হঠাৎ নীরার জন্য

হঠাৎ নীরার জন্য
____ নীরা নামক জনৈক ষোড়শী আমার উপর ভয়ংকররকম চটে আছে। বয়সে বছর দশেকের বয়োজোষ্ঠ ও সম্পর্কে টিউশন মাষ্টার হয়েও আমাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। নীরার পাশের চেয়ারে বসে লজ্জায় মাটিতে মিশে যাবার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। চেষ্টায় তেমন কাজ হচ্ছে না। রিডিং রুমের দেয়ালের কাভারহীন ষাট ওয়াট লাইটের আলো সরাসরি আমার চোখেমুখে এসে পড়ছে। চোখধাঁধাঁনো আলোয় কোনোরকমে চোখ সরু করে টেবিলে খুলে রাখা খাতার দিকে তাকিয়ে আছি। এতটুক মেয়ে এভাবে কেটে কেটে কথা বলতে পারে, আমার দূর ভাবনাতেও ছিল না। লজ্জায় মরে যাবার ঠিক আগ মুহুর্তে আমি চোখেমুখে অন্ধকার দেখলাম। নীরা গলা উঁচু করে বলল,
‘চোখ সরু করে তাকাচ্ছেন কেন?’
‘এমনিই।’
‘কারণ তো নিশ্চয় আছে। ঘামছেন কেন?’
‘হু?’
‘আপনার কি সব ফেলে যাওয়া স্বভাব?’
‘না।’
‘স্বভাব না থাকলে এমন হচ্ছে কেন? প্রতিদিনই ছাত্রীর টেবিলে এটা সেটা রেখে যাচ্ছেন কেন?’
‘কী রেখে গেছি?’
‘গতকাল টি-শার্টসহ শপিং ব্যাগ রেখে গেছেন। তার আগেরদিন মানিব্যাগ। আজকে পুরো ফাইল রেখে যাচ্ছেন, ঘটনা কী’
‘আমি জানি না। এবসেন্ট মাইণ্ডে করে ফেলেছি। সবকিছু মিলিয়ে তথৈবচ অবস্থা।’
‘যে অবস্থায় হোক, এখন থেকে যাবার সময় ছাত্রীর টেবিল চেক করবেন, তারপর বের হবেন। আমার ধারণা, আপনি সূক্ষ্ম উদ্দেশ্য নিয়ে এসব করছেন।’
‘কী উদ্দেশ্য?’
‘ছাত্রী পটানো। টিউশন মাস্টারদের ইউনিভার্সাল স্বভাব। পড়াতে গিয়ে রুপবতী কাউকে দেখলেই পটাতে হবে। আপনার ফাইলে একটা প্রেমপত্র ছিল, কাকে উদ্দেশ্য করে লেখা?’
‘কাউকে না’
‘বেনীওয়ালী সম্বোধন করা। বেনীওয়ালীটা কে?’
‘কেউ না।’
‘অবশ্যই কেউ। বেনীওয়ালী শব্দের প্রথম ও শেষ বর্ণ মিলে হল—বেলী। বেলী আমার আরেক নাম। এটা আপনি জানেন কী করে?’
‘আমি জানি না বেলী।’
স্বাভাবিক কারণেই মুখভর্তি চিনিসহ ধরা পড়ার মত আমি মাত্রাতিরিক্ত লজ্জা পেলাম। লজ্জার প্রাথমিক বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে নীরাকে বেলী ডেকে ফেলেছি। ব্যাপারটিকে এবসেন্ট মাইণ্ডের কাজ হিসেবে চালিয়ে দিতে পারি কিন্তু মন সায় দিচ্ছে না। অবশ্যম্ভাবী পরবর্তী আঘাতের জন্য আমি মাথা নিচু করে অপেক্ষা করছি। নীরা ভ্রু কুঁচকে তাকালো। আমি খেয়াল করেছি, নীরা আমাকে প্রথমদিন থেকেই অপছন্দ করে। অপছন্দের জন্য সুনির্দিষ্ট কারণ থাকতে হয়। আমার প্রতি তার তীব্র অপছন্দের সুনির্দিষ্ট কোন কারণ নেই। আমি তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছি বা শরীরের বিশেষ অঙ্গের দিকে তাকিয়েছি বা সেক্সুয়ালি ফ্রাস্টেটেড পুরুষের মত টেবিলের নিচ দিয়ে উরুতে হাত রাখার অপচেষ্টা করেছি, এমন না।
অপছন্দের ব্যাপারটা প্রায়ই তার গলার শব্দে চড়া হয়ে উঠে আসে। সম্ভবত অবহেলাই একমাত্র মনুষ্য স্বভাব, যা ঢেকে রাখা যায় না। গলার স্বর বা চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসে। অতি নগন্য পথের কুকুরও বুঝে ফেলে, এই লোকের দৃষ্টিতে অবহেলা। এখানে তার ঠাঁই নেই। স্বাভাবিকভাবেই আমি রাস্তা বা আদরের কুকুর কোনটাই নই যে নীরা নাম্নী অতিশয় রুপবতী ষোড়শী কন্যা আমার গলা জড়িয়ে দুয়েকটা মধুর কথাবার্তা বলে মুগ্ধ করতে চেষ্টা করবে। টিউশনীর প্রথম দিনে নীরাকে দেখে আমি রীতিমত ভড়কে গেলাম। গগনফাঁটা রোদের তলায় ক্লান্ত হয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ শীতল ঝড়বৃষ্টির মত নীরা আমার উত্তপ্ত বুক শীতল করে দিয়ে গেল। স্বেচ্ছায় শীতলতা বাড়াতে বাড়াতে একসময় আমার বুকে বরফ আচ্ছাদিত সুবিশাল এন্টার্কটিকা বানিয়ে ফেললাম। এই বক্ষমহাদেশে দুজন মাত্র প্রাণীর বসবাস। এখানে আমার মত হতদরিদ্র টিউশন মাস্টার নিতান্তই কাঁচ, নীরা কাচের পাশে জ্বলজ্বল করে পড়ে থাকা অমূল্য মুক্তো। স্বাভাবিকভাবেই মুক্তো ধারণ করবার মত আমি যথাযোগ্য পাত্র না। তবুও চির ভিখারিনীর মত বারংবার তার ব্যক্তিগত সমুদ্রে প্রবেশ করার চেষ্টা করলাম।
সমুদ্র প্রবেশদ্বারে নীরার অবচেতন মন প্রায়ই গেটপাসহীন বিচ্ছিন্ন নৌকার মতো ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে শুরু করল। লাগাতার অপছন্দের পরেও ‘এখানে ঠাঁই নেই’ ভেবে ধৈর্য্যচ্যুত হলাম না। রবার্ট ব্রুসীয় স্টাইলে দিনের পর দিন আমার প্রিয় জিনিসগুলো নীরার কাছাকাছি বা বোধগম্য সীমার মধ্যে পৌঁছে দিতে চেষ্টা করেছি। মানিব্যাগ খুললে নীরা দেখতে পেত, সেখানে শফিক নামক আজন্ম অপেক্ষারত এক যুবকের ভালোবাসা আছে। ছোট শপিং ব্যাগটা খুললে দেখতে পেত আমার জামা। সেখানেও আমি আমাকে রেখে এসেছি। আজকের নীল রঙের ফাইলেও আমি আছি। নীরা আমার প্রচ্ছন্ন ভালোবাসাগুলো খুঁজে পাবে না, এমন অবিশ্বাস আমার মন দুরচিন্তাতেও করতে পারছে না। কাটাকাটা কথা বলে কাউকে রক্তাক্ত করে দেবার মত ক্ষমতা যে তরুণীর আছে, রক্তকণিকায় বহমান ভালোবাসা চালুনি ছেকে খুঁজে নেবার ক্ষমতাও তার থাকবে। এ বেশ স্বাভাবিক।
মাস্টারির দ্বিতীয় মাসে আবিষ্কার করলাম নীরা আমার ব্যাপারে অতিরিক্ত নির্লিপ্ত। নির্লিপ্ত নিঃস্পৃহ মেয়েদের প্রেমপ্রার্থী যুবকদের উপর্যুপরি সময় বিনিয়োগ করতে হয়। ধৈর্য্য হারালেই পাখি উড়ে যাবার সমুহ সম্ভাবনা আছে।
পাখি হারানোর আশঙ্কায় আমি ধৈর্য্য ও সময় সমান্তরালে বিনিয়োগ করেছি। পরিণতি খুবই যন্ত্রণাদায়ক। শেয়ারবাজারে আকস্মিক ও একমূখী দরপতনের মতো আজ আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। স্বান্তনা এই যে, সব অপেক্ষারত যুবকের জীবনে প্রেমপ্রাপ্তি ঘটবে এমন নয়। কেউ কেউ মজনু হবে, ফরহাদ হবে। প্রেম পেলেও কেউকেউ ঠোঁটে বিষাধার ধারণ করে রোমিও পর্যন্ত হতে পারে। প্রকৃতির পরিকল্পনায় আমি কিছুই হতে পারলাম না।
প্রকৃতি আমার ব্যাপারটিকেঅমানবিক হাস্যকর পর্যায়ে ফেলে দিল। নীরার ঝাড়ির দৃশ্য দেখে ফেললেন খোদ নীরার বাবা সাবেক হাইকমিশনার তারিক হাসনাত সাহেব। ওয়াটার কালার কাচঘেরা ব্যক্তিগত কক্ষে বসিয়ে শীতল গলায় বললেন,
‘শফিক কেমন আছো?’
‘জ্বি ভালো।’
‘নীরার পড়ালেখা কেমন চলছে?’
‘জ্বি ভালো।’
‘তুমি কি নীরার সাথে কোন অপরাধ করেছে?’
‘জ্বি না।’
‘ঘেমে যাচ্ছ কেন?’ আমি জবাব দিলাম না।
‘আগামীকাল থেকে আর আসবে না।’
‘জ্বি।’
‘খামটা নাও। দুই মাসের অনারিয়াম। ঠিক আছে?
‘জ্বি।’
‘ডোন্ট সে জ্বি জ্বি। টাকা দেখে নাও। চেক ইট আউট।’
নীরার ঝাড়ি ও নীরার বাবা প্রচ্ছন্ন হুমকীর পর আমি খামখুলে টাকা গুনতে শুরু করলাম। টাকা গোনা ব্যাপারটি আমার কাছে পৃথিবীর দ্বিতীয় কঠিন ব্যাপার মনে হতে লাগল। নতুন টাকা পরস্পরের গায়ের সাথে জমে আছে। আমি বোকার মত ঠোঁটে আঙ্গুল ভিজিয়ে টাকা গুনতে শুরু করলাম। খামভর্তি টাকা নিয়ে আমি পথে নামলাম। এই মুহুর্তে আমার মন ভালো না খারাপ, কোনটিই বোঝা যাচ্ছে না। অতিরিক্ত কোন কিছুই স্বাভাবিক আবেগ-প্রবাহকে বন্ধ করে দেয়। আমি নিরাবেগ চোখেমুখে নিকেতনের গলি ধরে হাটা শুরু করলাম। আঁকাশে কমলার কোয়ার মত চাঁদ। সপ্তাহ খানেকের মাঝেই এই চাঁদ জ্বলজ্বল করবে।
নিকেতনের যে বাসার জানালায় শেষরাতেও মৃদ্যু আলো জ্বলছে সেখানে নীরা নাম্নী এক ষোল বছরের তরুনী মন খারাপ করে বসে আছে। তার দৃষ্টি আকাশে ফোকাস না হয়ে সমগ্র আকাশে অস্থির হয়ে ঘুরছে। পঞ্জিকানুযায়ী আজ পুর্ণচন্দ্র থাকার কথা। ঢাকা শহরের ন্যাচারাল গ্যাস পোড়া ধোঁয়ার আড়ালে কোন তারকারাজি বা চন্দ্রের উপস্থিতি ধরা খুব সহজ না। নীরার টেবিলে পাশাপাশি তিনটা খাম। তিনটা খামে নীরা তার ভালোবাসা জমিয়ে রেখেছে। প্রথম প্রেম হাস্যকর কর্মাকাণ্ডে ভরপুর থাকে। নিজের প্রতি প্রবল আত্মবিশ্বাস থাকা স্বত্বেও নীরা হাস্যকর কর্মাকাণ্ডগুলো করেছে। প্রথম খাম খুলে নীল রঙ্গের কয়েকটা সুতো বের হল। কাচিতে কাটা। নীরার হাসি পেল।
অগোছালো কয়েকইঞ্চি সুতোর প্রতি তার উন্মাতাল আবেগ কাজ করছে কেন? শফিক নামক অতি সাধারণ একটি টিউশন মাস্টারের রেখে যাওয়া শপিং ব্যাগের পুরোনো জামা থেকে অতি সংগোপনে সে সুতোগুলো কেটে রেখেছে। ষোল বছরের জীবনে প্রথম প্রেমের প্রথম সঞ্চয়। শফিক চলে যাবার পর নীরা প্রতিদিন টেবিলের দিকে তাকিয়ে থাকে। নিষিদ্ধ আকর্ষনের মতো সে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে, শফিক তার ছোট্ট গণ্ডির ভেতর থেকে নীরা নাম্নী আজন্ম অপেক্ষারত তরুণীর জন্য কিছু না কিছু রেখে যাক। শফিকের সস্তা মানিব্যাগটা খুলে সে প্রথম ধাক্কাটা খায়। সেখানে ভাজ করে রাখা তার নিজের ছবি। সামান্য হাতে আঁকা ছবি তার অস্তিত্বের সবটুকু যেন টেনে উপড়ে ফেলল। উপড়ে যাওয়া বৃক্ষ অল্প বাতাসেই ভেসে যাবে অথচ নীরা প্রবল ঝড়ের অপেক্ষায় রইল।
ঝড় আসল পরদিন। নীল রঙের ফাইলের প্রতিটা পাতা উল্টেপাল্টে দেখে নিজেকে ঝড়ে বিদ্ধস্ত অবস্থায় আবিষ্কার করল। ফাইলভর্তি চিঠি। প্রতিটা চিঠি তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা। পড়ানোর প্রথমদিন থেকে শফিক চিঠি লিখতে শুরু করেছে। প্রতিটা চিঠির নিচে দীন তারিখ স্পষ্ট করে রাখা। সপ্তম দিনের চিঠি পড়ে নীরা অস্থির হয়ে শফিকের জন্য অপেক্ষা করে রইল। বেনীওয়ালী, যুবক যে মরে পড়ে রইল, কবে টের পাবে? পঁচন ধরলে? নিবেদক দশ হাজার টাকা মূল্যমানের টিউশন মাস্টার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বি.এস.এম.এম.ইউ ডিউটি ডাক্তার আহমেদ সানি একগুচ্ছ ফাইল হাতে নিয়ে বসে আছেন। তার ভ্রূ অনেকট কুঁচকে গেছে। তৃতীয় বেডের রোগী নিয়ে তিনি মারাত্মক যন্ত্রণায় বোধ করছেন। রোগীর পরিচয় এখনো খুঁজে পাওয়া যায় নি। বাহকের নাম আবুল কাশেম। পেশায় রিক্সাচালক। নিকেতনের গলি থেকে তুলে এনেছে। ভর্তির পর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আহমেদ সানির ফোন কাঁপছে। তৃতীয়বার ফোন ধরলেন। এশা বিরক্ত হয়ে বলল,
‘দিনে তো ব্যস্ত, রাতেও ফোন ধরতে কষ্ট হয়?’
‘না এশা।’
এশার বিরক্তি উধাও। কোমল গলায় বলল,
‘সানি তোমার কী হয়েছে?’
‘কিছু হয় নি।’
‘মিথ্যা বলবে না। তোমার মন খারাপ হলে আমি বুঝতে পারি।’
‘কীভাবে বোঝো?’
‘সব কথায় হা অথবা না বলো। অথবা প্রতি বাক্যে প্রশ্ন করো। তুমি অলরেডী দুবার না বলেছ, একবার প্রশ্ন করেছ।’
সানি শিতল গলায় বলল,
‘আমার মন খারাপ এশা।’
‘কেন?’
‘তিন নম্বর বেডে এক সপ্তাহ আগে একটা ছেলে ভর্তি হয়েছে। অবস্থা ভালো নয়।’
‘কেন?’
‘এনকেফালাইটিস। গ্যাসপিং হচ্ছে। সম্ভবত মারা যাচ্ছে।’
এশা কিছু বলল না। চুপ করে শুনছে।
‘রোগী মারা গেলে আমার খুব খারাপ লাগে তা না। সয়ে গেছে। কিন্তু ছেলেটা ভর্তির সময় একটা ফাইল আসে। ফাইলভর্তি চিঠি।’
‘কীসের চিঠি?’
‘প্রেমের। সাধারণ ভাষায় লেখা। চিঠিগুলো আমার পড়া উচিৎ নয় তবুও পড়েছি। একটা মেয়েকে লেখা। মেয়ের নাম- বেনীওয়ালী। খুব সুন্দর নাম না?’
‘হুম।’
‘অষ্টম চিঠিটা অনেক সুন্দর। শুনতে চাও?’
‘না।’
‘এশা?’
‘হুম।’
‘ছেলেটা সাতদিন থেকে অচেতন। অচেতন হলেও তার অনেক কষ্ট হচ্ছে। মুখের দিকে তাকালে বোঝা যায়। আমার ধারণা সে এখন মারা যাচ্ছে।’ পরিশিষ্ট নিকেতনের মৃদ্যু আলোটা জ্বলছে না। গাঢ় অন্ধকারেও ষোড়শী এক তরুনী ঘুম থেকে হঠাৎ জেগে গেছে। তার ভয়ংকররকম অস্থির লাগছে। বেলকনিতে এসে বুকভরা শ্বাস নিতে চেষ্টা করল।
অকারণে তার চোখে জল চলে আসছে। জলভরা চোখে সে আকাশে তাকালো। আকাশে দুটো চাঁদ দেখা যাচ্ছে। একটি চাঁদ সত্যিকারের, আরেকটি চোখের জলে প্রতিফলিত হওয়া মিথ্যা চাঁদ। বেলকনিতে নেমে আসা চাঁদের আলোয় দাঁড়িয়ে ষোড়শী চমকে গেল। কোন এক টিউশন মাস্টারের জন্য তার হাহাকার লাগছে। সময়ের সমান্তরালে একই চাঁদের আলো বি.এস.এম.এম.ইউ এর আই.সি.ইউ এর কাচের জানালার ভেদ করে চুয়ে পড়ছে এক যুবকের মুখে। যুবকের মাথার কাছে রেখে দেওয়া ইসিজি রিডারে ফ্লাট গ্রাফ। ইসিজি মেশিন তারস্বরে একটানা এলার্ম দিচ্ছে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত