এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই

এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই
কাজল:রিলেশনের ৩ বছর পর আজ একথা বলছো তুমি?
সৌরভ: হ্যাঁ বলছি, আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি কাজল। এভাবে আর কতোদিন বলো?
কাজল: ভেবে চিন্তে বলছো তুমি এসব? তুমি জানো তুমি কি বলছো?
সৌরভ:হ্যাঁ আমি জানি আমি কি বলছি। আর আমি সব ভেবে চিন্তেই বলছি।
কাজল: মুচকি হেসে বলে শারীরিক সুখই কি সব?
সৌরভ: হ্যাঁ শারীরিক সুখই সব। কিন্তু আমি তো এইটা তোমাকে বোঝাতেই পারছি না। তোমার হাত ধরতে গেলে তোমার প্রবলেম,জড়িয়ে ধরতে চাইলে বলো এখন না বিয়ের পর। একটু কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেই তুমি রেগে চলে যাও। কিন্তু আমার পক্ষে এভাবে তোমার সাথে থাকা সম্ভব নয়। হয় তুমি রুমডেট করতে রাজি হও না হলে ব্রেক আপ।
কাজল: মুচকি হেসে বলল ঠিক আছে।
সৌরভ: খুশিতে আত্মহারা হয়ে বলল ঠিক আছে মানে তুমি রাজি?
কাজল: দুই হাত ভাঁজ করে দাঁড়ালো। তারপর সৌরভের চোখে চোখ রেখে বলল যেদিন প্রথম তোমার চোখে চোখ রেখেছিলাম সেদিন আমার বোঝার ক্ষমতা ছিল না যে তোমার চোখে আমার জন্য ভালোবাসা না মোহ ছিল। কিন্তু আজকে তোমার চোখ দেখে বোঝার ক্ষমতা আমার আছে যে এইটা ভালোবাসা না জাস্ট এক্সপেক্টেশন। মনে আছে ২ বছর আগে তোমাকে বলেছিলাম যেদিন মানসিক চাহিদার থেকে শারীরিক চাহিদা তোমার কাছে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট হয়ে যাবে সেদিন আমাদের সম্পর্কের ভীতটা নড়ে যাবে। কিন্তু তুমি বলেছিলে না এমন কিছুই হবে না আমাদের সম্পর্কে।(হালকা হেসে) আর আজ দেখো সেই তুমিই এইসব বলছো।
সৌরভ: তুমি যদি ভেবে থাকো এইসব বললে আমি গলে যাবো তাহলে ভুল ভাবছো।
কাজল: আমি জানি এইসবে মন গলার মতো মন তোমার না। কারণ মন পরিষ্কার হলে এই কথা তোমার মনে আসতোই না।
সৌরভ: এখন বলো তুমি কি চাও? রুমডেট না করলে আমি কিন্তু সত্যিই ব্রেক আপ করে দিবো।
কাজল: আচ্ছা ঠিক আছে ব্রেক আপ।(হাসি মুখে)
সৌরভ: অবাক হয়ে বলল আমি কিন্তু সত্যিই বলছি। ভেবে চিন্তে কথা বলো কাজল। আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে তো?
কাজল: একটা মেয়ের কাছে সবচেয়ে দামী জিনিস তার সম্মান। আর যার কাছে সেই সম্মানের কোন মানেই নেই সে কখনো একটা মেয়ের ভালোবাসার মানুষ হতে পারে না। তাই আজ আমিই তোমাকে বলছি এই মুহূর্ত থেকে তোমার সাথে আমার আর কোন সম্পর্ক রইলো না।
সৌরভ: তুমি তো আমাকে খুব ভালোবাসো। আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে না তুমি কাজল।(অস্থির হয়ে)
কাজল: স্ফিত হেসে বলল তোমাকে ভালোবাসি ঠিকই কিন্তু তোমাকে না পেলে মরে যাবো না। কেউ একজন বলেছিলো ভালোবেসে মরন চাইতে নেই কারণ ভালোবাসা তো বাঁচতে শেখায়। আর হুমায়ূন আহমেদ একটা কথা বলেছেন প্রথম দ্বিতীয় প্রেম বলে কিছু নেই। আমরা যতোবারই প্রেমে পড়ি না কেন সেইটাই আমাদের প্রথম প্রেম। আমিও চেষ্টা করবো নতুন করে কারো মাঝে ভালো থাকতে। হয়তো তোমার জায়গা কাউকে দিতে পারবো না কিন্তু চেষ্টা করবো যার সাথে সারা জীবন থাকবো তাকে তোমার উপরে জায়গা দিতে। কথাটা বলেই হনহন করে চলে আসে কাজল। সৌরভ পেছন থেকে কয়েক বার ডাকে কিন্তু কাজল পেছন ফিরে তাকায় না। রাগে গজগজ করতে করতে সৌরভ বট গাছটাকে জোরে আঘাত করে।
কাজল হচ্ছে কামরুল হাসানের একমাত্র মেয়ে। অনার্স ২য় বর্ষের স্টুডেন্ট। কাজলের মা নেই। ফুপি আর বাবার কাছেই মানুষ হয়েছে সে। আর সৌরভ হচ্ছে কাজলের ক্লাসমেট। তার বাবাও কাজলের বাবার মতো বিজনেস করে। ৩ বছরের রিলেশন ছিল তার আর সৌরভের। সৌরভের সাথে রিলেশনে যাওয়ার পর কাজল সেই কথাটা তার বাবাকে জানিয়েছিল। সেদিন তার বাবা তাকে বলেছিল…
কামরুল হাসান: ছেলেটাকে তুমি ভালোবাসো নাকি শুধুই ভালো লাগে আগে সেইটা যাচাই করো। আর ছেলেটা তোমাকে সত্যিই ভালোবাসো কিনা সেইটা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই তাড়াহুড়ো না করে সময় নাও। আরো কিছু দিন তার সাথে সময় কাটাও, তাকে ভালো ভাবে বোঝার চেষ্টা করো, জানার চেষ্টা করো, চেনার চেষ্টা করো। আর হ্যাঁ আমি এইসব বলছি মানেই এইটা নয় যে আমি সম্পর্কটা মেনে নিয়েছি। আমি এইসব বলছি কারন তুমি এখনো অনেক ছোট। আর তুমি যেই বয়সে আছো সেই বয়সে আবেগটা বেশি হয়। কিন্তু আবেগ যেখানে থাকে বিবেক সেখানে ০% থাকে। তাই আবেগ নয় বিবেক দিয়ে ভাবো। আরো সময় নাও। আর সবথেকে বড় কথা হচ্ছে সঠিক দূরত্ব বজায় রেখে তাকে জানার চেষ্টা করো। আশা করি আমার করা বুঝতে পেরেছো?
কাজল: মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলেছিল। সেদিন বাবার বলা কথাগুলো ভীষণ কঠিন মনে হয়েছিল তার। কথাগুলোর মানে বোঝার ক্ষমতা সেদিন ছিল না তার তবে আজকে সে তার বাবার বলা সেদিনের কথাগুলোর মানে বুঝতে পারছে।
অনেক দিন ধরেই কামরুল হাসান মেয়ের বিয়ের কথা বলছিলেন কিন্তু কাজল সময় চেয়ে এড়িয়ে যেতো। কামরুল হাসান সৌরভের কথাও বলেছেন কিন্তু কাজল তবু এড়িয়ে যেতো। কারণ কিছুদিন যাবত সৌরভের আচরণ কাজলের কাছে ঠিক লাগছিল না। বিয়ের কথা বললেই এড়িয়ে যেতো সৌরভ তাই কাজলও নিজের বাবাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতো। কিন্তু আজ সে ঠিক করেছে বাবার সাথে কথা বলবেই।
কাজল: বাবা তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
কামরুল হাসান: হ্যাঁ মা বল।(ফাইলে সাইন করতে করতে)
কাজল: বাবা আমি বিয়ের জন্য রাজি।
কামরুল হাসান: হঠাৎ করে মেয়ের এমন কথা শুনে চট করে তাকালো কামরুল সাহেব। তড়িঘড়ি করে বললেন সৌরভের সাথে কথা বলবো?
কাজল: না বাবা, সৌরভ নয় তোমার পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করবো আমি।
কামরুল হাসান: কপাল কুঁচকে বললো কেন? সৌরভের সাথে ঝগড়া হয়েছে?
কাজল: বাবা ৩ বছর আগে আমি আবেগ দিয়ে ভেবেছিলাম। বাবা সৌরভ আমার ভালোবাসা ছিল ঠিকই কিন্তু আমি তার মোহ ছিলাম।(কথাগুলো বলার সময় কাজলের গলাটা কেঁপে উঠছিল। চোখ বেয়ে কয়েক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো।)
কামরুল হাসান: তিয়াসকে বিয়ে করবি মা? ছেলেটা সত্যিই তোকে ভীষণ ভালোবাসে। এখনো তোর অপেক্ষায় আছে ছেলেটা। ওর বিশ্বাস চাওয়া যদি নেক হয় তবে ও সেইটা পাবেই। আর ও তোকে নেক দিল থেকেই চায়। এই ৩ বছরের তোর প্রতিটা কথা ও জানে। কিন্তু তোর অতীত নিয়ে ওর কোন অভিযোগ নেই। ও তোর ভবিষ্যত হতে চায়।
কাজল: চোখের পানি মুছে বললো ঠিক আছে বাবা তুমি ওদের সাথে কথা বলো। বলেই চলে এলো নিজের রুমে।
তিন বছর আগের কথা। সৌরভের সাথে রিলেশন হওয়ার কয়েক মাস পর তিয়াস কাজলকে প্রোপোজ করেছিল। সৌরভ আই লাভ ইউ বলে প্রোপোজ করেছিল কিন্তু তিয়াস তা বলেনি। তিয়াস সেদিন বলেছিল….
তিয়াস: কাজল, তোমাকে আমার ভীষণ ভালো লাগে। এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই। কিন্তু সেই চাওয়াটা যেন দীর্ঘস্থায়ী হয়। কাজলকে মুগ্ধ চোখে তাকাতে দেখে সৌরভ দৌড়ে এসে বলেছিল…
সৌরভ: কাজল আমাকে ভালবাসে। আমিও কাজলকে ভীষণ ভালোবাসি। কাজলকে না পেলে আমি মরে যাবো।
তিয়াস: মুচকি হেসে বলেছিল সত্যি কারের ভালোবাসায় কখনো মরন হয় না ভালোবাসা তো বাঁচতে শেখায়। তারপর কাজলের দিকে তাকিয়ে বলেছিল যদি কখনো মনে হয় আমাকে মিস করছো, আমাকে তোমার কাছে চাই তাহলে আমাকে স্মরণ করো। কথা দিচ্ছি কোনো রকম অভিযোগ ছাড়াই কাছে টেনে নেবো। এই টুকুই ছিল তিয়াসের সাথে তার আলাপ। কাজল তখন ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়তো আর তিয়াশ অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে। ছেলেটি নাকি তার বাবার বন্ধুর ছেলে। ভালো ঘরের ছেলে। এইসব কথা সে তার বাবার থেকেই শুনেছিল। আজকে নতুন করে কথাগুলো ভাবতে কেন জানি ভালো লাগছে কাজলের। কাজলের কথামতোই তার আর তিয়াশের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু সৌরভ একটা বারের জন্যও কাজলের সাথে আর যোগাযোগ করেনি। বরং সে অন্য একটি মেয়ের সাথে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দিয়েছে ফেইসবুকে। কাজল রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে সৌরভকে ব্লক করে দিয়েছিল কিন্তু পর মুহূর্তেই আবারো আনব্লক করেছে। কারণ সে হিংসের অনলে জ্বলতে চায় না।
তার ভালোবাসার পরিধি বাড়িয়ে এই হিংসের আগুন থেকে মুক্তি পেতে চায়। আর তার জন্য তিয়াসকে তার খুব দরকার। হ্যাঁ তিয়াসকে তার খুব দরকার। আমরা যারা বলি ভালোবাসতে কারণ লাগে না তারা কথাটা ভুল বলি। কোন না কোন কারনেই আমরা কাউকে ভালোবাসি। না হলে পৃথিবীতে এতো মানুষ থাকতে সেই একজনকেই কেন ভালোবাসি? তার কাছে থাকলে আলাদা একটা শান্তি আমরা পাই তা অন্য কারো কাছে পাই না। এইটা কি কোন কারণ নয়? তাকে ছাড়া থাকতে কষ্ট হয় যেন শ্বাস নিতে পারি না। এইটা কি কোন কারণ নয়? তাকে ভীষণ ভালো লাগে। এইটা কি কোন কারণ নয়? সে ভীষণ সুন্দর বারবার দেখতে ইচ্ছে করে। এইটা কি কোন কারণ নয়? হ্যাঁ আমরা কোন না কোন কারনেই কাউকে ভালোবাসি কিন্তু তবুও বলি ভালোবাসতে কোন কারণ লাগে না।
সেরকম ভালো থাকার জন্যই কাজল তিয়াসকে চায়। আর তাই আজকে কাজল নিজের জীবন থেকে সৌরভ নামটা মুছে তিয়াস নামটার সূচনা করবে। বাবা নিশ্চয় তার ভালোই চাইবে। নিজে তো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলো না, না হয় বাবার উপর আর একবার ভরসা করে দেখবে। এইসব ভেবেই সামনে দিকে পা বাড়ায় সে। বেশ জাঁকজমকপূর্ণ ভাবেই বিয়েটা হয়ে গেলো। সৌরভকে নিজে গিয়ে ইনভাইট করে এসেছিল কাজল। আর সৌরভও নির্লজ্জের মত এসে খেয়ে গেছে। সামান্য অনুতাপ বা অনুসূচনা তার মাঝে ছিল না। কাজল ও এখন এসব আর ভাবতে চায় না কারণ সে এখন অন্য কারো আমানত। সে চায় তাকে নিয়েই ভাবতে। কাজলের ভাবনার মাঝেই রুমে ঢুকলো তিয়াস। কাজল সালাম করতেই কাজলের বাহু ধরে দাঁড় করিয়ে বললো….
তিয়াস: পায়ে হাত দিতে হবে না। যাও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও। কাজল কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানায় বসলো। তিয়াস কাজলের হাত ধরতেই কাজল বলে উঠলো…
কাজল: আপনি শারীরিক সুখ চান নাকি মানসিক?
তিয়াস: মুচকি হেসে বলল দুটোই।
কাজল: দুটোই কেন?
তিয়াস: কারণ শরীর এবং মন একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত। তোমার যদি শরীর খারাপ লাগে তাহলে অটোমেটিক মনও খারাপ হয়ে যায়। আবার মন যদি খারাপ হয় তাহলে কিন্তু কোন কিছুতেই শান্তি অনুভব করো না। আর এর থেকে তৈরি হয় মাথা যন্ত্রনা, বুকে ব্যথা ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই মানসিক এবং শারীরিক উভয় শান্তিই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কাজল: হুম কথাগুলো তো সত্যি সত্যিই বলেছেন কিন্তু….
তিয়াস: কাজলকে থামিয়ে দিয়ে বললো আমি বুঝতে পেরেছি তোমার অস্তিত্ব হচ্ছে। কোন সমস্যা নেই তুমি সময় নিতে পারো। শারীরিক এবং মানসিক উভয় শান্তিই যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি সম্পর্ক ভেতর এবং বাহির উভয় জায়গা থেকেই মজবুত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ভেতরে কোনো “কিন্তু” চেপে রেখো না। আগে সব কিন্তুর সমাধান করে নিজের কাছে পরিষ্কার হও। একটা কথা কি জানো ভিত্তিহীন জিনিসের কোন মূল্য নেই। আগে সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলো পড়ে না হয় শারীরিক এবং মানসিক শান্তি নিয়ে ভাবা যাবে।
কাজল: এতো সুন্দর করে কেউ কখনো বুঝায়নি তাকে। কথাগুলো শুনে কাজলের চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো। তিয়াস কাজলের চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল….
তিয়াস: কিছুক্ষণ আগ পর্যন্ত এই চোখের পানি মুছে দেওয়ার অধিকার আমার ছিল না। কিন্তু এখন এই অধিকারটা একান্তই আমার। কথা দিচ্ছি এই চোখে পানি আসতে দেবো না। আবার পাগলামোর ছলে বারবারই কাঁদাবো। কারণ তোমার চোখের পানি মুছে দেওয়ার অধিকার এখন আমার আছে। কাজল অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকিয়ে মুক্ত ঝরা হাসি দেয়। তিয়াস বলে এক মিনিট আমি আসছি। বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেল। মিনিট পাঁচেক পর দুটো চায়ের কাপ হাতে রুমে ঢুকলো সে। কাজল অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। তিয়াস কাজলের দিকে চায়ের কাপ এগিয়ে দিলো। কাজল কাপটা হাতে নিয়ে মুচকি হেসে বলল….
কাজল: ৩ বছর আগে যে কেন আপনাকে গ্রহণ করিনি!
তিয়াস: কারণ সেইটা আল্লাহ তায়ালা হয়তো চাননি। আর তখন যদি আমাকে গ্রহণ করতে তাহলে আজ সৌরভকে নিয়ে তোমার মনে যে ধারণা তৈরি হয়েছে সেই একই ধারনা সৌরভের মনে তোমাকে নিয়ে হতো। থাক সেসব কথা। আমি আগেও বলেছি তোমার অতীত নিয়ে ভাবতে গিয়ে সময় নষ্ট করতে চাই না আমি। আমি তোমার ভবিষ্যৎ হতে চাই। আর আমি চাই তুমি তোমার ভবিষ্যৎ আমাকে ভেবে সময় নষ্ট করো। একটা কথা শুনো, আমার মাঝে সৌরভকে খোঁজার চেষ্টা করো না কখনো। কারণ আমাদের দুজনকে আলাদা দেহ আলাদা মন দিয়ে বানিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা। তুমি যদি এক জনের সাথে অন্য জনকে মেলাতে যাও তাহলে অযথাই মানসিক চাপ বাড়বে কারণ তুমি মিল খুঁজে পাবে না। শেষে সম্পর্কের ভিত্তি নড়ে যাবে তুমি ভালো থাকতে পারবে না।
কাজল: ঠিক বলেছেন, আমি আর আমার অতীত নিয়ে ভাবতে চাই না। তবে সৌরভের জায়গা আমি আপনাকে দিতে পারবো না। কারণ একজনের জায়গা কখনো অন্য জন নিতে পারে না। হয় তার আগের জায়গায় বসতে পারে না হয় পরের জায়গায়। কিন্তু একই জায়গা দুজনকে দেওয়া যায় না। আমি সৌরভের জায়গা আপনাকে দিতে পারবো না ঠিকই কিন্তু তার উপরের জায়গাটা আমি আপনাকেই দেবো। তবে সেইটা একবারে সম্ভব নয় সময়ের সাথে সাথেই সেইটা বাস্তবে রূপ নেবে।
তিয়াস: এই তো বুদ্ধিমতি মেয়ের মতো কথা বলেছো। এইটাই আশা করেছিলাম আমি। আসলে কারো প্রথম ভালোবাসা হওয়ার থেকে শেষ ভালোবাসা হওয়া উত্তম। কারণ প্রথম ভালোবাসা হারানোর ভয়ে ভীত থাকে কিন্তু শেষ ভালোবাসার কোন শেষ নেই।
কাজল: জানেন বাবা বলতো তাকেই ভালোবাসো যে তোমাকে ভালোবাসে। তাকে ভালোবেসো না যাকে তুমি ভালোবাসো। এর ব্যাখ্যা হিসেবে বলতো তুমি যদি কাউকে সুখি করতে চাও তাহলে যাকে তুমি ভালোবাসো তার কাছে যাও। কারণ তুমি যাকে ভালোবাসো তাকে সুখ দিতে দিতেই তোমার জীবন কেটে যাবে। আর নিজে যদি সুখি হতে চাও তাহলে সে তোমাকে ভালবাসে তার কাছে যাও। কেননা সে তোমাকে সুখি দেখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। কারণ তখন তার পৃথিবীই হবে তোমাকে ঘিরে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টোও হয়ে যায়। কিন্ত সেইটা শতকরা ১০% এরও কম।
তিয়াস: ভুল তো কিছু বলেনি ঠিক বলেছেন। যেমন তুমি সৌরভকে খুশি করতে অনেক চেষ্টা করেছো কারণ তাকে তুমি ভালোবেসেছিলে। আর আমি তোমাকে খুশি করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি। কাজল লজ্জা পেয়ে মুখ নামিয়ে নেয়। তিয়াস বলে চা তো ঠান্ডা হয়ে গেছে দাঁড়াও আমি আবার বানিয়ে আনছি।
কাজল: না না, থাক। কষ্ট করে আর বানাতে হবে না।
তিয়াস: কষ্ট করলেই কিন্তু কেষ্ট মেলে। আর একটা কথা ওয়েট আগে চা করে আনি তারপর এসে বলছি। বলেই আবারও চা করে আনলো। কাজলের হাতে কাপটা দিয়ে বলল… আমি ভাবছি আজ থেকে তোমাকে কাজু বলে ডাকবো। কারণ কাজু বাদাম আমার ভীষণ প্রিয়। বলেই মুচকি হাসে সাথে কাজলও হাসে।
কাজল: কি যেন বলবেন বলছিলেন তখন?
তিয়াস: ওহ্ হ্যাঁ। ৩ বছর আগে কি বলেছিলাম মনে আছে? কাজল লজ্জা পেয়ে যায়। তিয়াস মুচকি হেসে বলে বলেছিলাম এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই। কিন্তু ক্ষনিকের জন্য নয় দীর্ঘস্থায়ী ভাবে। আর তাই তো আজ বারবার চা করে আনছি। সবাইকে বোঝাতে হবে তো আমার চাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। কাজল মুচকি হেসে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দেয়। তিয়াস আবারো বলে উঠে কাজু, এক কাপ চায়ে আমি তোমাকেই চাই।‌।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত