও ভীষণ খুশি তাকিয়ার ব্যবহারে। মেয়েটা যেমন নম্র ভদ্র তেমন কথাবার্তা আচরণগুলোও অমায়িক। অল্পতে তুষ্ট থাকা মানুষদের মতো। আমি ঠিক এমন কাউকেই চাইতাম। যে না চাইতেই তার চাহিদাগুলো আমি পূরণ করতে পারবো খুশিমনে। রান্না বান্না থেকে শুরু করে আমার বাবা মায়ের কাপড় চোপড় ধোয়া ইস্ত্রি করা সব তাকিয়াই করে।
এখন আর আত্মীয়দের মুখে নিজের স্ত্রীর বদনাম শুনতে হয় না। তাকিয়া ভীষণ মিশুক প্রকৃতির মেয়ে৷ খুব সহজেই মানুষকে আপন করে নেওয়ার মতো ক্ষমতা ওর আছে। ওয়াক্ত-মতো নামাজ আদায়, কোরআন তেলওয়াত, শ্বশুর-শাশুড়ি আর স্বামীর সেবার বাইরেও পুরো একটা সংসার সামলানো এই মেয়েটাকে দেখে মাঝে মাঝে খুব অবাক হই।
কেউ হুট করেই এতো ভালো আচরণ করতে পারে না যদি না সেটা তার রক্তে ছোটো থেকেই মিশে থাকে। তাকিয়া যা করে মন থেকেই আর ওর এইসব আচরণও ছোটো থেকেই শেখা। তাহলে এমন একটা মেয়েকে কি করে পারলো কেউ ঠকাতে? জানি না জানতে চাই ও না শুধু জানি ‘আল্লাহ তায়ালা যা করেন অবশ্যই ভালোর জন্যই করেন’। এখন আমরা নিয়ম করে প্রতি শুক্রবারে বিকেলে ঘুড়তে বের হই। তাকিয়া আমার স্কুটিটা খুব পচ্ছন্দ করে। স্কুটির পিছনের সিটে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে বসে থাকে মেয়েটা যেন ওর ক্ষতি হলেও আমার কিছু হতে দেবে না।
আজ আমি ফুটফুটে একটা পুত্র সন্তানের পিতা হলাম। ছেলেকে দেখে অতীতে ফিরে গেছিলাম। কখন যে চোখদুটো ভিজে গেছে বুঝতেই পারিনি। তাকিয়া আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো,
-কাঁদছেন কেন আপনি? এই খুশির দিনে কেউ কাঁদে? আমি চোখমুখ মুছে আমার ছেলেটাকে বুকের মধ্যে নিয়ে উত্তর দিলাম,
–অতিসুখে মানুষ কাঁদে। আজ আমার নিজেকে এত সুখী মানুষ মনে হচ্ছে বলে বোঝাতে পারবো না।
একেই বুঝি ভাগ্য বলে। এদিকে আজ আমার সবচেয়ে সুখের দিন ওদিকে আজকেই আমার প্রাক্তন স্ত্রীর সাথে হওয়া খারাপ ঘটনার কথাও শুনলাম। আজ খুব করে বলতে ইচ্ছে করছে, সুখ এমন একটা বস্তু যা কখনো ধরা যায় না, ছোঁয়াও যায় না শুধু অনুভব করা যায়। আর ভাগ্য কখন কাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করায় কেউ বলতে পারে না।
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত