নাপা সমাচার

নাপা সমাচার
ডাক্তার বন্ধুর ফার্মেসিতে কয়েকদিন হলো বসে থাকি। ওর ঔষধ বিক্রি করা দেখি। অত্র এলাকায় বন্ধু আমার নামকরা ডাক্তার। অনেক সুন্দরী মেয়েও আসে। বন্ধু ফার্মেসিতে ছিলনা, এক মুরুব্বি বলল….
–বাবা আমায় ঔষধ দাও।
-চাচা আমিতো ডাক্তার না, আমি ডাক্তারের বন্ধু।
–তো কি হইছে তুমি ঔষধ দাও।
-আমিতো ঔষধ চিনিনা। চাচার মনে হয় তাড়া ছিল বেশ! রেগে গিয়ে বলল….
-তো কি চেনো? আমি মুচকি হেসে বললাম….
–আপনার হয়েছে কি?
-আর বইলনা ক’দিন থেকে ঠিকমতো টয়লেট হচ্ছেনা।
–মানে?
-আরে অনেক কষা! আমার ছেলে বিচি কলা নিয়ে এসেছিলো। সেগুলো খেয়েই এই অবস্থা! চাচার কথা শুনে নিজের ছোট বেলার কথা মনে পরে গেলো। চাচা আবার বলল….
–আগে ঔষধ দাওতো।
আমি এক পাতা নাপা, আর এক পাতা মায়াবড়ি দিয়ে দিলাম। চাচা তাই নিয়ে খুশিতে চলে গেলো। নিজের মধ্যে অলরেডি ডাক্তার ডাক্তার ভাব আসছে। আস্তে আস্তে রোগিও আসছে। এক বৃদ্ধ আসলো উনার মাথা ব্যাথা, উনাকে প্যারাসিটামল দিলাম। এক মহিলা আসলো উনার উঠতে বসতে কোমড়ে ব্যাথা। উনাকে নাপা দিলাম। একজন আসলো গলা ব্যথা নিয়ে উনাকেও নাপা দিলাম। এভাবে পাতলা পায়খানা, সর্দিকাশি, হাঁটু ব্যথা, মাথা ঝিম ধরে প্রত্যেককে নাপা দিলাম। এক মেয়ে আসলো গোপন সমস্যা নিয়ে। কানে কানে বলল। আমি ওকে রুচির সিরাপ দিলাম। মেয়েটা হতবাক, ওকে অবাক করে দিয়ে দুটো নাপা দিয়ে বললাম….
-এখনি টুপ করে খেয়ে ফেলো সমস্যা ক্লিয়ার। মেয়েটা ঔষধ খেয়ে চলে গেলো। আরেক মেয়ে আসলো, ওর নাকি বুক ধরফর করে। আমি বুকে কান পেতে শুনলাম শব্দ কেমন! তারপর তাকেও নাপা দিলাম। এক ছেলে আসলো, তার পা কেটে গেছে।
নাপা ট্যাবলেট গুড়া করে কাঁটা অংশে দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিলাম। তারপর তিনবেলার জন্য দুটো মায়াবড়ি আর একটা করে নাপা দিলাম। ছেলেটা খুশি হয়ে চলে গেলো। ভাবছি এরপর যে কেউ আসুক সবাইকেই নাপা দিব। টিউমারের রোগিকেও নাপা, ক্যান্সার হলেও নাপা৷ পাইলস হলেও নাপা৷ দাঁত ব্যথা তবুও নাপা। করোনার হলেও নাপা! মোটকথা নাপার উপর কোন ঔষধ নাই। জাতীয় ফল যেমন কাঁঠাল, জাতীয় ঔষধ তেমন নাপা।
গল্পের বিষয়:
গল্প
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত