শেষ

শেষ
রিজওয়ান বসে আছে ইনডিয়ান স্পাইসি’র একেবারে জানালার ধারের টেবিলটায়। তার সামনে বসে আছে আরও দুজন! একজন মধ্য বয়সী মহিলা, আরেকজন বর্ণনার বাইরে সুন্দরী তরুণী! সুন্দরী তরুণীর নাম ‘মৌমি’! মধ্য বয়সী মহিলা, ইনি সম্পর্কে মৌমির ফুফু হন। তিনি অসম্ভব রেগে আছেন। একটু পরপর আইস কিউব দেয়া পানি অর্ডার করে আনছেন এবং তা থেকে এক চুমুক দিয়েই মুখ কুঁচকে বলছেন,
-“এই পানি তো গরম! আরো ঠান্ডা পানি দরকার।”
তাঁর রাগের কারণ রিজওয়ান। নিজে ঠান্ডা পানি খাওয়া ছাড়াও তিনি মৌমি’কে বলছেন, -“তুই চিন্তা করিস না মৌ, আমি এই ছেলেকে সাইজ করে ছাড়বো। এর ঘাড় মাথা মটকে আমি একে সোজা করে দিবো। আজন্ম আর এরকম করার সাহস করবে না। তুই মাথা গরম করিস না মৌ!”  রূপবতী তরুণী ফুফুর সান্ত্বনা শুনছে না। সেও রেগে আছে এবং তাঁর রাগ ক্রমেই বাড়ছে। রাগে তাঁর গাল দুটো গোলাপি হয়ে গেছে, ডান গালের কালো তিলটাও গোলাপী হয়ে গেছে। এমনকি, তাঁর পরনের হলুদ শাড়িটাও রাগে গোলাপি হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে! রিজওয়ানের হঠাৎ মনে হলো, একটু পরে মেয়েটার সামনে রাখা কফিটাও গোলাপি হয়ে যাবে। রিজওয়ান অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলো কখন কফিটা গোলাপি হবে সেটা দেখার জন্য! ততক্ষণে রাগী ভদ্রমহিলার ড্রাইভার আবার এসে পাশে দাঁড়িয়েছে। সে কাঁচমাঁচু মুখে বললো,
-“হুভা’য় ফোন ধরতাছে না হুভু! বড় জেডাও ফোন ধরে না। হুভু এক কাম করি, দুদকে ফোন দিয়া দেই। তারা আইসা এই চিটাররে ছেঁচা দিক। এই নেন হুভু, দুদকের জরুরি নাম্বার….”
-“আমি এখন দুদকে ফোন করবো?”
“-হ হুভু! এইডাও তো এক প্রকারের দুর্নীতি! জামাই’র বদলে আইছে জামাই’র বন্ধু। এইডা হলো জামাইবদল দুর্নীতি।”
-“তুমি আমাকে দুর্নীতি শেখাচ্ছো? এই শায়েনা চৌধুরীকে ড্রাইভার সালাম দুর্নীতি শেখায়?”
-“জে না হুভু। আমি কিছু শিখাই না হুভু!” রাগী ভদ্রমহিলা এবার আরো রেগে গেলেন।
-“হুভা, কি? হুভু কি? দুনিয়ার সব কথা তুমি ঠিকঠাক বলতে পারো, সালাম। আর ফুফা, ফুফু! এই সহজ দুটো শব্দ তুমি বলতে পারো না, ফাজলামো?” সালাম মাথা নিচু করে বললো,
“-সরি হুভু! হুভু ডাইক্কা লয় হইয়া গেছে তো ফুফু এবার রূপবতীর দিকে তাঁকালেন।
“-মৌ, তুই এক্ষুনি এই হাঁদাটাকে একটা চড় মার! এক্ষুনি মৌ মুখ ফিরিয়ে বললো,
-“আমি পারবো না ফুফু!”
-“পারবি না মানে, একটা সামান্য চড় তুই মারতে পারবি না?”
-“চড় মোটেও সামান্য ব্যাপার নয় ফুফু। চড় অনেক বড় ব্যাপার!”
-“এত বেয়াদব হয়েছিস তুই! একটা চড় মারার জন্য কি তোর পা ধরে আরজি পেশ করতে হবে? তুই দেখতে পাচ্ছিস না, গাধাটা আমায় একাধারে হুভু ডাকছে। আমি কি এই বেয়াদবি দেখার জন্য এখানে এসেছি!”
-“বেয়াদবির তো কিছু নেই ফুফু। আমার চড় মারতে ইচ্ছে করছে না। তোমারও তো হাত আছে, তুমি মারো!”
-“তোর এত বড় সাহস! তুই আমার মুখে মুখে কথা বলিস!তুই জানিস, আমার হাতের সমস্যা। হাত উপরে তুললে ঘাড়ের রগে টান পড়ে, তাও তুই চড়টা মারবি না?”
-“আমি কেন সালামকে চড় মারবো? সে তো আমাকে হুভু বলেনি! তোমাকে বলেছে, সো লজিক্যালি দেখতে গেলে চড়টা তোমার হাত থেকেই হওয়া উচিত।” ফুফু আরো চিৎকার দিয়ে উঠলেন।
-“আমাকে লজিক বুঝাস তুই! এই শায়েনা চৌধুরী তোর লজিকের ধার ধারে না। সাপের পাঁচ পা দেখেছিস! মুখে মুখে তর্ক!”
-“মুখে মুখে তর্ক না ফুফু! এত রেগে যাবে না তো!” রিজওয়ান এবার নিজে থেকে বললো,
-“সামান্য চড়’ই তো ফুফু! আপনি কিছু মনে না করলে আমি সালাম সাহবকে চড় দিই?” সালাম অগ্নিমূর্তি ধারণ করলো।
-“চড় মারলে আমার হুভুয়ে মারবো! আপনের চড় আমি মানবো না। হুভা আইয়া সারলে দেইখেন কয়শো চড় আপনেরে মারে চিটারি আপনার *** দিয়া বার করবো।” সালাম গাল নিচু করে ফুফুর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো,
-“হাত উপ্রে তুলোন লাগদো না হুভু। নেন চড় মারেন।আপনের ঘাড়ের রগের কোনো খেতি হইবো না, ইং শা আল্লাহ্।” ফুফু চড় মারলেন, তবে মৌমিকে! চড় খেয়ে মৌমির কোনো বিশেষ ভাব বদল দেখা গেল না। মনে হলো, এমন চড় খেয়ে সে অভ্যস্ত। খুব স্বাভাবিকভাবেই চোখের কাজল ঠিক করলো, কফি নিয়ে তাতে চুমুক দিলো। সালাম আহত গলায় বললো,
-“আপা বেদনা কেমুন পাইলেন?” ফুফু সাথে সাথে সালামের গালে একটা চড় মারলেন। সালাম এবার আরও বিষন্ন গলায় বললো,
-“হুভু এত চড়াচড়ি করবেন না। ঘাড়ের রগে জোরে টান পড়লে সিধা ইশটোক! ঘাড়ের রগের ইশটোক মানে আজীবন লোলা। আমার বড় খালু করলো ঘাড়ের ইশটোক। বেরেইন নষ্ট, অহন জবানও বন্ধ। মুখ দিয়া খালি লোল পড়ে. ফুফু রাগে কাঁপতে কাঁপতে বললেন,
-“মৌ, এক্ষুনি তুই তোর বাবাকে ফোন দে, যাস্ট নাউ। এই গাধাটাকে যাতে পাঁচমাসের এডভান্স দিয়ে চাকরি থেকে বিদায় করে.. ফোন দে!”
-“ফোন দিয়ে বললে তো হবে না ফুফু। ডিরেক্ট বলতে হবে। বাসায় গিয়ে বরং বলি। হাতে হাতে টাকা দিয়ে দিলেন… প্লিজ ফুফু..” ফুফু নিজেকে সামলানোর আরাণ চেষ্টা করছেন। তাঁর নিজেকে ঠান্ডা রাখতে হবে। চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। আগে এই রিজওয়ান ছেলেটার ব্যবস্থা করা দরকার। সালাম মৌমি’র পাশের চেয়ারে বসে পড়লো। চাকরি চলে যাবে শুনে তারও কোনো মুখাবয়বের পরিবর্তন হলো না। সে মহাউৎসাহে জিজ্ঞেস করলো,
-“আপা, কফি কেমন? আমিও খামু এক কাপ!” মৌমি ওয়েটার ডেকে কফি বললো আরেকটা।
-“আপা, মনে দুঃখ নিয়েন না। গরীবের চড় নিজের গায়ে নিছেন, স্বয়ং মাবুদ আপনের জীবনের সব চড় মুছায় দিবেন। আপা দুখ কেমন পাইছেন?” মৌমি সালামের কথার জবাব দিলো না। রিজওয়ানের দিকে স্ট্রেইট তাকিয়ে বললো,
-“আপনি কি জানেন, আপনার বন্ধুর সাথে এটাই আমার প্রথম দেখা হবার কথা ছিল?”
-“জি না।”
-“এই যে বিয়ের কথাবার্তা ঠিক হওয়া পর্যন্ত আমরা কেউ কাউকে দেখিনি, কথা বলিনি… জানেন সেটা?”
-“জি না।”
-“এই যে আপনি হলুদ শার্ট পরে এলেন, এটাও কি আপনার বন্ধুর বুদ্ধি?”
রিজওয়ান জবাব না দিয়ে খুকখুক করে কাশলো। হলুদ শার্টের আইডিয়া অবশ্য সরোয়ারের। সরোয়ারই বললো, “দোস্ত হলুদ শার্ট আর অফ হোয়াইট প্যান্ট পরে যাবি। হাতে থাকবে নয়টি হলুদ গোলাপ।” রিজওয়ান হলুদ গোলাপ পায়নি, পাঁচটি লাল গোলাপ নিয়ে এসেছে। সেগুলো মৌমিকে দেয়ার সাহস হয়নি। যে মেয়ে গোলাপের চেয়েও সুন্দর, তাকে গোলাপ দেয়া যায় না। তাকে দিতে হয় নাম না জানা বুনোফুল। এতে গোলাপের অপমানও হলো না, সুন্দরীরও মান থাকলো।
-“আমি অনেক কষ্ট করে আপনার বন্ধুর জন্য আলাদা করে একটু সময় বের করে এসেছি। দুদিন পর আমাদের বিয়ে! আর সে কিনা নিজে না এসে আপনাকে পাঠালো? তাও একটা ফোন পর্যন্ত করলো না?”
-“সরোয়ার আসলে আপনাকে ফোন করার সাহস পায়নি! বেচারা আমাকে…”
-“আমি তো আপনাকে প্রথম সারোয়ার ভেবেছি। আপনি নিজে থেকে নাম না বললে তো ফুফু কথা শুরু করলেন মাঝখানে।
-“শোনো ছেলে, তুমি যদি ভেবে থাকো যে তোমাকে আমি এমনি এমনি ছেড়ে দেবো, তাহলে তুমি ঘোড়ার ডিম ভেবেছো। আমি তোমাকে এমনি এমনি ছেড়ে দেবো না। মৌলভীবাজারের এস পি, আসাদুল, আমার ডট ক্লাসমেট। আমরা একসাথে ভাইভা দিয়েছি। ও’র হলো পুলিশ ক্যাডারে, আমার হলো প্রশাসনে।” ফুফু এবার রিজওয়ানের দিকে একটু ঝুঁকে এলেন।
-“মাত্র একটা ফোন করবো, মাত্র একটা ফোন দশদিনের রিমান্ডে চলে যাবে তুমি! বুঝলে এখন শুধু পিউ’র বাবা ফোনটা ধরছে না বলে…”
-“দেখুন ফুফু, আমি কিন্তু ইচ্ছে করে কিছু করিনি। আসলে সরোয়ার বললো, একটা এপয়েনমেন্ট আছে, সেখানে আমার বদলে তুই চলে যাবি, ব্যস! আমি সত্যিই জানতাম না, এখানে পাত্রী দেখার কোনো কারবার আছে..”
-“এই ছেলে কারবার কি? কারবার কি? আমার ভাইঝিকে তুমি কারবার বলো? তোমার চোরা বন্ধুর মা পছন্দ করে আংটি পরিয়ে দোয়া করে গেলেন মৌ’কে। আর সে কিনা নিজে না এসে তোমাকে পাঠিয়ে দিলো? হবু বউকে মিট করতে বন্ধু পাঠিয়ে দিলো? তাও প্রথমবারে…”
-“ও আসলে একটা প্রবলেমে পড়ে আমাকে বললো বিশ্বাস করুন”
-“তোমাকে বললো, আর তুমি চলে এলে? ধারি বলদ ছেলে! ধেঁই ধেঁই করে বন্ধুর বউয়ের সাথে ফস্টি নস্টি করতে চলে এসেছো! আমি তো জানি এখনকার ছেলেরা যে হাড়বজ্জাত! এজন্যই তো মৌ’কে আমি একা ছাড়িনি! শোনো গর্দভ, তুমি আর তোমার বন্ধু দু-জনকে আমি চৌদ্দ শিকের ভাত খাওয়াবো রিজওয়ান মনে মনে বললো, “আপনার ভাইঝির জন্য চৌদ্দ শিক কেন? আমি তো একশো শিকের ভাত খেতে রাজি”। সালাম ব্যস্ত হয়ে বললো,
-“হুভু, হুভু হুভায় কল ঘুরাইছে, নেন ধরেন!” ফুফু ফোন ধরলেন।
-“হ্যালো পিউ’র বাবা, সর্বনাশ হয়ে গেছে। মৌয়ের হবু জামাই মানে সরোয়ার, সরোয়ার চোরা কি করেছে জানো? সে নিজে না এসে বদলে তাঁর নিজের এক বাটপার বন্ধুকে সাজিয়ে গুছিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে। ভাগ্যিস আমি সাথে এসেছিলাম। মৌ তো সরোয়ারকে দেখেইনি, নাহলে ঠিক ধরা খেয়ে যেতো ওগো, তুমি আমার ভাইঝিকে বাঁচাও! আমরা ধানমন্ডিতে ইন্ডিয়ান স্পাইসিতে আছি! তুমি ধানমন্ডি থানার ওসিকে এক্ষুনি পাঠাও বাটপারটাকে রিমান্ডে নিয়ে সেদ্ধ ডিম দিলেই সব হরহর করে স্বীকার করবে।”
রিজওয়ান উঠে দাঁড়ালো। এরকম পরিস্থিতিতে নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বসে থাকা অসম্ভব। রেস্তোরার বাইরে গিয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করে আসা যাক। একটা সিগারেট খেয়ে নিলে রিলাক্স লাগতো। এখন রিলাক্স থাকা মেন্ডেটরী। কারণ রিজওয়ান মনে মনে একটা ভয়ংকর কাজ করবে বলে ঠিক করেছে। ভীষণ ভয়ংকর কাজ। রিজওয়ান যে কোনো সুযোগে এই মিষ্টি মেয়েটার হাতটা একটু ছুঁয়ে দেখবে। যে কোনো এক ফাঁকে সে এই কাজটা করবে। আর এই ভয়ংকর কাজের চিন্তাটা মাথায় এসেছে, এই সুন্দরী তরুণীটিকে দেখার পর! রিজওয়ান জানে, এটা অন্যায়। তবুও জীবনে প্রথম, এই প্রথম কাউকে দেখে রিজওয়ানের এরকম অন্যায় করার ইচ্ছে করছে! কেন এই মৌমি’ই তাঁর বন্ধুর হবু বউ? কেন? রিজওয়ান বাইরে এসে সিগারেট ধরালো। সালাম পিছু পিছু এসেছে।
-“আপনে যে ভাগনের তালে আছেন, আমি জানি। এই সালামের হাত থেকে ভাগা এত সোজা না।” রিজওয়ান ধোঁয়ার রিং ছাড়তে ছাড়তে বললো,
-“সালাম সাহেব, আপনার মৌমি ম্যাডাম কি খুব রাগী?”
-“আপনারে বলবো কেন?”
-“না দেখে মনে হলো, একটা বদরাগী মেয়ে। অল্পতেই চিৎকার চেঁচামেচি করে দুনিয়া একাকার করে ফেলে এরকম! তাই জিজ্ঞেস করলাম।”
-“আপা মোটেও বদরাগী না। আপা হইলেন পৃথিবীর সবথেকে নিরাল মাইয়া। দশ চাক্কু বুকে বসাই দিলেও উহ করবেন না, চিক্কার তো অনেক দূর! একবার আপার বিছানায় সাপ উইঠ্যা গেল। আপা নিচে আইসা আস্তে কইরা কইলো, মা আমার বিছানায় সাপ, আমি আজ সোফায় ঘুমোবো!” রিজওয়ান সিগারেট ফেলে তা পা দিয়ে পিশতে পিশতে বললো,
-“গুড! তাহলে তো আরও ভালো হলো! একটু পর আমিও তোমার আপাকে একটা চাক্কু মারবো! চিৎকার না দিলেই হয়!” সালাম ঘাবড়ানো চোখে রিজওয়ানের দিকে তাঁকালো, অতঃপর দৌড়ে ভেতরে ছুটে গেলো। রিজওয়ান বিড়বিড় করে বললো,
-“মৌমি! মৌমি! মৌমি! তুমি কেন আমার বন্ধুর বউ হচ্ছো? হোয়াই?” মৌমি রিজওয়ানের পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে।
-“রিজওয়ান সাহেব, সালাম কিছু একটা উল্টোপাল্টা বলেছে ফুফুকে। ফুফু আরো চিৎকার করছেন। আপনি চলে যান রিজওয়ান সাহেব। কিছু একটা খারাপ ঘটবার আগে চলে যান। প্লিজ ফর গড সেইক রিজওয়ান ঘুরে দাঁড়ালো! মৌমির শাড়ির আঁচলের ভাঁজ খুলে গেছে। আঁচল পেছন থেকে মাটি গড়াচ্ছে। রিজওয়ানের খুব ইচ্ছে করলো, তা ঠিক করে দেয়! কিন্তু মুখে বললো,
-“আমি কি দু’মিনিট অনলি টু মিনিটস কথা বলতে পারি, আমার কথা। প্লিজ মৌমি জবাব দিলো না। রিজওয়ান খুব নরম গলায় বললো,
-“আমি রিজওয়ান। কাজীপাড়ায় মেসে থাকি। টিউশনি করি। পড়াশোনা শেষে এখন চাকরির চেষ্টা করছি। একটার পর একটা ইন্টারভিউ দিচ্ছি, কিছুই লাভ হচ্ছে না। এই তো আজ সকালেই আমার জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের ভাইভার রেজাল্ট দিয়েছে, হয়নি। মনটা খুব খারাপ। আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে, আপনার হাতটা ধরলে আমার মন খারাপ দূর হয়ে যাবে! আমি কি আপনার হাতটা একবার ধরতে পারি, মৌমি?” মৌমি কিছু বুঝে উঠার আগেই রিজওয়ান মৌমির হাত ধরে ফেললো। সাথে আরেকটা অন্যায় করলো, হাতের উল্টোপিঠে টুক করে একটা চুমু খেয়ে নিলো। ততক্ষণে সালাম ফুফুকে সাথে করে বেরিয়ে এসেছে সে চিৎকার করতে লাগলো,
-“হুভু গো হুভু… বেডায় আপার হাত ধইরা টাইন্না লইয়া যাইতাছে গা… মনে হয় আপারে কিনডেপ করতাছে… বাঁচাও বাঁচাও রিজওয়ান আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়ালো না। জান প্রাণে দৌড় দিলো গাড়িতে বসেই ফুফু বললেন,
-“সারোয়ারকে একটা ফোন দিই মৌমি আনন্দিত গলায় বললো,
-“ফুফু সরোয়ারকে আর ফোন দেবার কোনো দরকার নেই।”
-“দরকার নেই মানে? এত ভালো পাত্র! বেচারার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা ছিলো, তাই হয়তো এই বাঁদর বন্ধুটাকে পাঠিয়েছে ফোন করে বলি অন্তত!”
-“একদম না ফুফু। ফোন করে কিচ্ছু বলতে হবে না। তুমি বরং রিজওয়ান সাহেবকে একটা ফোন করো। তাকে বলো যে, সে যখন আমার হাত ধরেছিলো, আমার রাগ অমনি পড়ে গেলো। সে কি রাগ কমানোর কোনো ম্যাজিক জানে? জিজ্ঞেস করোতো একটু ফুফু হা করে তাকিয়ে আছেন। সালাম বিড়বিড় করে বললো,
-“কইছলামনি বেডায় আপার হাতে ধরছিলো, বিশ্বাস তো গেলেন না। হুদাহুদি আমারে চড়াইলেন। মাঝখান থাইকা আপনের ঘাড়ের রগের খেতি হইলো ফুফু গর্জে উঠলেন।
-“চুপ কর গাধা। একদম চুপ! গাড়ি সাইড কর, আমি এক্ষুনি তোর মাথা ন্যাড়া করাবো।” মৌমি গাড়ির জানালার কাঁচটা নামিয়ে দিলো। চমৎকার সন্ধ্যা। সবকিছু এত ভালো লাগছে কেন তাঁর? সে গান ধরলো, “এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত