গল্প নয় সত্যি

গল্প নয় সত্যি
ডাক্তারের সাথে কিছুক্ষণ….
-যা যা প্রশ্ন করবো আশা করি সঠিক জবাব দেবেন।
-(মুচকি হেসে) ইনশাআল্লাহ্।
-রাতে ক’টায় ঘুমান?
-ঠিক নেই। কখনো বারোটায়,আবার কখনো তিনটায়।
-ঘুম থেকে উঠেন কখন?
-আটটা, নয়টা, অথবা সাড়ে নয়টায়।
-নামাজ পড়েন?
-চেষ্টা করি পাঁচ ওয়াক্ত পড়তে। কিন্তু প্রায়শই ফজর এবং এশা ক্বাজা হয়।
-জীবনের প্রথম সবচেয়ে বড় মানসিক ধাক্কা কবে খেয়েছিলেন?
-২০১৩ সালে।
-আর শেষবার কখন?
-১৪ই জুলাই ২০২০।
-একা থাকতে পছন্দ করেন? না কি সবার সাথে?
-একা থাকতে ভীষণ পছন্দ করি। শুধু একা নয়, বরং একা নির্জনে অন্ধকারে থাকতে ভালো লাগে।
-একা বসে বসে কি করতে ভালো লাগে?
-কল্পনা করতে।
-কি ধরনের কল্পনা?
-একটু অদ্ভুত টাইপের। অযৌক্তিক কল্পনা করি। বলতে পারেন আকাশকুসুম।
-যেমন? আমি কিন্তু শুনতে আগ্রহী।
-হাসবেন না তো?
-মোটেও না।
-যেমন, আমার অনেককিছু থাকবে। ৬৪ জেলায় আমার ৬৪ টা বাড়ি থাকবে। রাজশাহীতে আমার একটা আমবাগান থাকবে।
তার পাশেই ছোট্ট থাকার ঘর। আমের সিজনে আমি ওখানে থাকব। তারপর, লক্ষ্মীপুরে আমার একটা নারকেল বাগান থাকবে। এভাবেই ৬৪ জেলায় আমার অনেক কিছু থাকবে। পৃথিবীর সব জাতের পাখি থাকবে আমার। আমি ওগুলোকে নিজের হাতে খাওয়াবো। আমার অনেক বড় একটা পুকুর থাকবে। আমি পুকুর ঘাঁটে বসে রোজ বিকেলে বড়শি বাইবো। আর আমার অনেক গাছ থাকবে। ফুল ফল সব ধরনের গাছ। এছাড়া আমার একটা মোটরসাইকেল থাকবে। ঐ মোটরসাইকেলে করে আমি সারা বাংলাদেশ ঘুরে বেড়াবো। আমি পৃথিবীর সব জায়গায় ভ্রমণ করে বেড়াবো। আর আমার একটা অনেক বড় লাইব্রেরি থাকবে। সারাক্ষণ বই পড়ব। আরো অনেক কিছু। (খুশিতে হেসে উঠে)
-বাহ। বেশ ইন্টারেস্টিং স্বপ্ন তো। আচ্ছা এবার বলুন তো, আপনি যখন এসব কল্পনা করেন, তখন কি আপনি শুধু নিজেকে নিয়েই কল্পনা করেন? না কি প্রিয়জন, একজন পুরুষকেও সঙ্গী রাখেন?
-মোটেও না। আমার কল্পনাগুলো শুধুই আমাকে ঘিরে। ওখানে অন্য কেউ থাকে না।
-কারো সাথে মনের কথা শেয়ার করেন?
-উঁহু।
-কেন?
-ভালো লাগে না।
-আচ্ছা কেউ যখন আপনার সাথে কোন বিষয় নিয়ে লং টাইম কথা বলে তখন কেমন লাগে?
-ভীষণ বিরক্তিকর। জাস্ট বকবকানি মনে হয়।
-(মুচকি হেসে) আচ্ছা। আমি কিন্তু চিকিৎসার জন্যই অনেক প্রশ্ন করছি। বিরক্ত হচ্ছেন?
-একদম না। আমি সবার সাথে প্রয়োজনের বাইরে কথা বলি না এটা ঠিক। তবে যার সাথে ভালো লাগে তার সাথে অনেক কথা বলতে পারি।
-যাক বেশ ভালো। আচ্ছা আপনার ঘুরে বেড়াতে কেমন লাগে?
-অনেক ভালো লাগে। তবে একা। নির্জনে হাঁটতে পছন্দ করি। কিন্তু অন্য কারো সাথে নয়।
-রাতে ঘুম ভাঙলে পিপাসা লাগে?
-জ্বি।
-কয়বার পানি খান রাতে?
-যতবার ঘুম ভাঙে।
-রাতে কোন ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙেছে কখনো?
-হু। জানেন, আমি তিনটা ভয়ংকর স্বপ্ন দেখি। এবং অনেকবার ঘুরেফিরে এই তিনটা স্বপ্নই দেখেছি।
-কি ধরনের স্বপ্ন?
-১. আমি একটা বিল্ডিংয়ের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছি। কিন্তু ওটা এতো নড়বড়ে যে আমার মনে হয়, আমি এক্ষুনি পড়ে মারা যাব। ভাঙাচোরা সিঁড়িগুলো কাঁপছে। উপরে ছাদটা ভেঙে ভেঙে পড়ছে। এতো ভয়ংকর যা আমি বর্ণণা দিতে পারব না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি ঐ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে সক্ষম হই। এবং আমার ঘুম ভেঙেও দেখি আমার পুরো শরীর থরথর করে কাঁপছে।
২.একটা ভয়ংকর পাহাড়ি রাস্তা। উপরে বিশাল উঁচু পাহাড়। নিচে ভয়ংকর নদী। আর ঐ পাহাড়ের কোল ঘেঁষে একটা সরু রাস্তা। মাত্র আধহাত চওড়া ঐ রাস্তাটা। আর ঐ রাস্তা দিয়ে আমি হেঁটে যাচ্ছি। পাহাড়ি গুল্মলতা ধরে ধরে হাঁটছি। একটু পা ফসকে গেলেই মৃত্যু নিশ্চিত। এরপর হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎই সামনে পড়ে একটা বিশাল গর্ত। আর আমার পা পিছলে যায় ওখানে। পড়ে যাওয়ার মুহুর্তেই অচেনা একজন আমার ধরে ফেলে। আর আমি ঐ যাত্রায় বেঁচে যাই। (আমার স্বপ্নের এই অংশটুকু আমার “মৃত্যুকূপ” গল্পে উল্লেখ করেছিলাম) ৩.আমি একটা বিশাল ঘন অন্ধকার জঙ্গলে হারিয়ে যাই।
বেরোবার কোন পথ পাই না। অনেক চিৎকারের পরেও কেউ আসে না। এরপর সূর্যের আবছা আলোকে লক্ষ্য করে আমি হাঁটতে থাকি। এবং একটা অচেনা বৃষ্টিভেজা স্যাতস্যাতে রাস্তায় গিয়ে উঠি। আমি স্বপ্নের মধ্যেই বুঝতে পারি, এই রাস্তাটা আমার অচেনা। তবুও হাঁটতে থাকি। তখনই সন্ধ্যা নামে। আমি আরো বেশি ভয় পেতে থাকি। এরপর একদল মানুষ দেখি আমি। যারা মানুষের মত দেখতে। কিন্তু বন্য মনে হয়। ওরা আমার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। আমি ভয়ে প্রাণপণে দৌড়াই। এদিক সেদিক লুকানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ব্যার্থ হই। তারা আমাকে ধরে ফেলে। এরপর আমি আবার পালাই। এভাবেই আমার ঘুম ভেঙে যায়। আর আমি কাঁপতে থাকি তখনও।
-(ডাক্তারের কপালে ভাঁজ পড়েছে। বোঝা যাচ্ছে অনেক মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন আমার কথাগুলো) বেশ অদ্ভুত। আপনি তো এখনও ঘেমে গেছেন? পানি খাবেন?
-জ্বি না। আমি ঠিক আছি।
-ওকে। তো আমি আপনাকে আরো কিছু প্রশ্ন করতে চাই। আগে একটু রিল্যাক্স হয়ে নিন।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত