মাতাল মানুষের বউ

মাতাল মানুষের বউ
ভাবির চিৎকার শুনে আমি আর মা এগোলাম।ভাইয়া ভাবিকে ধাক্কা মেরেছে,এতে ভাবির কপাল দরজায় লেগে ফেঁটে গেছে।যদিও তেমন ফাঁটেনি,সেলাইয়ের ও প্রয়োজন নেই।তবুও রক্ত বের হচ্ছে একটু-একটু করে। ভাইয়া আজ মদ খেয়ে ফিরেছেন বাড়িতে,এসেই ভাবির সাথে ঝগড়াঝাঁটি শুরু।ছোটোখাটো ঝগড়া ভেবে আমি আর মা এগোই নি।কিন্তু ঘটে গেলো বড় ঘটনা! মা ভাবিকে বুঝিয়ে ওনার ঘরে নিয়ে গেলেন।আমি ভাইয়াকে অনেক কষ্টে থামালাম।অামাকেও দু-একটা ঘুষি খেতে হলো। ভাইয়ার রাগ কমার পর জিজ্ঞেস করলাম
–ভাবিকে মারতে গেলে কেন? ভাইয়া তখনও মাতাল,উত্তর দিলেন
–মারছি ভালো করছি,তোর সমস্যা?
–আরে না ভাইয়া।কিন্তু কারনটা বলতেই পারো।
–কত বড় বেয়াদব,আমাকে জিজ্ঞেস করে মদ খেলাম কেন?
আমি বললাম যে মদ খাইনি, তারপরেও তর্ক করে আমার সাথে।কত বড় খারাপ মেয়ে চিন্তা কর! ভাইয়ার এই কথা শুনে হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছিলাম না। মদের গন্ধ ওনার শরীর জুড়ে,চোখ লাল,মাতালের মতো কথা বলতেছেন।আর বলেন কি! তিনি নাকি মদ খাননি।এমন সময় তিনি আবার বললেন
–আর মদ খেলেই বা ওর বাপের কি?মদ কি ছোট লোকরা খায়? আরে মদ তো রাজা-বাদশারা খায়।খেয়েছি,ভালো করেছি।ওরে বাপের বাড়ি পাঠাই দিবো,এমন দজ্জাল বউ আমার দরকার নাই,যে তাঁর বাদশা স্বামীকে মদ খেতে দেয় না। ভাইয়ার এমন কথা শুনে অনেক কষ্টে হাসিয়ে টিকিয়ে রাখলাম। অনেক কষ্টে,কেীশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বিছানায় শুইয়ে বসে রইলাম পাশে। কিছুসময় পর নিশ্চিত হলাম তিনি ঘুমিয়েছেন।আসলে আমার ভাই খুব ভালো মানুষ কিন্তু মাঝে মাঝে মদ খেয়ে একটু আবোল- তাবোল করে। আমি ভাবির অবস্থা দেখতে গেলাম মায়ের রুমে,মা ইতিমধ্যে ভাবির মাথার কিঞ্চিত ফাঁটা অংশ ডেটল দিয়ে ধুঁইয়ে তোলা আর আয়োডিন দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিছেন।আমাকে দেখেই ভাবি বললেন
–দেখলি রে ভাই,তোর ভাই আমাকে কিভাবে মারলেন?কত সম্মান করি ওনারে,কত ভালোবাসি,আর ওনি আমাকে মারলেন। বলেই কাঁদতে শুরু করলেন,আমি বললাম
–তুমি তোমার বাপের বাড়ি চলে যাও ভাবি,এই লোকটা তোমারে অনেক কষ্ট দিবে।আজ শুধু হাত তুলছে,কাল লাঠি তুলতেই পারে। আমার কথাশুনে ভাবি রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে বললেন
–কেনো?বাপের বাড়ি যাবো কেন?আমার স্বামী আমারে মারছেন ভালো করছেন,যদি আমারে মেরে আধমরা করেদেন তবুও বাপের বাড়ি যাবো না।আর সজ্ঞানে তো মারেন না,মাতাল অবস্থায় মারছেন।দেখবি আমি একদিন ওনারে নেশামুক্ত করেই ছাড়বো। আমি জানতাম ভাবি এরকমই উত্তর দিবেন,তাই কথাটা বলেছিলাম।যাই হোক আমার কাজটা আমি সেরে নিলাম। আবার ভাবি বললেন
–তোর ভাইয়া ভাত খাননি,একটু কষ্ট করে রান্না ঘর থেকে ভাত বেড়ে নিয়ে দিয়ে আয় না ভাই। মা বললেন
–না ওসবের দরকার নেই,ডাক্তারেরা বলেন মদ খাওয়ার পর ভাত খেলে হজম হবে না,বমি হতে পারে।আর উপোস থাকলেই বা কি?কত্ত বড় হারামজাদা,সাত মাসের গর্ভবতী স্ত্রীকে ধাক্কা মারে।বেয়াক্কেল,কালকে দেখবি রে মা আমি ওরে কি করি! ভাবি আর কিছু বললেন না,ফুপিঁয়ে ফুপিঁয়ে কাঁদছেন মা’র কাঁধে মাথা রেখে,মা মাথা হাত বুলিয়ে শান্তনা দিচ্ছেন।আমি বললাম
–তুমি ঘুমিয়ে পড়ো ভাবি,দেখো কাল সকালে ভাইয়া তোমার কাছে ক্ষমা চাইবেন। ভাবি আর কিছু বললেন না।মা’র বিছানায় ঘুমিয়ে পড়লেন। আমি গেলাম ভাইয়ার রুমে,বলা যায় না কি করে বসেন।নিজের ভাই তো,তাই ঘুমের ওষুধকেও বিশ্বাস করতে পারছি না। পরদিন সকালে ভাবি রান্না করছেন,ভাইয়া গিয়েই পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলেন,চোখে জল টলমল করছে।বললেন
–আমার লক্ষী বউ,আমার উপরে রেগে আছো?গতকাল রাত্রের ঘটনার জন্যে আমি খুবই দূঃখিত এবং লজ্জিত।তুমি তো আমার লক্ষী বউ আমাকে ক্ষমা করবে না? ভাবি ভাইয়ার দিকে ফিরে জড়িযে ধরলেন ভাইয়াকে,বললেন
–আপনি তো সজ্ঞানে মারেন নাই,আর মারলেই বা কি?স্বামী তো মারতেই পারেন।আর আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে লজ্জিত করবেন না।
ভাইয়া আর কিছু বললেন না,আমাদের বাড়ির অনাগত অতিথির গাঁয়ে মানে ভাবির পেঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন আমি রান্নাঘরের বাইরে ছিলাম,ওনাদের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলাম,চোখ ফেরানোর সময় দেখলাম ভাইয়ার চোখ থেকে জল পড়ছে,জল তো আসারই কথা,গতকাল রাত্রে ভাবি যা যা বলছিলেন সবকিছু ফোনে রেকর্ড করে নিয়েছিলাম।আজ সকালে ভাইয়া ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ শেষ করছেন মাত্র,তখনই আমি রেকর্ড টা ভাইয়াকে শোনাই,সেটা শোনার পরই ভাইয়া ভাবির কাছে ছুটে যান ক্ষমা চাইতে।
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত