বান্ধবীদের সাথে প্রাংক

বান্ধবীদের সাথে প্রাংক
আমার বান্ধবী মিলির বছর দুয়েক হলো বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে আমাদের ১২ ঘণ্টার রিলেশন ছিল। মানে সকালে প্রপোজ করলাম আর রাতেই হুট করে ওর এক কাজিনের সাথে বিয়ে। বারো ঘণ্টার রিলেশনে আমি ১২ মাসের ছ্যাঁকা খেলাম। তারপর সেই ছ্যাঁকা ভুলে আমার আরেক বান্ধবী কে বললাম….
-আঁখি আমি তোকে অনেক ভালোবাসি। ডু ইউ লাভ মি?
–রুবেল তুই সিরিয়াস? নাকি ফান করছিস?
-আমি সত্যি বলছি। আমি তোকে সত্যি-ই ভালোবাসি।
–দেখ তুই আমার অনেক ভালো বন্ধু, কিন্তু আমি তোকে ভালোবাসতে পারবনা।
-তাহলে যে আমার সাথে হেসে হেসে কথা৷ বলা রাত জেগে আড্ডা দেওয়া, বাইকে ঘোরা এসব কি?
–পজিটিভলি ভাব একটু, টাইম স্পেন্ড করলাম আমরা। তারমানে এইনা যে আমরা রিলেশনে আছি।
-কিন্তু আমিতো তোকে ভালোবাসি।
–সরিরে, আমায় ভুল বুঝিসনা। আমি তোকে ভালোবাসতে পারবনা।
আঁখি আমায় একা রেখে চলে যায়। তারপর থেকে আমার অন্য বান্ধবীরাও আমার থেকে দূরে সরে যায়। ওরা ভাবে আমার সাথে মিশলেই আমি প্রপোজ করব৷ কেউ কথা বলতনা। খুব একা হলাম আমি। দুঃখে টানা তিনদিন শুধু কাঁচা আলু খেয়েছি। ভাতের বদলে পানি দিয়ে খিচুড়ি খেয়েছি। আইমিন পান্তাখিচুড়ি। আস্তে আস্তে নিজেকে গড়তে থাকলাম। তারপর এভাবেই চলতে থাকলো দিন। একদিন শুনলাম আঁখির বিয়ে। আমি ওর বিয়েতে গিয়ে পেট ভরে বিরিয়ানি খেলাম। তখন নিজেকে একটু হালকা লাগলো। আর অন্য বান্ধবীরাও আমায় সঙ্গ দিতে লাগলো। কিন্তু ততদিনে আমি মোটামুটি ম্যাচিউরড হয়ে গেছি। ভার্সিটিতে ভর্তি হলাম। মালিহা নামের এক মেয়ের সাথে আমার বন্ধুত্ব হলো।
মালিহার আচার আচরণ আমায় মুগ্ধ করলো৷ আমার কোন কিছু হলেই সে ছুটে চলে আসে। আমার চুলকানি উঠলে সে গভীর আবেশে পিঠ চুলকিয়ে দিত। আমার জ্বর হলে সেবা করব। আমার একা লাগলে সে বুকে জড়িয়ে শান্তনা দিত। আমার হিসু পেলে সে হিসু করতে যেত। মেয়েটির চরিত্রও খুব ভালো কিন্তু মাঝেমাঝে রাতে বাসায় থাকেনা। সকালে বাড়ি ফিরলে অনেক টাকা নিয়ে আসে। সেই টাকায় আমায় পিজ্জা, বার্গার, আরো কত বড়লোকি খানা আছে সব খাওয়ায়। আমার সাথে দুবার শুধু বেড়াতে গিয়েছিল সে। মোটকথা ভালোই চলছিলো আমাদের দিন। একদিন আমি মালিহাকে বললাম….
-আচ্ছা মালিহা আমার তোমাকে কেমন লাগে?
–কেমন আবার? তুমিতো ভীষণ ভালো অবশ্যই ভালো লাগে?
-আমায় ভালোবাসো তুমি?
–হ্যা তাতো বাসিই।
-তাহলে চলো আমরা বিয়ে করে ফেলি?
–মানে? ভালোবাসি বলেই বিয়ে করতে হবে?
-হ্যাঁ!
–আজব! আমি তোমায় ফ্রেন্ড হিসেবে ভালোবাসি।
-তাহলে যে একসাথে সময় ব্যায় করলাম। তুমি আমায় সেবা করলে বুকে জড়িয়ে শান্তনা দিলে? ওসব কি?
–দেখো ওসব করতে আমারো ভালো লাগতো। আমি চলি বায়…!
তারপর মালিহাও আমায় ছেড়ে চলে যায়। আবার একা হলাম আমি৷ নিজেকে অনেক কষ্টে ঠিক রাখলাম। সিগারেট খাওয়া যাবেনা যতই কষ্ট হোক। পরে ইয়াবা, মদ খেয়েছি টানা দু’মাস তবুও সিগারেট খাইনি৷ একদিন বাসায় আসলাম৷ ভাবলাম সব বান্ধবীদের সাথে দেখা করব। খোঁজ নিয়ে জানালা আমার প্রায় সব বান্ধবীদেরই বিয়ে হয়েছে। শুধু দু-এক জন বাদ আছে। তো সবাইকে আমি ফোন করে বললাম….
–তোদের সবার জন্য আমি সারপ্রাইজ এনেছি। বসুন্ধরা হোটেলে তিনতলায় একটা পার্টি আছে শুধু তোদের জন্য। তোরা আসবিতো? সবাই রাজি হচ্ছিলনা। আমি বিভিন্ন ভাবে বোঝালাম। বললাম আমি এখন ম্যাচিউরড। একজন বিজনেস ম্যান। তোরা আয় অনেক বড় সারপ্রাইজ। আমার বান্ধবীরা মোটামুটি লোভি ছিল। সবাই পার্টিতে আসার জন্য রাজি হলো। আমি দিনতারিখ ঠিক করলাম। সবাই কথামতো পার্টিতে আসলো। আমরা সবাই একটা রুমে বসে আছি। বিশাল একটা কেকের ব্যবস্থা ছিলো। সবাই মিলে কেক খেলাম। বিরিয়ানি খাওয়ালা সবাইকে। সবশেষে আমার বান্ধবীরা জিজ্ঞেস করলো….
-সারপ্রাইজটা কি?
–সবাই প্রস্তুততো?
-হ্যাঁ আমরা প্রস্তুত, তুই বল। সবার মুখেই মুচকি হাসি। ভাবছে না জানি কি! আমি ভাষণ দেওয়ার স্টাইলে তৈরি হলাম। তারপর গলা খাঁকড়ি দিয়ে বললাম….
-আমি আসলে একজন করোনার রোগি। আমি ১৪ দিনের আইসোলনে ছিলাম। সেখান থেকে পালিয়ে এসেছি। আর আমার করোনা খুবই ভয়াবহ। বলেই আমি কাঁশতে থাকলাম। বান্ধবীরা হতবাক, সবাই চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে৷ আমি দরজা আঁটকে দিলাম। তারপর আবার বললাম….
–আমার আরেকটা গোপন রোগ আছে, এটা ছোয়াছুয়ি এর কোন ঔষধ নেই। আমি যাকে ছোবো তারই এই রোগ হবে! আর শরীর চুলকাবে শুধু। আর তাছাড়া আমিতো করোনার রোগি। বলেই আমি বান্ধবীদের ছুঁতে গেলাম। সবাই চিল্লানি দিয়ে ছোটাছুটি শুরু করলো। দরজাতো বন্ধই করা। আমি কাছে যেতেই সবাই এদিক সেদিক উড়াধুরা ছুটছে। আর আমি সমান তালে কাঁশতেছি। সবাই মাগো বাবাগো বলে চিল্লাচ্ছে। দৌঁড়াতে গিয়ে কেউ কেউ দেয়ালে সাথে ঠুয়া খেয়ে ধপাস করে ফ্লোরে পরছে। আমি ছুতে যাব দেখে ফ্লোর থেকে উঠে আবার দৌঁড়াতেই আরেকজনের সাথে বারি খাচ্ছে। এভাবে অনেক্ষন চলার পর আমি দাঁড়িয়ে পরলাম। সবাই কান্না শুরু করে দিছে। আমি বললাম….
-সরি দোস্ত, আমার আসলে কোন রোগ নেই এটা প্রাংক ছিল। তোদের জন্য এটাই ছিল সারপ্রাইজ। বান্ধবীরা হতবাক! সবার মুখ হা। আমি হাসতে হাসতে রুম থেকে বের করলাম। খাচ্চুন্নি তোমরা আমায় স্কুলে থাকতে ইগনোর করছো আমার খারাপ লেগেছিলো। এখন কেমন লাগে দেখো। নিজেকে এখন হালকা লাগছে। একদম ফ্রেশ! জীবনটা সত্যিই সুন্দর হা হা হা!

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত