একটু সুখ

একটু সুখ
মেঘলার বুকে মাথা রেখে শুইয়ে আছি খুব করে। একটু পরপরই তার কাঁধের হালকা নিচে বুকের দুই ইঞ্চি উপরে চুমু দিয়ে দিচ্ছি, সে নিরবে শুইয়ে আছে বালিশে মাথা রেখে। আজ কিছু বলছে না। নিরবে পাথর হয়ে আছে। আমি হালকা করে তার কানের নরম জায়গায় কামড় বসিয়ে দেই। তখনও সে নিরব। তার শরীরের উপর উঠে কাঁধের পাশে হাত রেখে ঠোঁটের কাছে ঠোঁট এনে বললাম। “কি হয়েছে তোমার? আজ এত নিরব?” সে কথা বলছে না। আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে আছি অপলক দৃষ্টিতে। আজ তার মন খারাপ। আলতো করে তার চোখের উপরে চুমু দিয়ে বলি,
“চড়ুই বউটার আজ কী হয়েছে?”
“মন খারাপ!”
“কেনো?”
“মায়ের জন্য।”
“ওহ্!” আমার কিছু বলার নেই। তার বুকের উপর থেকে সরে আসতে চাইলাম, সে বাঁধা দিয়ে বলল,
“কতদিন হলো আমরা সে বাড়িতে যাই না?”
“বিয়ের চারবছর হলো। এই চারবছরে একবারও না।”
“আমরা কি কাজটা ভালো করেছি?”
“পালিয়ে বিয়ে করেছি! অপরাধ এটাই।”
“তারা কখনো মেনে নিবে না তোমায়।”
“হয়তো, আবার নাও হয়তো।”
“চলো আমরা একটা বাচ্চা নেই তারপর তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াই।”
রাফসানের মনটা হঠাৎ করেই থমকে গেল। মেঘলার পাশ থেকে উঠে বারান্দায় চলে আসল। সিগারেটের মাথায় আগুন জ্বালিয়ে নিরবে উড়িয়ে দিয়ে চিন্তা করছি আমার পরিস্থিতি নিয়ে। মেঘলা পিছন থেকে এসে আমার কাঁধে হাত রেখে বলে, “তোমার সিগারেটের নেশাটা ছাড়াতে পারলাম না আজও।” আমার মুখে কথা নেই। সামান্য রোজগার। জীবনটাই চলে টেনে হিঁচড়ে, মেঘলার বেশ বড় আবদার। তাকে পাশ কাটিয়ে রুমে এসে বসি। সেও এসে আমার হাতটা ধরে বলল, “আরে পাগল মজা করেছি, তুমি আরও কিছুদিন সময় চেয়েছ, আমিও চাইছি আরও কিছুদিন পরেই নাহয়।” মেঘলা কথাটা বলতে গিয়েও থমকে যায়। আমি বুঝতে পারি তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমি আর পারছিলাম না। আলোকিত রুমটা অন্ধকারে পরিনত করে দিয়েছি। শরীরের উপর কিছু অনুভব করছি। মেঘলার শরীরটা বেশ করম।
কয়েক সপ্তাহ পরেই আমার ইন্টারভিউ। সকাল সকাল ফরমাল ড্রেস পরে চাকরিটার জন্য বের হয়ে যাই। আজকে সে আমার বুকে দোয়া পড়ে ফু দিয়ে দিয়েছে। আসার সময় আমার ঠোঁটেও চুমু খেয়ে বলেছিল, উপরওয়ালা তোমার সহায় হবেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো চাকরিটা আমার কনফার্ম। তাদের চা পান করার জন্য চার লক্ষ দিতে হবে। এককালীন নয়। বেতন থেকে তারাই কেটে নিবে। তবে একসাথে অর্ধেক দিতে হবে কাজ শুরুর কয়েকমাস পড়ে। অফিস থেকে লোন নিতে পারব অনেক টাকা। স্টাফ হওয়ার সুবিধায় চার্জ কাটা হবে না তেমন। খুশিতে মনটা কেমন যেন করে উঠল। অফিস থেকে বের হয়ে বাসার দিকে যাওয়ার জন্য ‘লেগুনায়’ তেরো জনের মধ্যে চেপে বসেছি, ঠিক তখনি ডক্টর আবিদ ফোন করে জানাল মেঘলা প্রেগন্যান্ট।
খুশিতে আমার চোখ ছলছল করে উঠল। লেগুনায় থাকা বারোজন ই আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমার চোখ বেয়ে জল পড়ছে খেয়াল করিনি। বাসায় যাচ্ছি না এখন। লেগুনা থেকে নেমে একটা পেস্ট্রি শপে ঢুকলাম। সুন্দর দেখে একটা কেক অর্ডার করে তাতে “ভালোবাসি” মেসেজ লিখে নিয়ে বাসার দিকে রওনা হলাম। রাস্তার পাশেই ছোট্ট মেয়েটি ফুল বিক্রি করছে। কয়েকটা ফুল নিয়ে নিলাম। আজ বড় আনন্দের দিন। মেঘলা বুঝতে পারে সে প্রেগন্যান্ট। তবে মন খারাপ তার। আমার পরিস্থিতি তাকে সবসময়ই ভাবায়। আজকেও চিন্তা করছে কেমন করে বলবে সে “সে প্রেগন্যান্ট?” সেসময় দরজায় খটখটানির শব্দ। মেঘলা বুঝতে পারে আমি এসেছি। ছোট্ট ঘড়ের মেঝেতে বসে ছিল সে। কোমড়টা ধরে দাঁড়ায়। একপা দু’পা এগিয়ে দরজাটা খুলতেই আমার ঠোঁট জোড়া তার কপাল স্পর্শ করে নেয়। হাঁটু গেড়ে বসে হাতের ফুলগুলো তার দিকে দিয়ে বলি,
“ধন্যবাদ প্রিয়, আজকের দিন পর্যন্ত কষ্ট করে সঙ্গ দেবার জন্য। জানো আজকে আমার কতটা আনন্দ লাগছে বলে বুঝাতে পারবো না।” মেঘলা ফুলগুলো হাতে নিয়ে বলল,
“কি হয়েছে?”
“চাকরিটা হয়ে গেছে। বাকিটা তুমি যানো।”
চৌম্বক আকর্ষণের মত মেঘলা আমার বুকে লেপ্টে গেছে। ছলছল করে চোখের পানি ছেড়ে দিয়েছে মেয়েটা। আনন্দের অশ্রু। বাঁধা দেইনি তাকে। দুইটা বাক্স তার হাতে তুলে দিয়ে বললাম, একটাতে তোমার জন্য নীল শাড়ি আছে, তৈরী হয়ে আসো আজকে হাঁটতে বের হবো, এই সন্ধ্যে তোমার আমার সুখের সঙ্গী হয়ে নদীর জল সাক্ষী থাকুক তুমি আমি আজ খুশি। সুখী তো আমরা তখনও ছিলাম যখন শূন্য হাতে বেরিয়েছিলাম। আজ তো হয়নি তবে হবে। আজ আমি খুশি।
মেঘলার মুখে বুলি নেই। সে আমার বুকে এমনি করে লেপ্টে আছে। থাকুক একটু সময়। ভালোবাসাটা সবসময়ই পাশে আছে, এটাই সবচেয়ে বেশি পাওয়া এ জীবনে। ভালোবাসলে সে মানুষটার পাশে সব পরিস্থিতিতেই থাকতে হয়। যে ভেঙে পড়ে কিংবা মাঝ পথে চলে যায় সে কখনোই ভালোবাসেনি।
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত