আমার অযোগ্যতা

আমার অযোগ্যতা
যেদিন ১০টাকার জন্য হাত পেতে স্বামীর কাছে একঘন্টা দাঁড়িয়ে ছিলাম সেদিনই বুঝেছিলাম একটা নারীর স্বাবলম্বী হওয়া কতোটা প্রয়োজন। কতোটা অপমানে নিজের সব সার্টিফিকেটগুলো ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে হয়েছে। আমার এর আগের পোস্টে যারা বলেছেন মেয়েদের নিজের পায়ে দাঁড়ানো দরকার তাদের আমি সম্মান করি এবং আমিও এটাই চাই। আমি জানি নিজের প্রয়োজনে স্বামীর কাছ থেকে টাকা নেয়া কতোটা লজ্জার। আর যেসব ভাই-বোনরা বলেছেন স্বামীর যোগ্যতা নেই, ভরন-পোশন না দিতে পারলে কেন বিয়ে করলো, তারা যে আমার সমব্যথী তা আমি বুঝতে পেরেছি।
তবু কোনো নারীই হয়তো চায় না তার স্বামীকে ছোট করতে। স্বামীর বোঝা উচিত একটা মেয়ে কতোটা স্বপ্ন নিয়ে তার সংসারে প্রতিনিয়ত নিজের চাওয়া-পাওয়াগুলো বিসর্জন দিতে থাকে। স্বপ্ন পূরণ তো দূরের কথা। সামান্য সহমর্মিতাও যেই সংসারে থাকে না সেখানে বসবাস জাহান্নামের মতোই। তবু মায়া,মমতা,ভালোবাসা,বিশ্বাস,ভরসা,আস্থার সর্বশেষ একটা আকুতি থাকে একদিন সব ঠিক হবে। সংসারে শান্তি আসবে,সুখ আসবে এই শেষ ইচ্ছেটুকু স্ত্রীকে সংসারে টেনেটুনে টিকিয়ে রাখে। আবার অনেকসময় এমনও হয় এতো বেশি অপমান, এতো বেশি অবহেলা, এতো বেশি তুছ-তাচ্ছিল্যতায় মন বিষাক্ত হয় যে বেঁচে থাকাটা চরম যন্ত্রণার হয়। ভেতরে প্রতিনিয়ত কান্নার আর্তনাদের সুর বাজতে থাকে। কেউ শুনে না সে কান্না।
আচ্ছা! স্ত্রী না স্বামীর অর্ধাঙ্গিনী! তবে কেন সে তার অর্ধাঙ্গিনীর কান্নার আওয়াজ শুনতে পায় না? যখন যন্ত্রণায় ভেতর ফেঁটে যায় তখন সেই দীর্ঘশ্বাসের খবর কেন সে রাখে না? জানেন! এমনও হয় সেই দীর্ঘশ্বাস অবরোধে মাঝে মাঝে গলার টুটি টেনে স্ত্রীকে চুপ করিয়ে দেয়া হয়। মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয় তার সকল আত্ম-অহংকারের অস্তিত্ব। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও ক্ষীণ হয়ে যায়। তবে হ্যা সবাই সমান নয়। অনেকেই স্ত্রীকে সেই অর্ধাঙ্গিনীর মর্যাদা দেয়। তারা খুবই ভাগ্যবতি।
কিন্তু আমি অভাগিদের কথা বলছি। অভাগিদের সাথে এসব ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত ঘরে ঘরে। বিয়েটা তড়িঘড়ি করে হয়ে যায়। আগেই বুঝা উচিত দায়-দায়িত্বে কতোটা স্বাবলম্বী আমরা। আমি স্বীকার করছি বাইরে পরিশ্রম করে টাকা ইনকাম করে সংসারের সকল প্রয়োজন পূরণের দায়িত্বে অনেকসময় স্বামীকে হিমসিম খেতে হয়। কিন্তু সেখানে দু’জনে মিলে সমঝোতা করা জরুরী,একে অন্যের সহমর্মি হওয়া জরুরী। কিন্তু আমরা তো কেউ কাউকে বুঝিই না,সম্মান করি না। সেখানেই যত অঘটন আর আপত্তি।
আবার আমার অনেক বোনরা আছে স্বামীকে একদমই বোঝে না। তার পকেটের খবর রাখে না। অহেতুক বিলাসিতা করে। একটা সময় সেই বিলাসিতার ভারে ভাইটি আমার নুইয়ে পরে। তবু মুখে কিছু বলে না স্ত্রী কষ্ট পাবে বলে। এটা হলো পুরুষ নির্যাতন। এসবও আজকাল অনেক লক্ষ্য করছি। যাইহোক আমি চাই না কারো সংসার জীবন এমন বিভীষিখাময় হোক। আমরা যাতে একে অন্যকে বুঝে একসাথে সারাজীবন চলতে পারি।
সবশেষে আমার সেই বোনটিকে বলবো যিনি চাকরি কিংবা বিজনেস করে আব্রু রক্ষা করে ঘরে -বাইরে সমান তালে তাল মিলিয়ে সম্মানের সাথে চলতে পারছেন তার প্রতি আমার অনেক ভালোবাসা রইলো। আপনার প্রতিটি বাক্যই আমি বুঝতে পেরেছি এবং সম্মানও করছি। তবে কি জানেন সবার সব হয় না! সবাই সবকিছু পারে না। আপনি পেরেছেন। আপনার জন্য আমি গর্ববোধ করছি। এবং প্রার্থনা করি সকল যোগ্যরা আরও যোগ্য হোক আর অযোগ্যরাও একটা কুল পাক।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত