বউ

বউ
আজ অফিস থেকে বাসায় এসে কলিংবেল টা বাজাতেই ফট করে দরজা খুলে গেলো। প্রতিদিন যেখানে ২ – ৩ মিনিট দাড়িয়ে থাকতে হতো । আর আজ কলিংবেল বাজানোর সাথে সাথে দরজা খুলে গেলো। দরজা খুলতেই চমকে গেল সুর্য। দেখে সাবনাম সামনে দাড়িয়ে!
সাবনাম:অফিস থেকে আসতে কত সময় লাগে হ্যাঁ??(সাবনাম রগচটা মেজাজে কথাটি বললো। সুর্য চমকে উঠে বোবা হয়ে গেলো। যে মেয়েটির সাথে এক বছর হলো কোন যোগাযোগ ই নেই । সে আজ সূর্যের বাড়িতে টাও সূর্যের সামনে দাড়িয়ে)
সুর্য:তু তু,,তুমি!
সাবনাম:ঐ আমি কি। হুম?? সুর্য কোনো কথা বলতে পারছে নাহ চেয়ে আছে সাবনাম এর দিকে।আজ কত দিন পর তার ভালোবাসার মানুষটিকে দেখছে। এমন সময় সূর্যের আম্মু এসে
আম্মু:কিরে এভাবে দাড়িয়ে আছিস মানে। সুর্য ভয় পেয়ে গেলো আর আম্মুকে বললো…
সুর্য:মা ও কে?
আম্মু:আমার বউ মা।
সুর্য:কি বলো এগুলা।
আম্মু:হুম সত্যি।
সুর্য:আমি কিন্তু কিছুই বুঝতে পারছি না।বিয়ে করলাম নাহ আর তোমার বউ মা হয়ে গেলো??
আম্মু:তাই না। বৌ মা একটু বুঝাও তো। (আম্মু চলে গেলো সাবনাম এসে সূর্য কে চিমটি)
সুর্য: ইস কি হচ্ছে।(পিছনে তাকিয়ে সাবনাম দিকে তাকিয়ে রইলো সুর্য।সাবনাম চোখগুলো অনেক কথা বলছে। যা মুখের ভাষায় নয় চোখের ভাষা দিয়েই বুঝে নিতে হয়। এবার আরেক চিমটি)
সুর্য:ইস এরকম করো কেন!
সাবনাম:কি রকম করি হু।
সুর্য:তুমি এত দিন কোথায় ছিলে।
সাবনাম:তোমার চোখের আড়ালে।(কথাটি ভুরু কুচকিয়ে চোখের হাসি দিয়ে বললো।)
সুর্য:মানে।!
সাবনাম:কোন মানে নেই!(আবার চিমটি)
সুর্য:চলো তো ওপরের রুম টাতে।(এমন সময় সাবনাম চিৎকার দিয়ে উঠলো আম্মু বলে।)
সুর্য:কি হলো তুমি মা কে ডাকছো কেন?
সাবনাম:আমি ওপরের রুম এ যাবো মানে কি হু।
সুর্য:আরে পাগলি কথা আছে।
সাবনাম:তোমার সাথে আবার কিসের কথা। কোন কথা নেই আমার।(অন্যদিকে দিকে তাকিয়ে)
সুর্য:চলো না।
সাবনাম:নাহ।
সুর্য:কিন্তু কেন?
সাবনাম:তুমি আমাদের সম্পর্কের কথা এতদিনে ও কেন আম্মুকে জানাও নি।
সুর্য:তুমি তো জানো আমি মাকে দেখে খুব ভয় পাই।
সাবনাম:ছোট্ট বাবু তুমি নাহ!!!
সুর্য:না আসলেই ভয় পাই।
সাবনাম:শোন আমি তোমার বউ না। তবে এ বাড়ির বউ।
সুর্য:এটা কেমন কথা।
সাবনাম:হু তাই।(এমন সময় আম্মু এসে।)
আম্মু:কি গল্প করিস তোরা। যা ফ্রেশ হয়ে আয় খাবি যা।
সূর্য আর কোনো কথা নাহ বলেই ওখান চলে গেলো। গিয়ে ভাবছে আমি তো স্বপ্নে এসব ভাবছি নাতো। খুব ভালোবাসে সুর্য সাবনাম কে। প্রথম ভালোবাসা তাদের।সুর্য ভাবছে সাবনাম আম্মুর সাথে যেমন করে কথা বলছে মনে হয় কত দিনের বউ।সুর্য ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে।)
আম্মু:বৌ মা ও কে ভাত বেড়ে দাও।
সাবনাম:আচ্ছা। আম্মু চলে গেলো।সুর্য সাবনামর দিকে তাকিয়ে আছে।এদিকে সাবনাম খাবার দিচ্ছে। কিন্তু সূর্যের সেদিকে কোন খেয়াল নেই। শুধু সাবনামকে দেখছে।)
সাবনাম:ঐ হ্যালো। এদিকে না ওদিকে!!!! খাবার দিয়েছি।(আর এক চিমটি)
সুর্য:হু খাচ্ছি। তো।
সাবনাম:হু খাও।
সুর্য:তুমি।
সাবনাম:আমি আর আম্মু এক সাথে খাবো।
সুর্য:এখনি সবাই একসাথে খাই?
সাবনাম:না,,তুমি খাও।
সুর্য:আচ্ছা!
খাচ্ছে আর বোকার মতো খাওয়ার মাঝে মাঝে সাবনাম কে দেখছে।সাবনাম ও সূর্যের খাওয়া দেখছে। এবার খাওয়া শেষ।)
সাবনাম:যাও,,এইবার তোমার রুম এ যাও।
(বোকার মতো কিছু না বলেই উঠে চলে গেলো সুর্য ।রুম এ গিয়ে অপেক্ষায় আছে সাবনাম জন্য। কিন্তু সাবনাম আসার কোন হুদিস নেই। রাত তখন ১১.০০ টা। এমন সময় সূর্যের ফোন এ কল আসলো একটি অচেনা নাম্বার থেকে। রিসিভ করতেই একটা মেয়ের কন্ঠ। )
-হ্যালো কে? (সুর্য ফিসফিসিয়ে কথাটি বললো।যদি সাবনাম এসে পরে। )
সাবনাম:আমি।?
সুর্য:আমি কে?
সাবনাম:তোমার বউ। ছাদে আসো।
সূর্যের মনে তখন সুখের আনন্দে লাফিয়ে উঠলো রুমের ভেতর। তারপর ছাদে। ছাদে গিয়ে দেখে সাবনাম নেই। হঠাৎ পিছন থেকে চিমটি। ঘুরে তাকাতেই দেখে সাবনাম। আজ ছাদে চাঁদের আলোতে ঝকঝক করছে ছাদ টা। সাবনাম সূর্যের কাছে আর এক চাঁদ। আজ এক বছর পরে তাকে দেখছে এই একটা বছর তাকে পাগল এর মত খুঁজে বেরিয়েছে এমন কোনো জাইগা ছিল নাহ সুর্য সেইখানে সাবনাম কে খুঁজতে যাইনি।এক পর্যায়ে সাবনাম কে আর পানে নাহ বলে ভেবে নেই কিন্তু তার ভালোবাসা টা কেও নিতে পারেনি সুর্য টিকি সাবনাম কে ভালবেসে যাই তার বিশ্বাস আছে আল্লাহ একদিন টিকি তার ভালোবাসা তার কাছে ফিরিয়ে দিবে আর আজ সেটা সত্যি হলো।সুর্য কে চুপ থাকতে দেখে সাবনাম বলতে লাগলো…..
সাবনাম:কি ধ্যান্দা ছেলেদের মতো চেয়ে আছো কেন?
সুর্য:দেখছি তোমায়।
সাবনাম:হইছে এত দিনে কোন খোজ নেই আর আজ দেখছে!! হু—-!(একটু মিষ্টি রাগের সাথে সাবনাম বললো। অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে।)
সুর্য:এতদিন তোমাকে আমি অনেক খুজেছি। তোমার বাসায় গিয়েছি।কিন্তু শুনলাম তোমরা বাসা ছেড়ে দিয়েছ। কোথায় গিয়েছ ঠিকানা কেউ দিতে পারলো না। অনেক খুজেছি। তোমার ফোন টাও অফ।
সাবনাম:তাই!!!!!!!!!!!!!! আজ তো এসেছি। আর এতদিন আমি আমাকে তোমার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলাম। কারন আমি পাশে থাকলে তোমার পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হতো। আর এখন এই চাকরি টা তুমি পেতে না। আমি আম্মু সাথে তখন কথা বলেছিলাম। আমার আর তোমার কথা।আম্মু তখন খুব খুশি হয়েছিলো। তখন আম্মু বলেছিলো তোমার পড়াশোনা শেষ করে।তোমার চাকরি টা হলেই আমাকে নিয়ে আসবে।পরে আমার আম্মু আব্বুর সাথে কথা বলেছে। আমার আম্মু আব্বুরাও রাজি হয়েছে। আমি পাশে থাকলে তোমার পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হতো।এসব কিছু করেছে তোমার অজান্তে।
সুর্য: হুম তা ঠিক বলেছো। আমি তখন শুধু তোমার সাথে দেখা করতে, কথা বলতেই, ইচ্ছে করতো। তখন এতটাই আবেগময় ছিলাম যে ভবিষ্যৎ বলে কিছু চিন্তা করতাম না। শুধু সবসময় তোমার ভাবনায় জড়িত থাকতাম।
সাবনাম:আর সে জন্যই তোমার আম্মু কে তোমার আমার সম্পর্কে সব বললাম। আম্মু এতটাই ভালো যে যে সব মেনে নিলো।
সুর্য: তাই বলে আমাকে এত কষ্ট!!!!
সাবনাম:হুম খুব কষ্ট দিয়ে ছি। এত টুকু কষ্ট না দিলে দুজন কে দুজন ই হারাতে হতো।(আবার চিমটি হিমাদ্র কে)
সুর্য: উহ!!! এত চিমটাই কেউ।
সাবনাম:কেন ব্যাথা লাগে?
সুর্য:না।
সাবনাম:তাহলে আরো দেই।
সুর্য:নাহ। তাহলে ব্যাথা লাগবে।চলো রুম এ যাই।
সাবনাম:কেন?(সাবনাম সূর্যের দিকে চেয়ে আছে আর সুর্যও।)
সুর্য:কেন উত্তর টা না দেই।
সাবনাম: হু তাই। ( চোখ বাকিয়ে)
সুর্য:এমন চাঁদের রাতে তোমাকে পাবো কখনো চিন্তা করিনি।
সাবনাম: হাত টা ধরো।(হাত বাড়িয়ে দিলো সাবনাম)
সুর্য:হু।(সুর্য হাতটি ধরলো।)
সাবনাম:এভাবে কেন?
সুর্য:তো কিভাবে। সাবনাম;শক্ত করে।
সুর্য:হু।
সাবনাম: এখন থেকে অতিরিক্ত ভালোবাসতে হবে।
সুর্য:পারমু না।
সাবনাম:পারবে না!!!! নাহ? ( বলতেই সাবনাম জড়িয়ে ধরলো সুর্য কে)
সুর্য:এখন পারবো।
সাবনাম:দুষ্টু,,চুপ।
ভালোবাসা যদি সৎ হয় তাহলে সতো বাদা পেরিয়ে দুইজন দুইজন এর পাশে থাকা যাই।কিন্তু ভালোবাসা যদি অসৎ হয় সেটি কখনো টিকিয়ে রাখা যাই নাহ।
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত