বাঙালির ভোগের বাড়ি

বাঙালির ভোগের বাড়ি

উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে রবীন্দ্রনাথ আক্ষেপ করেছিলেন বাঙালি মানুষ হয়নি বলে। তিনি মহাপুরুষ ছিলেন। তাই তাঁর ফ্রাসট্রেশন নিয়ে একটি জ্বালাময়ী কবিতা লিখে ফেললেন। আর চরম ভোগান্তি হল পরবর্তী প্রজন্মগুলির। ভূমিষ্ঠ হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই শুনতে পেলাম মা-মাসি, বাবা-কাকারা যেকোন ছুতোয় উদাত্ত কণ্ঠে “রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি” হেঁকে যাচ্ছেন। তা সে রাতে বিছানা ভেজানো হোক, ফুটবল খেলে ভালো করে পা না ধুয়ে ঘরে ঢোকা হোক অথবা অংক পরীক্ষায় ফেল।

— Advertisements —

রবীন্দ্রনাথ দেহত্যাগ করার প্রায় তিন দশক পর যে বাঙালি জন্মেছে তাকে যদি এই বাক্যবাণ ধ্বস্ত করে, তাহলে তার আগের জেনারেশনগুলোর কি চিঁড়েচ্যাপ্টা অবস্থা হয়েছিল সেটা ভেবে শিউরে উঠি। আচ্ছা, মানুষ বলতে গুরুদেব ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন? বাঙালি যদি মানুষ না হয়, তাহলে কি তারা ওরাংওটাং? ওই যে সাত কোটি জনগণকে কবি খোঁচা দিয়েছেন, তার মধ্যে নিজেকেও গুনেছেন? না কি তিনিই একা মানুষ আর বাকিরা বনমানুষ? এই সব গভীর দর্শন প্রাইমারি স্কুল ছেড়ে ক্লাস ফাইভের পথে হাঁটা দেওয়ার সময় সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন রাস্তায় হাঁটার আনন্দ কিছুক্ষণ পরেই মিলিয়ে যায়, কারণ খানাখন্দ। এক সহপাঠী মুখ ঝামটা দেয়। সে নতুন কিছু বাক্য শিখেছে তার পাড়ার সিনিয়রদের কাছে। একটি বাক্য আমার মনে ধরে। বিকেলে বাড়ি ফিরে দেখি জ্যাঠামশাই চা খাচ্ছেন বসার ঘরে। বাবা সকালের কাগজ খুলে একটি খবরের দিকে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। জ্যাঠা বিরক্তিসূচক ঘাড় নাড়লেন। বাবা বললেন, “সাধে কি আর বিশ্বকবি বলেছেন…”

“বাঙালি মায়ের ভোগে” –  আমি একগাল হেসে দেবানন্দ স্টাইলে এন্ট্রি নিলাম। এবং কয়েক সেকেন্ড পিনড্রপ নীরবতার পর এক্সিট-ও। জ্যাঠার হাত কেঁপে চা চলকালো সাদা পাঞ্জাবিতে। বাবা সেই যে অবিশ্বাসের দৃষ্টি হানলেন, বেশ কয়েক দশক ওঁকে এড়িয়ে চলেছি। মা, মাথায় ঘোমটা টেনে। হাতের প্লেটে পেঁয়াজি আর বেগুনি। থমকে গেলেন। এরপর বেশ কিছুদিন আলোচনা চলল যে এহেন সোনা ছেলের এই বুৎপত্তি হল কি করে? নিশ্চয় পাড়ার রকে অথবা স্কুলে বখাটে ছোঁড়াদের সঙ্গে মিশছে। বোঝানো হল এই বাক্য তৎসম নয়, গালাগালিসম। সুতরাং সেন্সর। শুধু পাড়ার মাতব্বর রবিদা (কবি নন) মুখে জর্দা পান ঠুসে বললেন, কথাটা কিন্তু খারাপ বলেনি। যা দিনকাল পড়েছে, এর থেকে ইমারজেন্সি ভালো ছিল। আচ্ছা, মানুষ বলতে গুরুদেব ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন? বাঙালি যদি মানুষ না হয়, তাহলে কি তারা ওরাংওটাং? ওই যে সাত কোটি জনগণকে কবি খোঁচা দিয়েছেন, তার মধ্যে নিজেকেও গুনেছেন? না কি তিনিই একা মানুষ আর বাকিরা বনমানুষ? এই সব গভীর দর্শন প্রাইমারি স্কুল ছেড়ে ক্লাস ফাইভের পথে হাঁটা দেওয়ার সময় সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

এই এক সমস্যা বাঙালি জাতির। পুরনো যা কিছু সব দুর্দান্ত আর বর্তমান ভোগের খাতায়। স্বাধীনতার কিছুদিন পর থেকেই আমরা বলতে শুরু করেছি এর চেয়ে ব্রিটিশরাজ ভালো ছিল। প্রতি দশকে আগের দশককে মাথায় তুলে আজকের বাঁচার মুহূর্তটাকে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার সেলিব্রেশন আমাদের মতো আর অন্য কোনও জাতি করে উঠতে পেরেছে বলে মনে হয় না। অথচ, এককালে এই আমরাই পায়ের ওপর পা তুলে ভোগবিলাসে দিন কাটাতাম। কোথায় গেল সে সব দিন। প্রথম চাকরি পাওয়ার পর প্রৌঢ় অ্যাকাউনট্যানট সাবধানবাণী ছুঁড়েছিলেন – ভায়া, মাইনে পেয়েই লাটুবাবু-ছাতুবাবুর মত পায়রা উড়িও না, তাহলে ফিউচার ভোগে। আমি ওঁকে বোঝানোর চেষ্টা করি, ভোগ করার জন্যই তো আমার এই চাকরি নেওয়া। আমি ভোগ খাব, নাকি ভোগ আমাকে – সে শুধু সময় বলতে পারবে আর পারবেন আমার খুড়শ্বশুর, যিনি তখনও জন্মাননি। লক্ষণীয় যে পরিণত বয়সেও উনি ‘ভোগে’ শব্দটি ব্যবহার করলেন।

— Advertisements —

পাড়ার মোড়ে যে তিন মহলা বাড়ি ছিল, তার চলতি নাম ‘ভোগের বাড়ি’। তার কারণ সেখানে প্রতি বছর জাঁকজমকে দুর্গাপুজো এবং তিনদিন-ই পাত পেড়ে ভোজন। এককালে নাকি পুজোয় নিবেদিত ভোগ-ই সবাইকে পরিবেশন করা হত। মা-মাসিরা রান্না করতেন, বাড়ির ছোট ছেলেমেয়েরা পরিবেশন করত। ধীরে ধীরে সেই স্বর্ণযুগ গেল (আবার আফসোস)। মা-মাসিদের বয়স হল, কোমর কমজোর, হাঁটু নড়বড়ে। নতুন প্রজন্ম খিচুড়ি, পায়েস রান্নায় উৎসাহী নয়। তাদের জীবন অন্যখাতে বইছে। সুতরাং ভোগের পরিমাণ কমল। বাকি পদ কাঙালিভোজন মডেলে। কখনও নুন কম, কখনও বেশি চিনি।

একদিন শেষ পাতে রসগোল্লা বন্ধ হল। প্রতিবেশিরা পুজোর সন্ধ্যেগুলো পিএনপিসি করে কাটালেন। যাঁরা, বাঙালি রক্তের বিশেষ রঙের গুণে, আমেরিকার গণতন্ত্র থেকে চিনের প্রাচীর, মৃণাল সেনের ছবি থেকে রবিশস্যের ফলন, কোকো শ্যানেলের পারফিউম থেকে ব্যাঙের প্রস্রাব, কোনও ইস্যুতেই একমত হতে পারেন না, তাঁরাই একবাক্যে স্বীকার করলেন আগেরবার কুমড়োর ছক্কায় ছোলা অনেক বেশি ছিল। জ্যাঠার হাত কেঁপে চা চলকালো সাদা পাঞ্জাবিতে। বাবা সেই যে অবিশ্বাসের দৃষ্টি হানলেন, বেশ কয়েক দশক ওঁকে এড়িয়ে চলেছি। মা, মাথায় ঘোমটা টেনে। হাতের প্লেটে পেঁয়াজি আর বেগুনি। থমকে গেলেন। এরপর বেশ কিছুদিন আলোচনা চলল যে এহেন সোনা ছেলের এই বুৎপত্তি হল কি করে?

দেখতে দেখতে ভোগের বাড়ির কর্তা-গিন্নি গত হলেন। ছেলে-মেয়ে-নাতি-নাতনি কলকাতা ছাড়ল। কেউ বিলেত-আমেরিকা, কেউ বম্বে-ব্যাঙ্গালোর। একদিন ওই বাড়ি ভাঙা হল। জাত্যাভিমানে পাড়ার বাঙালি কাতর – “ছিঃ ছিঃ, শেষে প্রোমোটারের হাতে!” কমবয়সিরা, বিশেষ করে যারা জিম করে খিদে বাড়িয়েছে, আর ভোগ খাওয়া যাবে না শুনে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আক্রোশে মাসল ফোলালো। ঝাঁ চকচকে মাল্টিস্টোরিড রেসিডেনশিয়াল কমপ্লেক্স তৈরি হবে শুনে বারোয়ারি পুজো কমিটির সেক্রেটারি থ্রি-বেডরুমের প্ল্যান দেখতে এলেন এবং ডিসকাউন্ট চাইলেন। হাজার হোক বাঙালি পাড়া, ঐতিহ্য বজায় রাখতে হবে তো।

এরপর থেকে পাড়া-বেপাড়ায় যে কোনও বাড়ি ভাঙা পড়লেই আমরা বলতাম ওটা ভোগের বাড়ি হয়ে গেছে। পাত পেড়ে খিচুড়ি খাওয়া লোকগাথায় জায়গা পেল। পাড়ার মোড়ে যে তিন মহলা বাড়ি ছিল, তার চলতি নাম ‘ভোগের বাড়ি’। তার কারণ সেখানে প্রতি বছর জাঁকজমকে দুর্গাপুজো এবং তিনদিন-ই পাত পেড়ে ভোজন। এককালে নাকি পুজোয় নিবেদিত ভোগ-ই সবাইকে পরিবেশন করা হত। মা-মাসিরা রান্না করতেন, বাড়ির ছোট ছেলেমেয়েরা পরিবেশন করত।

কতবার ভোগে যেতে পারে একটা জাতি? প্রতিদিন, প্রতিঘণ্টায়, মিনিটে, সেকেন্ডে? এবং বছরের পর বছর। একটা সময় প্রবাসী বাঙালিদের আক্ষেপ ছিল, যে এই বঙ্গে তাদের একটু বাঁকা চোখে দেখা হয়। অর্থাৎ বৈঠকখানায় বসতে দিলাম কিন্তু অন্দরমহলের দরজায় ছিটকিনি। সে কেরানির চাকরিই হোক বা শিল্পসংস্কৃতি। রীতিমত ঠেলাঠেলি করে জায়গা করে নিতে হত তাদের। বিশ্বায়নের যুগে সবাই ভিন রাজ্যে, দেশে ছড়িয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কী কারণে আমি ছেড়ে যাচ্ছি আমার মাটি, কী বলছি নিজেকে, কী বলছি অন্যদের সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মসূত্রে দেশের অনেক রাজ্য এবং দেশের বাইরে অনেক দেশ ঘোরার সুযোগ হয়েছে, কিন্তু বাঙালি মানসিকতার কোনও তুলনা পাইনি। নিজের বিবেককে প্রতিনিয়ত আঘাত করে, খুঁচিয়ে রক্ত বার করে এক চুমুকে সেটাই পান করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছি আমরা, দিনের পর দিন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম। এই স্যাডিস্টিক আনন্দের স্বাদের মাহাত্ম্য অন্য কোনও জাতির প্রতিনিধিকে বোঝানো বেজায় শক্ত। বাংলা ভাষা ভোগে গ্যাছে, গল্প-উপন্যাসের কী ছিরি, যদিও পড়ে দেখা হয় নি। এখানে খেলাধুলোর কোন ভবিষ্যৎ নেই, মুম্বইকে দ্যাখো। এদিকে ছেলে-মেয়েকে খেলায় কেরিয়ার করতে দেব না যদি হাত-পা ভাঙে! আমাদের একমাত্র উত্তেজনা বুলটির ভাবী ননদকে নিয়ে কারণ সে চাকরি নিয়ে স্টেটস-এ চলে গেছে এবং ওখানেই সেটল করবে। স্কুলে পড়াতে পড়াতে বুলটির ব্রেন ভোগে চলে গেল। আর আমেরিকায় বোকাহাঁদা বাঙালির জায়গা নেই, সে সত্য নিপাতনে সিদ্ধ।

— Advertisements —

এই ঘটনা আজ যেমন প্রাসঙ্গিক, দশ বছর আগেও ছিল, হয়ত একশো বছর আগেও। মাঝখানে মহামতি গোখলে কিছু একটা বলে আমাদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলেন। আমরা আজ না ভাবতে পারলে কাল দেশ ভাবতে পারবে না। এই গুরুভার আস্তে আস্তে এই কাঁধ থেকে ওই কাঁধে পাচার করতে করতে আজ আমরা সত্যি হালকা বোধ করছি। এর ফলে একটা বিশাল সুবিধা হয়েছে। অন্য কারুর কাছ থেকে বাঙালির সমালোচনা শুনে কান লাল করার টেনশন নেই। একবার কেউ শুরু করলেই হল, আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ভোগের চাল, ডাল, আলু, কুমড়োর (আর ছোলার) ফর্দ লিখতে শুরু করি।

এই আচরণে অবিশ্যি একটি সত্য উদ্ঘাটিত – বাঙালি এখনও বাঙালির সমালোচনায় এক নম্বরে। এই ইগো ধারণ করে রাখতে পারাও কৃতিত্বের ব্যাপার বৈকি। শুধু তফাৎটা হল রবিবাবু হয়ত নিমপাতার সরবতে এক চুমুক দিয়ে ওই পদ্যটি লিখেছিলেন, আমরা আমপোড়ার সরবতে ইম্পোরটেড ভদকা মিশিয়ে ব্যক্তিগত ভোগান্তির খতিয়ান লিখি। দুটো আইস কিউব। এসি-টা একটু বাড়িয়ে দেবেন প্লিজ? বাংলা ভাষা ভোগে গ্যাছে, গল্প-উপন্যাসের কী ছিরি, যদিও পড়ে দেখা হয় নি। এখানে খেলাধুলোর কোন ভবিষ্যৎ নেই, মুম্বইকে দ্যাখো। এদিকে ছেলে-মেয়েকে খেলায় কেরিয়ার করতে দেব না যদি হাত-পা ভাঙে! আমাদের একমাত্র উত্তেজনা বুলটির ভাবী ননদকে নিয়ে কারণ সে চাকরি নিয়ে স্টেটস-এ চলে গেছে এবং ওখানেই সেটল করবে।

মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা মেরে যেমন যুদ্ধজয় করা যায় না, তেমনি তথাকথিত ভোগে যাওয়া জাতিকে আরও ভোগে পাঠানোর প্রচেষ্টাও পণ্ডশ্রম। বিশ্বসংসারে বাঙালির অবস্থান (সে যতই নোবেল জুটুক) বর্তমানে অনেকটা হর্ষ ভোগলের মতো। দুর্দান্ত কমেনটেটর, হয়তো পৃথিবীর সেরা, কিন্তু ক্রিকেটটি প্রফেশনাল সার্কিটে খেলেননি বলে দুর্ধর্ষ ক্রিকেটারদের আলোচনায় কেমন যেন মনে হয় বাউন্ডারি লাইনের ওপারে। খেলার খুঁটিনাটি নিয়ে কোনও মন্তব্য করলেই খ্যাঁকখ্যাঁক করে ওঠে গুগলি স্পিনার থেকে অলরাউন্ডার মায় টুয়েলফথ ম্যান পর্যন্ত। তা সত্ত্বেও মুখে হাসিটি লেগে আছে, টিআরপি চড়চড়াচ্ছে। বাঙালিরও তাই বিমর্ষ ভোগলে হয়ে থাকার কোনও কারণ নেই!

ভোটের আগে জামার বোতাম খুলে যে ভাবে বুক ফুলিয়ে রাস্তায় ঘোরে মাস্তান মানকে, ঠিক সেভাবেই সমালোচনার সামনে দাঁড়াব আমরা। ইমপোরটেড ভদকার বদলে এক্সপোর্ট কোয়ালিটি বাংলা মেশাব আমপানার সরবতে, হ্যারি পটার লুকিয়ে রাখব ঠাকুরমার ঝুলিতে, স্রেফ বাংলা একটা চুমু খাব প্রেমিকার ঠোঁটে (ভোগে যাক বিদেশি লিপস্টিক)। বারান্দার টবে লাগাবো কাগজফুলের গাছ, নাম দেব ভোগেনবিলা! হালুইকরের সঙ্গে জয়েন্ট ভেনচার কোম্পানি খুলে দোকান দেব পাঁচতারা ম্যল-এ।

সেখানে মিষ্টি বলতে রাজভোগ, গোপালভোগ আর মোহনভোগ। সীতাভোগ-এর জন্য পারমিশন নিতে কিছুতেই যাব না দিল্লি। আমাদের এই ক্রিয়াকর্মে শিহরিত হয়ে কভার স্টোরি করবে ভোগ ম্যাগাজিন। উইকেনডে অনেক বেলায় ঘুম থেকে উঠে ধূমায়িত কফির কাপ হাতে সেই গল্প পড়বে প্রবাসী বাঙালি আর পাততাড়ি গুটিয়ে দেশে ফেরার কথা ভাববে। জানলার ফাঁক দিয়ে সেই ভাবনার রেশ ঢুকে পড়বে ভেতো বাঙালির অন্ধকার বেডরুমে। ভোগে যাওয়া জাতি মুচকি হেসে নিশ্চিন্তে সম্ভোগে যাবে।

গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত