শুকনো পাতা

শুকনো পাতা
আম্মাকে ‘পাশের বাসার আন্টি’ ডাকে বলে পাঠিয়েছি। সেই সুযোগে বস্তা থেকে চাল চুরি করে দোকানে বিক্রি করলাম। চাল বিক্রি করা দেখে দোকানদার মোতালেব ভাই অবাক, হা হয়ে বললেন….
-রুবেল ইদানিং কি ভিক্ষা করছো নাকি? চাল পাইলা কই?
–আপনার শালি এসে দিয়ে গেছে। সে আমার পেয়ার লাল।
-সাবধানে কথা বলো।
–চাল বিক্রি করছি এত কথা বলো কেন? চাল আমি কই পাইছি তোমায় বলতে হবে?
মোতালেব ভাই আর কথা বাড়ালো না। চাল বিক্রি করা টাকা পেয়ে দোকানে ঝাপের লাঠি নামিয়ে মোতালেব ভাইর পেটে গুতো দিয়ে দৌঁড় মেরেছি। ভাই পিছন পিছন আসছিলো দেখে রাস্তার পাশে থাকা ধান খেত থেকে কাঁদা মাটি তুলে ঢিল মেরেছি। চাল বিক্রির সেই টাকা আর আম্মাকে পটিয়ে নেওয়া কিছু টাকা মিলিয়ে হ্যান্ড মাইক কিনেছি।
মাইক কেনার পর মোটামুটিভাবে এলাকায় একটা নাম ডাক এসেছে। কোন বিচার শালিশ হলে আমি ঘোষণা দিয়ে পুরোনো গ্রামকে জানিয়ে দেই। মাঝেমাঝে মোখলেস মাইকিং করে। আমি মাঝেমাঝে ছোট বাচ্চাদের কানের কাছে গিয়ে মাইক নিয়ে চিল্লাই। ফুটবল খেলা হলে ভাষ্যকর হই। আরো অনেক কাহিনী।
আজ জুম্মাবার৷ এলাকায় মসজিদ দু’টো। মোখলেস গেলো একটায় আমি গেলাম একটায়। কেরামত মুন্সি নতুন জায়নামাজ নিয়ে এসেছে। জায়নামাজ বেশ মনে ধরেছে। আমি ভীর ঠেলে সেই কাতারে কেরামত মুন্সীর পাশে বসলাম। নামাজে দাঁড়িয়ে কেরামত মুন্সি ডান দিকে ঠেলে দিয়ে আমি তার জায়নামাজে দাঁড়ালাম। নামাজ শেষে জিলাপির জন্য বসে আছি। সেই জিলাপির পলিথিন নিয়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি৷ মাতবরি করব আরকি। ক্যারামত মুন্সি হাত থেকে জিলাপির পলিথিন ছো মেরে নিয়ে বলল….
–জায়গায় বসো।
-আমি দেই জিলাপি?
–তোর স্বভাব ভালো না। তুই সবাইকে জিলাপি কম দেস। আর তুই বেশি নিস।
-আপনে যে মুরুব্বি মানুষ হয়ে নদীতে লুঙ্গী কাচা দিয়ে পাট ধোন, আমি কিছু বলি?
–বেয়াদব, বোস এখানে।
-জিলাপি দেন!
–তোকে সবার শেষে দিব।
-আপনের হাগু হবে।
আমাকে কাটিয়ে ক্যারামত মুন্সি সবাইকে জিলাপি দিচ্ছে। সবশেষে আমাকে দিলো, তাও কম। মন মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় কেরামত মুন্সির স্যান্ডেলে বোটা ছিরে দিলাম। বাসায় এসে দেখি মোখলেস দুই প্যাকেট বিরিয়ানি এনেছে। অবাক হয়ে বললাম….
-এত বিরিয়ানি পাইলি কই?
–একটা দিছে আর দুটো চুরি করছি।
-কেমনে?
–দুটো চাইলাম দেয়নি তাই নিয়ে দৌড় মেরেছি।
-এরপর এমন করবিনা, তবারক নিয়ে এরকম করতে নেই।
–এত ভালো হইলেন কবে? আজ মনে হয় আপনে বিরিয়ানি পাননি।
-বিরিয়ানি তো দূরের থাক শালা কেরামত জিলাপিও কম দিছে।
–মন খারাপ কইরেননা।
কথার কথায় পাম মেরে মোখলেসের বিরিয়ানি খেলাম। আমার আনা জিলাপি ওকে একটু দিলাম। খাওয়া শেষে মোখলেসকে বলে দিলাম এলাকায় মাইকিং করে দিতে। সে হ্যান্ড মাইক নিয়ে বলবে…’জিলাপি চোর জিলাপি চোর, কেরামত মুন্সি জিলাপি চোর।’ মোখলেস আমার কথা মতন তাই শুরু করলো। এমনিতে মাইক পেলে বেচারা আরো পাগল হয়ে যায়। মোখলেস বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলছে বিচার চাই বিচার চাই জিলাপি চোরের বিচার চাই। জিলাপি চোর জিলাপি চোর, কেরামত মুন্সি জিলাপি চোর।’ এই বলে সে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো। কে জানে মোখলেসের কপালে আজ কি আছে। ইতিমধ্যেই কেরামত মুন্সির দুই ছেলে বাসায় এসেছিলো লাঠি নিয়ে। আমি মোখলেসের দোষ দিয়ে রুমে তালা মেরে শুয়ে আছি। কিছুক্ষণ পর মোখলেস কল দিয়ে বলল….
–ভাই বাঁচান, আমি দৌঁড়াচ্ছি এখন। কি করব এখন।
-দৌঁড়াতে থাক, দৌঁড়ানো ভালো৷ বলেই কল কেটে দিলাম। ঝড় তুফান যাইহোক আজ দরজা খুলবনা

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত