স্ত্রী

স্ত্রী
“অফিসে এসে চেয়ারে বসতেই আমার স্ত্রীর কল।কল রিসিভ করলাম আমি।আজ বউয়ের কন্ঠ কেমন অস্বাভাবিক লাগছিল।খুব মলিন কন্ঠে বলে…
– অফিসে ঠিক ভাবে গিয়েছেন।দুপুরে সময় করে টিফিন খেয়ে নিবেন।
বিয়ের ৩ বছর হয়ে গেছে কিন্তু আমাদের ভালোবাসা একটুও কমে নাই।অফিসে পৌঁছানোর পর শুধু কল করে জিঙ্গাসা করছে পৌঁছেছি কিনা, কখনো বলে না দুপুরে খেয়ে নিবেন।বরং সে দুপুরেই কল করে বলতো খেয়েছি নাকি! কপাল ভাঁজ করে বলি…
– তুমি ঠিক আছো তো।
– হুম, আমি ঠিক আছি।আপনি সময় মতো খেয়ে নিবেন।বেশি রাত করে ফিরবেন না।তারাতারি আসার চেষ্টা করবেন।
– তুমি কিছু একটা লুকাচ্ছো।তোমার কন্ঠ অন্য দিনের থেকে আজ ভিন্ন রকম শুনাচ্ছে।তুমি কি অসুস্থ?
আমার প্রশ্নে তোতলাতে থাকে সে।আমতা আমতা করে বলে…
– একটু অসুস্থ।তুমি চিন্তা করো না।ঔষধ নিছি ঠিক হয়ে যাবো। দুপুরের টিফিন ব্রেকে বসের সাথে দেখা করি।আমাকে দেখতেই সে বসতে বলে।আমি অল্প নড়েচড়ে বসে বললাম…
– স্যার আজ একটু আগেই ছুটিটা পেলে খুশি হতাম।আমার স্ত্রী অসুস্থ।
– বুঝলাম না! আপনার স্ত্রী অসুস্থ আপনি বাসায় যেয়ে করবেন কি? স্ত্রীর সাথে কি হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবেন নাকি। কোনো কিছু না ভেবেই আমি “হ্যাঁ” বলে দিলাম।স্যার একটু মুচকি হাসলো।তারপর হাসি আটকে রাখার চেষ্টা করে বলে…
– আপনি কি জানেন আপনার এখনো প্রোমোশন হয় নায় কেন?
– জি স্যার কারণ আমি মাঝে-মাঝেই অফিস ছুটি নিয়ে থাকি।কোনো কোনো দিন অফিসে আসিই না।বেয়াদপি মাপ করবেন স্যার কিন্তু এটাই সত্য প্রতিটা মেয়েরই মাসে এমন একটা সময় যায় যখন তাদের কাজ করতে অসুবিধা হয়।সেই দিনটা তাদের একটু রেস্টের দরকার।
একটা মেয়ে কখনোই তার পরিবারকে ছেড়ে শুধু মাত্র দুই মুঠো ভাতের জন্য অচেনা একজনের সাথে সারা জীবন সংসার করতে আসেনা।বিয়ে মানে হলো জীবন সঙ্গী যাকে সারা জীবন নিজের পাশে পাওয়া যাবে।বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে মনোবল দেবে।বাবা মাও এক সময় শরীরিক ভাবে দূর্বল হয়ে যায়, তখন আপনি অসুস্থ হলে বাবা- মা সেবা করতে পারবে না।আপনার যেমন একজন খোঁজ নেবার মতো মানুষ দরকার, একটা মেয়েরও তেমনি একটা বিশ্বস্ত মানুষ দরকার যাকে বাঁকি জীবন বিশ্বাস করা যাবে। স্যার কোনো উত্তর খুঁজে না পেয়ে ছুটি দিয়ে দিলো।হাসি মুখে অফিসে থেকে বের হলাম।সংসার জীবনে মাসে কিছু দিন বউয়ের বদলে নিজে কাজ করলে সম্মান হানি হয় না বরং স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।বিয়ের আগে তো প্রতিদিন অফিসে যাবার আগে আর পরে কাজ করতে হতো এখন মাসে কয়েকটা দিন কাজ করলে ক্ষতি কি। এর কিছু দিন পর বউ সুুুুুস্থ ফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে চুড়ি পছন্দ করতেছিলাম।স্যার আমাকে দেখেই গাড়ি থেকে নেমে কাঁধে হাত রাখে…
– চুড়ি কিনছেন এগুলোও কি আপনার স্ত্রীর সাথে পরে সংসার সামলাবেন নাকি? কথাটা বলেই স্যার ‘হা হা” করে হেসে দেয়। আমি আবারও মৃদু হাসলাম।চুড়ি কিনেছি। দুই জোড়া, একটা বেগুনী আর অন্যটা গাঢ় নীল।অবাক চোখে তাকিয়ে বলে স্যার…
– এতগুলো চুড়ি আপনার স্ত্রী একদিনে পড়বে।অযথা টাকার অপচয় করছেন।
– সামান্য কিছু টাকা খরচে যদি সংসারে শান্তি আসে তাহলে একটু খরচ করলে কোনো ক্ষতি নেয়।উল্টো লাভ হবে।
ভ্রুকুঁচকে তাকায়।
– কিভাবে?
আমি এক জোড়া চুড়ি স্যারের হাতে ধরিয়ে দিলাম।আমতা আমতা করছিল।চুড়ি সম্ভবতো সে তার অফিসের একটা সাধারণ কর্মচারীর থেকে নিতে লজ্জা বোধ করছে।মুচকি হেসে বলি…
– সোনার রং হলো হলুদ।সোনার নেকলেস, সোনার চুড়ি একই জিনিস বার বার কিনে দিলে এক সময় বিরক্ত লাগা শুরু হয়।মাঝে-মাঝে ভিন্ন রকম কিছু ট্রাই করতে হয়।আপনি যদি এক মাস পর পর সাত রঙ্গের চুড়ির একটা একটা করে প্রতি মাসে দিয়ে থাকেন তাহলে আপনার কপাল খুলে গেলো।বউ খুশি তো সংসারে শান্তি।বাসায় গেলে প্রতিদিন নতুন নতুন আইটেমের খাবার। পর দিন সকালে অফিসে যেতে স্যারের রুমে দেখা করতে বলল।বুকের ভেতরের পানি শূন্য হয়ে গেছে।এবার বুঝি চাকরিটা গেলো নতুন চাকরি খোঁজার সময় হয়ে গেছে।স্যারের স্ত্রী মনে হয় কাঁচের চুড়িতে খুশি না।খুশি হবেই বা কেন, অফিসের বসের স্ত্রী বলে কথা।চেয়ারের বসতে বলে স্যার।হ্যান্ডশেক করে হাসি মাখা মুখে বলে…
– আপনার তো প্রোমোশন হয়ে গেলো।আপনাদের ভাবীকে কোনো দিন হাসি মুখে দেখেনি।কার আপনার বুদ্ধি কাজে দিয়েছে।দেখেন আপনার ভাবী আজ হঠাৎ এই প্রথম টিফিন বক্স দিয়ে গেলো।
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত