অপেক্ষাতেই

অপেক্ষাতেই

হ্যাঁ কয়েকদিন আগে ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল। কিন্তু ,কেমন আছে কোথায় যাচ্ছে এখন কি করছে এইসব জিজ্ঞাসা করার মতো অধিকারটা আর আমার নেই। সে একটা সময় ছিল যখন আমি পড়তে না গেলে ওর পড়তে যেতে মন চাইত না। একটা সময় ছিল যখন একসাথে পড়তে যাওয়ার জন্য একে অপরের জন্য অপেক্ষা করতাম। তখন একটা জেদ ছিল,যে ও যে বাসে করে পড়তে যাবে সেই বাসেই আমাকে পড়তে যেতে হবে। আর আজ দেখ, একই বাসে ছিলাম আমরা দুজন কিন্তু তবুও আমাদের পথটা আলাদা, দুটো আলাদা পথিক এবং তার থেকেও বড় কথা আমরা এখন একে অপরের কাছে আগন্তুক অচেনা কোন ব্যক্তি, ওই বাসের আর বাকি 4 – 5 জন প্যাসেঞ্জারের মতোই আমিও শুধুমাত্র চলার পথে সহচারী এবং সহযোগী মাত্র।

এখন ভাবি ও কিরকম সোজাসাপ্টা সরল সাদাসিদে মাশূম মনের বন্ধু ছিল কিন্তু কোথা থেকে কি হয়ে গেল দেখতে দেখতে। বলতে পারিস মনি কি ভুল করেছিলাম আমি যে তোর আর আমার বন্ধুত্বটা নষ্ট হয়ে গেল আর সত্যি বলতে গেলে কি জানিস তো আজ আর বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে তুই শুধু আমার বন্ধু ছিলি না তার থেকেও বেশি কিছু হয়তো বা খুব কাছের কেউ। না ছিল মনি প্রতারক আর না আমি বিশ্বাসঘাতক ভুল যদি কেউ করে থাকে সে হলো অনিক। আরে অনিক তো ছিল থার্ড পারসন কিন্তু আমি তো ওর বেস্টফ্রেন্ড ছিলাম আমার কথাটা একবার শুনতে পারত আমি কি বলতে চাইছি।

আরে অনিক তো অনেক কথাই বলবে কারন সে আমাকে ভালোবেসে ফেলেছিল তাই তার পথে যে কাটা ,বাধা হয়ে আসবে সে তো চাইবেই তাকে তার পথ থেকে সরাতে সেই জন্য সে বলেছে কিন্তু ও একবার ও আমার কথা শুনেছিল? একবারের জন্য শুনেনি। আরে আমি কি আদৌ বলেছি ওকে যে  আমার লাইফ থেকে চলে যা, আমি ওর সঙ্গে কথা বলতে চাই না, আমার আর অনিক এর মাঝে আসবি না ,এসব কথা কি আমি বলেছি? সে বলেছে আমি তো বলিনি, আমি জানি আমার কাছে ও কি। আজ আমাদের বন্ধুত্বের থেকে ওর কাছে অনিক এর কথাই ঠিক বলে মনে হল ? ওর কাছে ওর ইগোটা ই বড় হল?আরে মনি তোর সাথে তো আমি সেই নাইন থেকে পড়ি তোর সাথে আমার বন্ধুত্বের সূত্রপাত বা তুই আমার প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠেছিস সেই নাইন থেকে তুই যদি আজও আমাকে চিনতে নাই পারলি তাহলে এর থেকে দুঃখের বিষয় আর কিছু আছে বলে আমার জীবনে আর মনে হয় না।

এখন আর এসব কথা তোকে বলে লাভ নেই ,আর এসব কথা তোকে বলার উপায়ও নেই । তাই আমার যত মনের  দুঃখ কষ্ট আর বাস্তবে কি ঘটেছিল সবকিছু আমি এই ডাইরির পাতায় লিপিবদ্ধ করে রাখলাম যদি কোনদিন সম্ভব হয় পারলে পড়ে দেখিস তাহলে অন্তত জানতে পারবি যে সেদিন আমি নির্দোষ ছিলাম আজও আমি নির্দোষ কিন্তু তুই আমাকে দোষী ভেবে তোর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিলি। অনিক আমাকে টেন থেকেই ভালোবাসতো কিন্তু তোকে ছাড়া আমি আর অন্য কোন ছেলেকে পাত্তা দিতাম না তাই ও কোনদিন বলে উঠতে পারিনি। আর তুই বল তো পাত্তা দিব বা কেন তোর মত এত হৃদয় অন্ত বন্ধু থাকার পরে কার আর অন্য কোন বন্ধুর প্রয়োজন পড়ে বলতো? তুই আজ ভুলে গেছিস আমাদের বন্ধুত্বের কথা,আমাদের দুজনের বন্ধুত্ব এমনই ছিল যে একজন পড়তে না গেলে স্যার নিজেই জিজ্ঞাসা করত অন্যটা কোথায়? তুই যদি স্কুল বন্ধ করতিস সবাই এইটুকু জানতে আমিও সেদিন আর স্কুল যাব না।

আঘাত পেলে তুই কষ্ট হতো আমার ,মন খারাপ হলে তোর চোখটা মেঘলা হোতো আমার,যেন বৃষ্টি নামবে বলতো সে আমায়। এতসবের পরেও তুই বলতে পারলি যে “তুই আমাকে আর কখনো কল বা ম্যাসেজ করবি না । আমি তোর মুখ দেখতে চাই না ।তোর আর অনিক মধ্যে আসতেও চাইনা আর। তুই বন্ধুত্বের মানে বুঝিস না তোর কাছে আজ বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা প্রেম এসবই বড় হল ছাড় আর এসব নিয়ে ‌তোর সাথে আমি কথা বলতে চাই না।”এইসব কথা বলেছিস তুই আমার নামে আমি নাকি বন্ধুত্বের মর্ম বুঝিনা। আরে তাই যদি হতো তোর আব্বা যখন মারা গেলেন তখন কতজন তোর পাশে ছিল আমি ছিলাম সব সময় সর্বদা সারাক্ষণ।

কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম তোর উপর দিয়ে কি ঝড় যাচ্ছে তোর মনের কি অবস্থা। সেদিন তুই হঠাৎ করে স্কুলে আসিস নি সেই নিয়ে আমার মনটা তো খারাপ ছিল ই তারপর যখন শুনতে পেলাম তোর আব্বা মারা গেছেন তখন আরো বেশি কষ্ট পেলাম তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সবার আগে ছুটে গিয়েছিলাম তোর বাসাতে । তোর আব্বা জানের দেহ নিয়ে যাওয়া থেকে কাফান এ পেরেক পোতা পর্যন্ত আমি ছিলাম শুধুমাত্র তোকে যাতে সামলাতে পারি, ভরসা দিতে পারি। আর আজ বিশেষ করে এই কথাগুলো ডাইরিতে লিখছি এই কারণের জন্য নয় যে আমি কতটা মহান সেটা চরিতার্থ বা প্রমাণ করার জন্য বরং বন্ধুত্বের মর্ম যে আমি বুঝি এবং বন্ধু হয়ে বন্ধুর পাশে থাকাটা আমার কর্তব্য ছিলো সেদিন আজ ও আছে  ভবিষ্যতেও থাকবে সেটা বোঝানোর জন্য।আর হ্যাঁ, তুই কি বললি যে আমার কাছে নাকি তোর আর আমার বন্ধুত্ব থেকেও আমার আর অনিকের ভালোবাসাটা নাকি বড় হয়ে গেছে।

আরে ভাই কে এই অনিক, ওকে তো আমি  ঠিকমত চিনিও না কিন্তু তুই তো আমাকে চিনতিস তুই আমাকে এসব কথা বললি কি করে?আমি যে সত্যি কাকে ভালবাসতাম সেটা তুই কোনদিন জানবিও না বুঝতেও পারবি না তোকে আর কোনদিন বলতেও পারলাম না যে…।  সত্যি বলতে কি হয়তো আমি বোকা আমি এখন ভাবছি যে তুই আমায় ছেড়ে চলে গেছিস কিন্তু হয়তো ছেড়ে তুই অনেকদিন আগেই চলে গেছিলি কিন্তু আমি বোকার মত তোর আশায় বসে ছিলাম যে তুই আমার এখনো সেই আগের বন্ধু হয়েই আছিস। তুই ইলেভেনে যখন আমাদের স্কুল ছেড়ে অন্য স্কুলে এডমিশন নিলি তখনই বোধহয় তুই আমাকে ছেড়ে চলে গেছিলি কিন্তু আমি তখন বুঝতে পারিনি। তুই স্কুল ছেড়ে চলে যাওয়ার পরেও যখন যা সাহায্য চেয়েছিস যত সম্ভব আমি তোকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি।

যখন যা নোটস চেয়েছিস দিয়েছি যখন তুই ভেঙে পড়তিস তোকে সাহারা দিয়েছি যখন তোর আব্বার কথা মনে করে তুই কাদ্দিশ তখন তোকে যতটা সম্ভব সামলানোর চেষ্টা করেছি তোকে ভরসা দিয়েছি তোর পাশে সদাসর্বদা থাকার কথাও দিয়েছি এরপরেও আমার কি খামতি ছিল কি কমতি ছিল আমি তা এখনো বুঝতে পারছি না। আমার ফ্রেন্ডরা আমাকে তখন বলেছিল তুই নাকি আমাকে ব্যবহার করছিস ওই নোটস আর সহানুভূতি পাওয়ার জন্য ।কিন্তু আমি তখনো বিশ্বাস করিনি আর আজও বিশ্বাস করতে মন চাইছে না।রইল বাকি কথা ভালোবাসার , সেটা বোধহয় আমি তোর থেকে বেশি বুঝি সেই কারণের জন্যই আজ এখন অব্দি.. যাই হোক বাদ দে সে সব কথা , তুই যতবারই সাফিনা এর সাথে ঝগড়াঝাঁটি করেছিস রাগারাগি করেছিস ততোবারই আমি গিয়ে সেখানে তোদের ভালবাসার ছেঁড়া তার কে আবার জুড়েছি এবং সেই ভালোবাসার মধ্যে সুর অন্তরার প্রতিষ্ঠা করেছি।

তবুও তুই বলেছিলি আমি নাকি ভালোবাসার মানে জানি না। ভালোবাসার মানে জানি কিনা জানিনা কিন্তু ভালবাসতে জানি আর এটাও জানি ভালোবাসার মানুষ যদি ছেড়ে চলে যায় তখন কতটা কষ্ট হয়।তাও তুই তোর ভালোবাসা টাকে ধরে রাখতে পারলি না, মেয়েটাকে ছেড়ে দিলি। আর সেই দোষটা এসে পড়ল কার ঘাড়ে, আমারি ঘাড়ে। তাও মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু কি লাভ হল ,তোর কথা ভেবেই হয়তো সেদিন সব কিছু সয়ে  নিয়েছিলাম ,সবকিছু সব দোষ সব ভুল নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিয়েছিল কিন্তু যার কথা ভেবে আমি দোষী হলাম সেই তুই আজ নেই এটাই খারাপ লাগে খুব। শিউলি আমাকে সব বলেছে। আর তুই আমাকে বলতিস না যে আমি রান্না করতে পারি ঘর গোছাতে পারি সবার যত্ন নিতে পারি সবাইকে ভালোবাসতে পারি ,থুড়ি হয়তো সবাইকে নয়  তাই আমাকে কেউ না ভালোবেসে থাকতে পারবে না ইভেন তুইও আমাকে আই লাভ ইউ বলে ছিলি মনে আছে ?

এবং সেটা শুধু একবার নয় বেশ কয়েক বার ,আর আমিও হয়তো বোকার মত সেটা মেনেও নিয়েছিলাম তাই পাগলের মত বলে ফেলেছিলাম আই লাভ ইউ টু।কিন্তু তুই কি করলি তুই আমার সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আমার পিঠপিছে আমাকে গলাগালি দিলি আমাকে নিয়ে নোংরা নোংরা কথা বললি আমার চরিত্রকে কলঙ্কিত করলি আরে তোর যদি আমার নামে কোন অভিযোগ ছিল তার সেটা তুই আমাকে সরাসরি এসে বলতে পারতিস এইভাবে পিঠপিছে ছোরা মারার তো কোন দরকার ছিল কি? আমি খারাপ বা আমাকে তোর ভালো লাগে না সেটা তুই আমাকে আগে থেকে বলে দিতে পারতিস তাহলে আমি নিজে থেকে সরে আসতাম তোর জীবন থেকে।তুই তোর জীবন থেকে একে একে করে সবাইকে সরিয়ে দিলি প্রথমে যাকে তুই ভাই ভাই বলে ডাকতীস সেই বন্ধুদেরকে, তারপর যাকে ভালোবাসতিস তাকে আর তারপর আমাকে ও।

কিন্তু তুই যতবারই যাকেই ছেড়েছিস ততোবারই তার কারণ হিসেবে গণ্য হয়েছে আমি ;আমার কারনে নাকি তুই তাকে ছেড়েছিস, যেমন যখন তুই তোর বন্ধুদের ছাড়লি তখন তুই আমাকে বলেছিলি যে আমার সাথে তোর কথা বলা নিয়ে ওদের নাকি সমস্যা ছিল সেইজন্য তোদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়েছে এবং তখন নাকি তোর বন্ধুরা তোর বাবার নাম তুলে কিছু উল্টোপাল্টা বলেছিল সেই কারণের জন্য তুই তাদেরকে ছেড়েছিস। তারপর যখন ওই মেয়েটাকে ছাড়ার কারণ জানতে চাইলাম তখন তুই বললি যে ঐসব কথা রাখ আর ওর কথা মুখে নিবি না কিন্তু পরে আমি জানতে পেরেছিলাম যে তুই নাকি সবাইকে বলি বেরিয়েছিস যে আমি নাকি তোকে ভালোবাসি সেই কারণে জন্য সাফিনা ভুল বুঝেছে আমাকে যে আমি বোধহয় তোর আর সফিনার সম্পর্কটা ভেঙেছি আমি কালপ্রিট ,

তাও ঠিক ছিল মেনেও নিয়েছিলাম কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি, আর তার কারণ সে আর বলার বাকি নেই আগেই বললাম। বাহ রে বাহ মনি তুই একবারও আমাকে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন মনে করলি না যে আদৌ আমি অনিককে ভালোবাসি কিনা বা আমি চাই কি চাই না যে তুই আমার সাথে থাকিস। তুই আমাকে বলতিস না যে আমি এতটাই ভাল মেয়ে যে তুই আমার সাথে নিগাহ্(বিয়ে) করবি তাহলে বলে রাখি আমার বিয়ের কথা চলছে বা বলতে পারিস বিয়ের জন্যে দেখাশুনা চলছে আর এত কিছু ডাইরিতে লেখার কারণটাও হলো বিয়ে কারণ আমি বিয়ে করে চলে যাব আর হয়তো তোর সাথে দেখা হবে না বা তোর সাথে কথা হবে না বা দেখা হলেও কথা বলার সুযোগ হবে না কারন আমার যার সাথে বিয়ে হচ্ছে সেখানে থাকেনা তাই বিয়ের পরে আমিও এখানে থাকবো না।
শেষে একটাই কথা বলব

” নাহ আমার কমতি আর নাহ তোর খামতি
ভালোবেসে দুজনই পেলাম সাজা আগন্তি
নাহ মণে ছিল বিশ্বাস এর অভাব
হয় তহ কম ছিল সময়েরই আশির্বাদ
অন্য কোনো কাহিনী তুই হবি আমার
হা ওই কাহানিতেই তোকে ইচ্ছা আছে পাওয়ার
হা আজও তোরই অপেক্ষায় আছি
তাই মনকে শান্ত করি কি করে
তোর আজও ফিরে আসার আশায় আছি
কিন্তু বলি কি করে
তোর অপেক্ষা তেই আছি
তোর অপেক্ষা তেই আছি
তোর অপেক্ষা তেই আছি”

মনিরুল ডাইরি টা বন্ধ করে রাখলো। সৌমিলি ডাইরিটা মনি কে দিয়েছিল সৌমিলির এক প্রিয় বন্ধবি, যার কাছে সৌমিলি যাওয়ার আগে এই ডাইরিটা রেখে গিয়েছিল এবং যেসব ব্যাপারটা জানত। প্রতিটা গল্পের দুটো করে দিক থাকে ।একটা গল্প ঠিক যেখানে শেষ হয় আরেকটা গল্প এর সূত্রপাত ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয়।সৌমিলি গল্প ঠিক যেখানে শেষ হয়েছিল সেখান থেকে ই শুরু হয়েছিল মনিরুল এর কাহিনী। সেদিন মনি অনিকের জন্য সৌমিলি কে ছেড়ে যায়নি তার পিছনে ছিল অন্য গল্প। অনিক তো ছিল শুধু একটা অজুহাত মাত্র আসল উদ্দেশ্য তহ ছিল সৌমিলির জীবন থেকে দূরে সরে আসা।

জীবনের রাস্তায় কারোর হাত ধরে অনেকটা পথ চলে আসার পর সেখান থেকে একা একা ফিরে আসাটা খুব কঠিন কিছু কিছু ক্ষেত্রে তবুও ফিরে আসতে হয়  তাই ভালোবাসার মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য ন্যূনতম একটা অন্তত অজুহাতের প্রয়োজন পড়ে যার ওপর ভিত্তি করে যে ভালোবেসেছে সে নিজের মনকে সান্তনা দিতে পারে। আর সেটাই করেছে মনি। মনের অজান্তেই মনি সৌমিলি কে ভালবেসে ফেলেছিল। তাই মজার ছলে সৌমিলির প্রশংসা করতে করতে একদিন নিজের মনের কথাটা বলে ফেলেছিল মনি আই লাভ ইউ আর খুশিও হয়েছিল এটা জেনে যে সৌমিলি র  মনেও মনির জন্য একটা অনুভূতি ছিল। এই অনুভূতির কথা জানার পরই মনি সাফিনা কে ছেড়ে দেয় কারণ ওদের ভালোবাসাটা ছিল একতরফা সৌমিলি র মতো কেউ মনিকে এতটা বুঝতো না বা ভালোবাসতো না।মনি ভেবেছিল একদিন সৌমিলি কে সিরিয়াস ভাবে তার মনের কথা খুলে বলবে এবং তারপর এইভাবে ই সৌমিলি কে ভালোবেসে বাকিটা জীবন কাটিয়ে দেবে। কিন্তু সব স্বপ্ন সত্যি হয় কার? এরই মাঝে মনির আব্বা মারা যায়।

সব স্বপ্ন সব আশা সব ভালোবাসা খড়কুটোর মত মনের ঝড়ে ভেঙে চুরমার হয়ে উড়ে যায়। সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে মনির কাঁধে। মাথার উপর থেকে বৃক্ষের ছায়া সরে যাবার পর সংসারে অভাব অনটন দেখা দেয় তাই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটা কিছুটা সংকটময় হয় পড়ে তাই মনি স্কুল পরিবর্তন করে। নইলে ভালোবাসার মানুষকে ছেড়ে চলে যেতে কে বা চায়। কিন্তু স্কুল পরিবর্তন করে বিশেষ কিছু সমস্যার সমাধান হলো না। ঠিকমতো পড়ার জন্য টিউশন নিতে পারছিল না মনি সেই জন্য সৌমিলির কাছ থেকে নোটস চাইত। কিন্তু কারোর কাছ থেকে হাত পেতে চাইতে কোথাও যেন মনির বিবেকে বাধত। মনির ভবিষ্যৎ কি হবে সেটা সম্বন্ধে মনি নিজেও খুব  ধন্ধের মধ্যে ছিল কারণ মুনির আব্বা মারা যাবার পর তার জীবন শূন্য এবং অন্ধকার হয়ে যায়।

তাই পরবর্তীকালে সে কি করবে কি খাবে বা কতটাই বা রোজগার করবে সেই নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা ছিল।তাই যেক্ষেত্রে যেখানে সে নিজেরই জীবনের কি হবে সেটা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল ছিল না সেখানে সে তার ভালোবাসার মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে কিভাবে? তারপর মনি ছিল ধর্মের দিক থেকে মুসলিম আর সৌমিলি হিন্দু, যেখানে মনির নিজের কাছের বন্ধুরা ই তাদের মেলামেশা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বলে মনি তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছিল সেখানে  এত কিছুর পরেও যদি তারা এক হত ও বা সমাজ কি তাদের মেনে নিত? তাই শুধু সৌমিলি ই কি মনির অপেক্ষাতেই ছিল নাকি আজও সৌমিলির অপেক্ষাতেই  …

গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত