অপূর্নতা

অপূর্নতা
তার সাথে শেষবার যখন দেখা হয়েছিলো,সে দূর থেকে আমাকে দেখে ম্লান হেসেছিলো।আর সেদিন তন্ময় আমার হাত ধরে বলেছিলো,
-‘দৃষ্টি পারলে ক্ষমা করে দিও।তোমাকে বিয়ে করা এই জনমে হয়ে উঠলো না।মা আমার জন্য অন্য কাওকে বেছে নিয়েছে!’ দৃষ্টি সেদিন কিছুই বলে নি।ম্লান হেসেছিলো আর বলেছিলো,
-‘তোমার ভালোতে ভালো।’
সেদিন তন্ময়ের আর কোনকথা না শুনে দৃষ্টি চোখের কোন জলভর্তি পানি সারারাস্তা মুছতে মুছতে চলে আসে।দশটা বছর সত্যি কম সময় কি?প্রিয়জনের সাথে দশটা বছরের সময় দশ সেকেন্ডে শেষ হয়ে গেলো।হয়তো বিধাতা চায় নি আর!
তুমি সংসার করবে অন্যকারো সাথে,আমিও করবো অন্যকারো সাথে।তোমার বুকে তোমার স্ত্রী মাথা রাখবে।আমিও আমার স্বামীর বুকে মাথা রাখবো।তবে জ্বালাটা কোথায় থাকবে জানবো জানো?এই বুকের মাঝে ঢিপঢিপ হৃদস্পন্দনে!সেই হুদ স্পন্দ যেখানে এক সময় আমরা নিজেরা ভাবতাম নিজেরা যখন সংসার করার সময় নিয়ে!কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস দেখো,’তুমি সংসার তো করবে কিন্তু অন্য কারো সাথে আর হয়তো আমিও!’ জীবন কখনো কারো জন্য থেমে থাকে না জানি কিন্তু এই হৃদ স্পন্দন টা সেটা ঠিকই থেমে যায়।সেটা মরিচা ধরে যায়।উহুম কিন্তু সেটা যায় না।কখনোই যায় না।মনের যে কোণায় মানুষটাকে ঠায় দেয়া হয় আজীবনের তালা দিয়ে হয়।কারন কি জানো?ওই যে,
-‘তুমি তো হয়ে গেছো অন্যকার!কেন আমি পথ চেয়ে রহিবো মানুষ টা আমি যে পর!’ সময় যায়,দিন যায়,মাস যায়।বহু বছর পেরোলো।ঘা টা শুকায় না।তবুও ঘা টার কথা মনে হলে মনে হয়,
-‘এইতো কেবলই বিচ্ছেদ হলো।’ আমার ক্লান্ত নদীর শান্ত স্রোতে এলোমেলো অশান্ত চিৎকার কেও দেখতে পায় না।কেও বুঝতে চায় না,চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে,
-‘আমিও যে এইটুকু ভালোবাসা নিয়ে তোমার বুকে ঠায় নিতে চেয়েছিলাম প্রিয় প্রাক্তন!’ সেই চিৎকার শুধু মনের দেয়ালের বন্দি ছিলো।কেও শুনতে পায় কিন্তু আমার শরীরের প্রতিটা লোমকূপ প্রতিটা হৃদ স্পন্দন জেনে ছিলো যে,
-‘নিজের গড়া প্রিয় মানুষ হারালে শুধু কষ্টই না মন টাও থেমে যায় অন্য কারো আর অপেক্ষা করতে!’ আজ একষট্টি বছর হতে চললো আমার।কাওরান বাজারে যাচ্ছি নিজের জন্য বাড়িতে পরা স্যান্ডেল কিনতে।বয়স হয়েছে,চুল পেকে গিয়েছে।চোখে আমার মোটা ফ্রেমের চশমা।অবসর হলাম গতকালকে অফিস থেকে।মার্কেটের ভিতরে ঢুকবো তখনই অনেক পরিচিত মানুষকে দেখলাম। চোখের জ্যোতি হয়তো কমতে পারে বয়সের সাথে কিন্তু মনের মধ্যে প্রিয় মানুষটাকে শতবছর পর দেখলেও সেইটার জ্যোতি কখনো কমবে না।
-‘দাদু প্লিজ আমি টয় টা নিব।তুমি মা কে বলো কিনে দিতে!’ হ্যা,আমার প্রিয় প্রাক্তন তন্ময় তার নাতির সাথে বাজারে আসছে।তন্ময়ের ও চুল পেকে গিয়েছে।হাতে লাঠি চোখে চশমা।আমি তাদের সামনে হাজির হলাম বৃদ্ধ জঞ্জাল পায়ে।তন্ময় মুখ উচিয়ে দেখলো কে সামনে এসে দাড়ালো।তার চিনতে অসুবিধা হয় নি।অস্ফুটস্বরে বললো,
-“মিস্টি তুমি?’ দৃষ্টির বুকটা ধক করে উঠলো।ভালোবেসে তন্ময় তাকে মিস্টি ডাকতো।আমি ম্লান হাসলাম।দোকানিকে টাকা দিয়ে ওর নাতির জন্য টয় টা কিনে দিলাম।ও শুধু অবাক চোখে চেয়ে রয়েছে।আমি অসহ্য যন্ত্রনার সরিয়ে মুখে ম্লান হাসি টেনে বললাম,
-‘তুমি হয়েছো অন্যকারো গল্পের নায়ক!আমি না হয় সরে গেলাম বা গেছি।ভালো থেকো প্রিয়!’ এই কথা বলে আমি চলে আসছি।বুকটা ফেটে আর্তনাদ বেরিয়ে আসছে,
-‘বয়স হয়েছে।বছর পেরিয়েছে তবুও আমি তোমাকে ভুলতে পারি নি।তোমার স্মৃতির কারনে আমি অন্য কারো সাথে সংসার বাধঁতে পারি নি।তোমার জন্য বুকটা খাঁ খাঁ করে।পারে নি তোমার দেয়া শেষ বিকেলের কপালে দেয়া চুমুর আকাঁ মুছতে।কেনো হলে তুমি অন্য কারো প্রিয় প্রাক্তন।’
-‘আমি তোমার সাথে আমার বৃদ্ধা কাল কাটাতে চেয়েছিলাম!’

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত