জামাই ষষ্টি

জামাই ষষ্টি
কতক্ষণ ধরে কলিং বেল বাজিয়েই চলেছি কিন্তু এই ফ্ল্যাটের লোক তো দরজাই খুলছে না। শুনেছি গত কয়েকদিন আগে নাকি এরা ভাড়া এসেছে আর এদিকে মাসটাও হয়ে গেছে তাই আসলাম চাঁদা নিতে। একটু পরই দরজা খুলল একটা চশমা পরা মহিলা।প্রথমে আমাকে পা থেকে মাথা অবধি পরখ করে নিলো।তারপর বলল…
— কি চাই এখানে?তোমাকে তো চিনি না।
— আন্টি আপনি আমায় চিনবেন না। আমি এই এলাকাতেই থাকি। আসলে গতকাল মাস শেষ হলো তো তাই চাঁদাটা নিতে এসেছি।
— কিসের চাঁদা?
— ও আপনাকে তো বলা হয় নি। আসলে এই এলাকাতে আমরা ছেলেরা মিলে একটা অনাথ আশ্রম চালাই আর সেই আশ্রমের সব খরচ এই এলাকা থেকে আসে। প্রতি মাসে এলাকার সবাই একশ টাকা করে চাঁদা দেয়।
— আমরা এইসব দিতে পারবো না।
— কি আন্টি বাচ্চাদের লেখাপড়া আর খাওয়া দাওয়ার জন্য ১০০ টাকা দিতে পারবেন না। মাসে মাসে তো মনে হয় আড়াইশ টাকা দামি লিপস্টিক ঠিকই চেঞ্জ করেন।
— বেয়াদপ কি বললে?
— কেন কানে সমস্যা নাকি? আপনাকে এই মাসে মাফ করলাম। আগামী মাসে টাকা নিতে ঠিকই আসবো। যদি তখন টাকা না পাই তাহলে সমস্যা হবে।
— কি সমস্যা করবে তুমি?
— আন্টি টাকাটা আমরা ফুর্তি করতে চাই নি বরং বাচ্চাদের মুখের হাসির জন্য চাইছি। আর যদি আপনি না দেন তাহলে আপনি এলাকাতে টিকতে পারবেন না।
— ওই তোর নামটা কি?( রাগ দেখিয়ে তুই করে বলল)
— আমি রাজ।
— তোর নামে আজই এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দিবো।
— হাসাইলেন আন্টি। চেয়ারম্যানই চলে আমাদের পাওয়ারে।
যাই হোক, আমি আমার কথা বলে গেলাম। আগামীতে যেন টাকাটা ঠিকমতো পাই। বলতে না বলতে মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিলো। মাসে একশ টাকা দিতে পারবে না এমন কিপটা মহিলা জীবনেও দেখি নি। টাকা তো আমি নিয়েই ছাড়বো, যা হবে দেখা যাবে। আমিও বন্ধুদের নিয়ে অন্য বাসায় বাসায় টাকা তুলতে লাগলাম।
এই বিল্ডিং থেকে বাকি ফ্ল্যাট গুলো থেকে টাকা নিয়ে বের হতেই এক মেয়ের মুখমুখী হলাম। আর এই মেয়েকে দেখে আমি মোটামোটি আপসেট তবে ওই মেয়েটা পুরো শকড। ও মেয়েটার নাম নিত্তিয়া। ওর সাথে আমার পরিচয়টা গত দুই বছর আগে। অবশ্য আমি ওরে প্রপোজ করে ছিলাম। এরপর ও বলে ” প্রেম রিলেশন ভাল না চলো ফ্রেন্ডশীপ করি “। তখন খারাপ লাগলেও ওর মত ফ্রেন্ড পেয়ে ছিলাম এটাই তো অনেক। তবে আমি ১ বছর পর লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে মেস থেকে বাসায় চলে আসি। কাউকে জানাই না। হয়ত নিত্তিয়া আমায় অনেজ খুঁজে ছিল। আর আজ আমাদের এলাকাতেই দেখা। ওর সাথে আমি রিলেশনটা তুমি দিয়ে শুরু করতে চাই ছিলাম তবে ও আমারে তুই করেই ছাড়লো। নিত্তিয়ার ডাকে আমি বাস্তবে ফিরলাম…
— কিরে রাজ তুই এখানে?
— এই এলাকায় আমার বাড়ি তো আমি থাকবো না কি বারাক ওবামাকে আশা করছিলি।
— তুই যানস আমি তোকে কত খুঁজেছি? পরে ভার্সিটির অফিস থেকে খুঁজ নিয়ে জানি তুই নাকি ভার্সিটি থেকে নাম কাটিয়ে দিয়ে ছিলি।
— হুমম কিছু সমস্যা হয়েছিল?
— মানুষ দিন রাত লেখাপড়া করে পাবলিক ভার্সিটিতে টিকে কিন্তু তুই একবছর লেখাপড়া করে ছেড়ে দিলি।
— বাবা মারা গেছিল আর মা তো ছোট থাকতেই পটল তুলে ছিল। বাসায় ছোট ভাইয়ের দেখাশোনা করানোর জন্য কেউ নেই। আর বাবার যে ব্যবসা ছিল সেটাই বা কে সামলাবে। তাই সব ছেড়ে বাসায় চলে আসছি। আপাতত ছোট ভাই এবার ইন্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিছে। চেষ্টা করবো ভাইটাকে মানুষ করার।
— ও সরি। তবুও আমাকে জানিয়ে আসতে পারতি। এই জন্য তুই আমার ফ্রেন্ড হয়ে ছিলি।
— ওই তোর ফ্রেন্ড হতে চাই নি বরং ভালবাসতে চেয়ে ছিলাম। কিন্তু তুই ভালবাসাটার উপর ফ্রেন্ড নামক রং মেরে ছিস। তোর ফ্রেন্ড হওয়ার কোন শখ আমার নেই। বাদ দে পুরান কথা। এবার তো মনে হয় ৩য় বর্ষে আছিস তাই না।
— হুমম
— নিত্তিয়া তুই এই এলাকায় কেন?
— এই বাসার ২য় তলার ডান পাশের ফ্ল্যাট টা আমাদের। আপাতত ভার্সিটি অফ তাই ছুটি কাটাতে আসলাম।
— ওই ফ্ল্যাটে তো একটা বজ্জাত কিপটা মহিলা থাকে।
— ওই চুপ সম্মান দিয়ে কথা বল। ওইটা আমার মা হয়। আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে একবার ২য় তলায় তাকিয়ে পরে নিত্তিয়ার দিকে তাকিয়ে বললাম…
— নিত্তিয়া তোরে একটা কথা বলি, রাগ করবি না তো?
— বল?
— তোর বাবার সাথে একটু আলাদা ভাবে বসে প্রশ্ন করিস তো এটা তোর আসল মা তো?
— মানে?
— না মানে ওই বজ্জাত…
— রাজ ( রাগ দেখিয়ে)
— আরে সরি মানে তোর মায়ের সাথে তোর চেহারার আর ব্যবহারের মিল নেই। রিনাখানের মেয়ে কখনো বিদ্যা সিনহা মিম হতে পারে।
— রাজ বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু?
— না এখনো কমই আছে। তোর মায়ের কাছে একশ টাকা চাইতে এমন ভাব করছে মনে হয় ওনার কাছে ব্ল্যাক মানির হিসাব চাইছি।
— ১০০ টাকা কেন?
— আরে আমরা একটা অনাথ অাশ্রম চালাই তো তাই ওইটার জন্য প্রতি মাসে এলাকার সবার ঘর থেকে ১০০ টাকা করে তুলি। আর তোর মায়ের কাছে এটা চাইতেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছে।
— ওকে ওকে এই নে টাকা। ( টাকা এগিয়ে দিয়ে)
— গোবরেও পদ্ম ফুল ফোটে আজ বুঝলাম প্রবাদটা ( আস্তে আস্তে)
— কিছু বললি রাজ?
— না তো আমি যাই পরে দেখা হবে। আর তোর মাকে বলবি আগামী মাস থেকে ২০০ টাকা দিতে।
— ২০০ কেন?
— তোর টেক্স। তুই কিন্তু আগে থেকে সুন্দর হয়ে গেছিস।
— তুই যা তো, আমি বিকালে তোদের অনাথ আশ্রমে আসবো নে।
— ওকে বাই।
এরপর চলে আসলাম। ইশশ মেয়েটা সত্যি আগের থেকে সুন্দর হয়ে গেছে। নিত্তিয়া যার কপালে জুটবে তার কপালে হয়ত জামাই ষষ্টি খাওয়া হবে না। যে দজ্জাল শাশুড়ীরে বাবা। রাতে ঘরের সব লাইট অফ করে দিয়ে গিটারে আস্তে আস্তে সুর তোলার চেষ্টা করছিলাম। কারন পাশের রুমেই ছোট ভাইটা ভর্তি পরীক্ষার পড়া পড়ছিল। একটু আগে ওরে খাওয়াই দিছি। পড়ার চাপে ছেলেটা খাওয়া দাওয়াও লাটে তুলেছে। তখনই আমার ফোনের লাইট টা জ্বলে উঠলো। তাকিয়ে দেখি অপরিচিত নাম্বার। হতে পারে বাচ্চাদের সাহায্যের জন্য কেউ ফোন দিছে তাই ভেবে ফোনটা রিসিভ করলাম। তখনই অপর পাশ থেকে পরিচিত কোন মেয়ের সুর ভেসে আসছিল যা আমি চিনতে পারতে ছিলাম না।
— হ্যালো তুমি রাজ বলছো তো?
— হুমম কিন্তু আপনি কে?
— আমি যেই হই না কেন আমাকে তুমি করে বলো?
— চিনি না জানি না বাবু একখান টিকিট তাই না। ওই বলেন কে আপনি?
— আমি নিত্তিয়া।
— ও তুই মজা করছি…..( কথা শেষ হতে না দিয়ে)
— মুখে লাগাম দাও। আর আমাকে এখন থেকে তুমি করে বলো। তুই করে একদম না। এই তোমার ভালবাসা।আমার কন্ঠস্বরও চিনতে পারলে না। নাকি অন্য মেয়েদের সাথে রাতভর ফোনালাপ করো বলে আমার আওয়াজ ভুলে গেলে?
— ওরে আমার ভালবাসারে। আজ হঠাৎ কি হলো যে ভালবাসা উতলাচ্ছে? যখন আই লাভ ইউ বলে ছিলাম তখন তো বলছো ” চলো বন্ধু হই আর তুই করে কথা বলি “।
— এতো কিছু জানি না। এখন থেকে তুমি করেই বলবে মনে থাকবে?
— না বললে কি হবে শুনি?
— তুমি করে না বললে বয়স কমিয়ে তোমার ভাইয়ের সাথে প্রেম করবো।
— হা হা হা বিনোদন কাকে বলে আজ বুঝলাম। যাই হোক এবার বলো আমার নাম্বার পেলে কোথায়?
— বলে ছিলাম না। আজ বিকালে তোমাদের অনাথ আশ্রমে যাবো আর তোমাকেও তো থাকতে বলেছিলাম।
আমি মানুষের কাছে বলতে বলতে রাস্তা চিনে গিয়ে ছিলাম কিন্তু তুমি ছিলে না। তবে ওইখানের একটা পোস্টারে লেখা ছিল “যদি কারো ১০টাকা কাজ করার সামর্থ্য থাকে তাহলে ১ টাকা অনাথকে দাও “। এটা দেখে কেমন যেন একটা অনুভূতি হলো। তারপর ওইখান থেকে তোমার নাম্বারটা নিলাম।
— বাহ ভাল ছিল।
— হুমম যেই কারনে ফোন দিয়েছি সেটা হলো চলো না কাল কোথাও ঘুরতে যাই।
— আমার সাথে কোথায় যাবে?
— এই শহরটাই একটু ঘুরে দেখাও না।আমারও চেনা হবে শহরটা আর তোমার সাথেও কাটানো যাবে কিছুটা প্রহর।
— কিন্তু আজকাল পাবলিক তো কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না আর তুমি আমার সাথে ঘুরতে যাবে?
— ওই রাজ কমেডি গল্পটাকে সিরিয়াস করতে যেও না।
— ওকে কাল সকাল ১০ টায়। ১ ঘন্টা ঘুরবো। এরপর আমাকে বাজারে যেতে হবে।
— ওকে পাক্কা।
তারপর ফোনটা রেখে দিলাম। মেয়েদের মন নিয়ে হাজার হাজার গবেষক গবেষণা করতে করতে পটল তুলেছে তবুও কোন কোল কিনারা পায় নি। তাই আমিও নিত্তিয়ার হঠাৎ পরিবর্তন নিয়ে চিন্তা না করে কাল কি কি করবো সেটা নিয়ে ভাবলেই ভাল হয়।
নিত্তিয়ার চিন্তায় কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম খেয়াল ছিল না। ঘুম ভাঙ্গলো ৮টা বাজে। তারাতারি উঠে ফ্রেশ হয়ে রান্না ঘরে গেলাম। তারপর তারাতারি দুই ভাইয়ের জন্য ভাত বসিয়ে ডিম অমলেট করলাম। এরপর রান্না শেষ করে আমি স্নান করতে চলে গেলাম। স্নান শেষ করে ছোট ভাইটাকে ঘুম থেকে তুলে ফ্রেশ হতে পাঠিয়ে ছিলাম। এরপর দুই ভাই মিলে খাওয়া দাওয়া শেষ করে নিত্তিয়াকে ফোন দিলাম এলাকার মোড়ে আসার জন্য আর ছোট ভাইকে বললাম পড়তে বসতে। এরপর ঠিক ১০টা বাজে বেড়িয়ে পড়লাম। নিত্তিয়াকে নিয়ে একটা রিকশায় করে যাচ্ছিলাম কিন্তু একটা বাজারের সাইডে দিয়ে যাওয়ার সময়ই জ্যামে পড়ে গেলাম। তাই ভাবলাম হেঁটে যাবো তখনই নিত্তিয়া বলে উঠল…
— বাবা…
— ওই নিত্তিয়া তুমি কি দিন দিন পাগল হয়ে যাচ্ছো? ভার্সিটিতে থাকতে আমায় বন্ধু বানালে আর গতকাল রাতে ফোন দিয়ে প্রেম প্রেম কথা বললে আর এখন আমাকেই বাবা ডাকছো।
— আরে ধুর তুমি না, সামনে আমার বাবা।
— ও আমার শ্বশুড় মশাই, না মানে কোথায়?
— সামনে হলুদ ব্যাগ নিয়ে যে হেঁটে আসছে।
— আরে তো এমন চুপ করে আছো কেন? রিকশার হুড তো তুলে দাও নয়ত আমায় দেখলে তোমার মায়ের মত শুরু করবে।
বলতে বলতেই জ্যামটা ছেড়ে দিলো। আর রিকশা মামা রিকশা ছাড়ায় বেঁচে গেলাম নয়ত আজকেই “রাম নাম সত্যহে” হয়ে যেত আমার। রিকশা এসে থামলো একটা পার্কের সামনে। আমি আর নিত্তিয়া কিছুক্ষণ খোলা প্রকৃতি দেখতে লাগলাম। তখন আমি বললাম…
— আজ যদি তোমার বাবা ভুলেও দেখে ফেলতো তাহলে হয়ত আমার হয়েই যেত।
— কি হয়ে যেত?
— বলা যাবে না। এবার চলো আমার আবার দোকান খুলতে হবে।
— একদিন দোকান না খুললে কি খুব ক্ষতি হয়ে যাবে?
— খুব ক্ষতি মানে অনেক ক্ষতি হবে। ভবিষ্যৎ বউয়ের জন্য টাকা কামাতে হবে না।
— বউটা কি আগে থেকেই ঠিক করা রয়েছে।
— মেয়েটার কাছে জানতে হবে। মেয়েটা আমার বউ হতে প্রস্তুত কি না?
— ওই তোরে আমি ভাবলাম তুই সিঙ্গেল আর তুই এইসব করে বেড়াচ্ছিস। আবার কোন মেয়ের কপাল পুড়বি তুই। তোরে আজকে খুন করেই ফেলবো।( কলার ধরে)
— আরে ছাড়ো পাবলিক দেখছে তো। এখনো তো আমার প্রপোজের কোন রিপ্লে পাই নি।
— ঠাস!! আই লাভ ইউ টু।
— এটা কোন ধরনের রিপ্লে ছিল। ( গাল মালিশ করতে করতে)
— আজকের পর থেকে যদি কোন মেয়ের দিকে তাকাস তাহলে তোর ঘরে এসে তোকে মেরে যাবো।
আমাকে আর কিছু না বলে নিত্তিয়া একটা রিকশা নিয়ে চলে গেল আর আমজনতা আমাকে দেখে বিনোদন নিতে লাগলো। এভাবে প্রায় দিন গুলো ভালই কাটছিল। আর নিত্তিয়ার সাথে প্রতি দিন কোন না কোন বিষয় নিয়ে তর্ক চলতেই লাগলো। এদিকে ভার্সিটির বন্ধ শেষ হয়ে গেল। আর নিত্তিয়া আমায় ফোন দিয়ে বলল “ওরে ভার্সিটি অবধি পৌঁছে দিয়ে আসতে “। আমি আর না করতে পারলাম না। বাসের ২টা টিকিট কেটেই ফেললাম। টিকেট গুলো নিত্তিয়াকে দিয়ে বললাম সকাল ৬টার বাস। এরপর আমিও বাসায় চলে আসলাম।
যখন সকালে বাসের সামনে এসে নিত্তিয়াকে ফোন দিলাম। দেখি নিত্তিয়ার মা এসেছে নিত্তিয়াকে বাসে তুলে দিতে। তখন নিত্তিয়ার মা আমাকে দেখে তো আবার রেগে গেল আর নিত্তিয়ার কানে কানে কি যেন বলল?এরপর নিত্তিয়া বাসে উঠে গেল আর আমিও নিত্তিয়ার মায়ের সামনেই বাসে উঠে গেলাম। তবে আমাকে হয়ত দেখে নি নিত্তিয়ার পাশে বসতে। তাহলে হয়ত বাসে উঠেই পিটাবে। তখন আমি নিত্তিয়াকে বললাম…
— ওই তোমার মা তোমার কানে কানে কি বলল?
— বলছে কখনো যেন এই ফাজিল ছেলের সাথে কথা না বলি।
— ঠিকই। এখন যদি জানে ওনার মেয়ে এই ফাজিলের সাথেই প্রেম করে তাহলে তো হয়েই গেল। এই কপালে শনি আটকায় কে?
নিত্তিয়া হাসতে লাগলো আর বাস চলতে লাগলো আর আমি উপরওয়ালাকে মনে মনে প্রশ্ন করতে লাগলাম ” এই মহিলার কারনে হয়ত আমার কপালে জামাই ষষ্ঠি নাই “। এরপর প্রায় ১টা মাস কেটে গেল। নিত্তিয়ার সাথে ফোনে প্রেম চলছে আর নিত্তিয়ার মাকে দেখলে ভাল ছেলে সাজার চেষ্টা চলছে। একদিন ওদের ফ্ল্যাটে গেলাম আগের মতই টাকা তুলতে। মনেই ছিল এটা নিত্তিয়াদের ফ্ল্যাট ভুলে কলিং বেল বাজিয়ে ফেলছিলাম। এখন যদি আবার তর্ক করে।নিত্তিয়ার মা দরজা খুলল…
— আন্টি টাকা টা?( অনুনয় করে)
— কিসের টাকা?
— গত মাসে যে বলে ছিলাম। আমরা একটা অনাথ আশ্রম চালাই আর সব বাসা থেকে ১০০ টাকা নেই।
— আমি না বলে ছিলাম আমি দিবো না।
তখন আমি বন্ধুদের দিকে ঘুরে বললাম…..
— দোস্তরা তোরা রাগ করিস না। এই নে আমার পকেট থেকে ১০০ টাকা দিয়ে দিলাম। এই বাসার হয়ে। আমারই তো শশুড় বাড়ি তাই না।
— ওই কি বললি?( নিত্তিয়ার মা রেগে গেছে)
আমি আর না দাড়িয়ে নিচে দৌড় আর উপর থেকে বলছে “তুই দাড়া”। আমি তো দাড়াবো না কারন আমার তো প্রানের ভয় আছে। আমি নিত্তিয়াকে ফোন দিয়ে সব বললাম আর নিত্তিয়া হাসতে হাসতে বলতে লাগলো…
— যাও যাও একটু ঝাটার বারি খেয়ে এসো।
— এভাবে বলছো কেন?
— ওমা আজ না জামাই ষষ্টি আর তুমি আমাদের বাসায় গিয়ে এমন কথা বলে আসলে।
এখন তো তোমার কপাল জামাই ষষ্টির বদলে ঝাটার বারিই রয়েছে। বলেই ফোনটা কেটে দিলো। ইশশ আমিও এই দিনটায় এমন ভুল করলাম। কালই আন্টিকে সরি বলে আসতে হবে। আর হে জনতাগন দয়া পূর্বক প্রেম করার আগে একটু শাশুড়ি এমন পরখ করে নিবেন নয়ত আমার মত ঝাটা কপালে জুটবে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত