না চাইতেও আমি তার

না চাইতেও আমি তার
–আপনি এমন কেন করছেন৷ প্লিজ আমার জন্য এই পুরো কলেজ টাকে ধ্বংস করবেন না৷ এখানে অনেক ছাত্র ছাত্রী আছে ওরা কই যাবে।
–বেশ ভালো বুঝো তুমি এখন জখন বুঝে গেছ তখন রাজি হয়ে যাও। তাহলেইতো আমি সব কিছু ছেড়ে দিবো। পুরো কলেজের যায়গা ওদের নামে করে দিবো। নিজেকে বুঝানো বা মানানো দায় হয়ে পড়লো। এটা একটা বড়ো দাম যেটা আমি চুকাতে চলেছি আমার জন্য নয় এখানে পড়াশোনা করা ১০,০০০ এর মতো স্টুডেন্ট দের জন্য আর এখানের টিচার দের জন্য।
–ঠিক আছে। আমি রাজি৷
–That’s like a good girl.
নেও সুন্দর করে সাইন করে দেও এখানে৷ চোখ ভর্তি পানি নিয়ে রেজিস্ট্রি পেপারে সাইন করে দিলাম৷ এছাড়া যে এখন কোন উপায় নেই৷ সামনে দাড়িয়ে থাকা মানুষ রুপি অমানুষ টা যে ছাড়বে না।
–ওকে চলো তাহলে তোমার বাসায়। বলেই আমার হাত ধরে নিয়ে গেল পেছন পেছন কিছু গার্ড। আমাকে গাড়িতে বসিয়ে নিজেও বসে পড়লো ড্রাইভার ড্রাইভ করছে।
বাইরের দিকে তাকিয়ে মনে পড়ে যাচ্ছে আমার সেই দিন গুলোর কথা৷ আমি আফিফা মেহেক কেয়া। আমি ইন্টার ১ম বর্ষে পড়ি।আমার মা বাবা নেই আমি অনাথ। আমার পাশে যে বসে আছে সে হলো বাংলাদেশের নাম করা মাফিয়া। ওনার উপর কথা বলার সাহস কারোর নাই। ওনাকে দেখেছিলাম আমাদের কলেজের একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথম। উনি প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলো। তার আন্ডারে এই কলেজটা চলে। তার জমির উপর উপস্থাপন করা এই কলেজ। সেদিন অবশ্য তার সাথে মুখোমুখি হয়েছিলে এক বার। কিন্তু বাকি মেয়েদের মতো তাকে পাত্তা দেয় নি আমি কারন আমার কাছে এখন মূল উদ্দেশ্য হলো লেখা পড়া শিখে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা৷ এই কলেজ হস্টেলের থাকি আমি। সবে ১৮ বছর হয়েছে. আমাদের আস্রমে ১৮ বছরের পর সবাইকে চলে যেতে হয়। আমিও চলে এসেছি৷
নিজের খরচটা কিছু বাচ্চা পড়িয়ে আর বিত্তি উপবিত্তির টাকা দিয়ে হয়ে যায়৷ বেশতো ভালোই ছিলাম৷ আমি হটাৎ এই ঝড়। সেদিন অনুষ্ঠান শেষে হস্টেলে আসতে নিজের রুম ভর্তি গোলাপ ফুল দেখেছিলাম৷ হটাৎ এমন কিছু হওয়ায় অবাক আমি৷ সেদিন ই তিনি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় কিন্তু আমি না করি৷ আজ ৫ দিন পর তিনি এখনে এসে আমাকে সহ সব শিক্ষক দের বলে দিয়েছেন আমি তাকে বিয়ে না করলে এই কলেজটাকে সে ডিস্ট্রয় করতে বাদ্ধ হবে। এসব ভাবতে ভাবতে এক বিরাট বাসার সামনে এসে পৌছালাম আমরা৷ উনি আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে কোলে করে ভেরতে নিয়ে গেলেন এতে সুন্দর বাড়ি আমি কখনো দেখি নাই৷ উনি একটা রুমে এনে আমাকে খাটে বসিয়ে দিয়ে বললেন,
–আমি আরাব খান আজ থেকে তুমি আফিফা মেহেক কেয়া থেকে মিসেস.আরাব খান হলে। তুমি আমার কেয়া শুধু আমার কথাটা ভালো করে শুনে এবং বুঝে নেও৷ জামাটা পরে গোসল করে নেও৷ উনি এটা বলেই চলে গেলেন পাশে একটা জামা দিয়ে৷ কিছুই করার নেই আজ না চাইতেও কেয়া আবিরের হয়ে গেল৷ এটাই হয়তো আমার কপালে ছিলো৷
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত