জুনিয়র বর

জুনিয়র বর
রিকা আজ প্রথম বার টিউশনি করাতে যাচ্ছে। যদিও তার টিউশনি করার কোনো ইচ্ছা ছিলনা কিন্তু কিছুটা বিপাকে পড়ে তাকে টিউশনি করাতে হচ্ছে রিকার পুরো নাম সাগরিকা সবাই তাকে রিকা বলেই ডাকে রিকার মুখের হাসি দেখলে সবাই আকৃষ্ট হয়। রিকা এইবার অনার্স শেষ করেছে। বাড়ি থেকে অল্প টাকা দেওয়ার জন্য রিকার অনিচ্ছা সত্ত্বেও টিউশনি করাতে হচ্ছে রিকার বান্ধবী অরিত্রা তার জন্য টিউশনিটা ঠিক করে দিয়েছে। রিকা যে ছেলেটাকে পড়াবে।তার নাম চয়ন সে এবার অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনায় একদম ভালো না কিন্তু রিকা মেয়েটা পড়ালেখাতে একদম জিনিয়াস রিকা যে বিষয়ে পড়েছে চয়ন ও একি বিষয়ে পড়াশোনা করছে। রিকা তার ছাত্রের বাসার সামনে এসে দাড়িয়ে আছে তার ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে তার থেকে মাত্র ১বছরের ছেলেকে পড়াতে হবে। তারপরও সে কলিং বেল চাপ দিল ভেতর থেকে চয়নের মা দরজা খুলে দিল…
:-আসো মা ভিতরে আসো..
:-জ্বি আন্টি..
:-মা তুমি এখানে বসো আমি একটু পর তোমাকে চয়নের রুমে নিয়ে যাচ্ছি…
:-ঠিক আছে আন্টি চয়নের মা এই কথা বলে রিকাকে বসিয়ে রেখে চয়নের রুমে ঢুকলো চয়ন এখনো ঘুমাচ্ছে….
:-চয়ন উঠ ঘুম থেকে…
:-পরে উঠবো। তুমি যাও তো মা..
:-এখনি উঠবি তুই তোকে পড়াতে এসেছে..
:-উফ। আমি বলছিনা পড়বো না..
:-এমন বললে হয় বাবা?আর একটু কষ্ট করে পরিক্ষা দে।
:-ধুর যাওতো তুমি।
:-ফ্রেশ হয়ে বস আমি রিকাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি…
রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন চয়নের মা বাইরে এসে রিকার সাথে গল্প করছিলো। অন্যদিকে চয়ন উপান্তর না পেয়ে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হতে গেলো কিছুক্ষণ পর রিকা চয়নের রুমে প্রবেশ করে রুমে ঢুকতেই অবাক হয় রিকা।তার বিশ্বাস হচ্ছেনা একটা ছেলের রুম এত সুন্দর হয় কিভাবে সে রুমটা ঘুরে ঘুরে দেখছিলো হঠাৎ ওয়াশ রুম থেকে চয়ন বেরিয়ে আসলো রিকার ভেতরে কেমন একটা অনুভুতি হচ্ছিল চয়নের মুখ থেকে এখনো জল পড়ছে। হঠাৎ দুজনের চোখে চোখ পড়তেই দুজন একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো।
:-দাড়িয়ে আছেন কেনো।বসুন আপনি…
:-হুম পড়তে আসো তাড়াতাড়ি।
:-জ্বি আসছি চয়ন দ্রুত রেডি হয়ে পড়ার টেবিলে বসলো…..
:-এই ছেলে বলো কোনটা বুঝনা??
:-কিছুই বুঝিনা….
:-মানে কি?আর কয়েক দিন পর ফাইনাল পরীক্ষা আর এখন বলতেছে কিছুই বুঝে না?তো এতদিন কি করছো?
:-কিছুনা আমার পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করেনা।
:-খুব ভালো করেছেন এখন বই বের করেন।
:-জ্বি।
:-কথাই জ্বি করবেনা।একদম অসহ্য লাগে..
:-জ্বি।সরি ঠিক আছে।
:-হুম..
প্রথম দিন রিকা অল্প পড়িয়েই বাসায় ফিরে আসে রাতে রিকা আর তার বান্ধবী অরিত্রা টিউশনি নিয়ে কথা বলছিলো…..
:-দোস্ত চয়ন ছেলেটা বেশ ভালো আর ওর রুমটা তার থেকেও সুন্দর..
:-জানিরে দোস্ত আমার ওকে খুব ভালোলাগে। কিন্তু উপায় নেই। ছেলেটা তো আমার থেকে ছোট। নাহলে কবেই নিজের করে নিতাম।
:-ওর দিকে আর চোখ দিবি না বলে দিলাম..
:-কেনো দোস্ত সামথিং সামথিং?
:-হুম দোস্ত। মনে হচ্ছে প্রেমে পড়ে গেছি। উফ্ ও যখন ওয়াশ রুম থেকে বের হচ্ছিল। তখন কি ইনোচেন্ট লাগছিলো।
:-হুম ছেলেটা ওই রকমই। কিন্তু বেশ লাজুক প্রকৃতির সারাদিন রুমে বসে কাটাই।কারো সাথে কথা বলতে চাই না যে যা বলে চুপচাপ মেনে নেই।
:-অনেক কিছু জানিস দেখি..
:-হুম আগে ওকে দেখার জন্য ওদের বাসায় গিয়ে বসে থাকতাম।তাই জানি একটু আধটু কিন্তু ভেবে দেখলাম এইটা সম্ভব নয় তাই আর আগাই নাই… চাইলে আমি ওকে পড়াতে পারতাম কিন্তু দেখলাম তাতে আমি আবারও ওর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়বো।তাই তোকে পড়াতে বললাম।
:-ভালো করেছিস এখন আমি ওর সাথে প্রেম কবরো দেখিস তুই…
:-এই ভুল করিস না।এমন সম্পর্কের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
:-জ্ঞানের কথা রাখ যখন হবে তখন দেখবি।
:-ওকে ঘুমা এখন..
:-উম্মা।গুড নাইট..
:-গুড নাইট
রিকা আজ প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে চয়নের পড়াচ্ছে চয়নের সামনে গেলেই রিকার মন কেমন আনচান করে……
:-এই চয়ন নাম্বার দাও তোমার..
:-নাম্বার দিয়ে কি করবেন?
:-আন্টি বলেছেন তোমার পড়াশোনার খেয়াল রাখতে……. নাম্বার দাও
:-০১৩০২৩২৩৩২*
:-ঠিক আছে…পড়ো এখন..
:-হুম..
এভাবে চলছে ওই দিকে চয়নের পরীক্ষা প্রায় শেষ হতে চলেছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর রিকার আর চয়নের সাথে দেখা হবেনা।এই নিয়ে রিকার চিন্তার শেষ নেই সে কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না অনেক চিন্তা ভাবনা করে রিকা ঠিক করলো সে চয়নকে মনের কথা বলে দিবে চয়নের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর রিকা ফোন দেয়…
:-হ্যালো চয়ন..
:-জ্বি ম্যাম বলেন..
:-বিকালে ফ্রি আছো তুমি?
:-জ্বি ম্যাম বলেন..
:-বিকালে তুমি মহিলা মেসের পাশের পার্কে আসতে পারবে??
:-আচ্ছা আসবো…
:-ঠিক আছে অপেক্ষা করবো আমি…
:-আচ্ছা…
সকাল থেকে বেশ প্রস্তুতি নিচ্ছে রিকা আবার একটু নার্ভাস লাগছে তবুও নিজেকে অনেকটা সামলে পার্কে আসলো।রিকা দূর থেকে দেখতে পাচ্ছে চয়ন মাথা নিচু করে বসে ফোন টিপছে এইটা দেখে রিকার খুব রাগ হলো। ছেলেটা সারাক্ষণ ফোন নিয়ে কি করে?
:-এই চয়ন…
:-জ্বি ম্যাম এসেছেন আপনি?
:-না আসলে কথা বলছো কার সাথে।আর সারাক্ষণ ফোন নিয়ে কি করো?
:-এই একা একা সময় কাটছিলো না।তাই একটু ফোনটা বের করেছিলাম।
:-যাক সে কথা।এখন বলো পরীক্ষা কেমন হয়েছে?
:-হুম মোটামুটি ভালো হয়েছে….
:-আন্টি কেমন আছেন?
:-মা ভালো আছে..
:-আচ্ছা…
:-কিছু বলবেন আপনি?এত নার্ভাস লাগছে কেন আপনাকে?
:-আসলে বুঝতে পারছিনা কথাটা বলা ঠিক হবে কিনা….
:-ম্যাম আমি হয়ত বুঝতে পারছি আপনি কি বলবেন। তবে আমার মনে হয় এইটা ঠিক নয়। আপনি একজন শিক্ষিত, সুন্দরী একটা মেয়ে আপনি কেন আমাকে ভালোবাসবেন? আমি আপনার ভালোবাসার যোগ্য নয়
:-দেখ চয়ন এতকিছু ভেবে ভালোবাসিনি..আর কে বলেছে তুমি আমার যোগ্য নও। ভালোবাসতে যোগ্যতা লাগেনা মন লাগে।
:-যে সম্পর্কের ভিত্তি নেই। সেই সম্পর্ক তৈরি করে কি লাভ?
:-কে বলেছে ভিত্তি নেই?
:-আমার তো তাই মনে হয় আমাদের কখনো বিয়ে হবে?/আমাদের রিলেশন হলে। আমাদের পরিবার কখনো মেনে নিবে না।
:-ওই সব আমি সামলে নিবো…
:-তবুও আমি এমন অনিশ্চিত রিলেশনে জড়াতে চাই না….
:-আচ্ছা চলো আমি এখনি আন্টিকে সব বলবো…
:-ওকে..
:-চলো আমার সাথে…
:-কোথাই?
:-তোমাদের বাসায়….
:-আমি পারবো না এসব শুনলে মা আমাকে খুন করবে।
:-ওই আসতে বলছি তোমাকে এখন থেকে যা বলবো তাই শুনবে..
:-পারবো না।
:-না শুনলে আমি খুন করবো তোমাকে।
:-হুর ভালো লাগেনা।
অতঃপর রিকা আর চয়ন তাদের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো চয়নের বাসাতে ঢুকতেই চয়নের মায়ের সাথে রিকার দেখা হলো রিকাকে দেখা মাত্রই বুকে জড়িয়ে নিলেন চয়নের মা…
:-এতদিন পর মনে হলো আমার কথা জানিস কত মিস করছি তোকে?
:-হুম আমিও মিস করেছি তোমাকে….
:-আচ্ছা বস এখানে তোর জন্য কিছু খাবার নিয়ে আসি..
:-কিছু আনতে হবেনা বসো আমার সাথে বসো।
:-আচ্ছা কেমন আছিস?
:-ভালো আছি তোমার শরীর কেমন আছে….
:-বয়স হয়ে গেছে সারা শরীর ব্যথা।কাজ করতে কষ্ট হয় রে মা….
:-তাহলে ছেলেটাকে বিয়ে দাও। তখন বৌমা কাজ করবে।
:-হম এই অপদার্থকে কে বিয়ে করবে কে?
:-আমি যদি তোমার অপদার্থেকে বিয়ে করি…. তুমি কি আমাকে বৌমা করবে?
:-সত্যি বলছিস মা?
:-হুম।
:-কিরে ছেমড়া?রিকা কি বলছে…
:-আমি কিছু জানিনা সাথে সাথে চয়ন এক দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল।এটা দেখে রিকা মিট মিট করে হাসছে।
:-আমার ছেলেটাকে ভালোবাসিস?
:-হুম….
:-সামলে রাখতে পারবি তোর ভালোবাসাকে?
:-হুম খুব পারবো।তবে আমার পরিবারকে রাজি করাবা তুমি?
:-হুম।সেসব নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না….
:-উম্মা…হবু শাশুড়ি মা…
:-শয়তান ছেমড়ি যা এখান থেকে….
রিকা মুখ ভেংচে চয়নের রুমে আসলো রুমে ঢুকতেই রিকার মাথা গরম হয়ে গেল কারন চয়ন ফোন টিপছিলো। রাগে চয়নের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে আছাড় দিলো…
:-আজ থেকে আমার কথা না শুনলে খবর খারাপ করে দিবো….
:-কেনো?
:-কারন শাশুড়ি মা পারমিশন দিয়েছে।
:-মা রাজি?
:-হুম পিচ্চি বর… বলেই বিছানায় ফেলে দিল, এত দিন শুধু দেখেছি কিছুই করতে পারিনি
:-আমি কি বাসি না, প্রথম দেখাই ক্রাশ খাইছি। ভয়ে কখনো বলিনি☺। কিন্তু আজ আর ছাড়ছি না😘
:-চলো ঘুরতে যাবো…
:- আর একটু থাকি না
:-আচ্ছা ..
চয়নকে নিয়ে রিকা আবার পার্কের দিকে রওনা হলো এর মধ্যে রিকা তার বান্ধবী অরিত্রাকে পার্কে ডেকেছে।কারন রিকা চয়নকে তার ভালোবাসাতে আবদ্ধ করতে পেরেছে ভালো থাকুক ভালোবাসা যেন প্রতিটা ভালোবাসা এভাবেই পূর্নতা পায়।।।
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত