বউমার জন্মদিনে

বউমার জন্মদিনে
আগামীকাল আমার বউমার জন্মদিন।ছেলের বউয়ের জন্মদিন পালন করা আমাদের প্রথার সাথে যায় না তবু ও প্রথম কয়েকবছর আমি ঘরোয়াভাবে আয়োজন করতাম। এমন উদযাপনে বউমা তেমন একটা খুশি হতো না তাই গত কয়েকবছর ধরে ওরা বাইরে দামী কোনো রেস্টুরেন্টে আয়োজন করে তবে অনুষ্ঠানে আমার যাওয়াটা বউমার পছন্দ না।তাই এখন আর আমি যাই না।
বিয়ের পর ছেলের বউয়ের সাথে আমি সব জায়গায়ই যেতাম,যেমনটা আমার মেয়ের সাথে ছায়া হয়ে থাকতাম।কিন্তু আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম মুখে যতই আমি বউকে মেয়ে বলি আমি কিন্তু ওকে মেয়ের জায়গাটুকু দিতে ব্যর্থ হয়েছি আর সেও আমাকে শ্বাশুড়ি করেই রাখতে চায়;মা তো শুধুই ডাকে।বউমা আমার উচ্চশিক্ষিত তবে আমি চাকরি করতে প্রথমে বাধা দেই।আর এর চেয়ে বড় কথা আমার ছেলের উচ্চবেতন আছে তাহলে বউমার সামান্য রোজগারের জন্য ঘরের বউ বাইরে যাবে তা আমি মানতে পারি নি।আমার নাতনী হবার পর বউমা বললো চাকরীটা না থাকায় ভালোই হয়েছে মা,না হয় ওকে কে দেখত বলুন!
আমার বোনের বউমা চাকরি আর সংসার দুটোই একহাতে সামাল দেয় কিন্তু আমার বউমা সংসারটাও ঠিকমতো করতে চায় না।নাতনীটা সারাদিন আমার কাছেই থাকে,বুয়া এসে বাসার সব কাজ করে। আমার শ্বাশুড়ি আমাকে দিয়েই সব কাজ করাত;মশলা বাটা থেকে শুরু করে উঠান ঝাড়ু দেয়া সবই এক হাতে করতে হতো।এতসব করার পরেও আমার বাবার বাড়ির লোকজন আসলে তাদের কাছে নালিশ যেত আমাকে কোনো কাজ পারিনা বলে।আর আজকালের মেয়েরা কিছু করবে না আর করার কথা বললেই কি রাগ টা করে!.আমরা স্বামীর কাছে শ্বাশুড়ির কথা কিছু বলার সুযোগ পাই নি আর এরা কি সুন্দর স্বামীদের কানপড়া দেয়।
ইদানীং আমার বউমা আমার খুঁতখুঁতে স্বভাব একদম পছন্দ করছে না।আমি বুয়ার হাতের রান্না খেতে চাই না,রোজ রোজ বাইরে যেতে বউমাকে মানা করি,ওরা স্বামী-স্ত্রী কোথাও ঘুরতে গেলে আমাকে নিতে হয় আরো কত ঝামেলা দিচ্ছি আমি রোজ। খোকার জন্য মায়ের স্বভাবসুলভ যত্নটা আমার বউমার পছন্দ না।ওতো প্রায়ই বলে “আমি জীবনে এমন মা ভক্ত ছেলে দেখি নি”।
গতকাল শুনলাম বউমা কার সাথে জানি ফোনে আলাপ করছে এই শহরে কোথায় ভালো বৃদ্ধাশ্রম আছে।বৃদ্ধাশ্রম আবার ভালো হয় কিভাবে তা আমার জানা নেই।ছেলে আজ সকালে এসে বললো ” মা,তুমি কিছুদিন খালাদের বাসায় থেকে এসো”। আমাকে যতটা বোকা ওরা ভাবে আমি ততোটা বোকা নই। আমি কখনোই বউমাকে কোনো উপহার দিয়ে খুশি করতে পারি নি।আজকে দিব সেই উপহারটা। রাত ১২ টা বেজেই গেলো, বউমার দরজায় ডাক দিলাম। “শুভ জন্মদিন” বলার পর সে কেমন বিরক্ত হলো আমার উপর।দরজা আটকে দিবে এমন সময় মাথায় হাত দিয়ে বললাম,
“একটা উপহার দিতে আসলাম তোমাকে।আমার বিয়ের সময় তোমার শ্বশুর এই দুই সোনার বালা দিয়েছিলেন,তুমি রেখে দাও।আর শোনো,আমি কাল সকালে বাবার বাড়ি চল যাব।আমার কখনো বলা হয় নি যে আমার বাবা আমাকেও কিছু সম্পদের উত্তরাধিকারী করে গেছেন।বাড়ির সামনের একটা দোকানের মালিক আমি ,সেই ভাড়া এত দিন না নিলেও এখন নিব আর তা দিয়ে আমার মাস চলে যাবে” আচ্ছা মা আরেকটা কথা, ” তোমরা ভালো থেকো আর খুকীকে বেশিক্ষণ বুয়ার কাছে রেখো না, আজকাল মানুষজনের উপর বিশ্বাস নেই”

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত