উত্তরাধিকারিণী

উত্তরাধিকারিণী
শুয়ে শুয়ে গল্পের বই পড়ছিলাম। জানালার বাইরে একটা ঝুড়ি নেমে এলো। ঝুড়িতে আছে একটা আলো জ্বালানো টর্চ আর সাথে একটা চিঠি। এমনটা সাধারণত সবসময় করা হয় না। শুধুমাত্র রাতেরবেলা আমাকে কোনো আর্জেন্ট ইনফরমেশন জানাতে হলেই প্রীতি এ কাজটা করে। প্রীতির সম্পূর্ণ নাম পৃথিবী মজুমদার। বিয়ের পর নাম পাল্টে হয়েছে পৃথিবী মজুমদার চক্রবর্তী। আমার রুম বরাবর উপরে চার তলাতেই প্রীতি আর সন্দীপের বেডরুম। আমার রুম ৩ তলায়।
ঘর অন্ধকার করে মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে বই পড়ছিলাম। এভাবে বই পড়ার অভ্যেস হয়েছিল স্কুল জীবনেই। অনাথাশ্রমের একটা হলরুমে তের জন ছেলে একসাথে থেকে বড় হয়েছি। রাত ঠিক দশটা বাজলেই আলো নিভে যেত। মন্দির থেকে চুরি করা মোমবাতি আর রান্নাঘর থেকে সরিয়ে নেয়া ম্যাচের কাঠিতে পার হতো প্রতিরাত। সেই বইপড়ুয়া চোখগুলো এখনো অতি আলোতে বই পড়তে পারে না। মোবাইলের ফ্ল্যাশ মোমবাতির আলোর চেয়ে তীব্র, তবু কিছুটা হলেও আলো-আঁধারি কাজ করে। টর্চের আলো চোখে পড়তেই জানালার কাছে এসে ঝুড়িটা ধরলাম। তাতে একটা আপেল, আর আপেলের নিচে চাপা দেয়া একটা চিঠি। আপেল আর চিঠি হাতে নিতেই দড়িতে ঝুলানো ঝুড়ি ওপরে উঠে গেল। চিঠি দেয়ার কারণ চিঠিতেই থাকবে। কিন্তু আপেল কেন দেয়া হলো? আপেলটা ফ্রিজে রেখা আসলাম। চিঠিতে লেখা আছে- প্ল্যান অবশেষে সাকসেসফুল; অনভ্যস্ত বাঁ হাতে ক্লাস ওয়ানের বাচ্চার মতো কঠিন পরিশ্রম করে লেখা।
পরিকল্পনাটা হয়েছিল আজ থেকে আরও মাসখানেক আগে। সন্দীপ ৩ তলায় এসে আমার ফ্ল্যাটে কলিংবেল চাপল। আমি দরজা খুললাম। আরে সন্দীপ দা। তোমার সাথে কিছু কথা ছিল, আপন। কী বিষয়ে? ভেতরে এসে বলা যাবে? এখানে এভাবে দাঁড়িয়ে বলা যাবে না। সদ্বীপ ভেতরে আসলো। নিজের জন্য চা করছিলামই। আরেকটু জল বাড়িয়ে দিয়ে আরও অল্প কিছু চা পাতা ঢেলে দিলাম। লিকার চা চলবে সন্দীপ দা? ঘরে দুধ নেই। একটা হলেই চলবে। সন্দীপ মনে মনে তাড়াহুড়ো করছে। ওর চা খাওয়ার কোনো আগ্রহ নেই। এ মুহূর্তে ওর অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করার আছে। কিন্তু সে আলোচনা শুরু করার আগে মানসিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়নি। আমি চা নিয়ে এলাম, বাসায় কুকিজ বিস্কুট আছে। কুকিজ টাইপের বিস্কুট তোমার প্রিয়, তাই না? তুমি কী করে জানলে? প্রীতি বলেছে। প্রীতি আর কী বলেছে?
বলেছে তুমি ইদানিং ওর গায়ে হাত তোলো। হাতের কাছে যা পাও, তা দিয়েই ওকে মারো। সন্দীপ উঠে দাঁড়াল। ওর গুরুত্বপূর্ণ কথাটা বলার রুচি চলে গেছে। আমি হাসলাম। হেসে বললাম, বসো। চা খাও। তারপর গুরুত্বপূর্ণ কথাটা বলো। সন্দীপ কিছু বলছে না। আমি ওর দিকে চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে বললাম, ঠিক মতো প্ল্যান করলে তুমি যা করার চেষ্টা করছো, তা করা খুব একটা কঠিন হবে না। সন্দীপ স্তম্ভিত হয়ে তাকিয়ে রইল। বলল, তুমি কী করে এ কথা বললে? কিছু কিছু মানুষের পর্যবেক্ষণ ও অনুমান করার আলাদা ক্ষমতা থাকে। আমি এমন অনেক কথাই বলতে দিতে পারি। এই যেমন এটাও বলতে পারি যে, তুমি আমার সাথে কথা বলার জন্য গত তিনদিনও এসেছিলে। এসে দরজার বাইরে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে চলে গেছ। আজও দাঁড়িয়ে ছিলে। তারপর অনেক কষ্টে মনোবল সঞ্চয় করে কলিংবেল বাজালে।
সন্দীপকে সেদিন গোপন তথ্য প্রেরণের পদ্ধতিটা শিখিয়ে দিলাম। বললাম, টেলিফোন, টেলিগ্রাফ, ইমেইল বা অন্য যে কোনো মাধ্যমে কোনো মেসেজ পাঠানো হলে তা অবশ্যই প্রমাণ হিসেবে রয়ে যায়। কিন্তু প্রমাণহীন উপায়ে বাঁ হাতে সংক্ষিপ্ত একটা চিঠি লিখে তা অবৈদ্যুতিক উপায়ে পাঠালে কোনো প্রমাণ থাকতে পারে না। যদি লেখা মিলিয়ে দেখার চেষ্টাও করা হয়, তবে তাতেও অসফল হতে হবে। কারণ অনভ্যস্ত হাতে একই শব্দ ১০০ বার লিখলে প্রত্যেকবার ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হবে। এভাবে প্রীতিও তোমার কাছে চিঠি পাঠায়? পাঠায়। কী এমন গোপন বিষয় যা তোমাকে এভাবে চিঠি পাঠিয়ে বলতে হয়? আমি হাসলাম। কোনো উত্তরের অপেক্ষা না করে সন্দীপ চলে গেল। আজ এতদিন পরে পরিকল্পনা মোতাবেক সব হয়েছে এবং সন্দীপও ঠিকঠাক আমার কাছে কনফার্মেশন পাঠালো। কিন্তু আপেল পাঠানোটা বোকামি হয়েছে। তাতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকবে অবশ্যই।
আমি চিঠিটা ভাজ করে বইয়ের ভেতর রেখে দিলাম। ঘরের দরজা লক করে ছাদে এসে দাঁড়ালাম। দূরে কোথাও বিয়ে কিংবা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলছে। ঝিকিমিকি আলোর আবহ কিছুটা আকাশ অবধি পৌঁছে গেছে। উচ্চশব্দে বাজানো হিন্দি ইংরেজি গান এত দূর অবধি কানে আসছে। পেছন থেকে খুকখুক করে কারো কাশির শব্দ এলো। আমি পেছনে ফিরলাম, কেমন আছ প্রীতি? প্রীতি চঞ্চল চোখে তাকিয়ে বললো, এখন লাশটা কী করবো? তা তো আমি জানি না! তুমি জানো না মানে? হ্যাঁ। তুমি তোমার হাজবেন্ডকে খুন করেছ। এখন তার লাশ কী করবে তাও তো তোমাকেই ভাবতে হবে। আমি মিটমিট করে হাসছি। আমার কথা শুনে প্রীতির কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে গেল। এমন অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে ওর মুখে কোনো কথা আসছে না। আমি হেসে বললাম, খাওয়াদাওয়া কিছু করেছ? প্রীতি পেছনে ফিরে চলে গেল।
আমি ছাদের রেলিংয়ে বসে একটা সিগারেট ধরালাম। মুখে শীতল বাতাসের ঝাপটা এসে লাগছে। ব্রাউন ইলাভেন পিওর এডিশনের সিগারেট। প্রত্যেকটার দাম বাংলাদেশি মূল্যে দু’শ তেষট্টি টাকা আটচল্লিশ পয়সা। এত দামী সিগারেট, অথচ স্বাদে গন্ধে দেশে কিনতে পাওয়া দশ থেকে পনেরো টাকার সিগারেটের মতোই ফ্লেভার। সন্দীপ একটা বিজনেস মিটিংয়ে কানাডা যাওয়ার পর একদিন ফোন করে বলে, আপন, কী আনবো তোমার জন্য?
আমি বললাম, এক প্যাকেট দামী সিগারেট এনো। সন্দীপ বোকার তো এক কার্টন ভর্তি করে সিগারেট নিয়ে এল। এয়ারপোর্টে বেশ মোটা অঙ্কের ঘুষ দেয়া ছাড়া তা বের করা গেল না। ট্রান্সপোর্ট ও ঘুষসহ হিসেব করলে প্রতি সিগারেটের দাম হয় দু’শ তিরানব্বই টাকা। দু’শ তিরানব্বই টাকার সিগারেট পুড়ে ধোঁয়া হলো। প্রীতি আবার হন্তদন্ত হয়ে ছাদে এলো। আপন, ভাই আমার, সমস্যা আরও বেড়ে গেছে। তুমি আমার পাশে দাঁড়াবে না?
আমি তোমার ভাই না প্রীতি। সৎ ভাই। তোমার আর আমার বাবা একইজন। কিন্তু মা আলাদা। আমার মা যখন চলে গেল, তারপর আমি গেলাম অনাথাশ্রমে, আর বাবা বিয়ে করলো তোমার মাকে। তারপর তুমি এলে। আমার শেষের পর তোমার শুরু। তাই নয় কি? এসব কথা কেন বলছো, আপন? এসব কথা বলার কোনো উপযুক্ত সময় নেই। যা চিরসত্য, তা সর্বকালে সর্বসময়ে সত্য। পঞ্জিকা দেখে দিনক্ষণ গুণনা করে ভালো একটা লগ্ন বের করে বলার কিছু নেই। আমি এসব জানি। কিন্তু তুমি যা জানো না, তা হলো তা হলো সন্দীপের লাশটা ঘরে নেই। এইতো? তুমি জানো? জানতাম না। তবে অনুমান করেছি। আমি অনেক কিছুই না জেনেও বুঝতে পারি। বলে দিতে পারি অবিকল। সিঁড়ি বেয়ে সন্দীপ উঠে আসলো। এই যে সন্দীপ এসে গেছে। প্রীতি অদ্ভুত অবিশ্বাসের চোখে সন্দীপের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি সন্দীপের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললাম, তুমি ঠিক আছো? সন্দীপ হেসে বলল, ঠিক আছি। প্রীতি আশ্চর্য দৃষ্টিতে এবার সন্দীপের দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি বেঁচে আছ?
আমি হেসে বললাম, ভিনেগার খেয়ে কেউ কি মরে? তুমি বিষ কিনে আনতে বলেছিলে। আমি বিষের কৌটোতে ভিনেগার ভরে তোমার হাতে দিয়েছিলাম। ভালো করেছি না? সন্দীপ প্রীতির দু কাঁধে ধরল, শোনো প্রীতি, তুমি অসুস্থ। তোমার চিকিৎসা দরকার। প্রীতি সন্দীপের দু হাত ছাড়িয়ে ছুটে এসে আমার কলার চেপে ধরল। রাগে গজগজ করতে করতে বলল, তুমিও ওর সাথে হাত মেলালে? সন্দীপ দ্রুত আমার কলার থেকে প্রীতির হাত ছাড়িয়ে ওকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে রাখল। আমি আর সন্দীপ দুজনই জানি, যা ঘটছে তার জন্য কোনোভাবেই প্রীতি দায়ী না। বিষয়গুলো আমার জানা ছিল। কিন্তু সন্দীপ নিশ্চিত না হয়ে প্রীতির প্রতি এতটা কঠোর হতে চায়নি। কিন্তু এখন সন্দীপের মনে কোনো সন্দেহ নেই।
ঘটনাটা আজ থেকে প্রায় বিশ বছর আগে। প্রীতির মা, অর্থাৎ আমার সতমা অরুণা মজুমদার মারা গেলেন। তখন আমার বয়স বারো বছর। প্রীতির বয়স পাঁচ। পাঁচ বছর বয়সের আমিও ঠিক একইভাবে মাতৃহীন হয়েছিলাম। এতগুলো বছর পরে নিজের বাসায় গিয়ে প্রীতিকে জড়িয়ে ধরে বললাম, আমি তোমার ভাই। আমার নাম আপন। আপন চন্দ্র মজুমদার। নামের মাঝে চন্দ্র আছে কারণ আমি অন্যের দয়ায় বেঁচে আছি। যেদিন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবো, সেদিন নাম পাল্টে দেবো। তখন নাম রাখবো আপন সূর্য মজুমদার। প্রীতি হেসে বলল, সূর্য কি নিজের পায়ে দাঁড়ায়? ছোট্ট প্রীতিকে কোনো উত্তর করলাম না। বাবা সেদিনও কোথাও গায়েব হয়ে গেলেন। যেমনটা হয়েছিলেন আমার মায়ের মৃত্যুর পরে। নিরুপায় হয়ে প্রীতিও পা রাখলো অনাথাশ্রমে।
প্রীতিকে ঘরে নেয়া হলো। আপাতত ওকে শোবার ঘরে লক করে রাখা হয়েছে। আমি আর সন্দীপ ড্রয়িংরুমে সোফায় বসে সিগারেট ধরালাম। একটা প্রাইভেট মেন্টাল ক্লিনিকের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। একজন ডাক্তার আর নার্স এসে প্রীতিকে পরীক্ষা করে ডিসিশন নেবে ওর ট্রিটমেন্টটা কোথায় করা হবে। তুমি কি তাহলে নিশ্চিত আপন, এ রোগটা তোমার বাবারও ছিল? সন্দীপ বেশ চিন্তিত ভঙ্গীতে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলল। আমি শান্ত কণ্ঠে জবাব দিলাম, হুম। প্রীতি যদি আর কখনোই সুস্থ না হয়? পৃথিবীর সকল মানুষ কোনো না কোনো রোগ নিয়ে বেঁচে আছে। রোগহীন মানুষ অবাস্তব। প্রীতিও বেঁচে থাকবে! ও যদি কখনো সত্যিকারে খুন করে দেয়? আমি আর সন্দীপ পরস্পরের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
বারো বছরের সেই ছোট্ট আমারও যথেস্ট বুদ্ধি ছিল ঘটনাগুলো বুঝতে পারার। প্রীতির মায়ের মৃত শরীরের ঘাড়ে ঠিক যেখানটায় আঘাত দেখতে পেয়েছিলাম, ওখানটায় আমার মায়েরও আঘাত ছিল। রোগটা মূলত আমার বাবার। নিজের জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষকে হঠাৎ খুন করে ফেলার এ প্রবৃত্তির কারণেই তিনি জীবনকালে আর
 কোনো মানুষের কাছাকাছি থাকেননি। আমাকে বা প্রীতিকেও নিজের কাছে রাখেননি। পরবর্তীতে প্রীতির মধ্যেও এ প্রবৃত্তি দেখা দিলো। একদিন আমাদের অনাথাশ্রমেই প্রীতির সাথে বড় হয়ে ওঠা ওর সবচেয়ে কাছের বান্ধবী রূপসা বিষ খেয়ে মারা গেল। আরও তিন বছর পর আশ্রমের পাক-শাক করার ব্রাহ্মণী অন্নদা ঠাকুম্মাও মারা গেলেন। মৃত শরীরের নখ, ঠোঁট নীলাভ হয়ে গেল।
প্রীতির বিয়ে হয়েছে ৬ বছর হলো। এ রোগের রুগী বোধহয় হত্যা করার মোটিভ বদলাতে চায় না। বাবা যেমন ঘাড় মটকে হত্যা করতেন, প্রীতিও তেমন বিষ খাইয়ে হত্যা করতে আগ্রহী। সন্দীপকে হত্যা করার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকা প্রীতি হঠাৎ আমার কাছেই সাহায্য চেয়ে বসলো এ কাজে! আমি রাজি হলাম। তারপর পরিকল্পনা সাজালাম সন্দীপের সাথে বসে। এখন অবধি পরিকল্পনা সফল। সন্দীপ সুস্থ আছে সম্পূর্ণ। কেরু খাবে, আপন? বিদেশি নেই। মদ খাওয়া উচিত হবে আজ? একটু খাই চলো। আমি এক গ্লাস শেষ করতে করতে কয়েক গ্লাস মদ খেয়ে নিল সন্দীপ। মন বলছে একটু পরেই ক্লিনিকের লোকজন এসে পৌঁছে যাবে। সন্দীপ দা? কী?
তোমার চিঠিটা যেমনি বলেছি অমনি জানালার পাশে পাঠালে। ওটা দেখে আমার প্রথমে খারাপ লেগেছে। তুমি বিশ্বাসই করতে চাওনি প্রীতি তোমাকে সত্যি সত্যি মেরে ফেলার পরিকল্পনা করছিল। সন্দীপ চোখ খানিক বুজে আবার মেলে বলল, কোন চিঠি? ঐ যে টর্চ জ্বালিয়ে জানালার পাশে দিলে। আচ্ছা, আপেলটা কেন দিলে? কোন আপেল? পরিকল্পনা বিষয়ক সে চিঠি কি তবে সন্দীপ পাঠায়নি? সঙ্গে সঙ্গে কলিংবেল বাজল। আমি কিংবা সন্দীপ দুজনের কেউই উঠে দাঁড়াতে পারলাম না। সন্দীপের গাল বেয়ে ফ্যানা নামছে। আমারও বুকে জ্বালাপোড়া করছে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত