অপরাজিতা

অপরাজিতা
মেয়ে হয়ে জন্মেছি বিয়ে তো করতেই হবে। বিয়ে নিয়ে সবার মনের একটা সুপ্ত বাসনা থাকে আমি অবশ্য খুব ভালো করেই তার সাথে অবগত। মেয়ে হয়ে জন্মেছি বিয়ে না করলে লোকে ছি ছি করবে। সমাজে মুখ দেখাবে কি করে। মেয়ের বয়স ১৭ তে পা দিছে। এতেই যেন তার চুলে পাক ধরেছে৷ কিছু দিন পর হয়তো এই চামড়ায় ভাজ পরবে। এই হাত অচল হয়ে যাবে। মাতৃ শুঁখ পাবে না।
এতো সেত কতো কি৷ আমি অবশ্য শিক্ষিত মেয়ে বাবার এক মাত্র আদুরে মেয়ে। মা নেই ছোট থেকেই বরাবর জেদ টা আমার একটু বেশিই আছে। এতো সবার কথায় কান দিতাম না জদিনা বাবা বলতেন, মরে বয়স তো হলো বিয়েটা করে নে। বাবাকে কি করে ফেরায়। ঘরোয়া দেখায় বিয়েটা আমার ধুম ধাম করে হলো৷ বিয়ে করে শ্বশুর বাড়ি প্রথম পা রেখেছি। ভেতরে যেতে ননদিনীর আমার একটা কথা কানে আসে,
–১০ লাখ টাকা পন চেয়েছি ৫ লাখ বাকি এই মেয়েকে তার বাপের বাড়ি রেখে এলে ভালো হতো।
এ কথা শুনার ছিলো না আমি আসা করি নি এ কথা। কিন্তু শুনতে হলো যাক এখন কিছু বলবো না৷আগে বাবার কাছে শুনবো তিনি আমার বিয়েতে পন কেন দিলেন৷ আমি তো কম নই বাবকে অনেক আগেই বলেছি একটা সুতোও আমাকে যেন না দেয়৷ বাবা আমার দিনমজুর খুব কষ্টে চলেছে আমাদের সংসার৷ আমি আর বাবার ছোট্ট সংসার৷ জাক এখন স্বামী কে বলবো সে পাশে থাকলে লড়বো৷ এক বুক ভরা আসা নিয়ে জার হাত ধরে শ্বশুর বাড়ি এলাম তাকে জখন আমি বললাম৷ জানেন সে না আমাকে বুঝলো না৷ আমার গালে তার ৫ টা আঙুল বসিয়ে বললো,
–আমি পনের টাকা চাই। তুই তোর বাপ কে বল। এর পর আমার বোনকে বা মাকে নিয়ে এমন কথা বললে তোকে মেরে ফেলবো৷ জবাব আমি দেয় নি আর একটু দেখবো এবাসার সবার ব্যাবহার৷ ভোরের সূর্য উদয় হতে, শাশুড়ী মা ঘরে এসে একটা ছেড়া সারি ধরিয়ে বললো কাজ করতে। সে দিন আমি এই এতো বড়ো বাসার সব কাজ করেছিলাম আমি।সাথে এ বাসার সবার কটু কথা বাজে কথা নানা ভাবে অত্যাচার। রাতে ক্লান্ত হয়ে ফোন নিয়ে বাবাকে বলতে বাবা আমার উত্তর কি দিলেন জানেন,
–মারে এগুলো একটু সহ্য কর বাকি ৫ লাখ টাকা খুব জলদি দিবো৷ এই কথা শুনবার পর আমি চিল্লিয়ে বলেছিলাম,
–বড়ো ভুল করেছো তুমি আমাকে না বলে এই ছোট লেক দের টাকা দিয়ে৷ মেয়ে দিয়েছো তুমি দাশি নয়।
আমার ভেতরের সুপ্ত রাগ প্রকাশিত হলো৷ আমার চিল্লানো শুনে স্বামি অক্ষাত্ত ভাষায় বাব তুলে একটা গালি দিলেন, সাথে সাথে পেছনে ফিরে ঠাস করে চড় বসিয়ে বললাম,
–আমি হইমন্তি নই৷ আমাকে দূর্বল ভাবিস না৷ আমি অপরাজিতা৷ বাইরে দাড়িয়ে সবাই এই দৃশ্য দেখে হ হয়ে দাড়িয়ে আছে৷কেউ আসা করে নি এটা আমও বুঝতে পারছি৷ তেমনি কেউযে এই সুপ্ত রাগের সাথে পরিচিত নয় সেটাও বুঝতে পেরেছি। এক কাপড়ে বেরিয়ে আসি সেদিন উদ্দেশ্য নিজের নাম তুলে ধরা। জানি কেউ খুজবে না কিন্তু আমি খুজবো জে দিন আমি খুজবো সেদিন ওদের পন আমি গুনে গুনে দিবো।
১০ বছর৷ পর সেদিন বেরিয়ে এসে নিজে টিউসনি করিয়ে নিজের খরচ চালিয়ে পড়া শুনা করি বাবার কাছে যায় নি৷ আজ ৩৬ তম বি সি এস এর চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত হবে তার সাথে নিশ্চিত হবে আমার ১০ বছরে সাধনার ফল কি৷ আলহামদুলিল্লাহ আমি প্রসাসন পর্যায়ে আজ বি সি এস কেডার৷ আজ প্রথম পা দিবো আমার বাবর বাসায়৷ আজ নিজের গাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। গাড়ির কাচ সরিয়ে বাইরে তাকিয়ে সেই দিনের কথাটা মনে পড়ে গেল
–আনি হইমন্তি নই আমি অপরাজিতা। আসলেই আমি অপরাজিতা। অনেক হিসাব বাকি আছে

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত