বন্ধুত্ব

বন্ধুত্ব

স্কুলের ক্লাস রুমের মধ্যে আমরা দুজন বসে ছিলাম, আমি রানীর খাতা মার্জিন করছিলাম আর ওলিখছিল। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম যে আমার খাতা নিয়ে এসেছে কিনা‌‌?

রানী-হুম ছবি ও এঁকে দিয়েছি শুধু লিখে নিবি আর তোর প্র্যাক্টিক্যাল খাতাটা আমায় দিবি।

আমি- কেন স্কুলে কি আর কেউ নেই যে তোকে খাতা দেবে । আমার খাতা সব সময় তোকে দিব কেন।

রানী-সেম প্রশ্ন তো আমি তোকেও করতে পারি

আমি- না, আমি একবার অর্ণব এর কাছ থেকে খাতা নিয়েছি।

রানী-মাত্র একবার আর সব সময় কার কাছ থেকে খাতা নিয়েছিস শয়তান । এই বলে সে আমার মাথায় জল ঢেলে দিল। আবার নিজের শাড়ি দিয়ে মুছে ও দিল।

আমি- কথায় কথায় রাগ করা তো দেখবি তোকে কেউ বিয়ে করবে না।

রানী- কেন তুই করবি

আমি- বয়ে গেছে তোর মত পাগলি কে বিয়ে করতে।

রানী-তুলে নিয়ে এসে তোকে বিয়ে করবো।

দাঁড়ান আগে আমাদের পরিচয়টা করে দে। আসলে আমার আর রানী মধ্যে বন্ধুত্ব প্রায় দেড় বছরে। যদিও বন্ধুত্ব থেকে অনেক বেশি সম্পর্কের মধ্যে আমরা জড়িয়ে গিয়েছিলাম। আমি (রাজা) ছিলাম মেধাবী আর লাজুক প্রকৃতির ছেলে। আর অন্যদিকে রানী ছিল মেধাবী কিন্তু স্মার্ট।মাধ্যমিকের পর নতুন স্কুলে প্রথম বন্ধু হিসেবে পরিচিত হয় রানীর সাথে। নতুন স্কুলের চতুর্থ দিনের টিফিনের সময় সবাই বেরিয়ে যায় রুম থেকে। (মাত্র সাতজন আমরা ক্লাসে পড়তাম । শুধুমাত্র রানী একমাত্র মেয়ে ছিল)। আমিও বেরিয়ে যাই হঠাৎ কেউ ক্লাস রুম থেকে আমাকে ডাকে বুঝতে পারি রানী। কারণ এর আগে আমরা একই সঙ্গে টিউশন করিয়েছি ।

আমি: হ্যাঁ বল (মুখ নিচু করে ভয়ে ভয়ে কারণ এতদিন কোন মেয়ের সাথে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলিনি)

রানী- তোমার নাম কি? আর তুমি বড় রাম মাইতি বার হাই স্কুল পড়তে না।

আমি-হ্যাঁ, রাজা

রানী- এত ভয় পাচ্ছ কেন।তাছাড়া এত স্কুল থাকতে শেষ পর্যন্ত তুমি এই স্কুলে ভর্তি হলে কেন।

আমি- বাড়ির কাছে বলে।

রানী- টিউশন যাবে তো। আজ পড়া হয়েছে……

আমি- মোটামুটি……

এইভাবে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব শুরু হয়। আমার বাড়ি থেকে ওর বাড়ি চার কিলোমিটার দূরে ছিল। তবু এক অজানা কারণে দুজন একই সঙ্গে টিউশন যেতাম, আসতাম স্কুলে দুজন বসে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিতাম। টিউশনি একই জায়গায় কত গল্প করেছি আমরা টিউশন যেতাম সাইকেল চালিয়ে আর গল্প করতে করতে। আর এই গল্পের সাক্ষী ছিল তার ভাই ঋষি।কারণ তার ভাই টিউশন যাওয়ার সময় স্কুলে যেত।রানী ওকে ছাড়তে যেতে আর এইভাবে ওর সাথে ঘুরতে ঘুরতে ওকে যে কখন ভালোবেসে ফেলেছি তা আমি বলতে পারবোনা। আর আমরা এতটা মেলামেশা করতাম যে আমাদের ক্লাসমেট সবাই বলতো এদেরকে প্রিয় জুটি এওয়ার্ড দেওয়া উচিত। শুধু তাই না টিউশনি স্যার আমাদের সন্দেহ করে অনেক সময় দুজনকে একসাথে বসতে দিত না। এর জন্য অনেক বকান খেয়েছি আমরা দুজন। এইভাবে দেড় বছর কিভাবে কেটে গেল বুঝতেই পারিনি। আর আমি রানী কেও বলতে পারিনি যে ওকে আমি ভালোবাসি শুধুমাত্র বন্ধুত্ব হারানোর ভয়। হয়তো রানী ও এই একই কারণে বলতে পারিনি। আর আজ ক্লাসে একই ভাবে বসে দুজন আড্ডা দিচ্ছিলাম।

রানী-বাদ দে তুই টিউশন যাবি তো আজ।

আমি-হ্যাঁ যাবো এখন বাড়ি চল তারপর বাড়ি ফিরে আসি বাড়িতে কিছুক্ষণ পড়াশোনা করে আবার টিউশনি যাই।

আমি- কিরে দাঁড়িয়ে আছিস কেন স্যারের ঘরে চল।

রানী-একটা বই কিনতে যাব চল।

আমি- তোর মা তোকে বাইকে নিয়ে এলো যেতে পারলিনা এখন আমার ভাঙ্গা সাইকেল তুই যাবি।

রানী-আমায় নিয়ে যাবি না সেটা বলে দে এতকিছু বলার দরকার নেই।

আমি-আচ্ছা ঠিক আছে চল । তোকে একটা কথা বলব।

রানী-বল

আমি- আমরা যে সব সময় একই সঙ্গে ঘুরি সবাই কিন্তু আমাদের সন্দেহ করে।

রানী-তো তুই আমার হাফ বয়ফ্রেন্ড যে।

আমি-সেটা বা ঠিক………..

এইভাবে আমাদের দিনগুলি আনন্দের সঙ্গে কাটছিল। আমি প্রতিদিন স্কুল গেলে কুল আচার পেতাম। একই সঙ্গে রাতে সাইকেল চালানো, মেলায় ঘুরা, ফুচকা খাওয়া আনন্দ কেবল সেই বুঝতে পারবে যে তার বান্ধবী সঙ্গে এমন রোমান্টিক মুহূর্ত কাটিয়েছে।প্রতিদিন স্কুল ছুটি হলে এমনকি পরীক্ষার দিনগুলোতে আমরা প্রায় 30 মিনিট একই সঙ্গে স্কুলে কাটিয়ে সবার সবশেষে বাড়ি ফিরতাম। এভাবে আমাদের টেস্ট পরীক্ষা শেষ হয়ে‌ যায়। আমি কোনরকম পাস করে যাই কিন্তু রানী ফেল করে যায়। তারপর অনেকদিন তার সঙ্গে দেখা হয়নি অনেক চেষ্টা করেছিলাম তার সঙ্গে দেখা করার জন্য কিন্তু পারিনি। কারণ সে টিউশন যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। তারপর স্কুলে ফরম পূরণের দিন তার সঙ্গে দেখা হয় যদিওটা মেয়েদের ফরম পূরণের দিন ছিল। কিন্তু ওর সঙ্গে আমি দেখা করতে চলে যাই। অনেক অপেক্ষা করার পরও ও আসে আর আমাকে দেখে হেসে ওঠে।

রানী-আমি জানতাম তুই আসবি।

আমি- সে না হয় বুঝলাম কিন্তু তুই এতদিন কোথায় ছিলি।

রানী-ফেল করেছি তো তাই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি

আমি-এখন তাহলে কি করবি।

রানী-তোর সঙ্গে পালাবো । আমাকে নিয়ে যাবি তো

আমি- ইয়ার্কি না, সত্যি করে বলনা তোর কি হয়েছে।

রানী-সত্যি রে ফেল করেছি তো তাই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তাই এখন মামার বাড়িতে থাকি রে……..

 

আমি-বুঝলাম

রানী- এখন কুল খাবি তো চল……

এইভাবে আমাদের মধ্যে অনেক অনেক রোমান্টিক মুহূর্ত কেটে যায়। আর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় চলে আসে, একের পর এক পরীক্ষাও শেষ হয়ে যায়। রানীর সঙ্গে দেখা হতো কিন্তু দু-একটা কথা ছাড়া তেমন একটা কথা হত না। কারণ পরীক্ষা শেষ হলেই তার মা তাকে নিয়ে চলে আসতো। আর শেষ পরীক্ষার দিনে আমি যখন বেরিয়ে আসি তখন লক্ষ করি রানী দাঁড়িয়ে আছে। আর তার চোখের কোনে জল দেখতে পেলাম।

আমি- কিরে পরীক্ষা খারাপ হয়েছে । কেমিস্ট্রি তো ভালোই পারতিস।

রানী- না ভালোই হয়েছে।

আমি-তবে চোখে জল কেন।

রানী-আসলে তোর সঙ্গে দুটো বছর অনেক ঘুরেছি তো। এরপর থেকে কি আর আমাদের প্রতিদিন দেখা হয়, এই দুটো বছর তোর সাথে যতটা সময় কাটিয়েছি 17 বছর সমস্ত ছেলের সঙ্গে হয়তো ততটা সময় কাটাইনি।

আমি-(অজান্তেই আমার চোখে জল এলো)হয়তো আমাদের মধ্যে এটাই শেষ দেখা আর হয়তো কোনোদিন আমাদের সঙ্গে দেখা হবে না।

রানী- পৃথিবীটা গোল আমরা যেখানে যাই না কেন ঠিক দেখা হবে। তারপর কলেজে তো আমাদের কাছে মোবাইল থাকবে।

আমি- মোবাইল তো থাকবে কিন্তু আমার মতন ছেলের নাম্বার কি তোর মোবাইলে থাকবে।

রানী-বাহ বাহ তুই এতদিন আমাকে এই বুঝলি

আমি-রাখছিস কেন এমনি তো বলছি।

রানী-আমরা প্রতিদিন বিকালে ফোন করবো সারাদিন তো বাড়িতে থাকব তাই ফোন করতে পারব না বিকালে করবো। তারপর তার মা এসে তাকে নিয়ে চলে যায় যতদূর চোখ যায় ততদূর সে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল আর চোখের কোনে জল ছিল। (আমিও সেই দিন অনেক খুশি হয়েছিলাম কারণ আমার একটা বান্ধবী ছিল যে কিনা আমার জন্য চোখের জল ফেলল) না, কিন্তু আমাদের মধ্যে আর দেখা হয়নি। নেক্সট পার্ট এ গল্পটি শেষ হবে ।

কোথাও কোন ভুল হলে প্লিজ ক্ষমা করবেন। আর যদি ভাল লাগে লাইক শেয়ার কমেন্ট করবেন প্লিজ। না, কিন্তু আমাদের মধ্যে আর দেখা হয়নি। অনেক খোঁজ করেছিলাম তাকে কিন্তু পাইনি।পরে বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পারি সে বাইরে পড়তে চলে গেছে কিছুদিন পর আমিও বাইরে পড়তে চলে যাই। আমি ওকে ফেসবুকে অনেকবার খুঁজেছি। বন্ধুদের অনেক জিজ্ঞেস করেছি কিন্তু কেউ খোঁজ দিতে পারেনি। দু’বছর ওর সাথে কাটানো স্মৃতি আর ছোট ছোট দুষ্টুমি কে স্মরণ করে বেশ অনেকটা বছর কেটে ফেলেছিলাম।ভেবেছিলাম ওতো আমার ছোট ছোট ভালোবাসা আবদার গুলো কে ভুলে গেছে তবে আমি কেন ওকে ভুলে যাবো না। কিন্তু ভুলতে পারিনি। আগে চোখের পলক যতবার পড়তো তার কথা ঠিক ততবার মনে পড়তো। কিন্তু এখন সারাদিনে ওর কথা একবার হলেও মনে পড়ে। ও হয়তো এখন বিয়ে করে সুখে সংসার করছে।

যদিও আমি এখন বিয়ে করে সংসার করছি। চাকরিসূত্রে এখন আমার বাসস্থান কলকাতা, মা-বাবা ও আমার স্ত্রী এখন এখানেই থাকে। তারপর আরো কটা দিন কাটে।অফিসে কয়েক দিন ছুটি নিয়ে গ্রামে আসতে চাইলাম এবং স্ত্রীকে সঙ্গে আনতে চাইলাম কিন্তু আমার স্ত্রী বলল তুমি এখনও গাইয়া থেকে গেছো থাকো আমি গ্রামে যেতে পারব না। আর কি করা যায় একাই চলে এলাম।ঘরে এসে দেখি বেশ কয়েকটা জিনিস পুরনো হয়ে গেছে তাই সেগুলো কিনতে বাজারে গেলাম।আর আজ সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি যে রাস্তায় রানী সাথে কত সকাল কত রাত কাটিয়েছি। তার কথা মনে করছি আর চোখ থেকে জল ঝরছে হঠাৎ কার একটা ডাকে আমি স্বাভাবিক হলাম। বুঝতে পারলাম রানীর ভাই ঋষি অনেক বড় হয়ে গেছে। তবুও তাকে চিনতে অসুবিধা হয়নি।

ঋষি- কি রাজাদা ভালো আছো।

আমি- হুম। তুমি ভালো আছো তো।

ঋষি-আছি কোনরকম

আমি- আর তোমার দিদি এখন কি করছে।

ঋষি-আমার দিদি তো অনেকদিন হয়ে গেল বিয়ে চলে গেছে। আমি (অবাক হইনি কারণ এখন অনেকটা বছর কেটে গেছে) আচ্ছা তোমার দিদি কি লাভ মেরেজ করে বিয়ে করেছে।

ঋষি-না। জানো দাদা আমার দিদি যখন বাইরে পড়তে চলে যায় তখন তোমার অনেক খোঁজ করেছিল। সেখানে গিয়েও আমাকে দিয়ে তোমার অনেক খোঁজ করিয়েছে। আমিও তোমাকে অনেক খুঁজেছি কিন্তু তোমাকে পাইনি। তোমার বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পারি তুমি বাইরে পড়তে চলে গেছো। আর যখন আমার দিদির বিয়ে ঠিক হয়ে যায় তখন দিদি প্রচুর কেঁদেছিল। বাড়ি থেকে লুকিয়ে বেরিয়েএসে তোমাকে খুঁজেছি আমি আর আমার দিদি। তোমার বাড়ির ঠিকানা জোগাড় করে তোমার বাড়িও গিয়েছিলাম। কিন্তু তোমার বাড়িতে তালাবদ্ধ ছিল আর পাশের বাড়ি কাকিমা থেকে জানতে পারি তোমরা কলকাতায় থাকো কিন্তু কোথায় থাকো সেটা জানতে পারিনি।তারপর দিদির বিয়ে হয়ে যায় আর তারপর থেকে দিদি যেন কেমন মন মরা হয়ে যায় এখনো দিদি ফোন করলে তোমার কথা জিজ্ঞেস করে।

আমি: (কথাগুলো শুনে আমার চোখে আবারো জল আসে যদিও এটা আনন্দের জল ছিল। আমিও বলে ফেললাম আমি তাকে কতটা খুঁজেছি) তোমার দিদি এখন কোথায় থাকে?

ঋষি-কলকাতায় থাকে আর ঐখানে একটা কোম্পানিতে কাজ করে। ঋষির কাছে রানীর অ্যাড্রেসটা পিয়ে গেছিলাম। জায়গাটা খুব কাছে কিন্তু আমি আর ওর কাছে যাইনি। কারণ অতীতকে অনেকটা ভুলে গিয়ে কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছিলাম।

এইভাবে আর অনেকটা দিন কেটে যায় এরপর এক মহালয়া সকালে গঙ্গার ঘাটে যাই। আনমনা ভাবে ঘাট দিয়ে নেমে যাচ্ছি। হঠাৎ একজনকে দেখে থেমে গেলাম। এ তো সেই যার সঙ্গে কতদিন কত রাত গল্প করে কাটিয়েছি। হ্যাঁ এই আমার রানী।আর রানীর হাত ধরে এই ছোট্ট মেয়েটি কে নিশ্চয়ই রাণীর মিয়ে হবে। রানী আর তার মেয়ে দু’জনকেই খুব দেখতে সুন্দর হয়েছে। অজান্তেই আমার চোখের জল আর রানীর চোখে ও জল…

রানী- বলেছিলাম পৃথিবীটা গোল ঠিক দেখা হবে।

আমি- সত্যি পৃথিবীটা গোল। আচ্ছা তোর বর কই?

রানী-ওকে ডেকেছিলাম কিন্তু ও বলল তুমি গাইয়া গাইয়া থাকো আমি যেতে পারব না। তাছাড়া তুই একা কেন?

আমি-হই গাইয়া

রানী- বুঝেছি আর বলতে হবে না তুই এখন আমাকে অনেক মিস করিস না।

আমি- না

রানী- আর বলতে হবে না আমি ভাইয়ার কাছ থেকে সব শুনেছি।

আমি-ও তাহলে সব জানিস । কিন্তু আমাকে খুঁজে ছিলিস কেন।

রানী- তুই আমার হাফ বয়ফ্রেন্ড তো তাই। তাছাড়া তুই আমাকে খুঁজে ছিলিস কেন।

আমি- এই যে তুই আমার হাফ গার্লফ্রেন্ড তাই।

ঐদিনের পর থেকে শত ব্যস্ততার মধ্যেও যখন আমি সময় পেতাম ওকে কল দিতাম আর ও যখন সময় পেত আমাকে কল দিতো। মাঝে মাঝে দেখা ও হতো। সারাদিন বেশ হাসিখুশিতে কেটে যেত কিন্তু রাতে ঘুমানোর সময় অজান্তেই চোখে জল আসতো। আর প্রতিদিন ভোরে বালিশটা ভিজে যেত হয়তো রানীর বালিশটা ও ভিজে যেত…..

গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত