সারপ্রাইজ

সারপ্রাইজ
আবিদ:- হ্যালো নীরা একটু দেখবে আমি মনে হয় একটা ফাইল ফেলে চলে এসেছি।
নীরা:- কোথায় রেখেছো তোমার কি মনে আছে?
আবিদ:- মনে হয় ডাইনিং রুমেই ফেলে এসেছি একটু যেয়ে দেখো।
নীরা:- আচ্ছা ঠিক আছে আমি দেখে তোমাকে জানাচ্ছি। ফোন রেখে নীরা দৌড়ে ছুটে গেলো ডাইনিং এ কোথাও কোন ফাইল না পেয়ে আবার ছুটে আসলো রুমের ভিতর।
নীরা:- কই ফাইলতো পেলাম না।
আবিদ:- আহা একটু ভালো করে খুঁজে দেখো না। আমি বাড়িতেই কোথাও রেখেছি মনে করতে পারছি না।
নীরা:- হু দেখছি।
আবিদ:- হ্যাঁ দেখে তাড়াতাড়ি জানাও।
নীরা:- আজ কত তারিখ আবিদ তোমার মনে আছে?
আবিদ:- আরে তারিখ দিয়ে কি হবে মাসতো শেষ হয়নি। মাস শেষ হলে সংসার খরচ বাড়ি ভাড়ার টেনশন করতাম। এখন তুমি তাড়াতাড়ি ফাইলটা খোঁজে দেখো। নীরা ফোনটা কেটে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। আজ ১৮ই আগস্ট, ওদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকি অথচ আবিদ ভুলেই গিয়েছে।
আর বিয়ের আগে কত কেয়ার কত যত্ন নিতো আবিদ এটা কিনে দিতো সেটা কিনো দিতো। রাত জেগে অপেক্ষা করতো। জন্মদিনের উইশ করার জন্য, একটি বার দেখার জন্য গভীর রাতে এসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতো।
সেই আবিদ এভাবে বদলে গেলো কি করে এটাই ভেবে পাচ্ছে না নীরা। দু’হাতে চো’খের পানি মুছতে মুছতে ফাইলটা খুঁজে চলছে নীরা। কোথাও ফাইলটা খুঁজে না পেয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে আবিদকে ফোন দিতে যাবে এমন সময় আবিদের নাম্বার থেকেই ফোন আসলো।
নীরা:- কই কোথায় তোমার ফাইল, ঘরের কোথাও তোমার ফাইল নেই। কি হয়েছে তোমার কোথায় কি রাখো তোমার কি কিছু মনে থাকে না? নাকি নতুন করে কারো প্রেমে পড়েছো?
আবিদ:- কি সব বলছো মনে ছিলো না এখন মনে পড়ছে। ফাইলটা আসলে তোমার ওয়্যারড্রপের ড্রয়্যারে রেখেছি ফাইলটা।
নীরা:- আচ্ছা ঠিক আছে আমি দেখে তোমাকে জানাচ্ছি।
আবিদ:- এই শোন শোন।
নীরা:- বিরক্ত হয়ে কি বলো।
আবিদ:- ফোন কাটতে হবে না। দেখো আমি লাইনেই থাকি।
নীরা:- আচ্ছা ঠিক আছে। বলে যেয়ে ওয়্যারড্রপের ড্রয়্যার খুলতেই একটা বড় প্যাকেট চোখে পড়লো।
নীরা:- এই তুমি কি ফাইল প্যাকেট করে রেখেছো?
আবিদ:- ও হ্যাঁ তোমাকে বলতেই ভুলে গিয়েছিলাম।
নীরা:- তুমিও না।
আবিদ:- আচ্ছা শোন ফাইলটা খুলে দেখতো সব ঠিক আছে কিনা।
নীরা:- আচ্ছা ঠিক আছে।
নীরা ড্রয়্যার থেকে প্যাকেটটা বের করে খাটের উপর নিয়ে এসে খুলে অবাক হয়ে গেলো। প্রথমে একটা বেলি ফুলের মালা বেরিয়ে আসলো, তারপর একটা টুকটুকে লাল শাড়ি, এরপর পায়েল, টিপের পাতা আর সব শেষ বেরিয়ে এলো আলতার বোতল।
নীরা:- এগুলা কার জন্য?
আবিদ:- শুভ বিবাহ বার্ষিকি। এগুলা আমার একমাত্র বউ জানের জন্য। তোমার কি মনে হয় আমি সব ভুলে যাই? হ্যাঁ আমি প্রেমে পড়ি রোজ রোজ তবে এক জনেরই প্রেমে পড়ি আর সে হচ্ছে আমার বউজান।
নীরা:- আমি যে তোমার জন্য কিছু কিনি নাই রাগ করে। আমি এগুলা পড়বো না।
আবিদ:- তোমাকে কিছু কিনতে হবে না। শোন সকালে আমি বাজার থেকে পোলাউ চাউল, মাংস সব কিনে রেখে এসেছি। দুপুর হয়ে আসতেছে তাড়াতাড়ি রান্না করে সুন্দর হয়ে সেঁজে থেকো। দুপুরে খেয়ে দু’জনে এক সাথে ঘুরতে বের হবো। এখন রাখছি।
আবিদ ফোন রেখে দিতেই নীরার চোখ বেয়ে পানি পড়তে শুরু করলো। ঐদিকে আবিদ অফিসে বসে মিটমিট করে হাসছে আর ভাবছে পাগলি বউ আমার। আমি কি আমাদের বিবাহ বার্ষিকির কথা ভুলতে পারি। ছোট ছোট সারপ্রাইজ প্রিয়জনদের কত যে আনন্দ দিতে পারে। তা আপনি তাদের না দেখলে বা ছোট একটা সারপ্রাইজ না দিলে বুঝতেই পারবেন না। একবার দিয়েই দেখুন না এমন একটা সারপ্রাইজ কতটা তৃপ্তি পাবেন দেবার পরেই বুঝতে পারবেন।
গল্পের বিষয়:
গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত