ভালোবাসার মিষ্টি পায়েস

ভালোবাসার মিষ্টি পায়েস
কলিং বেলের শব্দে রান্না ঘর থেকে প্রায় ছুটতে ছুটতে বের হয়ে এল সানবি। আবীর অফিস থেকে ফিরেছে।দরজা খুলেই আবীরকে একটা ভুবন জোড়ানো হাসি উপহার দিল সানবি। দিনশেষে সানবির এই হাসিটা দেখলে সারাদিনের সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যায় আবীরের।
– পৃথিবীর সমস্ত মায়া আমি, এড়িয়ে যেতে পারব সন্তর্পণে, কিন্তু তোমার চোখের ওই মায়ায়, আমি হারাতে চাই জীবনভর।
– হয়েছে হয়েছে। এখন ছন্দহীন রোমান্টিক কবি হতে হবে না। ওয়াশ রুমে যাও। ফ্রেশ হয়ে এসো।
– যথা আজ্ঞা খালাম্মা।
– আবার শুরু করলে। যাও তোমার সাথে আমার কোনো কথা নাই ধবলা বান্দর।
– এই এই এবার কে শুরু করলো?
– তুই বলেছিস তাই আমিও বলেছি।
– ঠিক আছে। তাহলে আমিও বলবো বকবক খালাম্মা।
– তুই এক বান্দর। এখন তোর মেয়েটাও হয়েছে আরেক বান্দর। ঠিক তোর জেরক্স কপি। পেটে ধরলাম আমি জন্ম দিলাম আমি স্বভাব চরিত্র সব বাবার।
– দেখতে হবে না মেয়েটা কার! বাই দ্য ওয়ে আমার প্রিন্সেস কোথায়? এতক্ষণ হয়ে গেল এলাম। কোনো সাড়াশব্দ নেই।
– সারাদিন বাঁদরামি করে এখন ক্লান্ত হয়ে ঘুমুচ্ছে। কি দুই বাঁদর যে জুটলো আমার কপালে!
– কেউ তোর কপালে জুটে নি। বরং তুই নিজে জুটিয়েছিস। কে বলেছিল আমার প্রপোজাল এক্সেপ্ট করতে? প্রোপোজাল এক্সেপ্ট না করলেই তো এই বান্দর আর বান্দরের কন্যা কপালে জুটতো না।
– ধবলা বান্দর জানিস আমার এখন ইচ্ছে করছে তোর অতি যত্নের ওই চুলগুলো টেনে ছিঁড়ে ফেলি।
– তাই বুঝি! এত সুন্দর করে যে চুলে তেল মালিশ করে দিস সেগুলো ছিঁড়তে পারবি?
– আবীর্যা…..
– নাউজুবিল্লাহ্। নিজের স্বামীর নাম মেয়েদের মুখে নেওয়াই পাপ। আর তুই কি না আমার নাম ভেঙাছিস!
– এবার সত্যি সত্যি তোর চুল ছিঁড়বো।
– আস্তে আস্তে এত জোরে কেউ চিল্লায়! মেয়েটা তো আমার উঠে যাবে। দাঁড়া দাঁড়া। আমরা আবার তুই তুই করছি। প্রিন্সেস শুনতে পারলে কিন্তু রাগ করবে।
– ঠিক আছে। এবার আল্লাহ্র ওয়াস্তে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসেন।
– ঠিক আছে প্রিয়তমা।
– ঢং… আবীর বেডরুমের দিকে চললো আর সানবি চললো রান্নাঘরে। আবীর ফ্রেশ হয়ে রান্না ঘরে ঢুকলো।
– কি মহারানী আজকে কি রান্না করছেন?
– আপনার আর আপনার মেয়ের ফেভারিট পায়েস রান্নার চেষ্টা করছি।
– ও তাই নাকি? তাহলে আজকে ডিনারটা পুরোই মিষ্টিময়। বলেই যেই না সানবিকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরতে যাবে অমনি সিরাত চিৎকার করে ডাকতে লাগলো,
– মাম্মাম, মাম্মাম।
– উফফ মেয়েটা আমার সত্যি বান্দর। দিল তো পাপার মুডের বারোটা বাজিয়ে। সানবি মুচকি হেসে বললো,
– তাড়াতাড়ি যাও। নয়তো রাগে কি করবে বুঝতেই পারছো।
– পারছি পারছি। মেয়ে আমার হলে কি হবে রাগটা তো একদম তার মায়ের মতো।
– কি বললে?
– না কিছু না। প্রিন্সেস সিরাত ডাকছে। আমি যাই। তাড়াতাড়ি ছুটে বেরিয়ে গেল আবীর। ডাইনিং টেবিলে বসে আছে তিনজন। সানবি পায়েস সার্ভ করছে। দুজনকে দুই বাটিতে দিয়ে নিজে একবাটি নিল। আবীরকে জিজ্ঞেস করলো,
– কেমন হয়েছে?
– বরাবরের মতো অমৃততুল্য। সানবির ঠোঁটের কোণে একটা মৃদু হাসি খেলে গেল। আবীরের বড্ড প্রিয় সে হাসিটুকু। একদৃষ্টিতে ও তাকিয়ে থাকতে লাগলো সানবির দিকে।
– পাপা তুমি মিথ্যে বলো কেন?
– কেন মা, আমি কি মিথ্যে বললাম!
– এই যে তুমি মাম্মামকে বললে পায়েসটা অমৃততুল্য। আসলে কি সেটা? তুমি রান্না করলে এর চেয়ে বেশি মজা হয়।
– আমার কাছে তোমার মাম্মামের প্রতিটা রান্নাই অমৃততুল্য। আর তোমার মাম্মামের দেওয়া প্রতিটা উপহার আমার জীবনের চেয়েও বেশি দামী।
– তাই বুঝি? মাম্মামের তোমাকে দেওয়া সবচেয়ে দামী জিনিসটা কি?
– তুমি আমার জীবনে তোমার মাম্মামের দেওয়া সবচেয়ে দামী জিনিস। প্রাণের চেয়েও প্রিয়।
– পাপা মাম্মাম তোমরা দুজনেই অনেক অনেক ভালো।
– আর তুমি একটা বান্দর মেয়ে।
– জানি তো। তুমি যখন অফিস থেকে এলে তখন আমি জেগে ছিলাম। আর আমি সব শুনেছি। আমি বকবক খালাম্মা আর ধবলা বান্দরের ছোট্ট বাঁদর কন্যা।
– তাই তো বলি। মেয়ে আমার হলে কি হবে এত বকবক কেন করে?
– সেজন্যই তো তোমার মতোই আরেকটা ধবলা। আবার শুরু হয়ে গেল সানবি আর আবীরের মিষ্টিকথা কাটাকাটি। কিন্তু এরই মাঝে সিরাত বলে উঠলো,
– মাম্মাম মাম্মাম জানো রাগলে না তোমায় অনেক কিউট লাগে।
– একদম সত্যি। রাগলে তোমায় ভীষণ কিউট লাগে।
– তোমরা বাবা মেয়ে আসলেই দুটো ধবলা বান্দর! চলতে থাকুক আবীর আর সানবির ছোট্ট রাজত্ব। তাদের ভালোবাসার রাজকন্যা সিরাতকে নিয়ে। ভালো থাকুক ভালোবাসা। বেঁচে থাকুক ভালোবাসায় পরিপূর্ণ পরিবারগুলো।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত