ফ্যামিলি কোর্ট

ফ্যামিলি কোর্ট
আচ্ছা বিয়ের আগে তুমি কয়টা প্রেম করতে?’ বউ এর মুখে এমন প্রশ্ন শুনে থতমত খেয়ে যাই। বেশ তো বুকের মাঝে দিব্যি শুয়ে ছিলো। হঠাৎ এসব কি অলুক্ষুণে কথা বার্তা! আমতা আমতা করে বলি,
‘ইয়ে মানে, আমি তো প্রেমই করতাম না। তুমিই প্রথম, তুমিই শেষ। তোমার মাঝেই আমি বেশ।’ বউ নাক সিঁটকিয়ে বললো,
‘এহ! নেকামি দেখলে আর বাঁচি না। সত্যি করে বলো। কয়টা প্রেম করতে? সত্যি কথা বললে পুরষ্কার আছে।’
‘কি পুরষ্কার?’
বউ আমার গাল দুটো লাল টুকটুকে করে হাসলো। ব্যবসার কাজে দীর্ঘসময় ধরে বাড়ির বাইরে ছিলাম। বউয়ের হাবভাব দেখে আমার মনে লাড্ডু ফুটতে শুরু করলো। আমি ভাবলাম, আরে! এই টুকটুকে লাল লজ্জামিশ্রিত হাসি তো আমার পরিচিত। সংশয় ঝেড়ে ভ্রুঁ নাচাতে নাচাতে বললাম, ‘সত্যি কথা বললে দিবে?’ বউ আমার আরো লজ্জা পেয়ে গেলো। নিচু স্বরে বললো,
‘দিবো।’ আমার শরীরে শিহরণের ঢেউ বয়ে গেলো। মনের কোণায় গ্রামোফোনে গান বাজছে,
‘আমি যে ভেবে ভেবে শিহরিত!’ বিছানায় উঠে বসলাম। গলা কেশে পরিষ্কার করে বলতে শুরু করলাম,
‘সাদিয়ার কথা মনে আছে?’
‘উই যে তোমাদের গ্রামের বাড়ির পাশের বাড়িতে যে মেয়েটা থাকতো?’
‘হ্যাঁ। হ্যাঁ। ওর কথাই বলছি। এককালে চুটিয়ে প্রেম করতাম আমরা।’
‘কিহ! কিন্তু তুমি যে বলেছিলে ও তোমার আপন ছোট বোনের মতো?’
‘আরে ব্রেক আপ হয়ে যাওয়ার পর সবাই ছোট বোনই হয়ে যায়।’
‘আচ্ছা। তারপর?’
‘রেশমার কথা মনে আছে?’
‘তোমাদের ঢাকার বাসার ভাড়াটিয়ার মেয়ে রেশমা?’
‘হ্যাঁ। ওর সাথেও কয়েক মাস প্রেম করেছি।’
‘কিন্তু তুমি বলেছিলে, ও তোমার বন্ধু মানুষ।’
‘রেশমা আমার সমবয়সী না? ব্রেক আপের পর বোন কিভাবে বানাই? তাই বন্ধু বানিয়ে ফেলেছি।’
‘ও আচ্ছা। তারপর আর কার কার সাথে প্রেম ছিলো তোমার?’
‘ইরার সাথেও বেশ কয়েকবার ডেটে গিয়েছি।’
‘কোন ইরা?’
‘পল্টন বাড়ির পাশে বাসা।’
‘ওই মেয়ে তো আমার বান্ধুবী!’
‘ও হ্যাঁ! তোমাকে তো বলতে ভুলেই গেছি ওর মাধ্যমেই তো তোমাকে চিনেছি। আর সোজা বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়ে দিয়েছি বাসায়।’
‘ইরা তো আমাকে কিছু বলে নি?’
‘নিজের জন্য কূয়া কে খুঁড়বে!’
‘বাহ! জল দেখি সর্বস্তরে গড়িয়েছে! আরো কেউ আছে?’ একটু চিন্তা করে বললাম,
‘না আর কেউ নেই।’
‘আচ্ছা।’
‘ও না! আরেকজন আছে।’
‘কে?’
‘সুপ্তি।’
‘কোন সুপ্তি?’
‘ফারজানা সুপ্তি।’
‘ও তো আমার চাচাতো বোন!’
‘হ্যাঁ! আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম। সুপ্তি এখনো মাঝে মাঝে আমায় ফোন দেয় বুঝলা? আমিও ব্যস্ততা দেখিয়ে দেই। দুলাভাই এর সাথে এত খাতির কিসের? ভালো করি না বলো?’
‘হ্যাঁ ভীষণ ভালো করো।’ আমি বউয়ের হাত নিজের হাতের মুঠোয় পুরে বললাম,
‘শুনো না।’ বউ আদুরে কন্ঠে বললো,
‘শুনছি তো। বলো না!’
‘সব তো বলে দিলাম। এখন তাহলে দাও।’ বউ সুন্দর করে নিজের হাত ছাঁড়িয়ে নিতে নিতে বললো,
‘দিবো তো। আগামীকালই দিয়ে দিবো। শুধু একটু কষ্ট করে আমার সাথে তোমায় এক জায়গায় যেতে হবে।’
‘কোথায়?’
‘ফ্যামিলি কোর্টে।’ কলিজা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলো। ভয়ে তোতলাতে তোতলাতে বললাম,
‘ফ্যা ফ্যা ফ্যামিলি কোর্টে কেনো?’
‘উই যে তোমাকে দিবো।’
‘কি দিবে?’
‘ ডিভোর্স!’
নাউজুবিল্লাহ! এসব কি বলে? ডিভোর্স কেনো দিবে? হঠাৎ মনে হলো, সর্বনাশ! বউ না আমার উকিল! মস্তিষ্কে ইচরে পাঁকা বুদ্ধি নিয়ে ঘোরে। এই শিহরণ জাগানো হাবভাব যে কথা বের করার ট্র্যাপ তা তো ঘিলুর বোধগম্য হয় নি! এখন কি হবে? ইতোমধ্যে, বউ তার অগ্নিমূর্তি ধারন করে ফেলেছে, ‘শুরু থেকেই সন্দেহ করতাম তোকে। আইন নিয়ে পড়েছি আর ক্রিমিনাল চিনবো না? তুই এখনো সুপ্তির সাথে কথা বলিস? ওরে চিটার, ওরে বাটপার। আজ তোর একদিন কি আর আমার একদিন!’ এজন্যই বলি, উকিল বৌ হতে সাবধান।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত