দায়িত্ব

দায়িত্ব
-বিয়ের প্রথমদিন স্বামীকে আলো বলেছিল, আমাকে পড়াবেন? সারাজীবন আপনার কাছে আর কিছু চাইবো না।
-সে হেসে বলেছিলো, তুমি পড়তে চাইলে আমি পড়াবো বউ! আমি নিজে স্কুলের গণ্ডী পার হতে পারিনি তুমি যদি পারো তাহলে আমি আমার সন্তানদের কাছে গর্ব করে বলতে পারবো, তোদের মা শিক্ষিত। আলোর বড় শাশুড়ি আলোর স্বামীর মা আপত্তি করলো,
-বিয়ে হয়ে গেছে বউ মানুষ এখন আবার ঢ্যাং ঢ্যাং করে পড়তে যাবো লোকে কি কইবো। তার থেকে মন দিয়ে সংসার করো বাপু। কিন্তু আলোর ছোট শাশুড়ি আলোর শ্বশুরের দ্বিতীয় বউ আলোর পক্ষ নিলো।
-বলল, সংসারে কাম কাজ করে যদি বউ পড়তে পারে তাহলে কি সমস্যা, আমি না হয় ওর কাজে একটু সাহায্য করে দিবো, তাও বউটা পড়তে চাইছে যখন বাধা দিও না তো। আলোর বড় শাশুড়ির চার ছেলেমেয়ে আলোর স্বামী একা। তিন মেয়ে হওয়ার পর আলোর শ্বশুর খুব আশা করে ছেলের মুখ দেখেছেন।কিন্তু তার ইচ্ছে ছিলো ঘর ভর্তি ছেলে থাকবে। কামাই রোজগার করবে বুড়ো বয়সে তার চিন্তা থাকবেনা। কিন্তু ছেলে হতে গিয়ে আলোর শাশুড়ি গর্ভধারনের ক্ষমতা হারায়।
আলোর দ্বিতীয় শাশুড়ি সাহেদা বেগমকে বিয়ে করেছিলো তিন মেয়ে হওয়ার পর, পরপর তিন মেয়ে হওয়াতে তিনি হতাশ হয়ে পড়ে, এবং দ্বিতীয় বিয়ে করে। কিন্তু আস্তে আস্তে জানা যায় সাহেদা বেগম বন্ধ্যা সন্তান জন্ম দিতে পারবেনা। তারপর থেকে সাহেদা বেগমের প্রয়োজন শেষ আলোর শ্বশুর জামশেদ মিয়ার কাছে। ভেবেছিলেন এই বউকে বিদায় করে দিবে। যে আশা নিয়ে বিয়ে করা তাই যদি পূরণ না হয়। সাহেদা বেগমের মা ছোটবেলাতেই মারা গিয়েছে, বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে সৎ মায়ের কাছে ঝাড়ি ঝামটা খেয়ে মানুষ। বিয়ের পর তিনি বড় বউয়ের তিন মেয়েকে নিজের মেয়ের মত আদর যত্ন করতো। এরমধ্য আবার বড় বউয়ের ছেলে হয়ছে তার কদর তো আরো বেড়ে গেছে জামশেদ মিয়ার কাছে। সাহেদা বেগমকে ছেড়ে দিতে চাইলে বড় বউ বাধা দিয়ে বলে,
-সংসারে একজন কাজের মানুষ লাগেই। তিন মেয়ে, ছোট ছেলে কোলে এদের দেখাশোনা, বাড়ির কাজ, আমি একা সামলে উঠতে পারিনা। তার তো আর বাচ্চা কাচ্চা হচ্ছেনা যে সংসারে ভাগিদার হবে। বিয়ে যখন করেই ফেলছো ছাড়ার আর দরকার নাই। জামশেদ মিয়া ও বড় বউয়ের কথা মেনে নেয়। সাহেদা বেগম নিজের হাতে যেমন চার ছেলেমেদের যত্ন করতেন কখনো আলাদা করে দেখেনি ছেলেমেয়েদদের যত আবদার সাহেদা বেগমের কাছে। তেমনি আলো এ বাড়িতে বিয়ে হয়ে আসার পর তার খেয়াল সাহেদা বেগম বেশি করতো। রান্না ঘরে ভাতের মাড় ফেলতে গিয়ে হাত পুড়িয়েছে দৌড়ে সাহেদা বেগম এসে বলেছে,
-একটু সাবধানে কাজ করতে পারিসনে আলো?দে আমার কাছে দে। হাতে তেল পড়েছে সে এসে রান্নায় বসতো আর বলতো,
-যা অন্য কাম কর গিয়ে। আলোর প্রতি তার আদর মায়া দেখে বড় শাশুড়ির হিংসাই হতো সুযোগ পেলে কথা শুনাতে ছাড় দিতোনা।
-আমি তো আর মানুষের ভালো শাশুড়ি হতে পারলাম না বাপু। যে ভালো শাশুড়ি সে যেন বউয়ের কাজ করে রাখে।
সাহেদা বেগম চুপচাপ হজম করতো। আর কিছু না হোক তার দয়ায় সে এ বাড়িতে থাকতে পেরেছে। সত্যি বলতে মায়ের স্বাদ আলো সাহেদা বেগমের থেকেই উপলব্ধি করেছে। আলো নামটা আলোর বাবা দিয়েছিলো যখন আলো মায়ের পেটে ছিলো। কারন আলোই পরিবারের প্রথম সন্তান হতে যাচ্ছিলো এজন্য তিনি খুশি হয়ে আলো নাম দিলেন। কিন্তু জন্মের সময় অন্ধকার নিয়ে পৃথিবীতে আসলো। আলোকে জন্ম দিতে গিয়ে আলোর মা পৃথিবী থেকে বিদায় নিলো। আলোর বাবা আলোর মুখ দেখতে চাইলোনা। আলোর দাদি যখন আলো বলে ডাকতো আলোর বাবা বলতো,
-অন্য একটা নাম রাখোনা মা এই নামটা ওর সাথে মানায় না।
-ওর দাদি বলতো, বালাই সাট আমার প্রথম নাতনী ওকে আমি আলো বইলাই ডাকুম।
আলোর বাবা আর বিয়ে করেনি যদিও আলোর দাদি অনেক পিড়াপিড়ি করেছে অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়েছে। তিনি প্রবাস জীবন বেছে নিলো। আলোর আরো দুই চাচা ছিলো ওরা বিয়ে করেছে সন্তানাদি হয়েছে। চাচিরা আড়ালে আবডালে আলোকে নিয়ে বলতো, অপয়া মেয়ে জন্মের সময় মাকে খেয়ে আসছে না জানি কত অমঙ্গল বয়ে বেড়াবে।
-মেজো চাচি বলতো, হ্যা রে আলো তোর কি মা বলে কাউকে ডাকতে ইচ্ছে হয়?
আলো জবাব দিতে পারেনা। আলো মাকে দেখেনি মায়ের জন্য মায়া ও লাগেনা, কিন্তু মাঝেমাঝে যখন ওর চাচাতো বোনদের ওর চাচিরা আদর করে ভাত খাওয়ায়ে দেয়, তখন ওর মায়ের কথা মনে পড়ে মা থাকলে হয়তো ওকেও খাওয়াতো।
-চাচি বলে আচ্ছা শাশুড়িকে গিয়ে মা ডাকিস। রাতে দাদিকে জড়িয়ে শুয়ে জিঙ্গেস করতো,
-মা দেখতে কেমন ছিলো গো দাদি?
-দাদি বলতো, ওই যে ফটোতে যেমন দেখিস
-ওই একখানা ফটো আমি চেহারা বুঝতে পারিনা দাদি।
দাদি আলোর পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বলতো তোর মায়ের জন্য আমার ও মায়া লাগে রে আলো। তোর কতা আর কি কমু সবই আল্লাহর ইচ্ছে। আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে, তুই ভালো থাকিস বইন তাইলে আমি একটু শান্তি পামু। আলোর দাদি মারা যাবার পর আলো বড্ড একা হয়ে গেলো। ক্লাস টেনে উঠার পর একদিন ওর মেজো চাচি ওর চাচাকে বলছে,
-খুব তো পড়ালে বিয়েটা আসছে দিয়ে দাও যেভাবে পারো। নিজের ছেলেমেয়েদের কথাও ভাবতে হবে নাকি?
-ওর মেজো চাচা বললো, তাই করবো এবার আলোকে বিয়েটা দিয়েই দিবো।
স্বামীর বাড়ি আসার পর আলো পড়াশোনাটা একপ্রকার যক্ষের ধনের মত আগলে রেখেছে, এত কষ্ট করে কেউ পড়ে নাকি। অনেকেই বিয়ের পর লেখাপড়া করে কিন্তু টাকা পয়সার অভাব, সংসারের কাজ শাশুড়ির বাধা সব মিলিয়ে আলোর দম বন্ধ হবার মত দশা। সামনে ইন্টার পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ টাকা নাই, সাহেদা বেগম বললেন আমি জমিয়েছিলাম চার হাজার টাকা, আমার সারাজীবনের সম্বল। আমার তো আর লাগেনা যা তুই টাকাটা জমা দে। আলো সাহেদা বেগমের মুখের দিকে চেয়ে দেখে, টাকাটা দিতে পেরে সে তৃপ্তি বোধ করছে। আসলে সংসারে তার মূল্যায়ন হয়না বলে নিজেকে অপ্রয়োজনীয় ভাবে, কারো জন্য কিছু করতে পারলে গর্ববোধ করে। আলোর শাশুড়ি কথা শোনালেন,
-নিশ্চয় বাড়ি থেকে চুরি করে করে টাকা জমিয়েছে। এখন বউয়ের কাছে ভালো সাজছে। সাহেদা বেগম শুধু বললো,
-ভালো কথা, চুরি করে জমিয়েও যদি কারো প্রয়োজনে লাগে তাহলে চুরি করে জমানোই ভালো। আমার আর কে আছে কারেই বা দিবো এ বাড়ির মানুষ ছাড়া? জামশেদ মিয়া এসব সাংসারিক কুন্তলে নির্বাক থাকে। সেবার গোলাভরা ধান উঠলো জামশেদ মিয়া আর আলোর স্বামী গাড়ী ভরে ধান নিয়ে শহরে গেলো। আলো রান্না ঘরে মাছ কাটছিলো বড় শাশুড়ি মাথা ব্যাথায় শুয়ে আছে আর বলছে,
– কই গো বউমা এহনো আইলো না সন্ধ্যা যে পার হইয়া গেলো?
সাহেদা বেগম গরুকে খাওয়াচ্ছে। এমন সময় পাশের গ্রামের এক লোক আসলো খবর দিতে জামশেদ মিয়া আর তার পোলা গাড়ী এক্সিডেন্ট করছে সবাই লাশ নিয়া আসতেছে বাড়ি। জামশেদ মিয়ার তিন মেয়ে আসলো জামাই বাড়ি থেকে। সারারাত ধরে বাড়ি কান্নাকাটি চলল মানুষ জনে গমগম ছিলো বাড়ি, শুধু সাহেদা বেগম নির্বাক। একমাস পর আলো জানতে পারলো ও মা হতে চলেছে, ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস বাবা ছেলে একসাথে বিদায় নিলো আর নতুন এক সদস্য আসতে চললো। আলোর বড় শাশুড়ি বিছানাগত উঠতে পারেনা। বাড়ির সব কাজ সাহেদা বেগমকেই করতে হয়। আলো ভারি কাজ করতে পারেনা একমাসের মধ্যে ডেলিভারি হবে। সাহেদা বেগম এতদিনে মনে করে এ সংসারে এখন তার দরকার আছে সে একজন প্রয়োজনীয় মানুষ তাকে ছাড়া চলেনা।
না তার কোন রাগ নাই বড় সতীনের উপর বরং সমীহই করে, কারন তিনি স্বার্থে হোক আর যেভাবে হোক তার জন্যই সে এবাড়িতে ঠাই পেয়েছিলো। দুনিয়াতে কজন সতীনের ঘর যেচে করতে চায়। আলোর মেয়ে হলো, মেয়ের নাম রাখলো নাতাশা, মেয়ের দুমাসে আলোর বড় শাশুড়ি ও স্টোক করে মারা গেলো। একটা সংসার আলোর চোখের সামনে তছনছ হয়ে গেলো। সাহেদা বেগমের চিন্তা অল্প বয়সী আলোকে নিয়ে কিভাবে থাকবে গ্রামে। আর যদি আলো ও চলে যায় তাহলে সাহেদা বেগমই বা কিভাবে থাকবে। আলোর মেয়ের দুবছর হতে চললো এই দু বছরে সাহেদা বেগম নিজে সবকিছু করেছে। আগের মত ধান করতে পারেনি, মাত্র এক বিঘা ধান করেছে, নিজে মাঠে গেছে কামলা নিয়ে। তাদের সাথেও ধান কেটেছে, এতে বাড়িতে ধানও বেশি আসতো। গোয়ালে দুটা গরু ছিলো বিক্রি করে দিয়েছে।
-গ্রামের মানুষ বলে একটা ছেলে দেখে মেয়েটাকে বিদেয় করো না কেনো? নয়তো মায়ের বাড়ি পাঠিয়ে দাও তোমার এত কিসের দায় গো, অন্যের মেয়েকে খেটে খাওয়ানোর? তোমার এক পেটের চিন্তা কি জামশেদ মিয়ার যা আছে এতেই তোমার চলে যাবে।
-সাহেদা বেগম তাদের বলে, আলো আমার মেয়ে আর মা মেয়েকে কিভাবে বিদায় করে দিবে!! আলো চাকরির চেষ্টা করছিলো একটা এনজিও থেকে সুপারভাইজার নিবে ইন্টার পাশে। তার আন্ডারে বিশটা স্কুল থাকবে স্কুল গুলা এনজিওর মাধ্যেমে চলবে এটা এনজিওর একটা সামাজিক পদক্ষেপ। আলোকে ভাইবার জন্য সিলেক্ট করা হলো। আলো খুব আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরলো কারন তারা একেবারে জয়েন্টের ডেট বলে দিয়েছে। বাড়ি ঢুকতেই বারান্দায় সাহেদা বেগম পড়ে আছে অজ্ঞান হয়ে, পাশে ওর মেয়ে খেলছে। আলোর পাগল পাগল হয়ে যাবার দশা সাহেদা বেগম ছাড়া তার আপন আর কে আছে। ডাক্তার এনে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে সাহেদা বেগমকে মেডিকেলে নিয়ে গেলো। তিনদিন পর বাড়ি ফিরলো ওর ননদেরা মেডিকেলে এসে দেখে গেলো।
-আলো বললো, মা তোমাকে আমি আর কিছু করতে দিবোনা আমরা উপজেলার কাছাকাছি বাসা ভাড়া থাকবো তাছাড়া আমার ও সুবিধা হবে।
-ঘরবাড়ি রেখে ভাড়া থাকবো? বাড়তি খরচ হবেনা?
-এখানে থেকেই কি এমন হচ্ছে মা? তাছাড়া ঈদের সময় তো আসবো ঈদ করতে।
তিনবছর পর আলোর প্রমোশন হলো ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর, আলোর মেয়ের বয়স ও পাঁচ বছর। আলোরা জেলা শহরে চলে আসলো বেলকোনি সহ একটা রুম বাথ, কিচেন তিন হাজার টাকা ভাড়া। খাওয়া দাওয়া মেয়ের স্কুল খরচ পোশাক আনুষঙ্গিক খরচ করেও কিছু টাকা বেঁচে যায়। টাকাগুলো জমিয়ে একটা একটা করে জিনিস কিনে। গতমাসে একটা ফ্রিজ কিনেছে। সেদিন আলো বাসায় ফিরে দেখে সাহেদা বেগমের কাছে দু বছরের একটা বাচ্চা।
-পাশের ফ্লাটেই ওরা থাকে, ওর বাবা মা দুজনেই চাকরি করে। এতদিন মেয়েটার মা ছিলো কয়েকদিন হলো চলে গেছে। কাল দেখা হলে গল্পে গল্পে বলল, একটা ভালো বিশ্বস্ত মহিলা হলে বাচ্চাটাকে রাখতাম। আমি আমার কথা বললাম। বলল কাকীমা তাহলে তো খুবই ভালো হয়। আপনার কাছে রেখে যেতে পারলে আমি নিশ্চিতে থাকতে পারবো। চার হাজার টাকা মাসে দিবো। নাতাশার স্কুল তো পাঁচ মিনিটের ওকে নিয়েই আমি নাতাশাকে আনতে যেতে পারবো। সারাদিন একা থাকি সময় কাটলো সংসারে কিছু আয় ও বাড়লো।
-হুম এইবার আসছো আসল কথায়, মোট কথা সময় টময় কাটানো উদ্দেশ্য না উদ্দেশ্য হলো সংসারে কিছু আয় হবে। মা তুমি সংসার সংসার সারাজীবন তো করলে, কি পেয়েছো সংসার থেকে? আগে তুমি নিজেকে তুচ্ছ মনে করতে, মনে করতে সংসারে তোমার অবদান নাই তুমি অপ্রয়োজনীয়। কিন্তু মা তুমি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তুমি জানোনা?
-জানি রে মা তুই আপত্তি করিস না। মা বলেই তো ভাবি।
– জানো মা চাচীরা বলতো শাশুড়িকে গিয়ে মা ডাকিস। কয়জন মেয়ে শাশুড়িকে মা ডেকে আমার মত শান্তি পায় বলো। কয়জন মেয়ে শ্বশুর বাড়ি গিয়ে একজন সত্যিকারের মা পায়। আমরা প্রিয়জন হারানোতে হা হুতাশ করি ভেঙে পড়ি কিন্তু আল্লাহ সর্বোত্তম কৌশলী পরিকল্পনাকারী। তোমার সন্তান নেই আমার মা নেই কিন্তু আমরা মা মেয়ে পেয়েছি। এর চেয়ে আর বড় নিয়ামত কি হতে পারে। তোমার ছেলে আমাকে না পড়ালে আজ আমি চাকরি করতে পারতাম না। তোমাকে নাতাশাকে নিয়ে কিভাবে বাঁচতাম। অনেক কিছু হারিয়েও আবার কিছু কিছু জিনিস পেয়েছি মা।
-শোনরে আলো, সন্তান যেমন মায়ের দায়িত্ব নিতে পারে একজন মা সর্বাঅবস্থায় দায়িত্ব নিতে জানে।
-ঠিক আছে যাও আমি হার মানলাম। আমরা দুজনে দুজনের দায়িত্ব নিলাম। এ সংসারের দায়িত্ব নিলাম।
-আম্মু? কিসের দায়িত্ব নিলে গো তোমরা?
-এই যে তোমার নানু আর আমি তোমার দায়িত্ব নিলাম।
-আচ্ছা! তাহলে নানু আর তোমার দায়িত্ব আমি নিলাম।
-ওলে আমার বুড়ি রে আচ্ছা মেনে নিলাম।
আমরা তিনজনে তিনজনের দায়িত্ব নিলাম। সাহেদা বেগম আলোর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো, নাতনিকে নিয়ে শুয়ে পড়লো, আলোও সাহেদা বেগমকে জড়িয়ে শুলো। সাহেদা বেগম একহাতে আলোর পিঠে হাত বুলায় আরেক হাতে নাতনির।
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত