চিরকুট নাম্বার সতেরো

চিরকুট নাম্বার সতেরো
“অনুগ্রহ করে একপাশে গিয়ে বসুন। আপনি এভাবে ভেঙ্গে পড়লে কী হতে পারে জানা আছে? কান্নাকাটি করবেন না।” এক অচেনা ডাক্তার কথাগুলো বলে পাশকাটিয়ে চলে গেল। ডেলিভারি রুমে তাবাসসুম একা, অচেনা কয়েকজন নারী ডাক্তার আর নার্সের কাছে রয়েছে। অনেক অনুরোধ করার পরেও তারা আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। তাদের হাতে পায়ে ধরে বলেছি যে শুধু একটু দেখেই বের হয়ে যাবো। কিন্তু তারা ঢুকতে দেয়নি আমায়। তাবাসসুমের এতো কান্না আমার কোনভাবেই সহ্য হচ্ছে না। অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মতো কুঁজো হয়ে ফ্লোরে বসে পড়লাম। আমার যে আর কিছুই করার নেই। বারবার তাবাসসুমের কথা মনে পড়ছে, কেন জানি ভয়ে শরীর শীতল হয়ে যাচ্ছে। তাবাসসুম সবসময় বলতো, “মনে করো অনেক ডিপ্রেশনে আছো, এমন সময় আমিও তোমার পাশে নেই। তখন চোখ জোড়া বন্ধ করে আমাকে কল্পনায় আঁকবে, দেখবে সব ডিপ্রেশন উড়ে গেছে।” এই কাজ টাই বাকী রইলো এখন।
লেখাপড়া অবস্থায় কখনো প্রেম নিয়ে কল্পনা করিনি। সবসময় এগুলো এড়িয়ে চলতাম। এই নিয়ে বন্ধুবান্ধব অনেক কিছুই বলতো। কেউ বলতো আমি অহংকারী টাইপের ছেলে। আমার দ্বারা এসব হবে না। আর কেউ কেউ বলতো আমার এমন অনেক কারণ আছে যার কারণে কোনো মেয়ের সাথে আমার রিলেশন টিকবেই না। প্রায় সময় বলতো এসব। কানে নিতাম না। একদিন সকলের সামনে এই কথা বলাতে প্রচুর রাগ হলো। বললাম, “কী এমন কারণ আছে যে কোনো মেয়ের সাথে রিলেশন টিকবে না। তুই কী বলতে চাস আমার কোনো দোষ বা সমস্যা আছে? বল, তাড়াতাড়ি বল।”
সেদিন অনেক খেপে গিয়েছিলাম। এক কথা আর কয়বার সহ্য করা যায়, সহ্যের তো একটা লিমিট আছে। তারপর সে বলল, “তুই সন্দেহ করিস। মেয়েরা এসব পছন্দ করে না। একদমই না।” তার কথার প্রতুত্তরে কিছুই বলিনি৷ বলার কিছুই নেই। সন্দেহ জিনিসটা আমার বেশ রয়েছে। চাকুরীতে জইন দেওয়ার পরে দিনকাল ভালোই কাটছিলো। বোনের বিয়ে বড় ভাই দিয়ে দিয়েছিলো অনেক আগেই। আমার তেমন কিছুই করতে হয়নি পরিবারের জন্য। যা করেছে ভাইয়া করেছে। অফিস থেকে ফেরার পরে সেদিন ক্লান্ত শরীর নিয়ে গেইট খুলতেই দেখলাম আপুরা সব বাড়িতে। সবাই ব্যস্ত নানান কাজে। ভাবীর সাথে আমার সম্পর্ক বেশ ভালো। ভাই বোন সম্পর্ক আমাদের মধ্যে। আমি ভাবী না ডেকে মাঝেমধ্যে আপু ডাকতাম বলে বাড়ির মুরব্বিরা চোখ রাঙ্গিয়ে দেখতো, তাতে আমি কান দিতাম না।
ভাবীর কাছে যেতেই ভাবী বলল, “আজকে তাবাসসুমের আব্বু এসেছিলেন। আব্বু আর তোমার বড় ভাইয়ের সাথে কথা বলেছে। আগামীকাল সকাল সকাল আমরা বেড়িয়ে পড়বো আপুরা সহ তাবাসসুমকে দেখতে। এইজন্য ঘরে এতো মেহমান।” ভাবী কথাগুলো বলেই রান্না ঘরে চলে গেল। তাবাসসুমকে অবশ্য ভাবী আপুরা সহ বাড়ির সকলেই চিনে, তারপরও তারা আবার দেখতে যেতে চাচ্ছে কেন বুঝতে পারছি না। ড্রয়ার থেকে তাবাসসুমের দেওয়া শেষ চিরকুটটা হাতে নিয়ে বসলাম। “চিরকুট নাম্বার সতেরো।”
তাবাসসুমের সাথে আমার পরিচয় ঘটে আজ থেকে বছর সাতেক আগে। তার চাচাতো ভাইকে পড়াতে যেতাম। যৌথ ফ্যামিলি হওয়াতে তাবাসসুমের সাথে প্রতিদিনই দেখা হতো। সে তখন দশম শ্রেণীর ছাত্রী। মাঝেমধ্যে রসায়নের বিক্রিয়া জানতে আসতো কালারিং কলমের দাগে ভরপুর বইটি হাতে নিয়ে। আমি যখন বিক্রিয়া বোঝাতাম তখন দেখতাম সে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো। তার তাকানোটা ছিলো অদ্ভুত টাইপের। চোখের পলক অবধি ফেলতো না। সে যখন অনার্স ফাস্ট ইয়ারে তখন আমি চাকুরিতে জইন দেই। শেষদিন যখন পড়াতে গিয়েছিলাম সেদিন তাবাসসুম প্রায় কেঁদে দেয়। তার কান্নার কারণ অবশ্য আমি জানতাম তবে এইসবের প্রতি কেন জানি ইন্টারেস্ট ছিলো না। পাশের রুম থেকে তার কান্নার আওয়াজ আমার কানে আসছিলো কিন্তু কিছুই করার ছিলো না।
তাদের বাসা থেকে বের হয়ে আসার সময় দেখলাম একটা চিরকুট দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েছে হুট করে। চিরকুটটা নিয়েই হাঁটা দিলাম বাড়ির দিকে। পেছন ফিরে তাকানোর ইচ্ছে নেই। সে দৌড়ে কেন চলে গেছে তা আমার জানা। নিশ্চয় এতক্ষণে ছাদে পৌঁছে গেছে। তাদের ছাদ থেকে অনেক দূর অবধি দেখা যায়। এই ধরুন আমার সাত মিনিটের রাস্তা। সে আমাকে যতক্ষণ আড়াল হতে দেখবে না ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে। এই যে তার ছাদে উঠা, দাঁড়িয়ে থাকা এসব বিষয়ে জেনেছি বছর তিনেক আগে। তাও আমার ছাত্র থেকে। সে নাকি রোজ এভাবেই আমার গমন পথে তাকিয়ে থাকে। কয়েকবার লক্ষ্য করে দেখেছি বিষয়টি আসলেই সত্য। বাসায় এসে চিরকুটটা খুলে দেখলাম। “চিরকুট নাম্বার সতেরো। আমি জানি, এই চিরকুটের প্রতুত্তর আমি পাবো না। তাও দিলাম। ভালো থাকবেন। মনে রাখবেন এই তাবাসসুম আপনার অপেক্ষায় রবে সারাজীবন।
ইতি,
তাবাসসুম।”
তাবাসসুম আমার উপর দূর্বল ছিলো এটা জানা সত্বেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি কখনো। তার চিরকুট গুলো বেশ যত্নে রেখেছি ড্রয়ারে সাজিয়ে। তাবাসসুমকে বেশ ভালো লাগতো। তার কথাবার্তা, চালচলন সবই ভালো লাগতো। তবে এটাকে শুধু ভালো লাগাতেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করতাম সর্বদা। এর চেয়ে বেশি কিছু ভাবতাম না। তার একেক চিরকুট একেক ধরনের ছিলো। কোনো সময় আমার প্রশংসা করেছে আবার কোনো সময় আমার হাতঘড়ির সুনাম লিখেছে। কয়েক চিরকুটে তার অনুভূতি বোঝানোর চেষ্টা করেছে। সপ্তম বার যে চিরকুট দিয়েছিলো তাতে লিখা ছিলো, “চিরকুট নাম্বার সাত। আপনার হাতঘড়িটা খুবই সুন্দর। আপনার কথাবার্তা, আচার আচরণে আমি মুগ্ধ। আমি আপনার সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি। আচ্ছা! তাবাসসুম কে কী আপনার সাথে নিয়ে যেতে পারবেন? একদম অজানা কোনো জায়গায় বিয়ের বন্ধনে জড়িয়ে। সত্যি বলতে তাবাসসুম আপনাকে ভালোবাসে।
ইতি,
তাবাসসুম।”
ভাবীর সাথে তাবাসসুম ফোনে প্রায় কথাবার্তা বলতো। আমার ব্যাপারে জানবার চেষ্টা করতো। ভাবী অনেকবার বলেছে যেন তার সাথে অন্তত একটু কথা বলি। কিন্তু আমার তা ইচ্ছে করতো না। তার প্রেমে আমিও পড়েছিলাম তবে তা কাউকেই বুঝতে দেইনি। এমন কি তাবাসসুমকেও না। আমার ভয় হতো। খুব ভয় পেতাম সম্পর্ক নিয়ে। হারিয়ে ফেলার ভয়।
কলেজ জীবনে এক বন্ধুর রিলেশনের গল্প শুনতে শুনতে আমার দিন কাটতো। অনেক কথা বলতো সে আমাকে। মাঝে মাঝে ভাবতাম, “প্রেম কী এতো সুন্দর! তবে আমাকে ছুঁয়ে দেয়না কেন!” খুব কাছ থেকে তাদের ভালোবাসা দেখেছি। একদিন সকালে খবর পেলাম ওই বন্ধুটি আত্মহত্যা করেছে। তার সঠিক কারণ জানিনা। সে আমাকে এই ব্যাপারে কিছুই বলেনি। তবে সেদিন থেকে কেমন জানি খারাপ লাগতে শুরু করে এই প্রেম নামক মরীচিকা কে। এর অবশ্য কারণ আছে। বন্ধুর আত্মহত্যার পরে দেখেছিলাম তার ভালোবাসার মানুষটি অনেক কেঁদেছে। কিন্তু মাস ছয়েক পরেই দেখলাম মেয়েটি বিয়ে করে নিয়েছে মা বাবার দেখা পাত্রের সাথে। এই জিনিসটা মেনে নিতে পারিনি। অবশ্য একজনের জন্য অন্যজনকে একাকী জীবন কাটাতে হবে তাও না। তবে ভালো লাগে নি। কেমন যেন মনে অদ্ভুত কিছু ভাবনা আসতো।
সেদিন রাতে কোনো একটা বই পড়ছিলাম। নামটা ঠিক মনে নেই। ভাবী এসে বলল, “তাবাসসুম তোমার সাথে কথা বলতে চায়। সে কিছু জানতে চাচ্ছে। এই নাও, অন্তত আজকে হলেও কথা বলো। আগামীকাল তো তাদের বাসায় যাবো।” ভাবীর হাত থেকে মোবাইল নিয়ে কানে দিলাম। “হ্যালো” বলার সাথে সাথেই যেন ওপাশ থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসলো। কান্নার আওয়াজ এতোই তীব্র ছিলো যে ভাবী কী মনে করে যেন হুট করে সরে পড়েছে।
একটু পরে চোখে হাত রাখতে গিয়ে দেখলাম আমার চোখজোড়া থেকে বৃষ্টির ন্যায় কিছু নোনাজল মুখ বেয়ে নেমে যাচ্ছে। বেশ অবাক হলাম, নিজেকে হয়তো তাবাসসুম থেকে আটকে রাখতে পেরেছিলাম তবে ভেতরটা যেন পুড়ে যাচ্ছিলো। শেষমেশ কান্নার আওয়াজ শীতল করে তাবাসসুম বলল, “আমি জানি আপনার আমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না। তাও বিরক্ত করলাম। আমাকে শেষবার বলুন, আপনি কী এই বিয়েতে রাজি?” চুপ করেই বসে রইলাম বেশ সময় ধরে। নিজেকে স্বাভাবিক করে বললাম, “সমস্যা থাকলে বুঝি বিয়ে ক্যানসেল করে দিবে!” কথাটা শোনা মাত্র তাবাসসুম হেসে ফেললো। তার হাসির শব্দটা যেন বুক ছেদ করে একদম ভেতরে গিয়ে আঁটকে গেছে। সেদিন অনেক কথা হলো তাবাসসুমের সাথে। তার কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে যেন তার সাত বছরের আশা পূর্ণ হয়েছে।
তাবাসসুমকে বিয়ের পরে থেকে এই দেড় বছর বলে যাচ্ছি আমাদের বাচ্চা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং এতিমখানা থেকে দুইটা বাচ্চা আনবো যারা সমাজ হতে বঞ্চিত। যাদের বেড়ে ওঠার জন্য কোনো ভালো ছায়া প্রয়োজন। কোনো রকমেই তাবাসসুমকে এটা মানানো যাচ্ছে না। তার নিজের বেবিই চায়, এতেই নাকি তার নারীত্বের স্বাদ মিটবে।
কিন্তু আমার ভয় হতো। প্রচুর ভয় কাজ করতো মনের ভেতর। একটা রাত কাটিয়ে ছিলাম কলেজ লাইফে চট্টগ্রাম মেডিকেলে। সেদিনই বুঝতে পেরেছিলাম একটা সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে মেয়েদের কতো কষ্ট করতে হয়। এতো বেদনা কীভাবে সহ্য করতে হয়। এক রাতেই অনেক মায়ের মৃত্যু দেখেছি। সেদিন যেন কলিজাটা শুকিয়ে গেছিলো। দেখেছি একজন মেয়ে সন্তান প্রসব করতে গিয়ে কীভাবে নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
রাতের শেষভাগে দেখেছি অনেক মৃত্যু। বাচ্চা সুস্থ তবে মা বেঁচে নেই। অথবা মা আছে তার বাচ্চা বেঁচে নেই। এসব দেখে সেই রাত্রে খুব কেঁদেছি। কেন জানি বারবার মায়ের কথা মনে পড়ছিলো। সেই রাতের কথা ভুলবার মতো নয়। তাবাসসুমকে এতো বোঝানোর পরেও কোনো কাজে আসলো না কোনো কথা। তার একটা বেবি চায় ই। সে জোর গলায় সেদিন বলেছিলো, “সাতটা বছর আমাকে তিলে তিলে কষ্ট দিয়েছ। কখনো মনেও করনি যে তোমার আমাকে বলা একটি শব্দ আমার কতোটা ভালো লাগাবে। দেখো, আমি সব বুঝতে পেরেছি যে তোমার ভয় হচ্ছে আমার কিছু হয়ে যাবে এই ভেবেই তো! যদি আমার হায়াত আল্লাহ রাখে তো জীবনেও কেউ আমাকে তোমার থেকে আলাদা করতে পারবে না। এতো চিন্তা করিওনা তো! আল্লাহ যা করবেন ভালোর জন্য করবেন।”
আমি চুপ থেকে বলেছিলাম, “আমার বেবি লাগবে না।” আমার অবস্থা দেখে তাবাসসুম শুধুই বললো, “আচ্ছা, এই টপিক এখন বাদ দাও তো!” পাশের বাসার ভাবীর বেবি হয়েছে শুনে তাবাসসুমের খুশি দেখে আমি হতবাক হয়ে গেছিলাম সেদিন। তাবাসসুমকে এমন খুশিতে আরেকবার দেখছিলাম যেদিন আমার সাথে তার প্রথম কথা হয়েছিলো। ভাবতে লাগলাম আসলেই তো তাবাসসুমকে নারীত্বের স্বাদ বুঝতে দেওয়া উচিত। আমার ভুল ধারণার জন্য বেবি না নেওয়া ঠিক হবে না। তাবাসসুমের সাথে কথাটা শেয়ার করতেই যেন সে হাতের কাছে তারা পাওয়ার মতো খুশিতে জড়িয়ে ধরলো আমায়। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন সে বিজয় লাভ করেছে কোনো যুদ্ধে। সেই আনন্দে আত্মহারা।
অফিসে না যেতে চাইলেও তাবাসসুম বলল, “আরে সমস্যা নাই, এতো ভয় পেতে হবে না তো! পনেরো দিন তো ছুটি কাটিয়েছ। এসব শুনলে কিন্তু লোকে হাসবে। বউ পাগলা বলবে কিন্তু।” কথাটা বলেই তাবাসসুম হাসতে শুরু করে দিলো। তার হাসিতে একটা মায়া খুঁজে পাই যা আর কোথাও নেই। অদ্ভুত হাসি। তাবাসসুম যখন হাসে তখন তার গালের দুইপাশে যে টুল পড়ে তার প্রেমে পড়ি আমি বারবার। বারবার তার ওই হাসির প্রেমে পড়তে আমার ভালো লাগে। তাবাসসুম হাসি থামিয়ে আবার বলল, “কোনো কাজেই তো ডেকেছে হয়তো। যাবা আর কী শুনে চলে আসবা। এইতো হয়ে গেল কাজ। আচ্ছা আর দেরি করো না, যাও এখন।” অফিসে যাওয়ার ঘন্টা দুয়েক পরে তাবাসসুমের কলে বাসার দিকে রওনা দিলাম। কীভাবে যে পৌঁছেছিলাম তা কেবল আমিই জানি।
নার্সের ডাকে ভাবনার জগত থেকে বের হয়ে আসলাম। চোখজোড়া খুলতেই দেখলাম নার্স এবং ডাক্তার দাঁড়িয়ে আছে আমার সামনে। নার্সের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ডাক্তার আমাকে বলল, “আমরা দুঃখিত স্যার, এতো চেষ্টার পরে-ও আপনার বউকে বাঁচাতে পারলাম না।” বাচ্চার ব্যাপারে কিছুই জানিনা আমি। হয়তো তারা বলেছে কিন্তু আমার কান অবধি আওয়াজটা পৌঁছায়নি। তবে ডাক্তারের মুখ থেকে প্রথম বাক্য শোনার পরে কেমন জানি লাগতে শুরু করলো। চোখ জোড়া ঝাপসা হয়ে আসতে শুরু করলো। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ডাক্তার আর নার্সকে কেন জানি ঘোলাটে লাগছে, ঝাপসা টাইপ। মনে হচ্ছে আমি এক জায়গায় বসে আছি আর তারা বেশ গতি নিয়ে কোথাও যেন উধাও হয়ে যাচ্ছে ধোঁয়ার ন্যায়।
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত