নিয়তি

নিয়তি
-তোমার একটা ন্যুড দাও।
-কি বললে তুমি?
-না মানে,,,,,,,,,
-তোমার সাহস কি করে হলো এমন কথা বলার?
-ভালোবাসো না তুমি আমায়?
-কি বুঝাতে চাও তুমি? ভালোবাসি বলে আমাকে নগ্ন হতে হবে? ভালোবাসা মানে কি নগ্নতা।
-সবাই তো সবার বফকে দেয়।
-মেয়েদের প্রতি তোমার ন্যূনতম সম্মান আছে? তুমিও তো একজন মেয়ে তথা একজন মা থেকে জন্ম নিয়েছো। তোমারও একজন বোন আছে,তুমি পারবে তোমার বোনের নগ্ন দেহ দেখতে?
-ব্রেক আপ তোমার সাথে।
-তুমি চলে গেলে ধরে রাখার সামর্থ আমার নেই। তোমার মন-মানসিকতা দেখে এতোদিন যে তোমার সাথে রিলেশন করেছি সেটা ভাবতেই নিজের প্রতি ঘৃণা হচ্ছে।
দুই মাসের সম্পর্ক ভেঙে ফেলল আলিশা।পাগলের মতো ভালোবাসতো রায়হানকে।রায়হান এমন ব্যবহার করবে কোনো দিন কল্পনাও করতে পারেনি আলিশা। রায়হানের ভালো মুখোশের আড়ালের আসল চেহেরা আজকে দেখলো আলিশা। সে স্রোতের উপরে তার দেহ বিলিয়ে দেয়নি। ভালোবাসা মানেই তো দেহ না। ভালোবাসে বলে কি দেহ বিলিয়ে দিতে হবে? না তা কখনো হয় না। যে মানুষ দেহকে ভালোবাসে সে কখনো প্রেমিক হতে পারে না। সেও একজন ক্ষুদ্র ধর্ষক। যে রাক্ষসে চোখ দিয়ে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করে তার প্রেমিকাকে।
এই সুযোগ টা করে দেয় মেয়েরাই। কয়েকটি ভালো ভালো কথা শুনে প্রেমে মশগুল হয়ে যায়। বুঝতে চেষ্টা করে না তার ভিতরটা কেমন। এই বুঝতে না পাওয়ার অর্ধেক কৃতিত্ব ছেলেদেরকেই দিতে হবে। কতগুলো মানুষ রূপি হায়েনা ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে মা-বোনদের ফাঁদে পেলে। সুযোগ বুঝে একদিন তার বিষাক্ত থাবা বসিয়ে দেয়। কলেজের মাঠে হাঁটতেছে আলিশা। আজকে তার মন খুব খারাপ।কালকে রাতের ঘটনা মনের ভিতর বারবার নাড়া দিচ্ছে। পুরুষ জাতির প্রতি ঘৃণা হচ্ছে তার। চিন্তিত মনে হাঁটতেছে হঠাৎ মুনতাহা এসে ঝাপটে ধরল। মুনতাহা খুব কাছের বন্ধু আলিশার। মুনতাহা মানেই আলিশা,আলিশা মানেই মুনতাহা।একে অপরকে ছাড়া তাদের চলেই না। ‘কিরে এতো খুশি খুশি লাগেতেছে কেনো তোকে?’ নিজের দুঃখ ভুলে খুব অবাক হয়ে মুনতাহাকে প্রশ্ন করল আলিশা।
-আজকে খুব খুশি আমি।
-আরে সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি। কিন্তু কেনো এতো খুশি সেটা বলতেছি।
-জানিস আজকে নয়নের জন্মদিন। পার্টিতে আমাকে ইনভাইট করল।আমাকে নাকি তার সব বন্ধুদের সামনে পরিচয় করিয়ে দিবে।
-ওহ ভালোই তো। তো পার্টি কখন? কোথায় হবে পার্টি?
-আজকে সন্ধ্যায় নয়নের বন্ধু হামিমের বাসায় হবে পার্টি। বন্ধুর বাসায় শুনে একটু খটকা লাগলো আলিশার। বন্ধুর বাসায় পার্টি তাও সন্ধ্যায়!
-তো বয়ফ্রেন্ডের জন্য কি গিপ্ট কিনবি তুই?
– নীল রঙের পাঞ্জাবী নয়নকে ভালো মানায়। তার জন্য একটা নীল রঙের পাঞ্জাবী কিনব।
-বাহ বয়ফ্রেন্ডকে দেখি খুব ভালোবাসিস।
-হ্যাঁ খুব খুব।
– দোস্ত আজকে খুব মন খারাপ আমার। তোর সাথে নিয়ে যাবি আমাকে?
-নয়নের পার্টিতে?তুই যাবি সত্যি?
-তুই নিয়ে গেলে যাবো আর কি।
-নয়ন যদি মাইন্ড করে?
-আরে কি মাইন্ড করবে আর। তাকে বলিস না আমি সহ যাবো যে সেটা। দু’জনকে একসাথে দেখে সে সারপ্রাইজড হয়ে যাবে।
-দারুণ আইডিয়া দিলি।
-কোন টাইমে বের হবি বাসা থেকে।
-নয়ন তো সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বের হতে বলল।
-আমরা সাড়ে পাঁচটায় বের হবো। আধা-ঘন্টা আগে চলে যাবো।
-আচ্ছা ঠিক আছে। আমি তোকে কল দিব।
যথাসময়ে দু’জন বেরিয়ে পড়ল। মার্কেট থেকে একটা পাঞ্জাবি নিলো মুনতাহা। আলিশার চোখে মুখে চিন্তার চাপ। কিন্তু সেটি মুনতাহাকে বুঝতে দিচ্ছে না। রিকশা করে দশ মিনিটের রাস্তা। রুহানের বাসার সামনে দু’জন। মুনতাহা খুশিতে তাড়াতাড়ি বাসায় ঢুকে যাচ্ছিল। আলিশা হাত টেনে ধরল।
– আরে দাড়া একটু। তুই না বললি পার্টি? কই কোনো আয়োজনই তো দেখা যাচ্ছে না।
-হ্যাঁ তাই তো। এখানে তো সব স্বাভাবিক।পার্টির কোনো আমেজই নেই।
-ভুল জায়গায় চলে আসলি না তো।
-আরে না এটাই। বাসার দরজায় সামনে যেতেই ভিতর থেকে গুনগুন আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। কয়েকজন ছেলের কন্ঠ মনে হচ্ছে।
-মাম্মা শিকার তো অল্পক্ষণেই হাজির হবে।
-সবকিছু রেডি তো? অনেকদিন পর আজ মাস্তি হবে।
-সব রেডি করা আছেই। এখনো শুধু ভোগ করার পালা।
– আগে তো মা****টাকে আসতে দেয়।
এমন কথাবার্তা শুনে মুনতাহার চোখ কপালে উঠে গেলে। আলিশা অনেকটা স্বাভাবিক, কারণ সে অনেক আগেই আন্তাজ করতে পেরছিলো।মুনতাহাকে আর সামনে এগুতে দিলো না। চুপিচুপি চলে আসল দু’জন। খুব কান্না করতেছে মুনতাহা।এমন কিছু হবে সেটা সে কল্পনাও করেনি। আজ যদি আলিশা না থাকত তাহলে কি হতো?
-কাঁদিস না দোস্ত। কান্না করার কিছুই নেই। এগুলো মেয়েদের নিয়তি।
-নয়ন আমার এতোবড় সর্বনাশ করতে যাচ্ছিলো! দীর্ঘ শ্বাস ফেললো আলিশা,
-আসলে আমি সকালেই এটি আন্তাজ করেছিলাম।তোকে একলা ছাড়তে ভয় হচ্ছিলো তাই আমিও তোর সাথে আসার প্লান করলাম। বর্তমানে কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। ৩০ মিনিট আগে বের হয়েছি যাতে শিকারের একদম মুখে গিয়ে না পড়ি। বাসার সামনের বটগাছটার নিচে দু’টা মানুষ। আলিশার কোলে মাথা রেখে চোখের পানি বর্ষণ করছে মুনতাহা। আলিশাও নিরব। কাঁদুক সে,আজকের কান্না হয়তো আগামী দিনের শিক্ষা হবে। আলিশা চারিদিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো। কোনো ধর্ষক শিকারের আশায় লুকিয়ে নেই তো?
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত