ভুল আগমন

ভুল আগমন
মাথায় যেন রক্ত উঠে এসেছে আমার। একটা ব্যাস্ত নগরে আম্মুকে এভাবে এই পরিস্থিতিতে দেখবো তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। সিগন্যালে অনেকগুলো গাড়ি থামতেই চোখ পড়লো একটা এফজেটএস বাইকের দিকে। আম্মু একটা অপরিচিত লোককে ঘনিষ্ঠ হয়ে জড়িয়ে ধরে বাইকে বসে আছে, কত নিশ্চিন্তে। যেন নব্য প্রেমে পড়া একটি প্রেমিকযুগল মুক্ত হাওয়ায় উড়ছে; এরকম একটা অপ্রস্তুত মুহূর্তকে পৃথিবীর কোন সন্তান কোনদিন কীভাবে নিয়েছে এটা আমার জানা নেই। আমি থমকে আছি। এখন আমার খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছে জানেন?
অর্পাকে একটা ধাক্কা দিয়ে একটু দূরে সরালাম। মেয়েটা হঠাৎ আমার এহেন আচরণ দেখে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। এই মেয়েটারও একটা বদ অভ্যাস আছে, যখন-ই আমার সাথে হাঁটবে তখন আমার ডান হাতটা জড়িয়ে ধরে টেনে টেনে হাঁটবে। ওর হাইট আমার থেকে নয় ইঞ্চি কম, সো যখন আমার হাত জড়িয়ে হাঁটে তখন আমার মনে হয় কেউ যেন আমার হাতে ঝুলাঝুলি খেলছে। একসাইট অলমোস্ট বাঁকা করে দিয়েছে এই মেয়ে। কোনদিন কিছু বলিনি আমি। এজন্য মোস্ট অব দ্য টাইম আমি ওকে নিয়ে রিকশা করেই ঘুরি। আজকেও ঝুলেই ছিল, ব্যাপারটা খুব অসহ্য প্যারা দিচ্ছিল এই মুহূর্তে। অর্পা বুঝে নাই আমি আসলে কেন এমনটা করেছি।
ভার্সিটির সেমিস্টার ফাইনাল দিয়ে খুলনা থেকে বাসায় আসছি গতকাল। সো ভাবলাম একটু দেখা করি অর্পার সাথে, একদম ফ্রেশ এয়ারে সকাল সকাল। অর্পা আসবে মোহাম্মদপুর থেকে, আর আমি নিকুঞ্জ। ঠিক করলাম দেখা করবো সংসদ ভবনের সামনে।
আমি এসে বসে আছি সকাল সাতটা থেকে। ভোরে বের হতে বলেছিলাম ওকে, ও মাত্র দুই ঘন্টা উনিশ মিনিট লেট করে এখন এসেছে। হেঁটে আসলেও মিনিট পনেরো সময় লাগার কথা। তবে এই সময়টা কাটানোর মতো একটা অবজেক্ট আমার কাছে ছিল; অর্পার জন্য যখন এখানে এসে বসে ছিলাম তখন আরেকটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে গিয়েছিল, যার সাক্ষী একমাত্র আমি ছিলাম। আশেপাশে আমি ছাড়া আর কেউ ছিলনা। ঘটনাটা ছিল এরকম; একজন মধ্য বয়স্ক মহিলা তার হাজবেন্ড সহ এখানে মেবি জগিং করতে আসছেন। এমন সময় মহিলার পরিচিত আরো কয়েকজন মহিলাকে পেয়ে কুশল বিনিময় করছিলেন দাঁড়িয়ে হাসিমুখে। পরে দেখলাম ফুচকাওয়ালাদের পাতানো চেয়ারে সবাই গোল হয়ে বসতে লাগলেন, বোধহয় আড্ডা দিবেন জম্পেশ। ঠিক এমন সময় ধপাস করে একটা শব্দ হল। সাথেসাথ হুহু করে একটা হাসির রোল। তাকিয়ে দেখলাম ওই মহিলাটা যিনি তার হাসবেন্ডকে নিয়ে এসিছিলেন উনি চেয়ারে বসতে গিয়ে নিচে পড়ে গেলেন। এত জোরেই পড়লেন যে চেহারাটা কান্না কান্না হয়ে গিয়েছে, খুব কষ্টে কান্না চেপে বসে আছেন মাটিতেই।
স্বামী বেচারা এক হাত মুখে দিয়ে হাসছেন আর আরেক হাত দিয়ে উনার স্ত্রীকে টেনে উঠাচ্ছিলেন। কোনরকম মহিলা উঠে দাঁড়িয়েই উনার স্বামীকে সজোরে একটা থাপ্পড় মেরে একরকম খোঁড়াতে খোঁড়াতে একটা খালি সিএনজি থামিয়ে উঠে চলে গেলেন। থাপ্পড়টার শব্দ উনি পড়ে যাওয়ার চেয়ে বেশি ছিল। এখন সবাই নীরব। যাইহোক ঘটনা হল স্বামীই এখানে দোষী। উনি নিজেই মজা করতে গিয়ে কিংবা মজা দেখাতে গিয়ে দুষ্টুমি করে চেয়ার সরিয়ে ফেলছিলেন। মহিলার শিওর কোমরের হাড় ভেঙেছে। লজ্জাও পেয়েছেন খুব। পড়েই আমার দিকে তাকিয়েছিলেন। সো থাপ্পড় যিনি খেয়েছেন উনি উচিৎ শিক্ষাটাই পেয়েছেন। আরো কয়েকটা দিয়ে আক্কেল ঠিক করে দেয়া উচিৎ ছিল বেক্কল লোকের।
এই শহর ক্ষণে ক্ষণে গল্প জন্ম দেয়। আমার গল্পে ফিরে আসা যাক; এখনও সিগন্যাল ছাড়ে নাই। আমার আম্মু খুব করে উনার চেহারা লুকানোর নানান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখনো বুঝতে পারেননি আমি উনাকে দেখেছি কিনা। উনি শাড়ির আঁচল টেনে মুখ ঢেকে রেখে মুখটা বাইকের লোকটার ঘাড়ের ওপাশে নিয়ে রেখেছেন। জঘন্য দৃশ্য। আব্বু প্রায়শই আম্মুকে এসব বিষয়ে খুব সন্দেহ করতো। আমি সেসব কেন যেন বিলিভ করতে পারতাম না। আম্মুকে যে খুব ভালবাসতাম। যদিও আমাকে তারা ছোটবেলা থেকেই খুব কাছে রাখেনি বাট বাসায় আসলেই এসব ঝামেলা দেখতাম। ডিভোর্স হয়ে যাবে যাবে অবস্থা অনেকদিন থেকেই।
আচ্ছা আমি আমার মাকে চিনবো না? ওনি আমাকে লুকাচ্ছেন? উনার সন্তানকে? আচ্ছা কীসের অভাব অনুভব করেন তারা? আমার বাবা মায়ের সম্পর্ক আমি আজ অবধি ভালো দেখিনাই কোনদিন। সারাক্ষণ একজন আরেকজনকে সন্দেহ করা। অথচ তারা নাকি ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন! এটা কেমন ভালোবাসা ছিল তাদের? টাকা পয়সা কোন কিছুর অভাব ছিলনা। আমার আম্মু একজন শিক্ষিকা, আব্বু একটা কোম্পানির এমডি। এলিট লাইফ লিড করাটা জন্মের পর থেকেই আমি দেখছিলাম। বাট কোথায় যেন একটা সোশাল গ্যাপ রয়েই গিয়েছিল। আমি অনেকটা পাখির খাঁচায় বেড়ে উঠেছিলাম। অথচ আমিই কিনা একমাত্র সন্তান!
এতোটাই আধুনিক জীবন নিয়ে তারা ব্যস্ত ছিলেন যে আমি একটা উটকো ঝামেলা যেন হয়ে গিয়েছিলাম। যাক আমি বিপরীত দিকে হাঁটা শুরু করলাম। উনাকে আর অশান্তিতে রাখবো না। খুব অসুস্থ লাগছে আমার এই মুহূর্তে। অর্পা কখন যেন রাগ করে চলেই গেল। মেয়েটার সাথে অন্যায় করলাম। আব্বুর বিষয়টা আগে থেকেই জানা ছিল। উনি প্রায়ই নাইট ক্লাবে সময় কাটাতেন। বাসায় আসাটাও রেগুলার ছিলনা। এটা নিয়েই ঝগড়াটা বেশি বাধতো। একদিন তো মাথা কাটার মতো অবস্থায় পড়ে গিয়েছিলাম আমি। আমি কখনো নাইট ক্লাবে যাইনি কারণ আমি জানতাম ছোটবেলা থেকেই নাইট ক্লাবে বাবা যান, যার কারণে আম্মু প্রায়ই ঝগড়া করতেন।
এটাকে নিকৃষ্ট কিছু ভেবেই বড় হয়েছিলাম। একটা ফ্রেন্ডের রিলেটিভের জন্মদিনে ওর সাথে বাধ্য হয়ে একদিন একটা ক্লাবে যাই। ওখানে গিয়ে হঠাৎ যখন আব্বুকে দেখলাম আমার বয়সী মেয়েদের নিয়ে নাচানাচি করছেন তখন আমার ইচ্ছে করছিল মরে যাই। রাগে ক্ষোভে দৌড়ে বের হয়ে গিয়েছিলাম। তখন শেষ ভরসার যায়গাটায় আমার আম্মু ছিল। আর আজ? সেও নেই। সেও তার মতোই জীবনটাকে উপভোগ করছে। বাহ্। ,আব্বুর সাথে আমার কোনদিন ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়নি। আম্মুর সাথেও যে খুব একটা ছিল তাও না। ছোটবেলায় ছিল কিনা তাও জানিনা। আম্মু তো কলেজ কোচিং পরীক্ষা ইত্যাদি নিয়েই থাকতো, আমি মানুষ হয়েছি বলতে গেলে কাজের বুয়ার কাছে। উনার নাম সোমা। সোমা আন্টিকে-ই আমি মা ডাকা শুরু করেছিলাম একটা সময়। উনি কোথায় আছেন এখন জানিনা।
আমি বুঝাতে পারছিনা কতটা সামাজিক প্রতিকূলতায় আমি বেড়ে উঠেছিলাম। আমার খুব ইচ্ছে হতো আম্মুর কোলে একটু শুই। আম্মুকে জড়িয়ে ধরি একটু। আব্বুর সাথে একটুখানি আড্ডা দেই বসে। জীবনে চলার জন্য মূল্যবান কিছু মোটিভ পাই কিংবা শাসন বারণ ইত্যাদি ইত্যাদি। আব্বু হোক বন্ধুর মতো। একটা সামাজিক প্লাটফর্মে আর যা যা থাকে কিছুই আমি দেখিনি শিখিনি। এতটুকু চাওয়া আর আক্ষেপ আমার পূর্ণ হয়নি জানেন। একটু বড় হওয়ার পর থেকেই হোস্টেলে হোস্টেলে থেকেই পড়াশোনা। মাঝে মাঝে মনে হতো আমি ওদের সন্তান-ই না। টাকা পয়সাটাই আজ মূখ্য হলে আমার এতো আক্ষেপ থাকতো না। এতো কিছুর পরেও আমি বেঁকে যাইনি। সুবোধ বালকের মতোই বেড়ে উঠেছিলাম।
অর্পার বন্ধু হয়ে ওর বাড়িতে একবার গিয়েছিলাম গ্রামে। ওর মা আমাকে ভাত মাখিয়ে তুলে খাইয়েছিলেন, সাথে অর্পাকেও। তখনকার মুহূর্তটা খুব অপরিচিত লাগছিল আমার। এভাবে কখনো আমি আমার আম্মুর কাছাকাছি হইনি। অর্পার বাবা আমাকে সারা গ্রাম ঘুরিয়ে দেখিয়ে ছিলেন, অনেক মূল্যবান গাইড দিয়েছিলেন। একটা সন্তান নিয়ে তার স্বপ্ন আমাকে বলেছিলেন। আমার স্বপ্ন নিয়েও জানতে চেয়েছিলেন, আমি কিছুই বলতে পারিনি।
ঐ পরিবারে অর্পার চাচা চাচী কাজিন ফুফু ইত্যাদি ইত্যাদি মানুষগুলোর বন্ডিং দেখে, আনন্দ দেখে আমার জাস্ট দম বন্ধ হয়ে আসছিল। এসব আমি কিছুই দেখিনি পাইনি কখনো। আমি কিসের জীবন অতিবাহিত করেছি কিছুই জানিনা। সঙ্গী বলতে অর্পা মেয়েটা আমাকে কলেজ লাইফ থেকে না ধরলে এই জীবনটা মরা নদীর মতো হয়ে যেত। হয়তোবা বেঁকে যেতাম আমি। এই মেয়েটা আমাকে জিইয়ে রেখেছিল। একটা সিগারেট ধরালাম। অর্পার প্রমিস ভেঙেই। এই একটা অভ্যাসই ছিল আমার বাজে তাও অর্পার হুমকিতে এটাও ছেড়ে দিয়েছিলাম। আজকে আবার ধরেছি। ফোন বের করলাম অর্পাকে একটা কল দিবো বাট ফোনটা কখন যেন অফ হয়ে গেল। ইচ্ছা করছে না আর বাসায় যেতে। আম্মুর চেহারাটাও আর দেখতে ইচ্ছে করছে না আমার।
শেষমেশ রাত দশটায় বাসায় ফিরলাম। আম্মুকে দেখলাম খাবার টেবিলে বসে আছে। আমাকে দেখেই বলছে, তোমার ফোন অফ ক্যান? টইটই করে কোথায় ঘুরে বেড়াও সারাদিন? বাপের দেখানো রাস্তায় চলছো নাকি হ্যাহ?
মনে মনে ভাবলাম, এই মহিলা কতটা নির্লজ্জের মতো এসব বলছে সে নিজেও বুঝতে পারছেনা হয়তো। ঘরে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লাম।মাঝরাতে চেঁচামেচি শুনে ঘুমটা ভেঙে গেল। আবারও আম্মু আর আব্বুর ঝগড়া লাগছে। আজকে আব্বু অতিরিক্ত মাতাল হয়ে ঢুকছে মেবি। উনারা সম্ভবত ব্যাক্তিগত ব্যস্ততার কারণে ডিভোর্স নিতে পারছিলেন না। আম্মুকে শুনলাম কোন এক লয়ারকে বলছেন কালকে পেপার পাঠানোর জন্য। আব্বুকেও শুনলাম এটাতে খুব একমত। খুব সম্ভবত আনুষ্ঠানিক ভাবে আগামীকাল আমার বাবা মায়ের ডিভোর্সটা হয়েই যাচ্ছে।
আমার ব্যাপারটা নিয়ে এই মুহূর্তে কথাবার্তা হচ্ছে। আমি কার সাথে থাকছি এটা নিয়ে। আম্মু সরাসরি বলে ফেললো তোমার ছেলের দায়িত্ব তুমি নাও। আব্বুর বিকট একটা তাচ্ছিল্যের হাসির শব্দ শুনে আমি দরজার কাছে এসে উঁকি দিয়ে দেখতে লাগলাম। আব্বু বললো; কী বললা শায়লা, আবার বলতো? আমার সন্তান? আইভিএফ এর মাধ্যমে ডোনেটেড স্পার্মে বিদেশে গিয়ে জন্ম নেয়া একটা ছেলেকে আমায় ঠেলে দিচ্ছো? আম্মুকে দেখলাম এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো; আস্তে কথা বলো। লজ্জা করছেনা এসব বলতে? তোমার মতো কাপুরুষের জন্যই আমি দশ মাস দশ দিন একটা অত্যাচার সহ্য করেছি বুঝলা? আমার লাইফটা অনেক বেটার হতো আজকে। আব্বু বললো; এ তো তোমাকে দমানোর জন্য বাধ্য হয়েছিলাম। সন্তান আর উটকো ঝামেলার কোন দরকার-ই ছিলনা আমার।
আমি কিন্তু অক্ষম ছিলাম না। জাস্ট বেবি হবেনা এরকম একটা ইস্যু ছিল। তারউপর তোমার মতো একটা চরিত্রহীনকে থামানোর জন্যই এতকিছু। আমার উপর কিছু চাপিয়ো না। আম্মু থাপ্পড় দিলো আব্বুকে। আর নিতে পারছিনা, আর কিছু শুনতেও ইচ্ছে করেনি। একটুও অবাক হইনি জানেন? বরং এই স্বাভাবিক সত্যটাই গেস করতাম আমি। আম্মু তো আমার আম্মু-ই ছিল তাইনা? পেটে ধারণ করাটা যে বিশেষ কিছু না এটা কতোটা সহজেই বুঝালো। মাথাটা তীব্র ব্যথায় যেন ফেটে যাচ্ছে। রুমে এসে হ্যাডফোন কানে গুঁজে ফুল ভলিউম দিয়ে শুয়ে আছি। ভাবছি আত্মহত্যা করে ফেলি। এটা কী একটা জীবন হলো আমার? একটা সুইসাইড নোট লিখতে বসলাম। লিখেও ফেললাম এক লাইনের কবির ওই বাক্যটা; জন্মই আমার আজন্ম পাপ।
খুব ভোরে চুপিচুপি এগারো তলার ছাদে চলে আসলাম। রেলিংএ উঠে দাঁড়িয়েছি। খুব জোরে ঠান্ডা শীতল বাতাস বইছে। আফসোস হচ্ছে এই পৃথিবীতে একটা তেলাপোকাময় জীবন পেয়ে। আব্বুকে বাদ-ই দিলাম। একজন মা হয়ে দশ মাস দশ দিন গর্ভে নিয়েও কীভাবে আম্মু আফসোস করছে আমাকে জন্ম দিয়ে? ঘৃণা হচ্ছে নিজের উপর খুব।
আত্মহত্যায় আমার কী সমাধান হবে ভাবতে পারছি না। খামোখাই সস্তা ভাইরাল আর তাচ্ছিল্য পাবো। নেমে গেলাম। সুইসাইড নোটটাকে ফেলে দিলাম নিচে। ও-ই সুইসাইড করুক। আত্মহত্যার পর আত্মার ডিপ্রেশন কমানোর আর কোন সুযোগ থাকবেনা। বরং কিছুদিন ছুটে বেঁচে থাকি। এটাই গল্প হয়ে বাঁচিয়ে রাখুক আমায়। মানুষ কতোটা স্বাভাবিকের বাইরেও থাকতে পারে এর একটা উদাহরণ হয়ে হলেও থাকি বেঁচে। পকেটে হাত দিয়ে দেখি ফোন আসছে। অর্পার ফোন।
– হ্যালো অর্পা।
– আসো দেখা করবো আজকেও। আজ লেট করবোনা প্রমিস।
– কালকের জন্য খুব স্যরি।
– ব্যাপারনা, আমিও আন্টিকে দেখেছিলাম বাইকে।
– আম্মুকে চিনলা কীভাবে?
– ভালো করেই চিনি রবিন, ছবি দেখেছি তোমার ফোনের ওয়ালে। ওই শাড়িটাই ছিল পরনে।
– ওহ্ এটা খেয়াল করিনি। জানো আব্বু আম্মুর ডিভোর্স হয়ে গেছে। মজার ব্যাপার হলো আমিও নাকি ওদের সন্তান ছিলাম না। আইভিএফ, ডোনেটেড স্পার্ম বুঝো? টেস্টটিউব বেবি চিনো?
– এতকিছু বুঝতে চাইনা, চিনতেও চাইনা।
– আচ্ছা আমি কী আত্মহত্যা করবো অর্পা? আমার শেষ আশ্রয়স্থল তো এখন তুমি। আমি আর চাচ্ছিনা এটা দেখতে যে তুমিও চলে গিয়েছো আমায় ছেড়ে। আমায় কী আর ভালোবাসবা কখনো?
– আমি যাচ্ছিনা কোথাও, যাবার জন্য ভালোও বাসিনি। তোমাকে আগলে রাখতেই আমি এসেছি, আছি এবং থাকব। চুপচাপ চলে এসো সব ছেড়ে সব ভুলে। আমরা এই শহর ছেড়ে কোন এক সভ্য অচিনপুর চলে যাবো। ওখানে ভালো থাকবো দেইখো। ঘর থেকে ব্যাগটা কাধে নিয়ে একেবারে এই শহর ছাড়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেলাম। আর ফিরবো না এই যান্ত্রিক নগরে। ভালো থাকুক আমার আধুনিক আম্মু আব্বু কিংবা যারা আয়োজন করে আমাকে পৃথিবীতে এনেছিল।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত