লয়্যাল হাসবেন্ড

লয়্যাল হাসবেন্ড
জামাই আমার অসম্ভব লয়্যাল ! একেবারে সোনায় সোহাগা ! ওর ফোনের ওয়ালপেপার থেকে শুরু করে মানিব্যাগ , আইডির কভার ফটো, প্রোফাইল পিকচার – সবকিছুতেই আমার ছবি ! খুশিতে গদগদ হয়ে সবার সামনে ইচ্ছেমত শো অফ করি। এমন জামাই পাওয়া কি কম কথা? ভাগ্য লাগে ভাগ্য ! ওর প্রোফাইল ঘাটাঘাটি করে একটা জিনিস চোখে পড়ল, রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস সিঙ্গেল দেওয়া । এখনো চেইঞ্জ করে নি ! অথচ বিয়ের চারমাস হতে চলল। রাগে আমার গা জ্বলে যাচ্ছিল। ইচ্ছে করছিলো এক্ষুনি কষিয়ে দুটো চড় দিয়ে সোজা করে দেই। কিন্তু পরক্ষণে মনে হলো বেটাকে হাতে নাতে ধরা দরকার !
তাই খুব চিন্তাভাবনা করে একটা প্ল্যান করলাম। খুব সুন্দর একটা সেলিব্রিটি ফ্রেন্ডের ছবি দিয়ে একটা ফেক আইডি খুললাম। ওকে আমার জামাই চিনত না তাই কোন সমস্যাও হয়নি। রোমান্টিক পেজগুলো থেকে পোস্ট কপি করে টাইমলাইনে দিয়ে রাখলাম। কিছুদিন অপেক্ষা করলাম, ফেক আইডিতে যখন ফলোয়ার আর লাইক কমেন্ট বাড়তে শুরু করেছে তখন সুযোগ বুঝে জামাইকে রিকুয়েস্ট দিলাম। আমি জানতাম ও এক্টিভ ছিল কারণ তখন ও আমার পাশেই বসে ফোন গুতাচ্ছিলো। আশ্চর্য তো ! পাশে যে কেউ একজন বসে আছে সেই খেয়াল নেই ! রিকুয়েস্ট দেওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মাথায় এক্সেপ্ট করে ফেলল আর তিনিই নক দিলো “Hi beautiful !” আমিও ঘটা করে উত্তর দিলাম। কথাবার্তাও ভালই এগোচ্ছে । এদিকে আমি তার পাশেই বসে বসে মেসেজ করছি তা বুঝতে পারছে না।
জামাই : আমি মাহফুজ আলম পিএইচডি ফ্রম ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস , লিভ ইন টেক্সাস। (ডাহা মিথ্যা কথা)
আমি : (রেগে আগুন হয়ে) আমি মিতু খানম, পিএইচডি ফ্রম সুন্দরবন জঙ্গল, লিভ উইথ এ গাধা ইন দ্য জঙ্গল।
জামাই : হাহাহা ! আপনার সেন্স অব হিউমার কিন্তু দারূণ।
আমি : জ্বি ঠিকই বলেছেন। সেন্স অব হিউমার !
জামাই :আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
আমি: জ্বি বলেন।
জামাই : আপনি এত সুন্দর কি করে? আমার মায়ের পরে আমি প্রথম কাউকে দেখলাম যার চোখে মুখে এত মায়া, এতটা স্নিগ্ধতা, যাকে দেখে চোখ ফেরানো দায় ! (রাগে আমি এবার ভস্টক-৫ এর মত উড়ে যাচ্ছি ! কারণ এসব কথা বলে কোন এক সময়ে সে আমাকেও ইম্প্রেস করেছিলো ! )
আমি : কিন্তু আপনার প্রোফাইল পিকচারে যেই মেয়েটার ছবি দেওয়া সে তো আমার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। কে ও? জি এফ?
জামাই : আরে না না ! কি যে বলেন ! ও আমার চাচাতো বোন, গতমাসেই মারা গেছে। শোকের বশে প্রোফাইলে পিকচারে দিয়েছি। প্লিজ দোয়া করবেন, আমার বোনটা যেন জান্নাতবাসী হয়।
আমি : সো স্যাড ! তা মারা কিভাবে গেল শুনি?
জামাই : আর বলিয়েন না ! সুইসাইড ! গলায় দড়ি দিয়েছে বিএফ এর ছ্যাকা খেয়ে ! আজকালকার যুগের মেয়ে কি না !
এবার রাগ সামলাতে না পেরে ফোন ফেলে জামাইকে বিশটা থাপ্পড়, আটটা ঘুষি, দুইটা লাথি আর সবশেষে ঝাটা পেটা করে রাস্তায় বের করে দিয়েছি। রাস্তা থেকে লোকজন তুলে হসপিটালে নিয়ে গেছে। বর্তমান অবস্থা – জীবিত। আর আমি? কি করে ওটাকে দঁড়িতে ঝুলানো যায় সেই প্ল্যানিং এ আছি !
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত