অনুভূতি রংধনু

অনুভূতি রংধনু
অধরা আমার সাদা পাঞ্জাবিটা পাচ্ছি না। কোথায় রেখেছো?” বেড রুমের খোলা কাভার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে কাপড় এলোমেলো করতে করতে চেঁচিয়ে বললো নিতিন। ” কাভার্ডের দ্বিতীয় ড্রয়ারের পাঞ্জাবি ভাজে আছে। দেখো পেয়ে যাবে।”
রান্নাঘর থেকে চেঁচিয়ে উত্তর দিলো অধরা। এই মুহুর্তে সে রান্নায় ব্যস্ত। পরনে কালো আর ছাই কালার কম্বিনেশনের টাঙাইল শাড়ি। আঁচলটা কোমরে গুজানো। ফর্সা চেহারাটা আগুনের তাপে টকটকে লাল হয়ে আছে। কপাল আর গলাটা ঘামে ভিজে একাকার। নাকের ডগা আর থিতুনীতেও বিন্দু বিন্দু ঘামের ফোঁটা জমে আছে। বুক অব্দি চুল গুলো এলোমেলো করে হাত খোপা করা। কপালের কয়েকটা ছোট ছোট চুল ঘামে কপালের দুই কোণায় লেপ্টে আছে। দু’হাতে শোভা পাচ্ছে একজোড়া গোল্ড চিকন চুড়ি। রান্না করতে গিয়ে বাটি, পাতিল কিংবা প্লেটের সাথে লেগে টুংটাং আওয়াজ করে উঠছে মাঝে মাঝেই। যেন চুড়ি দুটো ছন্দে নাচছে।
মুক্তর দানার মতো ঘামের বিন্দুতে ঢাকা নাকটায় শোভা পাচ্ছে একটা ছোট্ট পাথরের ডায়মন্ডের নাকফুল। যা ঘামবিন্দুর সাথে তাল মিলিয়ে চকচক করে কারো দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। কিন্তু সে ব্যার্থ। কারণ রান্নাঘরে অধরা ছাড়া কেউ নেই যে সে অধরার নাকের দিকে দৃষ্টি দিবে। হাতের চুড়ি আর নাকের নসপিন প্রমাণ করে যে অধরা বিবাহিত। তাছাড়া ভাবভঙ্গিতে একবারেই পাক্কা গৃহিনী। ইন্সপেক্টর অধরা আনান মাসখানেকের ছুটি পেয়ে পাক্কা গৃহিনী হয়ে গেছে বুঝা যাচ্ছে । দুজনার মাঝে আকাশ পাতাল পার্থক্য। একজন সব ধ্যান দিয়ে দেশ সামলায় আরেকজন সংসার। আজ শুক্রবার। তাই অধরার হঠাৎ ইচ্ছে হলো নিতিনের পছন্দের খাবার রান্না করা। অনেকদিন রান্না করা হয় না। রান্নাবান্নার জন্য একটা মেয়ে আছে। সেই সব সামলায়। অধরাকে রান্নাঘরমুখী হতে হয় কখনোই। নিজেরা একান্তে কিছু সময় কাটাবে বলে মেয়েটাকে বাড়ি পাঠিয়ে কাল বিকেলেই। ছুটির দিনগুলো উপভোগ করতে চায় সে। সব দু’দিন হলো ছুটির৷ আরো আটাশ দিন বাকি। দিনগুলোকে হেলায় যেতে দেয়া যায় না কোনভাবেই।
ইচ্ছে হলো প্রিয়তমের জন্য কিছু রান্না করার। যেই ভাবা সেই কাজ। সকাল থেকেই লেগে গেলো রান্নায়। ঘাড়ির কাটায় এখন বাজে সাড়ে বারোটা। রান্না প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। শুধু সালাদ বাকি। এখন সে সালাদের জন্য গাজর কাটছে কাটিং বোর্ডে । শসা, গাজর, টমেটো কুচিকুচি করে কেটে পেঁয়াজ কুচি, ধনেপাতা কুচি,লবন আর সরিষার তেল দিয়ে মেখে যে সালাদ করা হয় নিতিন ওই সালাদই খেতে পছন্দ করে৷ অধরা সেভাবেই সালাদ করার মনস্থির করলো। শসা, টমেটো, ধনেপাতা কাটা আগেই হয়ে গেছে। গাজরটাও কাটা শেষ। এবার পেয়াঁজ কাটতে শুরু করলো। অধরার কথা শুনে নিতিন আবারো পাঞ্জাবি খুঁজতে লেগে গেলো। তাড়াতাড়ি না পেলে নামাযে দেরি হবে। সেটা একদমি চাচ্ছে না নিতিন। মিনিট পাঁচেক পরও যখন পাঞ্জাবি পাচ্ছে না তখন নিতিন আবারো ডাকলো, “অধরা? অধরা? আসো না প্লিজ! পাঞ্জাবিটা পাচ্ছি না তো! কোথায় রেখেছো বলো তো? এসে খুঁজে দিয়ে যাও না? আমার নামাযের দেরি হয়ে যাচ্ছে। “
নিতিনের ডাকে অধরার চোখে মুখে বিরক্তির আভা ফুঁটে উঠলো। কারণ এই মুহুর্তে ঘাম আর ধুলোময়লার গা নিয়ে বেডরুমে পা দিতে ইচ্ছে করছে না তার। তার উপর পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখ নাক জ্বলছে। চোখ দিয়ে পানি বেরুচ্ছে। সবে অর্ধেকটা পেঁয়াজ কেটেছে। এখন সব ঠিকঠাক না করলে পরে সম্ভব হবে না। শরীরের যা অবস্থা লম্বা শাওয়ার না নিলেই নয়। দেখা যাবে শাওয়ার নিয়ে বের হতে হতে নিতিন নামায শেষে এসে টেবিলে বসে পড়েছে তখন পেঁয়াজ কাটতে গেলে বিশ্রী অবস্থা হবে। যা একদম এড়িয়ে যেতে চাচ্ছে অধরা। তাই উত্তর দিলো, “পাঞ্জাবিটা আমি কাল বিকেলেই আয়রন করে কাভার্ডের সেকেন্ড ড্রয়ারে রেখেছি। না পাওয়ার কারণ নেই। খুঁজে দেখো ভালো করে। আমি এখন রান্না ছেড়ে আসতে পারবো না। ” “পাচ্ছি না তো! রান্না পরে করবে। তুমি এসে খুঁজে দিয়ে যাও না? প্লিজ ধারা! “
নিতিনের কন্ঠটা আদুরে শুনালো। যাতে অনুরোধ আর আদরতা দুটোই মিশে আছে। আর নিতিনের আদুরে কন্ঠের ‘ধারা’ডাকটা অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা অধরার নেই। তাই ছুরি রেখে চোখে মুখে বিরক্তির আভা ফুটিয়ে বেডরুমের দিকে পা বাড়ালো অধরা। গিয়ে দেখলো নিতিন পাঞ্জাবি খুঁজতে ব্যস্ত। অধরা বললো, “দেখি সরো আমি খুঁজে দিচ্ছি। এখন যদি আমি খুঁজে পাই তবে তোমাকে রিমান্ড নিবো।” অধরার কথা শুনে নিতিন কাপড়ের দিকে তাকিয়ে বললো, “পুলিশিনী বিয়ে করলে এমনই শুনতে হয়।” নিতিনের কথায় অধরা হাসি পেলো ভীষণ। কিন্তু সে তার হাসিটা প্রকাশ না করে গম্ভীরমুখে বলল, ” সি আই ডির সিনিয়র ইন্সপেক্টর নিতিন সরকার,পুরো দেশ খুঁজে আসামী বের করতে পারে অথচ নিজের কাভার্ড খুঁজে একটা পাঞ্জাবি বের করতে পারে না। স্ট্রেঞ্জ!” নিতিন হেসে বলল,
” আসামী খুঁজতে গেলে তো আর বউ সাথে থাকে না যে বউকে দায়িত্ব দিয়ে আমি আরাম করবো।”
” বউ ছিলো না?”ভ্রু কুঁচকালো অধরা। অধরার ভ্রু কুঁচকানোটা আন্দাজ করে অধরার না তাকিয়ে হাসলো নিতিন। তারপর অভিমানী কন্ঠে বলল, “না, বউ ছিলো না। যে ছিলো সে হলো পুলিশ ইন্সপেক্টর অধরা আনান। রাগী, গম্ভীর আর সৎ পুলিশ অফিসার। যার কাছে তার কাজ আগে, পরিবার পরে। স্বামী তার সামনে গড়িয়ে মরলেও তার তাকানোর প্রয়োজন পড়েনা। “
অধরা আবারো ভ্রু কুঁচকালো। তারপর বলল, “তুমি কি চাচ্ছিলে আমি থানায় বসে তোমার সাথে প্রেমালাপ জুড়ে দিই?” নিতিন হেসে পিছন ফিরে বলতে গেলো, ” মন্দ হয় না তবে আর বলতে পারলো না। কারণ তার দৃষ্টি চলে গিয়েছে অধরা গাল গড়িয়ে পড়া চোখের পানির দিকে। এবং সেদিকেই আটকে আছে। এতক্ষণ সে কাপড়ের দিকেই তাকিয়েছিলো। অধরার কান্নাভাব দেখে কারণ খুঁজতে লাগলো নিতিন। কিন্তু ঘটা করে তেমন কোন কারণ মনে পড়ছে না তার । খানিক তাকিয়ে নিতিন ভ্রু কুঁচকে বলল, ” এই তুমি কাঁদছো কেনো! আমি তো এখানে তবে কার জন্য কাঁদছো?” নিতিন থেমে খানিক ভেবে আবার বলল, “এক সেকেন্ড, কোথাও তুমি চোরের জন্য কাঁদছো না তো!” “চোর! হোয়াট! কি বলো এসব! আমি চোরের জন্য কাঁদবো কেনো!” রাগী গলায় বলল অধরা। নিতিন এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দুঃখী ভাব নিয়ে বলল, “এই মুহুর্তে আমার ‘পুলিশ চোরের প্রেমে পড়েছে ‘ গানটা মনে পড়ছে। মনে হচ্ছে তুমি চোরের প্রেমে পড়ে চোরে জন্য কাঁদছো। না জানি কপালে কি আছে আমার! দ্বিতীয় বিয়া লেখাই আছে কপালে। আহ! কি দুঃখ! এত দুঃখ রাখি কই!”
বলে আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো নিতিন। অধরার রাগ তখন সপ্তম আকাশে। অধরা নিতিনের দিকে তেড়ে এসে তর্জনী আঙুল উচিয়ে উঁচু গলায় বললো, ” আমার রাগাবা না নিতিন। ভালো হবে না। আর একটা উল্টোপাল্টা কথা বললে একবারে শুট করে দিবো।” অধরার কথা শুনে নিতিন এমন ভাব করলো যে সে মনে মনে দুঃখী হেসে বলছে, ‘বাংলাদেশের ৬৪জেলার সব ছেলেদের বলি, ভাই জীবনে যত যাই করো এই আইনের মাইয়্যা বিয়া কইরো না। তাইলেই জীবন শেস । মুহুর্তেই নিজেকে সামলে নিলো নিতিন। হাত দুটো উঠিয়ে স্যালেন্ডার করার মতো করলো। তারপর বলল, “স্যালেন্ডার করলাম। আর রাগাবো না। এবার একটু স্বাভাবিক হও। প্লিজ! আর আমার পাঞ্জাবিটা খুঁজে দাও। দেরি হচ্ছে।” অধরা আঙুল গুটিয়ে ফেললো। রাগ না গেলেও কিছুটা ধমলো। গম্ভীরমুখে বলল, “সরো। ” নিতিন সরে গিয়ে শান্ত কন্ঠে বলল, “তুমি পাঞ্জাবি খুঁজে বেডের উপর রাখো। আমি একটা কল এটেন্ড করে আসি।” বলে দরজার দিকে পা বাড়ালো। যাবার আগে এসির ঠান্ডা তাপের মাত্রাটা বাড়িয়ে দিয়ে গেলো।
ঘন্টাখানেক পুরোরুম তন্নতন্ন করে খুঁজে ও কোথাও নিতিনের পাঞ্জাবি পেলো না অধরা। মনটা খারাপ হয়ে গেলো তার। মলিনমুখে দরজার দিকে পা বাড়ালো সে । উদ্দেশ্য, পাঞ্জাবি না পাওয়ার খবরটা নিতিনকে দিবে। বেডরুম থেকে বের হয়ে পুরো ড্রয়িং ডাইনিং গেস্ট রুম সহ প্রায় পুরো ফ্ল্যাটে চোখ বুলালো। কিন্তু নিতিনের দেখা পেলো না। আচ্ছা নিতিন আমার কথায় মন খারাপ করে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো না! তখন কত রাফ বিহেভ করলাম। এমনটা করা উচিত হয়নি মোটেও। ভেবে নিজের উপর রাগ হতে লাগলো অধরার। খানিক ভেবে বেডরুমে ফিরে এলো। উদ্দেশ্য ফোন করে নিতিনকে সরি বলা আর নামায শেষে তাড়াতাড়ি ফিরতে বলা। বিছানায় কিনারায় বসে খাটের সাইট টেবিলের উপর রাখা ফোনটা হাতে নিলো অধরা। ফোনের সাইড বাটন চেপে স্ক্রিন অন করতেই ‘নিতিন’ নামের একটা নোটিফিকেশন ভেসে উঠলো স্ক্রিনে। অর্থ্যাৎ ম্যাসেজ এসেছে। নিতিন ফিরবে না কথাটা জানালো না তো ম্যাসেজে? ভেবেই বুক কাঁপলো অধরার। কাঁপা কাঁপা হাতে বৃদ্ধাঙ্গুল চেপে ফোনের ফিঙ্গার লক খুললো। তারপর ম্যাসেজ বক্সে গিয়ে নিতিনের দেয়া ম্যাসেজ ওপেন করলো। ভয়ে ভয়ে ম্যাসেজে চোখ বুলালো,
” সাদা পাঞ্জাবিটা আমি পড়ে বের হয়েছি। ওটা আমার কাছেই ছিলো। তাই আর মিছে খুঁজো না। পাঞ্জাবি খোঁজা বাদ দিয়ে কিছুক্ষণ রুমে বসে রেস্ট করো। বড্ড ক্লান্ত আর ঘামার্ত লাগছে তোমাকে। এভাবে থাকলে অসুস্থ হতে সময় লাগবে না। ঘাম শুকালে লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে নিও। আমি ফিরে এসে তোমাকে রিল্যাক্স দেখতে চাই। এসে একসাথে লাঞ্চ করবো। আর হ্যাঁ, নেক্সট আমাকে শুট করার ভয় দেখাবে না মোটেও। আমি এসবে গোল্ড মেডেলিস্ট। ট্রেইনিংপ্রাপ্ত শুটার। এসবে ভয় পাই না। তাছাড়া আমার বুক,দেহ বছর পাঁচেক আগে তোমার ভ্রু কুঁচকানোতেই তোমার ভালোবাসা নামক রিভলবারের বুলেটে জর্জরিত হয়ে গেছে। এখন আর তোমার ওই পুচকি ধমকে কাজ হবে না। ধমক দিলে কিস টিস করার ধমক দিবে। আমি মনে মনে খুশি হলেও চেহারায় ভয়ের ভান করবো। প্রমিস। “
ম্যাসেজটা পড়ে অধরার কপালের চিন্তার ভাজ আর চেহারার ভয়ের আভাস বিলীন হয়ে গেলো। সাদা চামড়ার মায়াবী চেহারায় খেলে গেলো একটা মায়াবী হাসি। অধরা কি মনে করে রান্নাঘরে গেলো। রান্নাঘরে কিচেন বোর্ডের উপর চোখ বুলালো। হ্যাঁ, তার ধারণাই ঠিক। কিচেন বোর্ডের সব পেঁয়াজ কাটা। বোর্ডের পাশেই নীল রঙা একটা চিরকুট চোখ পড়লো। অধরা হাসিমুখে চিরকুট হাতে নিলো। ” অন্তরের অন্তঃস্থলে বাস করা মানুষগুলোর ঝাপসা চোখের বারান্দা বেয়ে নোনাজ্বল পড়ার দৃশ্য দেখার চেয়ে কষ্টকর অনুভূতি দুটি নেই। জানি না সবাই পারে কিনা কিন্ত আমি পারি না বরাবরই। সেটা হোক কষ্টে কিংবা পেঁয়াজের ঝাঁজে!
তোমার প্রতি আমার ভালোবাসাটাও ভীষণ আর তোমার কষ্টে আমার মলিন অনুভূতির মাত্রাটাও ভীষন। এই মাত্রাতিরিক্ত মলিন অনুভূতি থেকে বাঁচার জন্যই পেঁয়াজ কেটে রাখলাম৷ জানি না হয়েছে কিনা বাট ট্রাই করেছি। না হলেও এভাবেই থাকবে। আর নতুন করে কাটতে গিয়ে কেঁদে তোমার গাল ভাসাতে হবে না। এমনিতেই কাজ করতে গিয়ে নিজের বেহাল দশা করেছো। যদি ও তোমার এই গৃহিণীর মতো কোমরে শাড়ির আঁচল গুজে খুন্তি নেড়ে রান্না করার দৃশ্যটা আমার আমার মনে জারুল বনের হিমশীতল বাতাস বয়ে দিয়ে যাচ্ছিলো। তোমার হাতের চুড়ি কাচের বাটির সাথে লেগে যে টুংটাং আওয়াজ করেছে তা আমার কাছে কোন ছন্দের মতো মনে হয়েছে। তারপর খানিক পর পর হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে কপালের ঘাম মুছার চেষ্টা, তাপে তোমার লাল হয়ে যাওয়া গাল আর মুক্তোর দানার মতো বিন্দুঘামে ঘেরা নাকটা আমাকে মুগ্ধ করেছে হাজারবার । আমার মন এই মুগ্ধকারিনীকে নাম দিয়েছে ভয়ংকর হৃদহরনী। তবে তোমার মলিন চেহারার কাছে আমার সব অনুভূতি ফিকে পড়ে তাই বাধ্য হয়ে ডাকতে হলো। সরি বিরক্ত আর রাগানোর জন্য। “
চিরকুটটা এক দমে পড়ে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইলো অধরা। তারপর কয়েকটা ঘন ঘন নিশ্বাস ছেড়ে ঠোঁট কামড়ে হাসলো। তারমানে এই পাঞ্জাবি না পাওয়াটা ছিলো বাহানা মাত্র! মূলত আমার ঘাম আর চোখের পানির সাথে যুদ্ধ করতে দেখে নিতিন বাহানা দিয়ে আমাকে বেডরুমে ডেকেছিলো এবং পাঞ্জাবি খুঁজতে লাগিয়ে দিলো। যাতে এসিরুমে থেকে আমি খানিক ফ্রেশ হই। এই ফাঁকে নিতিন এসে পেঁয়াজ কেটে রেখে দিলো। বাহ! চমৎকার বুদ্ধি নিতিনের। আর ভালোবাসাটাও ভীষন। বলে মুচকি হাসলো অধরা। অধরা এবার পেঁয়াজের দিকে তাকালো। বড় ছোট, আঁকা বাকা করে কাটা দু’মুঠো পেঁয়াজ। দেখতে পারফেক্ট না লাগলেও মন্দ লাগছে না। বউয়ের জন্য ট্রাই করেছে এটাই যথেষ্ট। এখানে সৌন্দর্য থেকে ভালোবাসাটা অধিকতর আকর্ষণীয়। পেঁয়াজের দিকে তাকিয়ে হাসলো অধরা। নিতিনের জন্য ভালোবাসা আমারও কম নেই। হয়তো প্রকাশ করা হয় না। আজ না হয় প্রকাশ করাও যাক। রাফ বিহেভের জন্য একটা সরি ট্রিট ও হয়ে গেলো। এই ভেবেই অধরা চোখে মুখে প্রশান্তির হাসি দিয়ে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালো।
মনে মনে ঠিক করলো, আজ সে লাল টুকটুকে একটা শাড়ি পরবে। হাত ভরা লাল রঙা রেসমি চুড়ি থাকবে। ঠোঁটে থাকবে খানিকটা লাল লিপস্টিক ছোঁয়ানো, কপালে ছোট্ট একটা লাল টিপ থাকবে । সাজগোছ শেষে অধরা নিতিনের অপেক্ষায় ড্রয়িংরুমে বসে থাকবে। কলিংবেল বাজলেই ভেজা চুলের উপর লাল রঙা আঁচল দিয়ে ঘোমটা টেনে দরজা দিবে। তারপর নিতিনের সামনে গিয়ে চমকে দিবে। এরপর সুযোগ বুঝে না হয় লাজুক সুরে ‘ভালোবাসি’ কথাটাও বলে দিবে। এটাই হবে অধরার সরি ট্রিট আর লাভলি সারপ্রাইজ। আচ্ছা নিতিনের রিয়েকশন কেমন হবে তখন? সেকি স্তব্ধ হবে? নাকি মুগ্ধ হবে? আচ্ছা মুগ্ধতার পরিমাণ কতটুকু হবে? খুব বেশি নাকি একটু কম!
মনে মনে নানা চক আকঁছে অধরা । মুখে লেগে আছে মিষ্টি হাসি। চমৎকৃত অনুভূতিগুলো এক হয়ে মনে এক শিহরণ বয়ে দিচ্ছে ক্ষণেক্ষনে । জানান দিচ্ছে, নিতিনের প্রতি তার ভালোবাসা কতটুকু!
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত