ভাগ্যিস

ভাগ্যিস
ছোট থেকেই জেনে এসেছি,আতিক আমার বর,মানে ওর সাথে আমার বিয়ে ঠিক করা।দাদী নাকি মারা যাওয়ার আগে বলে গেছে আতিকের সাথে যেনো আমার বিয়ে দেয়। আতিক সম্পর্কে আমার চাচাতো ভাই। ও আমার পাঁচ বছরের সিনিয়র। দাদী মারা যাওয়ার সময় আমি মাত্র ১বছরের ছিলাম।তখনও আমার মায়ের কোনো ছেলে ছিলনা,চার বোন আমরা।দাদী আমার মাকে কিছু জমি লিখে দিল ছেলে নাই বলে কেউ যেনো অবহেলা করতে না পারে।আর বলে গেলো আমার সাথে যেনো আতিকের বিয়ে দেয়,নিজের জমি অন্য মানুষ খাবে কেন,ছেলে নাই যখন ভাতিজারাই তো পাবে,মেয়ের জামাই বানালে আরো ভালো হয়।আব্বা আম্মা ও নাকি দাদীর কথায় সায় দিয়েছেন।
এই কথা গুলো কাকীর মুখেই শুনা আমার। চাচাতো বোন টাও মাঝে মাঝে ভাবি ডাকে আমায়।আশেপাশের সবাই জানে এই বিয়ের কথা তবে আমি আব্বা বা আম্মার মুখে কখনো শুনিনি এইসব।আমি আমার বড়ো বোনের কাছেই মানুষ।দাদী মারা যাওয়ার পর আমার একটা ভাই হয়।তখন আমিও ছোট,মাকে নাকি খুব জ্বালাইতাম,তাই বড় আপু আমাকে তার কাছে নিয়ে যায়।ঐখানেই আমি বড়ো হই।আতিকের সাথে আমার খুব একটা দেখা হতনা।যখন বাড়ি যেতাম তখন একটু আধটু দেখা হতো।কথা হতো।
একবার গ্রীষ্মকালের ছুটিতে বাড়িতে যাই।আতিক ও এসেছিল তখন।শুনেছি ও নাকি ময়মনসিংহ থেকে পড়াশুনা করে।অনেকদিন পর ওর সাথে আমার দেখা।অনেক বড়ো হয়ে গেছে,দেখতেও সুন্দর।ও ছোট থেকেই সুন্দর ছিল,দাদা দাদী নাকি ওকে লাল মুলা বলে ডাকতো।তখনও প্রেম বা বিয়ে এইসব ব্যাপারে না বুঝলেও,ওর বউ ভেবে নিজেকে কেনো জানি অনেক ভালো লাগতো।ওর সাথে আমার তেমন ভাবে কোনো কথা বা প্রেম করা হয় নি কখনো।আমরা স্বাভাবিক ই ছিলাম।আসলে আতিক এর মায়ের এইসব নিয়ে মাথা ব্যাথা ছিল বেশি,হয়তো জমির লোভে অথবা অন্য কিছু হবে,আমি ঠিক জানিনা।উনি আমাকে অনেক আদর করতেন।বাড়ী গেলেই পিঠা বানায় খাওয়াতেন।আমি যা যা পছন্দ করতাম সব।আমার মায়ের মনে হয় এইসব সহ্য হতনা। প্রায় আমাকে নিষেধ দিতেন ওদের বাড়ি যাওয়ার জন্য।যখন খাওয়ার সময় মা আমাকে ডাকতেন,আমি যদি বলতাম আমি কাকীর কাছে খেয়েছি,মায়ের চোখে পানি ছলছল করতো।আমি বুঝতে পারতাম তিনি কষ্ট পেয়েছেন।আমি মায়ের কষ্ট টা ঠিক বুঝতে পারলেও পরবর্তীতে ভুলে যেতাম।
দুই বছর পর একদিন হঠাৎ আতিক আমার বোনের বাসায় আসলো।আমরা সবাই তো দেখে অবাক।দুপুরে খাওয়া দাওয়া করার পর আতিক দুলাভাইকে বলতে লাগলো, ভাইয়া প্লীজ আমাকে একটা চাকরি ঠিক করে দেন। দুলাভাই বললো,আমি দেখি কি করা যায়।তুমি কয়েক দিন থাকো।আতিক থাকতে রাজি হয়ে গেলো।তিনদিন যাওয়ার পর ওর একটা জব হলো একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে,ভালই বেতন।দুলাভাই বললেন আপাতত এইটা করতে থাকো,আমি তোমার জন্য আরেকটু ভালো জব পাই কি না খুজে দেখবো।আর শুনলাম পুলিশের সার্কুলার ছাড়বে কয়েকদিন পর,তুমি তখন লাইনে দারাবে, সিলেক্ট হলে,বাকিটা আমি বুঝবো। দুলাভাই যেহেতু একজন পুলিশ হয়তো ওকেও সাহায্য করতে পারবে।
আতিকের জব হওয়ার পর ও একটা মেছে উঠে। প্রায় ই বিকেলে ঘুরতে আসতো আপুদের বাসায়। দুলাভাই ছাড়া আমরা সবাই এক সাথে আড্ডা দিতাম।ওই সময়টা আতিক আর আমার মধ্যে একটা প্রেম প্রেম ভাব জন্ম নিল।আর মনে মনে দুইজন ই জানতাম আমাদের বিয়ের কথা।প্রেম হলেও প্রবলেম কি। বাট বেশি কথা বলতাম না।আপু সেই সুযোগটা দিতোনা।ফোন ও ছিলনা আমার। দুলাভাই কে দেখে আমি অনেক ভয় পেতাম উনি অনেক রাগী মানুষ।যতটা সম্ভব উনার চোখের সামনে পড়তাম না। আতিক লাইনে দারালো,সিলেক্ট ও হয়ে গেলো।টাকাও লাগলো অনেক।ঋণ দানা করে টাকা জমা দিল।দুলাভাইও দিয়েছিল লাখ খানিক।মধ্যবিত্ত আমরা টাকা জোগাড় করা এত সহজ ছিলনা।তারপর আসলো ট্রেনিং এর ডাক।ট্রেনিং এ যাওয়ার আগে আপু,দুলাভাই সবার কাছ থেকে দুয়া নিয়ে গেলো।ভালই চলছিল।একদিন শুনলাম আতিক নাকি ট্রেনিং থেকে পালিয়ে গেছে।সে নাকি এত কষ্ট করে চাকরি করতে পারবেনা।দুলাভাই তো বাসায় এসে চিল্লাচিল্লি শুরু করলো।
– এই ছেলেরে দিয়া কিছু হবেনা।কত কষ্ট করলাম ওর জন্য।দৌড়াদৌড়ি কি কম করেছি?সুপারিশ করলাম, টাকাও দিলাম।এখন বলে চাকরি করবেনা,ট্রেনিং থেকে পালিয়ে গেছে। আমরাও তো ট্রেনিং করেছি নাকি।ভেবেছিলাম ওর সাথে শালির বিয়ে দিবই যখন একটা চাকরি দিয়ে দেই।চাকরি যখন করলো না এই বিয়েও আর হবেনা। কথাটা শুনে আমার বুকের ভেতরটা শূন্যতায় ভরে গেলো,কেমন যেনো মোচড় দিয়ে উঠলো। আম্মাকে ফোন দিয়ে দুলাভাই বলে দিলো,ফকিরের সাথে বিয়ে দিবো তবু ওই ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়া যাবেনা,আম্মাও মনে হয় তাই চাচ্ছিল,দুলাভাই বলার সাথে সাথে আম্মা বললেন আমিও আপনার সাথে একমত।
এক বছর পর আব্বার অসুস্থতার কথা শুনে বাড়ী গেলাম আফসোস বাবাকে আর দেখা হলোনা,তার লাশটাকে শেষবারের মতো ছুয়ে দেখলাম।পৃথিবী থেকে বাবা নামের ছায়া টা হারিয়ে গেলো।তিনদিনের কাজ সেরে সবাই যার যার মতো চলে গেলো।মা আর ভাই একা তাই আপু আমাকে মায়ের কাছে রেখে গেলো। কিছুদিন যাওয়ার পর,কানাঘুষা চলছিল আমাকে নাকি তুলে নিয়ে গিয়ে আতিকের সাথে বিয়ে দিবে।কাকা তো খুব রেগে আছে,তার মা বলে গেছে বিয়ের কথা এখন কেনো বিয়ে হবেনা।মা একা একা খুব ভয়‌ পাচ্ছিল।বাথরুমে গেলেও মা আমার সাথে যেত।সেদিন রাতে মায়ের ঘুম নেই।আমাকে মাথায় বিলি কাটতে কাটতে মা বললো
– মা একটা কথা বলি?
– বলো
– আতিক ছেলেটা ভালোনা।ওর চলাফেরা আমার ভালো লাগেনা।মধ্যবিত্ত ছেলেদের এত ভাব থাকবে কেন!ইস্ত্রি ছাড়া কাপড় পরেনা,দামী দামী জুতা এত দামী কাপড় চুপর পায় কই? কোনো কাজ কাম তো করতে দেখিনা।কত্ত গুলা ছেলের সাথে চলে ঐগুলারেও কেমন যেনো নেশাখোরদের মত লাগে।সারাদিন মোবাইলে কথা বলতেই থাকে, কার সাথে এত কথা বলে কে জানে আমি কিছুই বললাম না,কারণ আমি ধরেই নিয়েছি এসব কিছুই মায়ের বানানো কথা।কারণ তিনি আতিক কে পছন্দ করেন না।মেয়ের জামাই হিসেবে তো একদম ই না। পরদিন ওই বাড়ি থেকে কয়েকজন আসলো,বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে। কাকা বললো
– মা যখন ওদের বিয়েটা ঠিক করেই গেছে তাহলে আর দেরি করে কি লাভ,ভাই ও চলে গেলো,কোনদিন আমিও চলে যাই কে জানে তাই ওদের বিয়েটা দেখে মরতে চাই।মা বললো,মেয়ে তো এখনও অনেক ছোট,এখনই বিয়ে দিবনা।আরো বড়ো হোক।তাছাড়া ও বড়ো হইছে ওর বোনের কাছে, ওর বোন জামাই আছে।ওরা ওর বড়ো গার্জিয়েন। ওদের ও তো একটা মত আছে তাইনা?ওদের কে বলেন,ওরা যা করবে আমি তাতেই রাজি।কাকা এইটা মানতে নারাজ।সে সোজা বললো এখানে মতের কি আছে,বিয়ে তো ঠিক করাই। বড়ো জামাইকে খবর দেন কালকেই আমরা বিয়ের কাজটা শেষ করবো,একরকম হুমকী দিয়ে গেলেন বলা যায়। মা কান্না করছিল আর বলছিলো,আজ যদি তোর বাবা থাকতো,না হয় আমার ছেলেটা বরো থাকতো তাহলে এমনটা হতো না।
আমি বুঝতে পারছিলাম না,ওনাদের এত আপত্তি করার মানে টা কি।আতিক দেখতেও ভালো,ইদানিং ভালো টাকা পয়শাও রোজগার করে,শুনছি একটা ভালো কোম্পানিতে চাকরি করে,কি কোম্পানি সেটা বলতে পারবোনা,আমি কেনো বাড়ির কেউ ই সেটা বলতে পারেনা।তাছাড়া ছোট বেলা থেকেই জেনে এসেছি ও আমার বর।মনের ভিতর একটা জায়গা তো ওর জন্য তৈরি হয়েছে ।এখন ওই জায়গাটা থেকে সরে আসা ও তো এতোটা সহজ নয়। বাট কাওকে কিছু বলার মত সাহস ছিলনা।মা,বোন,দুলাভাই ওনারা যা করবেন সেটাই মেনে নিতে হবে। আপু আর দুলাভাইকে আম্মা ফোন করে সব টা জানালো।দুলাভাই তো সেই রাগী মানুষ।রেগে গিয়ে বললো ওরা যখন কালকে বিয়ের কথা বলছে,তাহলে কালকেই বিয়ে হবে তবে ওর সাথে না,আমার খালাতো ভাই সোহানের সাথে। ছেলেটা অনেক ভালো,আমার মনে হয় না আমি বললে খালা অমত করবে।উনিও ছেলের জন্য অনেক পাত্রী দেখতেছে।ছেলে বাংলাদেশ ব্যাংক এর ড্রাইভার।সরকারি চাকরি পাওয়া এত সহজ না,ড্রাইভার হলেও ভালো।সরকারি পিয়নের ও অনেক দাম।আপাতত আতিকের থেকে অনেক ভালো হবে।
পরদিন দুলাভাই সোহান ভাইকে আর একজন বয়স্ক লোক কে নিয়ে আমাদের বাড়ি আসলো।আমি সোহান ভাইকে আগের থেকেই চিনি বাট এইবার বরো একটা ধাক্কা খাইলাম,যখন শুনলাম তার সাথে আমার বিয়ে,আর এখনই। কাজী সাহেব কে দুলাভাই সাথেই নিয়ে এসেছিল।কোনো সাড়া শব্দ করতে মানা করা হলো,নিরবে বিয়েটা পড়ানো হলো।কেউ জানেনা।না কোনো গায়ে হলুদ,না কোনো মেহেদী, না কোনো শাড়ী গহনা,কিছুইনা।শুধু গোসল, তাও আবার পুরান সাবান দিয়েই।এর মধ্যে কাকা আসলো হয়তো‌ বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে কিন্তু উনি এসে এই অবস্থা দেখে ওনার মাথা খারাপ হয়ে গেলো।চাচাতো ভাইদের সবাইকে ডাকলো আমার হাসব্যান্ড কে মারার জন্য।হইচই শুনে অনেকেই জমা হলো।
পরে পাড়াপড়শি দাদা, বড়ো ভাইদের জন্য আর মারতে পারেনি,তারা বাধা দিছে। অনেক ঝগড়া হলো সেদিন,তবুও মা যেনো ভিশন খুশি,তার মেয়েকে আতিকের হাতে তুলে দিতে হয় নাই।কিন্তু আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না,কি থেকে কি হয়ে গেলো।আমি মন থেকে মেনেই নিতে পারছিলাম না ব্যাপার টা।মনে মনে ভাবলাম হাসব্যান্ড কে বলবো আমি এই বিয়েতে রাজিনা,আপনি আমার থেকে দূরে থাকবেন। বাট আফসোস বলতেই পারলাম না।সে আমার আগের থেকে চেনা থাকলেও আজ তারে একদম অচেনা লাগছে,কতবার মুখ ফুটে বলতে গিয়েও বলতে পারলাম না।কেনো জানি আমি কিছু বলতে পারিনা। ভেতর থেকে কে যেনো থামিয়ে দেয় আমায়।
অবশেষে সব মেনে নিলাম বাট মানিয়ে নিতে অনেক টাই কষ্ট হচ্ছিলো।হাসব্যান্ড মোটামুটি ভালোই।শান্ত,কথা কম বলে,কোনো বাজে অভ্যাস ও নাই তার মাঝে।সব ঠিকই ছিল বাট যখন আতিকের কথা মনে পড়তো খুব কষ্ট হতো।পাশের জায়গাটা হাসব্যান্ড কে দিলেও মনের জায়গাটা খালিই ছিল।সেই জায়গাটা কখনো দেওয়া সম্ভব না।যাই হোক চলছিল ভালই,মাঝে মাঝে মনে হতো হাসব্যান্ড টা আরেকটু রোমান্টিক হলেও পারতো।কেমন যেনো বোরিং বোরিং লাগে।
এভাবেই কেটে গেলো কয়েক বছর।বাড়িতে গেলে প্রায় ই আতিকের সাথে দেখা হতো।এক বছর হলো আতিক বিয়ে করেছে।ওর বউএর সাথে যেনো ওর ভালোবাসার টান টা একটু বেশিই।আতিক এমনেই একটু রোমান্টিক টাইপের।ওদের ভালোবাসা দেখে আমার খুব হিংসা হতো।মনে মনে ভাবতাম হাসব্যান্ড ও তো এমন হতে পারে,কিন্তু না তার মাঝে রোমান্টিকতা বলতে কিচ্ছু নাই।আতিকের সাথে বিয়ে হলে কত ভালো হতো।আমি সুখী হতে পারতাম। ও এখন অনেক টাকার মালিক হয়ে গেছে।একটা বাড়ি করেছে দেখলে মনে হবে রাজ বাড়ি। বাইক কিনেছে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে,জমিও কিনেছে অনেক।চলাফেরা ও অনেক হাইফাই । ওর সাথে বিয়ে হলে আজকে আমিও বড়লোক থাকতাম।
একবার হাসব্যান্ড এর সাথে আমার ঝগড়া হলো,এক বিয়ে বাড়ীতে যাওয়া নিয়ে।আমি যেতে চাই,উনি যেতে দিবেন না।রাগ করে বাড়ি চলে আসলাম।প্রায় ই ওনার সাথে আমার‌ ঝগড়া লেগেই থাকে আসলে দোষটা ওনার না, আমারই।আমি গন্ডগোল পাকিয়ে তার থেকে দূরে দূরে থাকার চেষ্টা করতাম।সেদিন ও দোষটা আমারই ছিল।উনি একবার মানা করছে বিয়েতে যেতে,পরে অনেকবার বলার পরেও আমি যাইনি,শুধু শুধু রাগ দেখায় চলে আসছি।
মা সবই বুঝে,আমাকে বুঝানোর চেষ্টা করে কিন্তু কোনো লাভ হয় না।ওইদিন ও মা বুঝাতে চাইলো আমাকে
– এমন।পাগলামি করিস কেন দুই দিন পর পর? জামাই কি খারাপ মানুষ? ওতো কোনো ঝামেলা করার মানুষ না।
আমার মাথা ওইদিন এমনেই অনেক গরম ছিল।মায়ের সাথে ওইদিন অনেক রাগ দেখলাম।
– আমার এত ভদ্র মানুষের তো কোনো দরকার ছিলনা,আমি অভদ্র নিয়েই না হয় থাকতাম।দেখেছো তোমরা না আতিক কে এত অবহেলা করেছো এখন দেখো ও কোন পজিশনে আছে।তোমার ঐ ভদ্র জামাই সারাজীবন চেষ্টা করলেও ওই পজিশনে আসতে পারবেনা।তোমরা যদি আজকে ওর সাথে আমার বিয়েটা দিতে আমিও ভালো থাকতাম , বড়লোক ও থাকতাম।মা আমার কথা শুনে চুপ করে রইলো কিছু বললো না।
প্রতিবারের মতো রাগ কমার পর হাসব্যান্ড আমাকে এসে নিয়ে গেলো। কেটে গেলো ছয় মাস ঈদে বাড়িতে আসলাম। হাসব্যান্ড,আমি,আমার বাচ্চারা ও।বিকেলে বাড়ির পেছনে সবাই আড্ডা দিচ্ছিলাম।এমন সময় হঠাৎ অনেক গুলা পুলিশ আসলো।সোজা আতিক দের বাড়িতে ঢুকলো।আমরা কিছু আনতাজ ‌করার আগেই পুলিশ আতিক ও তার বউকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো।সবাই জানতে চাইছিলেন কি হইছে,দৌড়ে সবাই বাড়ির ভেতরে গিয়ে দেখি,প্রায় দশ কার্টন ইয়াবা।পিস্তল ও আছে সাথে।আমিতো দেখে অবাক। কারো বুঝতে বাকি রইলোনা ওর দ্রুত বড়োলোক হওয়ার কারণ।আমি তো রীতিমত শকড।চুপ করে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার ছিলনা।
আমি মায়ের মুখে খুশির ঝলক দেখতে পেলাম। ঠোঁটের কোনায় হাশি।যেনো সে আজ তার মেয়ের ,সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছে।আমিও মনে মনে প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছিলাম।আফসোস গুলো যেনো জীবনের সফলতায় রূপান্তরিত হলো।ভাগ্যিস বিয়েটা হয় নি,না হলে আমাকে ও এইদিন টা দেখতে হতো।হাসব্যান্ড এর প্রতি কেনো জানি শ্রদ্ধা অনেক গুণ বেড়ে গেলো। মনে মনে বলতে লাগলাম
– থাক আমার আনরোমান্টিক,ভদ্র,গরীব বর টাই ভালো…

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত