ভাইরাল ভিডিও

ভাইরাল ভিডিও
আমার বউ সাদিয়া রেগে গেলে এতোটাই ভায়োলেন্ট হয়ে যায় যে তাকে থামানো কোনোক্রমে সম্ভব হয়না ৷ সে হাতের কাছে যা পায় সেটা দিয়ে আঘাত করা শুরু করে ৷ বিয়ের ৩ বছরের মধ্যে সাদিয়াকে মাত্র ৩বার ওরকম ভয়াবহভাবে রাগতে দেখেছি ৷ মূলত আমার দোষেই প্রতিবার সে রেগে গিয়েছিলো ৷ ফলস্বরুপ আমাকে সাদিয়ার হাতের বেদম পিটানি খেতে হয়েছিলো ৷ দূর্ভাগ্যবশত, আজকেও বউয়ের হাতে সেরকম বেদম পিটানি খেতে হলো ৷ ঝাঁড়ু দিয়ে আচ্ছামত আমাকে পিটালো ৷ পুরো পিঠ ব্যথা হয়ে আছে ৷ সাদিয়াকে একবার শুধু মজা করে বলেছি, “আমি আরেকটা বিয়ে করতে চাই, এক বউ দিয়ে আমার চলছেনা!”
ব্যাস, বউ ব্লাক-উইডোর রূপ ধারণ করে পিটানো শুরু করে দিলো ৷ এখন আমি বিছানায় উপর হয়ে শুয়ে বাচ্চাদের মত করে হাউমাউ করে কাঁদছি ৷ আর সাদিয়া সোফায় বসে কালনাগিনী সাপের মত ফোঁসফোঁস করছে ৷ সে এখনো হাত থেকে ঝাঁড়ুটা সরায়নি ৷ বোধহয় আরো কয়টা দিবে ৷ কিন্তু না, কিছুক্ষণ পর বউ রুম থেকে বের হয়ে গেলো ৷ ঘন্টাখানেক পর আমিও রুম থেকে বের হলাম ৷ আমার ছোট ভাই রনির সাথে কথা বলা জরুরি ৷ কারণ সাদিয়া যখন আমাকে পিটাচ্ছিলো তখন রনি তার ফোন দিয়ে কি যেনো করছিলো? চিন্তা হচ্ছে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি সে ভিডিও করলো কি না! রনির রুমে গেলাম ৷ রুমে ঢুকতেই দেখি সে পিসি অন করে কি যেনো করছে ৷ স্কিনে চোখ পরলো আমার ৷ সর্বনাশ! আমার মাথায় বাজ পরলো ৷ রনি সত্যি সত্যি আকামটা করে ফেলেছে ৷ বউয়ের হাতে মার খাওয়ার ঘটনাটা সে ভিডিও করেছে, শুধু তাই নয় ফেসবুকে ভিডিওটা ইতোমধ্যে আপলোডও করেছে ৷ এই মুহূর্তে সে ভিডিওটা ভিউ করে দেখছে ৷ এটা কি ছোট ভাইয়ের মত কাজ করেছে সে? রনিকে কষে একটা থাপ্পর মেরে বললাম,
-এটা তুই কি করেছিস গাধা? তুই মানুষ হবি কবে? রনি চেঁচিয়ে বললো,
-আমি ভালো কাজই করেছি ৷ তুমি কি করেছিলে মনে নেই? আমি সেদিন সিগারেট খাচ্ছিলাম, আর তুমি সেটা ভিডিও করে বাবা, মাকে দেখালে ৷ আর এর জন্য আমাকে বাবার হাতে অনেক মার খেতে হয়েছিলো ৷ আজ আমি এর বদলা নিলাম!
-আরে গাধা, তাই বলে ফেসবুকে আমাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যকার পারসোনাল ঘটনা আপলোড করবি? পুরো দুনিয়ার নিকট তোর ভাবী নেগেটিভভাবে প্রচার হবে সেটা কি ভেবেছিস? সবাই জানবে আমার বউ দাজ্জাল মহিলা, স্বামীকে মারধর করে!
-ভুল ধারণা, বাঙ্গালী জাতি নারীদের দোষ সহজে ধরেনা ৷ ভাবী নয়, দোষী তো তুমি হবে ৷ প্রথমত ভিডিওটি দেখে পুরুষ জাতি তোমাকে কাপুরুষ বলবে! এরপর তোমার দোষ বের করা শুরু করবে!
-তুই এক্ষণি ভিডিওটা ডিলিট কর!
-করবোনা ৷
-মাইর খাবি নইলে ৷
-ডিলিট করতে পারি, ৫০০ টাকা দাও!
রনিকে বাধ্য হয়ে ৫০০ টাকা দিতে হলো! সে ফেসবুক থেকে ভিডিওটা ডিলিট করে দিলো ৷ হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম! সাদিয়া ফেসবুকে ভিডিও আপলোডের কথা শুনে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালোনা ৷ যেকারণে চিন্তামুক্ত হলাম! মধ্যরাতে বউয়ের সাথে মনমালিন্যতা দূর হয়ে গেলো ৷ পরেরদিন অফিসে গেলাম ৷ দুপুরে মোবাইল নিয়ে একটু টিপাটিপি করছিলাম ৷ ইউটিউবে ভিডিও দেখতে দেখতে অকস্মাৎ, একটা ভিডিও চোখের সামনে চলে আসলো ৷ ভিডিওটার কভারের পিকচার দেখে আমি হতভম্ব! কারণ পিকচারটি আমারই ৷ আশ্চর্য, আমাকে নিয়ে কে ভিডিও বানালো? ভিডিওটা প্লে করে দেখতে পেলাম বউ আমাকে আচ্ছামত পিটাচ্ছে ৷ পুরো গা অবশ হয়ে গেলো এটা দেখে৷
ঢোক গিলতে লাগলাম ৷ এই ভিডিও ইউটিউবে কে আপলোড করলো? আমার সর্বনাশ করে ফেললো রে! ভিডিওটির নিচে লিখা আছে স্বামী মদ খেয়ে বাসায় এসেছিলো, ফলশ্রুতিতে স্ত্রীর বেদম পিটানি খাচ্ছে ৷ প্রত্যেক স্ত্রী যদি স্বামীকে বাজে কাজের শাস্তি দিতো তবে সমাজের কোনো স্বামী কিছুতেই স্ত্রীর উপর নির্যাতন করতে পারতোনা, এবং স্ত্রীর অধিকার বাস্তবায়ন হতো! এই লিখা পড়ে আমার বুকের ব্যথা বেড়ে গেলো ৷ মাথা ভনভন করে ঘুরতে লাগলো ৷ নিশ্চয় এ কাজটা আমার ছোট ভাইয়ের ৷ বদমাইশটা আমার মান ইজ্জত একদম শেষ করে দিলো! অফিসে মন টিকলোনা ৷ চলে এলাম বাসায় ৷ বাসায় এসে রেস্ট নিলাম ৷ সাদিয়া আমার নিকট এসে জানতে চাইলো এখনই কেন অফিস থেকে এলাম ৷ জবাবে বললাম শরীরটা ভালো নেই তাই চলে আসছি ৷ একথা শুনে বউ উচ্ছ্বসিত হয়ে বললো,
-তাহলে চলো আজ আমরা মার্কেট থেকে ঘুরে আসি!
শুরুতে অবচেতন মনটা মার্কেটে যেতে না চাইলেও পরে ভাবলাম বউয়ের মন রাখতে মার্কেটে যাওয়াই যাই ৷ মার্কেটে যাবার জন্য রেডি হতে লাগলাম ৷ সাদিয়া মার্কেটে গেলে বা বাইরে বের হলে বোরখা ছাড়া বের হয়না এবং তার পুরো মুখমন্ডলই ঢাকা থাকে ৷ এদিকে সে খুবই রক্ষণশীল ৷ সাদিয়া আজ নতুন একটি বোরখা পরে বের হলো ৷ আর আমি শার্ট প্যান্ট পরে নিলাম ৷ চললাম মার্কেটের দিকে ৷ বিকেল ৪টার দিকে মার্কেটে গিয়ে পৌঁছলাম ৷ পুরো ২ ঘন্টা ধরে বউয়ের পছন্দমত জিনিস কিনতে লাগলাম ৷ সে আমার জন্য টিশার্ট ও পাঞ্জাবী চুজ করলো, আর নিজের জন্য গহনা, কসমিটিক্স ও বাসায় পরার জন্য ওয়েস্টার্ন ড্রেস! সন্ধ্যা পর বাসায় ফিরে এলাম আমরা ৷ সাদিয়া তো সেইরকমের খুশি ৷ বাসায় ফিরে সে চুমুই চুমুই ভরিয়ে তুললো আমাকে ৷ পৃথিবীর এমন কোনো স্ত্রী নেই, যে স্ত্রী শপিংয়ের মাধ্যমে স্বামীর টাকা ফুরিয়ে আনন্দিত হয়না!
পরেরদিন শুক্রবার ৷ অফিস বন্ধ ৷ বিকেলে অবসর সময়ে ফোনটা হাতে নিয়ে ইউটিউবের ভিডিও দেখতে লাগলাম ৷ আচমকা, একটা ভিডিওর দিকে চোখ পরলো আমার ৷ ভিডিওটির কভার ফটোতে আমার ও বউয়ের ফটো ৷ বউ বোরখা পরে আছে ৷ এই ফটো দেখে সহজে বুঝতে পারছি যে ফটোটা গতকালকের ৷ আমরা মার্কেটে গিয়েছিলাম, কেউ হয়তো আমাদের দুজনকে দূর থেকে দেখেই ক্যামেরা করেছে ৷ ভয় কাজ করলো আমার ৷ না জানি ভিডিওতে কি কি দেখা যাবে? আপত্তিকর কিছু না হলেই হলো ৷ কাঁপা হাতে তীব্র কৌতূহল নিয়ে ভিডিওটা প্লে করলাম ৷ শুরুতে তীক্ষ্ণ কন্ঠস্বরে কেউ একজন বলে উঠলো, “সমাজের নারীগণ কতটা অবহেলিত ও নির্যাতিত সেটা আমরা সবাই জানি ৷ তবে আজ আমরা সমাজের প্রতিবাদী নারীর বৈচিত্রতা দেখবো ৷ তারা কিভাবে তাদের অধিকার রক্ষার্থে সংগ্রাম করে যাচ্ছে!”
এটা বলা শেষ হতেই স্কিনে দেখতে পেলাম গতকালকে আমরা যে শপিং কমপ্লেক্সে ঢুকে শপিং করেছিলাম, সেখানকার একটি শপের সামনে আমরা দাঁড়ানো ৷ এবং এটাই এখন ভিডিওতে দেখতে পাচ্ছি ৷ ভিডিওয়ের নিচে লিখা আছে এই চরিত্রহীন পুরুষটি কতটা নিকৃষ্ট দেখুন, তার একটা স্ত্রী থাকতে আরেকটা মেয়েকে নিয়ে ফূর্তি করছে ৷ যদিও এমন পুরুষ সমাজে অনেক আছে, তাদের শাস্তি হয়না ৷ কিন্তু আমরা আজ দেখবো এই চরিত্রহীনকে তার স্ত্রী কিভাবে শায়েস্তা করছে ৷ তার স্ত্রী সত্যিই সমাজের শ্রেষ্ঠ নারী ৷ স্বামীর বাজে চরিত্রের ব্যাপারটা প্রতিবাদী এই নারী টের পেয়ে মুখবুজে সহ্য করেনি, উল্টো ঝাঁড়ু দিয়ে তার লম্পট স্বামীকে পিটিয়েছে!
এরপর স্কিনে দেখতে পেলাম সেদিন রাত্রের সেই ঘটনার চিত্র ৷ আমার বউ আমাকে মারধর করছে সেটাই ধূর্তমান ইউটিউবার এই ভিডিওতে যোগ করেছে ৷ কিন্তু এই অজ্ঞাত ইউটিউবার এই ভিডিওটা পেলো কই? না কি এসব আমার ছোট ভাই রনির কাজ? আমার তো মনে হয়না সে এতোটা বাজে কাজ করবে! হয়তো ফেসবুক থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছিলো, আর আজকে এতোদূর পর্যন্ত এসেছে ৷ কি আর করবো আমি? তিঁল কে তাল বানিয়ে ফেলা হয়েছে, যা অপ্রত্যাশিত! মাথায় হাত দিয়ে চিন্তা করতে লাগলাম এ থেকে মুক্তি পাবো কি করে? গভীর চিন্তায় পরে গেলাম ৷ চিন্তা করতে করতে একসময় গেলাম ঘুমিয়ে ৷ অকস্মাৎ, ঘুম ভাঙ্গলো সাদিয়ার ডাকে ৷ সে বললো তার বাবা, মা আসছে ৷ গেলাম ড্রয়িংরুমে ৷ তারা আমার দিকে গরম চোখে তাকিয়ে রইলো ৷ মুখ একদম পোড়া ভাতের মত বানিয়ে রেখেছে ৷ বুঝলাম না তারা এভাবে রেগে আছে কেন? শ্বশুরকে বললাম,
-আব্বা, ওভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? মনে হচ্ছে আপনি আমার উপর রেগে আছেন? শ্বশুর আব্বা আমার নিকটে এলো ৷ এবং তার ফোনটা আমার হাতে ধরিয়ে দিলো ৷ ভিডিও চলছে তার ফোনে ৷ বুকটা কেঁপে উঠলো অস্বাভাবিকভাবে ৷ ইউটিউবে আপলোড করা আমার সেই সর্বনাশা ভিডিওটি শ্বশুরের ফোনে চলছে ৷ ভিডিওটা আমার একদম সর্বনাশ করে ছাড়লো ৷ বুঝতে পারলাম শ্বশুর আব্বা এসব বিশ্বাস করে নিয়েছে ৷ আমি অপরাধীর চেহারায় মাথা নিচু করে রইলাম ৷ শ্বশুর আব্বা বললো,
-মেয়েটা কে? জবাব দিলাম না! শ্বশুর আব্বা ফের বললো,
-আমার মেয়েকে বিয়ে করেছো ৩ বছর হলো ৷ অথচ, তুমি আরেকটা মেয়ের সঙ্গে ফষ্টিনষ্টি করছো লজ্জা করেনা? ভয় নেই তোমার? খবরদার! এমন ভুল আর দ্বিতীয়বার করোনা ৷ যা ভুল করার একবারই করেছো আর নয় ৷ যদি না শুধরাও তবে ব্যবস্থা নেবো ৷ তোমার হাত পা ভেঙ্গে রাস্তার কুকুরকে দিয়ে খাওয়াবো, যদিও ঢাকার কুকুর নিধন করা হচ্ছে ৷ আমার মেয়ে তো নরম মনের মানুষ ৷ একারণে সে তোমার ওরকম কাজের জন্য মাত্র দু চারটা ঝাঁড়ু মেরেছে ৷ তবে ভেবোনা, শায়েস্তা করবো আমি, যদি মানুষ না হও! সাদিয়া অবাক হয়ে বললো,
-আব্বু কাকে কি বলছো? অর্ণব কেন আরেকটা মেয়ের সঙ্গে ফষ্টিনষ্টি করবে? সে ওরকম না! শ্বশুর আব্বা জবাবে বললো,
-তুই চুপ কর ৷ আমি কি আমার চোখকে অবিশ্বাস করবো? স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি সে আরেকটা মেয়েকে নিয়ে মার্কেটে ফূর্তি করছে! ফোনে ভিডিও আছে দেখ! সাদিয়া আমার হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে দেখতে লাগলো ৷ সে ভিডিওটা দেখা শেষ করেই খিলখিল করে হাসা শুরু করলো ৷ সে হাসতে হাসতে ভেঙ্গে পরছিলো ৷ হাসি থামিয়ে একপর্যায়ে বললো,
-হায় আল্লাহ, একটা মাত্র ভুলের জন্য কত কি হয়ে গেলো ৷ আসলে দোষ তো অর্ণবেরই ৷ কিন্তু এতোকিছু হয়ে যাবে ভাবিনি ৷ আমার দেবর ভিডিটা না করলে আজ ইউটিউবে এটা ভাইরাল হতোনা! সাদিয়া থামলো ৷ এরপর শ্বশুরকে ভিডিও দেখিয়ে বললো,
-আব্বু, এই যে বোরখা পরা যে মেয়েটাকে দেখছো সেটা আমি ৷ নতুন স্টাইলের বোরখা এটা ৷ একারণে তোমরা আমাকে চিনতে পারছোনা ৷ ৷ গতকাল অর্ণব আমাকে মার্কেটে নিয়ে গিয়েছিলো ৷ কিন্তু মার্কেটের কে এই ভিডিওটুকু করলো বুঝতে পারছিনা! বিষয়টা আসলেই বড় আকার ধারণ করেছে! আমার উচিত হয়নি ঐরকম ভায়োলেন্ট হয়ে অর্ণবকে মারধর করা! আমার মাথা আগের চেয়ে তীব্র গতিতে ঘুরছে ৷ একটুও ভালোলাগছেনা ৷ আচমকা, আমার ফোনে কে যেন কল করলো ৷ অনিচ্ছা সত্বেও ফোন রিসিভ করলাম ৷ লাউডস্পিকার অন হয়ে গেছে হয়তো, যেকারণে ফোন রিসিভ করতেই জোরেসোরে কোনো এক নারীর কন্ঠস্বর কানে বাজলো,
-ওগো, তুমি কই? কবে আসবে আমার কাছে? কতদিন তোমার ভালোবাসা পাইনা ৷ তুমি শুধু তোমার প্রথম বউকে সময় দাও, আমাকে কবে সময় দিবে, বলো? আমার কথা কি একবারও মনে পরেনা তোমার? আমার মাথা আর মাথা নেই, লাটিম হয়ে গেছে; লাটিমের মত ভনভন শব্দ তুলে ঘুরছে ৷ সাদিয়া অগ্নিশর্মা হয়ে গেছে ৷ তার রক্তিম চোখদ্বয় আমার দিকে স্থির ৷ যেভাবে সে তাকিয়ে আছে বুঝতে পারছি আমার আর রক্ষা নেই ৷ বউ আমার দিকে তেড়ে আসলো ৷ নিশ্চয় কষে থাপ্পর মারবে ৷ সে আমার নিকট এসে ফোনটা হাত থেকে কেড়ে নিলো ৷ বাঁকা চোখে ফোনের স্কিনে নজর দিলো ৷ অকস্মাৎ, সে ফিক করে হেসে উঠলো ৷ অতঃপর হাসতে হাসতে বললো,
-এটা তো রনির নাম্বার ৷ কিন্তু রনির গলার স্বর মেয়েদের মত কেন? ফোন থেকে উচ্চস্বরে নারী কন্ঠস্বর ভেসে এলো ফের,
-ভাবী, আমি রনির গার্লফ্রেন্ড ৷ হবু ভাসুর সাহেব আমার ফটো দেখে রনিকে বলেছিলো আমি না কি বোকাসোকা মেয়ে, আমাকে দিয়ে সংসার হবেনা ৷ এও বলেছিলো আমি রনির যোগ্য নই ৷ সে না কি আমাকে রনির সঙ্গে দেখতে চাইনা ৷ ভাইয়ার এমন মন্তব্য আমার ভালোলাগেনি, সহ্য হয়নি ৷ তাই ভাইয়াকে বুঝিয়ে দিলাম আমি কেমন মেয়ে! আমার মুখ দেখে সে বোকা মেয়ে মনে করেছিলো, এবার ভেতরটা কেমন উপলদ্ধি করুক ৷ ও হ্যাঁ বলতেই তো ভুলে গেছি, আপনাদের যে দুটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেসব আমার প্ল্যান মোতাবেক হয়েছে! আমি যেভাবে যেভাবে বলেছি, রনি ঠিক সেভাবেই করেছে! আমি অজ্ঞান ৷ কেউ মাথায় পানি ঢালো ৷ আমার বউটাও কি অজ্ঞান হলো?
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত