ক্ষমা

ক্ষমা
বিয়ের এক বছর পর আজকে প্রথম আমার বাবার বাড়ি গ্রাম থেকে মেহমান আসবে আমার শ্বশুর বাড়িতে। কথাটা খুব অদ্ভুত শোনালেও এটাই সত্য। আমার বাবা মা বেঁচে থাকলে হয়তো এতদিন পর আসতো না। কিন্তু আমার মতো পোড়া কপাল আর কারই বা আছে? যার না আছে মা বাবা বেঁচে আর নাতো আছে শ্বশুর-শাশুড়ি। ফারাজকে খুব ভোরে ডেকে তুলেই পাঠালাম বাজার করতে।
আজকে ফারাজের স্কুল বন্ধের দিন থাকা স্বত্তেও বেচারা একটু ঘুমাতেও পারলো না। এক কাপ চা খাইয়েই পাঠিয়েছিলাম বাজারের ব্যাগটা হাতে। প্রতিটা রুম খুব সুন্দর করে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখলাম। ফারাজটাও হয়েছে একটা পাগল। ব্যাগ ভরতি করে বাজার নিয়ে বাসায় ফিরে আগে বিশ্রাম নিয়ে এক গ্লাস পানিতো খেয়ে নিক তা নয় নিত্যদিনের মতো বউয়ের ঘর-দোর গোছানোর প্রশংসায় মেতে আছে। আমি বরাবরই খুব গোছালো স্বভাবের। দুজনের ছোট্ট এই বাসাটাকে খুব যত্নে সাজিয়ে রাখি। যার কারণে আমার স্বামী ফারাজ সবসময় প্রশংসা করে বলে, ‘ক্ষুদ্র এই রাজপ্রাসাদে একজন রাজা আর এক বিনয়ী রাণীর বসবাস’।
আমি ওর কথাগুলো শুনে খুব বেশি খুশি হতে পারি না। কিভাবেই বা হবো? এই বাসাটায় আমরা দুজন ছাড়া আর কেউ নেই। ফারাজের ফুফির মুখে শুনেছি আমার শ্বশুর-শাশুড়ি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ফারাজ তখন উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে ওর ফুফির বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলো। ফারাজের আর কোনো ভাই বোন ছিলো না। তাই ওর বাবা মা মারা যাওয়ার পর ফুফির কাছে থেকেই মাস্টার্স শেষ করে। এর মাঝে ফুফি ও’কে অনেক রান্না বান্নাও শিখিয়ে দেয়। স্কুলে চাকরি হওয়ার পর ফারাজ নিজেই রান্না করে খেতো। আর ফুফিও নাকি মাঝে মাঝে এসে রান্না করে দিয়ে যেতো। আমাদের দুজনের বিয়েটাও একমাত্র ফুফির উছিলাতেই হয়। আমার রান্নাগুলো প্রায় শেষের দিকে। ওদিকে ফারাজ ডেকে বললো,
-সোনিয়া তোমার রান্না কি শেষ?
–হ্যা প্রায়ই শেষ। ছোটনের প্রিয় পিঠা-পায়েসটা শুধু বাকি আছে। ওগুলো খুব মনোযোগ সহকারে করবোতো তাই একদম শেষে রেখেছি।
-আচ্ছা ঠিকআছে আমি তাহলে এখন বের হই, ওরা এসে পড়লো বুঝি।
কথাটা শেষ করেই ফারাজ চলে গেলো। আমি ছোটনের পচ্ছন্দের পুলি পিঠা টা বানানো শুরু করলাম। ছোটন কে দেখি না আজ একটা বছর হলো। বাবা মা’র পরে ছোটন’ই ছিলো ও বাড়িতে আমার একমাত্র সুখ দুঃখের সঙ্গী।
নয় বছর বয়সে আমার মা মারা যায়। বাবা আবার বিয়ে করে। প্রথম প্রথম নতুন মা ভালোবাসলেও পরে কেমন যেন সহ্য করতে পারতো না আমায়। বাবাও কেমন পর পর হয়ে গেলো। রোজ নিয়ম করে আর কাজ থেকে ফিরে আমায় খুঁজতো না। সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখা চঞ্চল প্রকৃতির মেয়েটা যে হঠাৎ করেই খুব গম্ভীর স্বভাবের হয়ে গেলো সেটাও বাবা বুঝতো না। হয়তো বুঝতো কিন্তু করার কিছুই ছিলো না তার। শুধু শুধু অশান্তির সৃষ্টি। নতুন মা’র কাছে আমাকে নিয়ে বাবা কিছু বললেই নতুন মা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠতো। একবার কোরবানি ঈদে বাবা আমার জন্য নতুন জামা কিনে আনে। আমি সেটা পেয়ে সে কি খুশি! কিন্তু সেই খুশি আর বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। আমি জামাটা পড়ে বাবাকে দেখাতে বাবার ঘরের দিকে দৌঁড়ে আসি বারান্দায় পা রাখতেই নতুন মার কড়া গলার আওয়াজগুলো শুনতে পাই,
-প্রতি ঈদে কি জামা দিতে হইবো তোমার মাইয়ারে? কোরবানি দিতে হয়, এই ঈদে জামা না দিলে কি খুব বেশি ক্ষতি হইয়া যাইতো? সংসারতো আমি চালায় তুমি বুঝবা কি? তুমি পারো শুধু আজে বাজে টাকা উড়াইতে। আমার বাবা খুব সরল সোজা প্রকৃতির মানুষ ছিলো। নতুন মা’কে ভার গলায় বললো,
–চুপ করোগো মাইয়াডা আমার শুনতে পাইবো। আল্লাহর দোহায় লাগে চুপ করো তুমি। আমি আর সেদিন বাবার ঘরে নতুন জামাটা পড়ে ঢুকতে পারিনি। মাঝপথ থেকে চোখ মুছে আমার ঘরে ছুটে এসেছিলাম। ঘরে ঢুকেই পড়ার টেবিলে রাখা মায়ের ছবিটা বুকের সাথে জড়িয়ে খুব কেঁদেছিলাম। বুকের ভিতর খুব যন্ত্রণা হতো তখন। ইচ্ছে করতো মায়ের বুকের মধ্যে মিশে গেলে বুঝি এই ব্যথাটা কমবে। বছর ঘুরতেই নতুন মার কোল আলো করে ছোটনের জন্ম হয়। তখন আমি খেলার সাথী পেয়ে খুব খুশি। কিন্তু নতুন মা বরাবরের মতোই আমায় নিয়ে অখুশি৷ বুঝতে পারলেও আমার করার কিছুই ছিলো না। কোথায় যেতাম আমি সেই বাধ্য হয়েই থাকতে হতো নতুন মার সামনে।
স্কুল থেকে এসেই ছোটনকে নিয়ে সারা পাড়া ঘুরতাম। ও’কে গোসল করিয়ে দিতাম, খাইয়ে দিতাম, ওর কাপড় চোপড়গুলো পরিষ্কার করতাম, বুকের উপর শুইয়ে ঘুম পাড়ানি গান শুনিয়ে রোজ ঘুম পাড়িয়ে দিতাম। এতকিছু করেও কখনো প্রতিদানের আশা করতাম না। শুধু চাইতাম তাও যদি নতুন মা একটু ভালোবাসে। অথচ নতুন মা যেমন তেমনই রয়ে গেলো। ছোটন হওয়ার পর আরো বেশি অসহ্য হয়ে গেলাম আমি তার কাছে। ছোটন যখন হাঁটা শেখে তখন আমরা দুই ভাই-বোন এক সাথেই খেতে বসতাম। আগে আমায় একা খেতে দিলেও ছোটন আসার পর জোড় করেই ও আমার পাশে এসে খেতে বসতো। তখন দেখতাম আমার প্লেটে যে মাছ-মাংসটা দেওয়া সেটা আগে থেকেই হয়তো ছোট আর পাতলা করে কাটা। আমি চোখ থেকে টপটপ করে কয়েক ফোঁটা অশ্রু ফেলে ভাতগুলো খেয়ে নিতাম। পাশেই যখন ছোটন দৌঁড়ে এসে বসতো ওর প্লেটে দেখতাম কয়েক টুকরো মোটা করে কাটা মাছ বা মাংস। আমার তখন গলাটা কেমন ভারী হয়ে আসতো।
ছোটনটা যখন বড় হয় তখন আর এই খারাপ লাগাটা কাজ করতো না। নতুন মা ছোটনের খাবারে যে মাছ-মাংস দিতো ছোটন সেটা আমার জন্য ভাতের নিচে লুকিয়ে রাখতো। নতুন মা সামনে থেকে চলে গেলেই সেটা আমার প্লেটে দিয়ে বলতো, ‘আপু মা আসার আগেই খেয়ে’নে তাড়াতাড়ি’। তখনও আমার চোখ থেকে অশ্রু নির্গত হতো তবে সেটা সৎ বোনের প্রতি সৎ ভাইয়ের এতো ভালোবাসা দেখে। খাওয়া পড়া ছাড়াও আমার পড়াশোনা নিয়েও ছিলো নতুন মার হাজার বারণ। কিন্তু বাবা সবকিছু ছেড়ে দিলেও এই ব্যপারে কখনোই ছাড় দেয়নি। বাবা সবসময় বলতো, ‘যা হোক মা তুই পড়াশোনা করবি তোকে কেউ এ ব্যপারে বাধা দিতে পারবে না। আমি আছি তোর পাশে।’ দিনশেষে বাবার কাছে এইটুকু শান্তনাই আমার সারাদিনের সব কষ্ট ভুলিয়ে দিতো। আমি মেধাবী ছিলাম বৈকি, তাই বাবা ছাড়াও স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও ভীষণ ভালোবাসতো আমায়।
আমার মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষার সময় বাবাও মা’র মতো একলা করে আমায় ফেলে চলে যায়। সেদিন এতো কেঁদেছিলাম এই পৃথিবীর বুকে বুঝি আমার আর কেউ রইলো না। সত্যিই কেউ ছিলো না আমার শুধু ছোটনটা ছাড়া। ছোটন আমায় এতো ভালোবাসতো দেখে নতুন মা ওকে কতো বকতো, মারতো। তবুও আমার ছোটনটা আমার কাছেই বার বার ছুটে আসতো। বাবা চলে যাওয়ার পর নতুন মা উঠে পরে লাগে আমায় বিয়ে দেওয়ার জন্য। মাধ্যমিকটা পাশ করার পর থেকেই শুরু হয় পাত্র দেখা। আমি কত হাতে পায়ে ধরে অনুনয় বিনয় করে কোনোরকম কলেজে ভর্তি হই। এ ব্যপারেও আমার ছোটনটা আমায় সাহায্য করেছিলো। ভর্তির টাকা দিলেও নতুন মা বইপত্র কেনার টাকাটা দিতে চায়নি। কিন্তু ছোটন ওর মাটির ব্যাঙে জমানো টাকাগুলো থেকে আমায় সবটা দিয়ে দেয়। সেদিন খুশিতে আমার চোখ ভিজে গেছিলো।
দেখতে দেখতে কলেজেও দুইটা বছর শেষ হয়ে যায়। বাবা বেঁচে না থাকলেও বাবার মুখ উজ্জ্বল করে উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করে বের হই। এই দুই বছরে হাজার বিয়ে ভাঙ্গলেও এরপর আর ভাঙ্গা সম্ভব ছিলো না। নতুন মা চারপাশে ঘটক লাগাতে শুরু করে। নতুন মার কথা ছিলো পাত্র যেমন তেমন হলেই হলো। কোনোমতে আমায় তার সাথে বিনা পয়সায় গছাতে পারলেই হলো। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার বুঝি সেই ইচ্ছাটা ছিলো না। ফারাজের ফুফি ফারাজের জন্য পাত্রীর সন্ধান করেন। তখন আমাদের বাড়ির পাশের এক চাচা আমার কথা বলেন। প্রতিবেশীরা সবাই আমি এতিম বলেই হয়তো এতো ভালোবাসতো৷ নয়তো সৎ মা যার তার সাথে গছানোর আগেই তারা আমার ভালোর জন্য সম্মন্ধ এনেছিলো। কিন্তু তাতেও নতুন মার ছিলো ঘোর আপত্তি। তিনি কোনোমতেই ভালো ঘরে আমায় পাঠাতে চায়নি।
এক প্রকার নতুন মার অমতেই আমার ফারাজের সাথে বিয়েটা হয়। ফারাজের ফুফি আমায় প্রথম দেখাতেই পচ্ছন্দ করেন। তারপরে নতুন মা অমত বাধলে তিনি প্রতিবেশীদের মুখে শুনে জানতে পারেন অমতের কারণ। আমার কাছে মতামত জানতে চাইলে আমি ফারাজের সবকথা শুনে হ্যা বলে দেই। সবচেয়ে বেশি মায়া লেগেছিলো ফারাজের বাবা-মা মারা যাওয়ার কথাটা শুনে। এরপরই ফুফি ফারাজকে নিয়ে আসে আমায় দেখতে৷ ফারাজের পচ্ছন্দ হওয়াতে সেদিনই আমাদের বিয়েটা সম্পন্ন হয়। মায়ায় জড়ানো বাড়িটা ছেড়ে আসার সময় এতো কষ্ট হয়েছিলো বোঝানোর ক্ষমতা নেই৷ ছোটন টা আপু যাস না, আপু যাস না বলে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠেছিলো।
সেই যে বাড়িটা ছেড়েছি একটা বছর হয়ে গেলো আজও যাইনি। কারণ নতুন মা বলেছিলো যদি তার অবাধ্যে এই বিয়েটা করি তাহলে সে আর কোনোদিনই খোঁজ খবর নেবে না। কে জানতো নতুন মা কথাটা সত্যি মন থেকে বলেছিলো? একটা বছর কেটে গেলো তবুও একবারের জন্যও নতুন মা আমায় দেখতে আসেনি৷ কেমন আছি কোথায় আছি কিচ্ছু না। এমনকি ছোটনকেও আসতে দিতো না আমার কাছে। তবে প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে ছোটনের সাথে আমাদের কথা হতো। ছোটন’ইতো কাল কল করে বললো নতুন মা’র নাকি বৃষ্টিতে পিছলে পড়ে বাম হাতটা খুব খারাপ ভাবে ভেঙ্গে গেছে। শহরে ভালো ডাক্তার দেখাতে হবে। আমি বললাম সোজা আমাদের বাসায় চলে আসতে। আমরাতো আছি এখানে, যেখানে যেতে হয় যা যা করতে হয় সব করবো। এই দেখো এত কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে সময় গড়িয়ে গেছে খেয়ালই করিনি। চোখজোড়াও দেখছি ভরে উঠেছে।
উহু আজ আর কাঁদলে চলবে না। আজতো আমার ছোটনকে দেখবো পুরো একটা বছর পর। ছোটনের পায়েসটা চুলাতেই আছে। আমার ছোটন টা পায়েস, পুলি পিঠা, আর গরুর মাংস-পোলাওটা খুব পচ্ছন্দ করে। নতুন মা ইলিশ মাছ আর কাটারিভোগ চাউলের ভাত পচ্ছন্দ করে। আমি কি করে ওদের পচ্ছন্দগুলো ভুলে যায়? একটা সময় হয়তো নতুন মা আমায় সহ্য করতে পারতো না কিন্তু তাই বলে কি তার সাথে সেই একই আচরণগুলো করা আমার উচিত হবে? আমার বিবেক কখনোই তা বলে না। কলিং বেলটা বাজতেই আমি রান্নাঘর থেকে দৌঁড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলাম। ছোটন আমায় দেখেই কেঁদে ফেললো। ও’কে জড়িয়ে ধরে আমিও ছোট বাচ্চাদের মতো কেঁদে উঠলাম। ফারাজ তখন বললো,
-আরেকজনও তো দরজায় দাঁড়িয়ে আছে তাকে কি ভেতরে আসতে বলবে না? আমি ছোটনকে ছেড়ে দরজায় তাকাতেই দেখলাম নতুন মার বাম হাতে ব্যান্ডেজ। চোখ মুখ কেমন শুকনো শুকনো সেই আগের রাগী চেহারাটা আর নেই। আমায় দেখেই হু হু করে কেঁদে উঠলো। আমিও আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। নতুন মা এই প্রথম আমায় জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো। আমি বোবার মতো তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রইলাম বুকের মধ্যে। মনে হলো যেন কতগুলো বছর পর নিজের মা কে ফিরে পেলাম। নতুন মা কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,
– মারে আমায় মাফ কইরা দিস। তুই চইলা আসার পর থেইকা বুঝচ্ছি কত অন্যায় করছি তোর সাথে। কত জ্বালাইছি তোরে আল্লাহ তার শাস্তি আমায় এই জনমেই দিছেরে মা। পাপ, পাপ করছি যে আমি কথাটা শেষ না করতেই আবারো কেঁদে উঠলো। আমি এবার শান্তনা দিতে দিতে বললাম,
–সন্তানের কাছে মা বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার। আর সেই মা বাবা যদি ভুলও করে থাকে সন্তান কি তা মনে রাখে? কখনোই না। নতুন মা আর কিছু বলতে পারলো না। মাথা নিচু করে নিরবে অশ্রু ফেলতে থাকলো। আজ নতুন মা কে দেখেই বুঝলাম অনুশোচনার অশ্রুগুলো বুঝি এতটাই কঠিন হয়? বিকেলে ফারাজকে দেখলাম খুব মনোযোগ সহকারে একটা বই পড়ছে। আমি এক কাপ চা নিয়ে পাশে বসতেই চশমার ভেতর থেকে একবার আমার দিকে তাকিয়ে বইটা বন্ধ করে রাখলো। আমি প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকাতেই ফারাজ চশমাটা খুলে রেখে বললো,
-এমন মহৎ স্ত্রীর স্বামী হতে পেরে সত্যি আমি গর্বিত। আসলেই সোনিয়া তোমার মন-মানসিকতার তুলনা হয় না। এতোকিছুর পরেও যে তুমি তাকে ক্ষমা করতে পেরেছো এটাই বা ক’জনে পারে বলো? আমি ফারাজকে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উত্তর দিলাম,
-হুম ক্ষমা করা যে একটা মহৎ গুন। আর এমন মহৎ গুনটা থেকে কি করে বিরত থাকি বলো? জানোতো ক্ষমা করলে নিজের আত্মা শান্তি পায় সেটা হয়ত সবাই উপলব্ধি করতে পারে না। আর আমি মহৎ কিনা জানি না। শুধু জানি, আমার বিবেকে বাধে মানুষ যা করে তাকে ক্ষমা না করে তা ফিরিয়ে দিতে।
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত