অন্ধকার

অন্ধকার
আমি জানি পরকিয়া করাটা অপরাধ । কিন্তু জানা সত্বেও কেনো জানি না আমি এই অপরাধে লিপ্ত হয়ে গেলাম । আমার বিয়ে হয়েছে প্রায় ১ বছর । বিয়েটা যদিও আমার নিজের মতে হয় নি … আমার বাবার কথাতে বিয়েটা করতে বাধ্য হয়েছিলাম রিতি মতো । আমার বয়স সবে ২০ কিন্তু যার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে তার বয়স কম করে হলেও ৪৫ হবে ।
যাই হোক আমার কপালের দোশ মনে করে মেনে নিয়েছিলাম । বাবা মায়ের সুখের জন্য আমি আমার নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে ঠকিয়েছিলাম । তার কাছে আমি রিতি মতো ঠকবাজ হিসেবে পরিনত হয়েছিলাম । এর পরে ও ই ৪৫ বছরের লোকটার সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেলো । আমি বাশর ঘরে বসে আছি , কিছুক্ষন পরে লোকটি আমার পাশে এসে বসলো , বসে বলে উঠলো .. দেখো তুমি আমার থেকে বয়সে ছোটই হবে আমি তোমাকে তুমি করেই বললাম । আসলে আমি কখোনোই বিয়ে করতে চাই নি । আমার মায়ের জন্য করেছি । আমাকে মাফ করে দিয় আমি কখোনো তোমায় স্ত্রী র মর্জাদা দিতে পারবো না ।
সেদিন মনে মনে ভাবছিলাম এই তাহলে ছিলো আমার কপালে? আমার বাবা আর মায়ের প্রতি আমার অনেকটা রাগ হচ্ছিলো । লোকটি আমার সাথে তেমন একটা কথা বলতো না । সবার সাথে খেত আর রাতে সোফাতে ঘুমাতো । তার ঠিক কয়েকদিন পরে , ঘরের মধ্যে কেনো জানি না আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো, কিছু না ভেবে বাসার বাইরে একটু হাটা হাটি করছিলাম ঠিক তখনি আমার সামনে পড়লো নেহাল। নেহাল হলো আমার প্রাক্তন যার কাছে আমি হলাম একজন চিটার , নেহাল আমাকে দেখেও না দেখার ভান করে হেটে যাচ্ছিলো । আমি নেহাল কে অনেক থামানোর চেষ্টা করছিলাম । কিন্তু আমার কথা না শুনেই চলে গেলো । পেছন থেকে অনেক ডাকলাম কিন্তু কোনো সাড়া পাই নি।
আমি উপরে চলে এলাম উপরে এসে আমি আমার ননদকে জিজ্ঞাসা করলাম … আচ্ছা নেহাল নামের কাও কে চিনো তুমি। উত্তরে আনিকা বলে উঠলো , হ্যা ভাবি আমাদের এলাকারি , খুব ভালো ছেলে । এইতো কয়েকদিন হলো একটা বড়ো কম্পানিতে চাকরি পেয়েছে । আমাদের এইখান দিয়েই যাওয়া আসা করে । কেনো ভাবি তুমি চিনো নাকি? আমি উত্তরে বলে উঠলাম , ও ই আমাদের ক্লাসমেট ছিলো । নেহালের চাকরি পাওয়ার কথা শুনে আমার ভিতরে কেমন জানি একটা অনুভুতি হচ্ছিলো যেই চাকরির জন্য আমি নেহালের হতে পারলাম না আর আজ আমার বিয়ের পর ও র চাকরি হয়েছে ।
এই হলো আমার কপাল । পরদিন ঠিক একই সময়ে আমি নেহালের অপেক্ষা করতে লাগলাম । নেহাল আমার পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিলো , আমি নেহালের হাত ধরে বললাম নেহাল আমার কথাটা একবারের জন্য শোনো । দেখো আমার কোনো দোশ ছিলো না আমার বাবা মায়ের জন্যই আমি এই বিয়েটা করতে বাধ্য হয়েছি। জানো, এই লোকটি আমাকে একবারের জন্যও ছোয় নি । নেহাল আমি এখনো তোমাকে ভালোবাসি। নেহাল বলে উঠলো তোমার কথা শেষ হয়েছে? তাহলে আমাকে যেতে দাও আমার কাজ আছে । নেহাল চলে গেলো। পরদিন আমি ঠিক সেখানেই নেহালের অপেক্ষা করছিলাম , নেহাল নিজে থেকেই আমার পাশে এসে বলে উঠলো তুমি কি মনে করেছো ? আমি তোমাকে ভালোবাসি না? আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি । আর আমি এইভাবেই পরকিয়ায় জড়িয়ে গেলাম ।
এর পর থেকে নেহাল আর আমি প্রতিদিন দেখা করতাম , কখোনো কফি সপে, কখোনো পার্কে । কিন্তু কয়েকদিনের মাথায় আমার স্বামির কানে কথাটি চলে গেলো , সে বাসায় এসে আমার উপর চিল্লা চিল্লি করতে লাগলো , এলাকাতে আমার একটা মান সম্মান আছে , আর আমার বউ ই কিনা পরপুরুষ এর সাথে … ছি । আমি রাগি গলায় বলে উঠলাম নিজে তো বউকে মর্জাদা দিতেই জানেন না আবার বড়ো বড়ো কথা । আপনি পুরুষ কি না এতে আমার সন্দেহ আছে । এই কথা বলাতে আমার গালে কষে একটা চড় মেরে রুম থেকে বের হয়ে গেলো । পরদিন আমি নেহালের সাথে দেখা করতে গেলাম । নেহালকে বললাম , এইভাবে আর না , চলো আজই আমরা পালাবো ।
আর কোনো দিকে না তাকিয়ে নেহাল কে বিশ্বাস করে আমি নেহালের হাতে হাত রেখে পালালাম । নেহালকে বিয়েও করে নিলাম । বিয়ের ১ মাস আমাদের খুব ভালোই সংসার চলছিলো । খুনশুটি আর ভালোবাসার সংসার । তার ঠিক কয়েকদিন পরেই বেরিয়ে এলো নেহালের আসল রুপ । নেহাল অফিসে জাওয়ার আগে আমাকে বলে গেলো আমার অফিসের বস আসবে বাসায় আজ , ভালো মন্দ রান্না করো। আমি নেহালের কথা মতো অনেক রকম রান্না করেছিলাম । নেহালের বসের খাওয়া শেষ করার পরে আমাকে বললো , নীলা তুমি রুমে যাও । তার কিছুক্ষন পরেই নেহালের বস আমার রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো । আমি চেচিয়ে নেহালকে ডাকলেও নেহাল আমার ডাক শোনে নি । নেহালের বস চলে যাওার পরে নেহাল বলে উঠলো এতে এমন কি হয়েছে , যাও ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ো । তার পর দিন থেকে আমার উপর শুরু হয় অত্যাচার । প্রতিদিন একেক জন হায়না আমার উপর ঝাপিয়ে পড়তো । আর আমি সহ্য করে নিতাম । এইভাবে কয়েকদিন সহ্য করে নিলাম ।
কিন্তু এখন আর না ,আজ আবারো নেহালের সেই বস এসেছে , আজও আমি রান্না করেছি , হাসি মুখে খাওয়াচ্ছিলাম , নেহাল আমাকে গালি দিয়ে বললো তোর হাসি আসে কোথা থেকে , যা শোয়ার জন্য রেডি হ । এই বলে হা হা করে হাসতে লাগলো । আমি মনে মনে বলছিলাম একটু পরে হাসিটা থাকবে না , তোদের । আমি খাবারের মাঝে বিশ মিশিয়ে দিয়েছিলাম আর কিছুক্ষন পরে আমার চোখের সামনে দুটো নর পিচাশকে মরতে দেখে খুশিতে হাসছিলাম । সেখান থেকে বেরিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসে ভাবছিলাম .. আমার মত আরও কতো মেয়ে আছে যারা এমন প্রতিনিয়ত অত্যাচারিত হচ্ছে ।
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত